ঠাকুর বাড়ী ।। আশিকুর রহমান

13 Views

একাত্তরের যুদ্ধ পরবর্তীকালিন সময়ে নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে সিংহভাগ পরিবারই পাড়ি জমিয়েছেন কাটা তারের ওপারের দেশ ভারতে।তবে দু’একটা পরিবার আটকা পড়েছে লালরঙা দালানবাড়ির ভালবাসার মায়াজালে।তাদের সাহস হয়নি লালরঙা দালানগুলোর মায়া ত্যাগ করে নতুন গন্তব্যে পাড়ি জমানোর।

বিশাল এ বাড়ির প্রতিটি দালান তৈরি করা হয়েছে ছাচ অনুযায়ী মাটির তৈরী ইট দিয়ে।দেয়াল জুড়ে বাহারি নকশাগুলো রক্ত জবার মতো ফুটে রয়েছে। বাড়ির চারপাশের বিস্তৃত এলাকাজুড়ে ঘন জঙ্গল।সেই ঘন জঙ্গল ভেদ করে বাড়ির ভেতর আলো পরার কোনো উপায় নেই।যেন ছায়া আর নিস্তব্ধতার এক রহস্যময় সৌন্দর্য ঘিরে রেখেছে বাড়িটাকে।

বিশাল ঠাকুর বাড়ির পূর্বদিক খানিকটা জঙ্গলমূক্ত।এর পাশ ঘেষেই বয়ে গেছে বেশ বড়সড় একটা বিল।মূল বাড়ির মতো একে চাপা পড়তে হয়নি ঘন জঙ্গলে।সূর্যের আলো বেশ ভালভাবে আছড়ে পড়ে বিলের জলে।সেই আলোয় ঝলমল করে জলরাশি।

বিকেল হলেই বিলের ধারে নেমে আসে এক দল সাদা বক।ওদের খুনসুটির প্রতিবিম্ব গিয়ে পড়ে ঠাকুর বাড়ির দেয়ালে।অন্ধকার নামে আর ওদের প্রতিবিম্ব ও ক্রমশ ঝাপসা হয়। একটা সময় আর কোনো প্রতিবিম্বই চোখে পড়ে না।

ততক্ষণে বিকেল পেরিয়ে সন্ধে গড়িয়েছে।অন্ধকারের সাথে পাল্লা দিয়ে জোনাকিপোকার আনাগোনাও বাড়তে শুরু করে।ওদের ভিড়ে আলো জ্বালাবার কোনো দরকার হয় না।নিজ আলোয় আলোকিত করে রাখে পুরো রাজ্য।আর লালরঙা দেয়ালের কাছে আসলে মনে হয়, রক্তজবা বেয়ে বুঝি মুক্তোদানা ঝড়ছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন