• সুখবর........ সুখবর........ সুখবর........ বর্ণমালাকে খুব শিঘ্রই পাওয়া যাবে বাংলা বর্ণমালার ডোমেইন "ডট বাংলায়" অর্থাৎ আমাদের ওয়েব এড্রেস হবে 'বর্ণমালাব্লগ.বাংলা' পাশাপাশি বর্তমান Bornomalablog.com এ ঠিকানায়ও পাওয়া যাবে। বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণতা পাবে আমাদের বর্ণমালা।

অক্ষি ।। ইশরাত জাহান স্বর্ণা

Ishrat Jahan Shorna

নতুন ব্লগার
#1
eye-600x330-jpg.21
১ম_পর্ব
আমেরিকান কালচারে দিন দিন বড় হচ্ছে অক্ষি।সবই ঠিকঠাক কিন্তু নামটা তার মোটেও পছন্দের না। অক্ষি আবার কারো নাম হয় নাকি।আচ্ছা আঁখি রাখলেও তো হতো।তাই বলে অক্ষি? কেমন নাম এটা? এই নিয়ে অনেকবার ঝগড়াও হয়েছে মায়ের সাথে।

--মা,এটা কেমন নাম?এমন নাম আজকালকার যুগে কেউ রাখে? আজকালকার যুগ কেন?কোনো যুগে কেউ এমন নাম রেখেছে বলেও তো মনে হয়না।দিস ইজ নট ফেয়ার মা। আমার ফ্রেন্ডরা আমাকে এই নাম নিয়ে ক্ষেপায়।আমার মোটেও ভালো লাগে না মা।কেন,কেন এই নাম রাখতে গেলে?তার চেয়ে সখিনা,জড়িনা,মর্জিনা রেখে দিলেও পারতে।আমেরিকায় বসবাস করা একমেয়ের নাম নাকি অক্ষি।কেউ তো উচ্চারণ ও করতে পারেনা।আমাকে অখি বলে এখানকার সবাই।

--কেন?কি হয়েছে তাতে? তোমার তো আরো দু'টো সুন্দর নাম আছে রাইসা মেহেজাবিন।
--ওহ,মা,স্টপ প্লিজ।এটা সুন্দর নাম?এত বড় নাম কেউ আজকাল ডাকে নাকি?আমার আমার নাম অক্ষি কেন রাখা হলো?

--তোমার জন্মের সময় তোমার মধ্যে অনেক জটিলতা ছিল।তোমার কপালে একটা লাল মতন চিহ্ন ছিল যা জ্বলজ্বল করতো।
আর সারাক্ষণ তোমার গায়ে জ্বর হয়ে থাকতো।তোমাকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বড় ডাক্তার দেখানো হয়েছিল।কোনো কাজ হয়নি।সবশেষে তোমাকে নিয়ে আমরা আমেরিকা আসি এখানের একজন বড় ডাক্তার তোমাকে নানান চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তোলে।আর কিছু মেডিসিন দেয় তাতে তোমার কপালের সে দাগটাও ধীরে ধীরে মুছে যায়।সেটাকে বলা হয় অক্ষি।ডাক্তারের ইচ্ছে মতো তোমার নাম অক্ষি রাখা হয়।
--একজন ডাক্তার যা খুশি নাম রাখতে চাইবে আর তোমরাও তা মেনে নিবে?এটা কেমন মা?অন্যকারো ইচ্ছা মতো আমার নাম কেন রাখবে তোমরা?

--ভুলে যেও না অক্ষি সে ডাক্তারের চিকিৎসার জন্যই আজও তুমি বেঁচে আছো।
--মা...
--চুপ করো অক্ষি।আর কোনো কথা না।কাল তোমার ১৪তম জন্মদিন। যাও ফ্রেন্ডদের ইনভাইট করো।আর আজ বিকালে রেডি থেকো শপিং মলে যাবো তোমার পছন্দমতো কেনাকাটা করা হবে।

রাগ করে অক্ষি সেখান থেকে চলে গেল।

২৯শে ফেব্রুয়ারি ২০০৪।আজ অক্ষির ১৪তম জন্মদিন।প্রতিবার মা প্রথম উইশ করে অক্ষিকে।
এবারো তার ব্যাতিক্রম হলো না।খুব সকালে তাজা ফুলের তোড়া নিয়ে এসে ঘুম থেকে ডেকে তোলে অক্ষিকে।

--হ্যাপি বার্থডে টু ইউ,হ্যাপি বার্থডে টু ইউ, হ্যাপি বার্থডে টু ইউ ডেয়ার অক্ষি,হ্যাপি বার্থডে টু ইউ।
ঘুম জড়ানো কণ্ঠে অক্ষি বলে উঠলো__

