“ফি সাবিলিল্লাহ”মানে কি?দ্বাওয়াত বিল ক্বওল?না, দ্বাওয়াত বিসাইফ?

37 Views

بسم الله الرحمان الرحيم
ادعو الي سبيل ربك بالحكمۃ

আল্লাহ রব্বুল আলামিন আমাদের দাওয়াত দিতে বলেছেন হিকমাহ তথা কৌশলের সাথে। এজন্য এনয় যে কোন আয়াত বা আয়াতাংশকে কৌশল করে প্রেক্ষাপট ঘুরিয়ে অর্থাৎ ‘গুলু’ করে বর্ননা করা হবে। আল্লাহ কাউকে এমন অধিকার দেননি যে “শানে নুজুল” পাল্টিয়ে নিজ মর্জি অনুযায়ি যেথায় সেথায় বর্ননা করবে। চাই তা দ্বীনি কোন শো’বার ক্ষেত্রেই হোক। প্রতিটি বিষয় সম্পর্কিত আয়াত এবং হাদিসে রসুল সাঃ বিদ্দমান রয়েছে। তাহলে কেন এমন করতে হবে? আল্লাহ কুরআনে পাকের যেখানেই في سبيل ﷲ বলেছেন এখানে “ক্বিতাল বি’সাইফ”ই উদ্দেশ্য নিয়েছেন। কাউকে “দাওয়াত বিল ক্বওল” তথা দ্বীনের পথে আহবান করতে এ আয়াতকে ঘুরিয়ে পেচিয়ে বর্ননা করার অধিকার আমরা কোথায় পেয়েছি? এখানে في سبيل ﷲ বলে আল্লাহ রব্বুল আলামিন “দ্বাওয়াত বি’সাইফ” উদ্দেশ্য নিয়েছেন।

আরেকটি মারাত্মক বিষয় হচ্ছে দ্বীনের কোন এক শো’বাকে পরিপূর্ণ দ্বীন মনে করা। এবং অন্যান্য শো’বাকে অস্বীকার বা নাকেছ তথা অসম্পূর্ন মনে করা। দেখুন প্রিয় রাসুলে আরাবী সাঃ কোন এক শো’বা নিয়ে টানাটানি করেননি। একদিকে তিনি ছিলেন দাঈ অপরদিকে তিনি এক তেযস্বী যোদ্ধা,একদিকে তিনি রাষ্ট্রনায়ক অপরদিকে তিনি উম্মতের চিন্তায় বিমর্ষ, অশ্রুসিক্ত।

উপরন্তু আমরা যদি আরেকটু গভিরে যাই তাহলে দেখা যাবে–রসুলের সাঃ মক্কায় দির্ঘ ১৩ বছরের দাওয়াতি জিন্দেগীতে মাত্র পৌনে দুইশ মুসলমান হয়েছিল। তখন নবী সাঃ দাওয়াত দিতেন কৌশলে গোপনে। আর যারাই তখন মুসলমান হয়েছিল সবাই ছিল আরবের নিম্ন শ্রেনীর। কেউ গোলাম,বাদি নাহয় নিতান্ত দরিদ্র। যেমন হযরত বেলাল হাবশি রাঃ,হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসার রাঃ।কোন নিরাপত্তা ছিলনা তাঁদের।আম্মার ইবনে ইয়াসার রাঃকে ঈমান কবুল করার কারনে বর্শার আঘাতে শহীদ করা হয়েছে। এভাবে যারাই তখন ইসলামের ছায়ায় প্রবেশ করেছেন নির্যাতিত হয়েছেন।

গোপনে গোপনে পিঠে হাত বুলিয়ে দাওয়াতের মাধ্যমে আবু সুফিয়ান রাঃ এর মত মানুষ ঈমান কবুল করেন নি,ইকরমা ইবনে আবু জাহেলের মত মানুষ ইসলামে প্রবেশ করেনি। বরং হিজরতের সময় তরবারির মাধ্যমে ঈমান কবুল করেছেন। যখনই মুসলমানদের মাঝে নিরাপত্তা এসেছে দলে দলে মানুষ মুসলমান হয়েছে। কেবলমাত্র শাহওয়াত এবং অজ্ঞতাই ছিল ঈমান কবুল করার পথে প্রতিবন্ধক।
আবু সুফিয়ান,ওতবা,শাইবা,আবু জাহল ঈমান কবুল না করার একমাত্র কারন ছিল শাহওয়াত তথা পদ-পদবি।
যখন রসুলে আরাবী সাঃ তরবারি হাতে তুললেন শাহওয়াত দূর হতে লাগলো।

প্রিয় বন্ধু!
সিগারেট যে ক্ষতিকর আমরা কে না জানি?
পর্দাকরা নারীদের জন্য উপকারি তা কে না জানে?
নামাজ না পড়া,যাকাত না দেয়া এসব যে আমাদেরই ক্ষতি তা আমরা কে না বুঝি?
তবুও কেন এসব মানিনা?সুধুমাত্র শাহওয়াতের কারনে। আর এই শাহয়াত দূরভিত হয় তরবারির মাধ্যমে এটাই ইতিহাস থেকে জানা যায়।
আবার দেখুন ৬ষ্ঠ হিজরিতে হুদায়বিয়ার সন্ধির সময় ছাহাবায় কেরামের সংখ্যা ছিল মাত্র ১৪০০জন।ঠিক এরই দু’বছর পর (ফাতহে মক্কা) মক্কা বিজয়ের সময় এ সংখ্যা বেড়ে হলো(১২,০০০)বারো হাজার। এভাবে রসুল সাঃ এর বিদায় হজ্বের সময় এ সংখ্যা “সোয়া লাখে”রুপ নিলো। যতদিন মুসলমানদের মাঝে জিহাদি মনভাব থাকবে ততদিন এ ধারা অব্যহত থাকবে।

মোটকথাঃ
তাবলীগ দ্বীনের একটি শাখা,কিন্তু এটাই পরিপূর্ণ দ্বীন নয়। দরস-তাদরিস,জিহাদ,তা’লিম,তাযকিয়া সবই দ্বীনের এক একটি কাজ। কোনটিই পরিপূর্ণ দ্বীন নয়। ব্যক্তিপূজা পরিহার করুণ। কাউকে মুহাব্বত করব তা যেন হয় দ্বীনের স্বার্থে,কাউকে ঘৃনা করব তাও যেন হয় ইসলামের স্বার্থে। কাউকে মুহাব্বত করার মানে তার ভূলগুলোও মেনে নেয়া নয়। বরং ইসলাহের নিয়তে শোধরে দেয়াই মুহাব্বতের পরিচয়।
তাই এই ধরনের বিধ্বংসী মনভাব পরিহার করা সময়ের দাবী। নয়তো এভাবেই চলতে থাকলে এ মুসলিম জাহান টুকরা টুকরা হয়ে যাবে। বিভিষিখাময় আগুনে সব ছারখার হয়ে যাবে। আল্লাহ আমাদের মা’ফ করে কবুল করুন।

                সাব্বীর আহমাদ
লেখক,সাহিত্যিক, অনলাইন এক্টিভিস্ট।

 

আপনার মন্তব্য লিখুন