একজন সাহসী রুমার গল্প

46 Views

মহিউদ্দিন অপুঃ বরগুনার নলী মুসলিম উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেনী পড়ুয়া রুমা।

বৃহস্পতিবার মা-বাবা ও খালা তার বিবাহের আয়োজন করে রেখেছে। ছেলে ৮ম শ্রেনী পাশ। বর্তমানে দুবাইতে রং মিস্রীর কাজ করছে।

রুমার বাবা ৬ হাজার টাকা দিয়ে বরযাত্রীদের জন্য আগাম একট খাসী কিনে রেখেছিল। বাবা-মা ও খালার নির্দেশ রুমাকে বিয়ে বসতেই হবে এই ছেলের সাথে।

কোন নির্দেশই রুমা মেনে নেয়নি বরং পরিবারকে জানিয়ে দেয় সে লেখা পড়া করতে চায়। রুমা স্বপ্ন দেখে ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করবে।

তাই নিজের বাল্যবিবাহ ঠেকাতে নিজেই পাশের বাড়ী গিয়ে মোবাইল থেকে কল করে তার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে। সহায়তা চায় নিজের বাল্যবিবাহ রুখতে।

প্রধান শিক্ষক মতিয়ার রহমান বিষয়টি স্কুল কমিটির সভাপতি ইমনুল কায়েসকে দ্রুত জানান। কৌশলে রুমাকে ইস্টুডেন্ট কেবিনেট সদস্য নাদিয়ার সহযোগিতায় স্কুলে নিয়ে আসেন।

ডেকে আনা হয় মেয়ের (রুমা) ও ছেলের বাবা- মা কে এবার উভয় পক্ষ তাদের ভুল স্বীকার করে মুচলেখা দেয়। রুমার বাবা- মা অঙ্গীকার নামা দেন রুমাকে। যেখানে উল্লেখ করেন কোন ধরনের নির্যাতন করবেন না রুমার উপর তারা।

বিদ্যালয়ের সভাপতি ঘোষনা দেন রুমার এমন সাহসিকতার জন্য পুরুস্কৃত করা হবে রুমাকে এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষার সকল ব্যয় ভার তিনি বহন করবেন বলেও আশ্বাস দেন।

এঘটনায় রুমার সাহসিকতাকে সাধুবাদ জানিয়ে বরগুনার বিশিষ্ট সাংবাদিক হাসানুর রহমান ঝন্টু তার ফেসবুক পোস্টে বলেন, রুমারা যদি সাহস নিয়ে প্রতিবাদ করে বাল্য বিবাহ বন্ধ হবে। তাদের পাশে দাড়াবে দায়িত্বশীল সচেতন নাগরিকরা। আসুন আমরা রুমাদের পাশে দাড়াই। বাল্য বিয়েকে “না” বলি।

আপনার মন্তব্য লিখুন