-- থ্যাংক ইউ মা।

--জলদি উঠে পড়ো।আজ অনেক কাজ আছে তো।ফ্রেশ হয়ে টেবিলে আসো।

--ওকে মা,তুমি যাও আমি আসছি।

মায়ের ডাকে খুব সকাল সকাল অক্ষি ঘুম থেকে উঠলো।ফ্রেশ হবার জন্য ওয়াশরুমে গেল।মুখ ধুয়ে আয়নায় তাকাতেই দেখলো কপালে লাল একটা কোনাকার দাগ দেখা যাচ্ছে ঠিক কপালের মাঝে।সেটা ছুয়ে দিতেই প্রচন্ড ব্যাথা অনুভব করলো।তাড়াতাড়ি করে হাত সরিয়ে ফেললো।ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে সে ঘরে আসতেই তার প্রচুর ঘুম পেল।কোনোভাবেই সে ঘুম কাটাতে পারছে না।তাই আবার বিছানায় গা এলিয়ে দিল।বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই গভীর ঘুমে ডুবে গেল।আবল-তাবল নানান স্বপ্ন দেখলো অক্ষি।
মা এসে ঘুম থেকে ডেকে তুললো।

--অক্ষি,এই অক্ষি।কী ব্যাপার, এত বেলা পর্যন্ত ঘুমাচ্ছো কেন? সকালে দেখলাম গা হালকা গরম তাই আর ডাকি নি।এখন তো দুপুর পেরিয়ে যাচ্ছে মা।কী হয়েছে?শরীর খারাপ?
--না মা,কিছু হয়নি।
--তাড়াতাড়ি উঠে ফ্রেশ হয়ে নাও।সন্ধ্যায় তো সবাই চলে আসবে।
--আচ্ছা মা আসছি।

অক্ষি বিছানায় বসে বসে ভাবছে এসব সে কি স্বপ্ন দেখলো।আর কেন দেখলো।আয়নায় তাকিয়ে দেখলো তার কপালের সে চিহ্নটা আর নেই।মিলিয়ে গেছে সেটা।কিন্তু সে দেখলো তার বাবা-মায়ের বিয়ে হচ্ছে আর একজন মধ্যবয়স্কা মহিলা তাকে কোলে নিয়ে বসে আছে।এসবের মানে কি?সে এর কোনো ব্যাখ্যা খুঁজে পেল না।স্বপ্ন তো কতরকমই হয়। তাই এসব নিয়ে সে আর ভাবলো না।সে হালকা কিছু খাবার খেয়ে মায়ের সাথে কাজে হাত লাগালো।পুরো বাড়ি খুব সুন্দর করে সাজানো হলো।হাতে হাতে মায়ের সাথে অনেক কাজ করলো।পুরো বাড়ি বেলুন দিয়ে সাজালো। সেই সাথে লাইটিং করাও হলো।খুব সুন্দর দেখাচ্ছে বাড়িটা।ধীরে ধীরে রাত নেমে এলো।
অক্ষি নিজেকে সাজানো নিজেকে সাজানো নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লো।খুব সুন্দর করে সাজলো অক্ষি।গতকাল মায়ের সাথে গিয়ে শপিং মল থেকে কিনে আনা গাউনটা পড়ে নিল।সাদা গাউনে তাকে খুব মানিয়েছে।আয়না থেকে চোখ সরাতে পারছেনা সে নিজেকে দেখে।
কিছুক্ষণের মধ্যেই মায়ের ডাক পড়লো।

--অক্ষি তাড়াতাড়ি করো। তোমার ফ্রেন্ডরা সব চলে এসেছে।
--তুমি সবাইকে উপরে পাঠিয়ে দাও মা।
--আচ্ছা।

অক্ষির মা অক্ষির সব ফ্রেন্ডদের অক্ষির রুমে যেতে বললো।
এদিকে একে একে অক্ষির বাবার সব কলিগ,মায়ের সব প্রতিবেশী সবাই অক্ষির জন্মদিনে আসলো।অক্ষির বাবা-মা তাদের সাথে কুশল বিনিময়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লো।
বাড়ির কিছু কাজের লোক রান্না-বান্নায় ব্যস্ত।কিছু কাজের লোক অতিথিদের বসার ব্যবস্থা করে যাচ্ছে।
এভাবেই সবাই যার যার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লো।
অক্ষির ফ্রেন্ডরা সবাই অক্ষির রুমে গিয়ে একসাথে উইশ করে উঠলো।
--হ্যাপি বার্থডে টু ইউ অক্ষি।
--থ্যাংস রে।তোরা বস আমি এখনি রেডি হয়ে নিচ্ছি।আর দু'মিনিট লাগবে।

ফ্রেন্ডরা একেকজন একেক প্রশ্ন করে যাচ্ছে অক্ষিও তার জবাব দিয়ে যাচ্ছে।
একসময় সবাই মিলে নিচে নেমে এলো। সবাই অক্ষিকে উইশ করছে আর সুন্দর সুন্দর গিফট দিচ্ছে।অক্ষিও সেগুলো হাসিমুখে নিচ্ছে।একেক করে সবার সাথেই অক্ষি পরিচিত হচ্ছে।

এভাবে কুশল বিনিময়ের পর একসময় অক্ষির কেক কাটার সময় এলো।কেক তো নয় যেন বড়সড় একটা বার্বিডল।কেকটা খুবই সুন্দর।অক্ষির মতই সাদা গাউন পড়া একটা বার্বিডলের কেক।অক্ষির বাবা প্রতিবারই এমন নানান সুন্দর সুন্দর কেক-এর অর্ডার করে চমকে দেয় অক্ষিকে।

কেক কাটা শেষ হবার পর সকলের খাবারের ব্যবস্থা করা করা হলো।খাওয়া শেষে সকলে মিলে আনন্দ করলো।প্রচুর নাচ,গান হলো।অক্ষিও খুব আনন্দ করলো।একসময় অক্ষির খুব মাথা ব্যাথা শুরু হলো।সে বুঝতে পারলো না হঠাৎ কেন এমন হচ্ছে।সারাদিন ঘুমানোর পর তো এমন মাথা ব্যথা হবার কথা না।সে বুঝতে পারলো তার কপাল বেয়ে কিছু একটা পড়ছে।কপালে হাত দিয়ে তরল কিছু অনুভব করলো।হাত সামনে এনে দেখে হাতে রক্ত লেগে আছে।মাথা ব্যাথা অনেক বেড়ে গেল আর সাথে সাথে অক্ষি সেখানেই মাথাঘুরে অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেল।এরপর তার আর কিছু মনে নেই।
জ্ঞান ফেরার পর দেখলো সে তার মায়ের কোলে মাথা দিয়ে শুয়ে আছে।বাবা পাশেই বসে আছে।
মা প্রশ্ন করে উঠলো__

--এখন কেমন লাগছে মা?
--ভালো,মা সবাই চলে গেছে?আমার জন্য তোমাদের অনেক অপমান হলো তাই না মা?
--ধুর পাগলি অপমান হবে কেন?তোমার খারাপ লাগছে তা তুমি আগে আমাকে বলোনি কেন?কি হয়েছিল মা তোমার?
--কিছুনা মা।রক্ত দেখে...
--রক্ত?কিন্তু কোথায়?
--আমার কপাল থেকে রক্ত পড়ছিল।
--কিন্তু কপালে তো রক্ত নেই।
--কিন্তু মা,আমি দেখেছি।আমার খুব মাথা ব্যথা করছিল। এরপর কপাল থেকে রক্ত পড়ছিল।তা আমি হাতে নিলাম।তারপর আর কিছু মনে নেই।এই দেখো আমার হাতে রক্ত লেগে আছে এখনো।

অক্ষি সকলকে দেখাতে চাইলো কিন্তু তখন তার হাতে কোনো প্রকার রক্ত ছিল না।
অক্ষির মা তখন বললো__
--আচ্ছা কোনো ব্যপার না, তোমার এখন বিশ্রামের প্রয়োজন। বিশ্রাম নিলে সব ঠিক হয়ে যাবে।
--কিন্তু মা...
--কোনো কিন্তু না।এখন বিশ্রাম নাও আমি খাবার নিয়ে আসছি তা খেয়ে চুপচাপ ঘুমিয়ে যাবে।অনেক ধকল গেছে তোমার উপর দিয়ে।
--তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে মা।
--পরে সব শুনবো।এখন লক্ষ্মী মেয়ের মত খেয়ে চুপচাপ ঘুমাবে।ওকে?
--আজই বলা প্রয়োজন ছিল।
--বললাম তো পরে সব শুনবো। আর জেদ করো না অক্ষি।যা বলি তাই শোনো
--আচ্ছা মা।

সেদিনের মতো অক্ষি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লো।কিন্তু সকালে ঘুম থেকে উঠতেই তার আগের দিনের সকালে কপালের লাল দাগের কথা মনে পড়লো।ঘুমের মাঝে স্বপ্নগুলোর কথা মনে পড়লো।আর রাতে কপালের সেই রক্ত।কিছুই সে ভুলতে পারছে না।এসব তাকে চিন্তায় ফেলে দিল।

মা সকাল সকাল ঘরে আসতেই অক্ষি মা'কে সেদিনের সব কথা খুলে বললো।
মা সব কিছু শোনার পর মায়ের চোখে-মুখে চিন্তার রেখা পড়লো। তিনি অক্ষিকে বললেন__
--তোমার ঘুম কম হচ্ছে তাই এসব দেখেছো।তুমি বরং বিশ্রাম নাও।
--মা তুমি আমার থেকে কিছু লুকাচ্ছো না তো?
মা ধমকের সুরে বলে উঠলো
--অক্ষি,বেশি কথা না বলে তুমি বিশ্রাম নাও।

অক্ষি বুঝতে পারলো না কেন তার মা এমন রিয়েক্ট করলো কথা গুলো শুনে তার বারবার মনে হচ্ছে তার মা তার থেকে কিছু লুকাচ্ছে। কিন্তু কি লুকাচ্ছে।সে কেন তার বাবা-মায়ের বিয়ের স্বপ্ন দেখলো তাও কিনা এমন বিয়ে যে বিয়েতে সে নিজেও উপস্থিত।এসব কিছুই সে মাথা থেকে সে সরাতে পারছে না।.....................................................................................................................চলবে

ইশরাত জাহান স্বর্ণা
 

বর্ণমালা এন্ড্রয়েড এপ

নতুন যুক্ত হয়েছেন

Top