• সুখবর........ সুখবর........ সুখবর........ বর্ণমালাকে খুব শিঘ্রই পাওয়া যাবে বাংলা বর্ণমালার ডোমেইন "ডট বাংলায়" অর্থাৎ আমাদের ওয়েব এড্রেস হবে 'বর্ণমালাব্লগ.বাংলা' পাশাপাশি বর্তমান Bornomalablog.com এ ঠিকানায়ও পাওয়া যাবে। বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণতা পাবে আমাদের বর্ণমালা।

অক্ষি (২য় পর্ব) ।। ইশরাত জাহান স্বর্ণা

Ishrat Jahan Shorna

নতুন ব্লগার
#1
mmmm-jpg.58

২য় ও শেষ পর্ব

মা সব কিছু শোনার পর মায়ের চোখে-মুখে চিন্তার রেখা পড়লো। তিনি অক্ষিকে বললেন__
--তোমার ঘুম কম হচ্ছে তাই এসব দেখেছো।তুমি বরং বিশ্রাম নাও।
--মা তুমি আমার থেকে কিছু লুকাচ্ছো না তো?
মা ধমকের সুরে বলে উঠলো
--অক্ষি,বেশি কথা না বলে তুমি বিশ্রাম নাও।

১ম পর্ব পড়তে ক্লিক করুণ

অক্ষি বুঝতে পারলো না কেন তার মা এমন রিয়েক্ট করলো কথা গুলো শুনে তার বারবার মনে হচ্ছে তার মা তার থেকে কিছু লুকাচ্ছে। কিন্তু কি লুকাচ্ছে।সে কেন তার বাবা-মায়ের বিয়ের স্বপ্ন দেখলো তাও কিনা এমন বিয়ে যে বিয়েতে সে নিজেও উপস্থিত।এসব কিছুই সে মাথা থেকে সে সরাতে পারছে না।
অক্ষি ভাবতে লাগলো__

যদি বাবার সাথে মায়ের বিয়ে হয়ে থাকে তাহলে আমি কে?আর আমি যদি বাবার মেয়ে হয়ে থাকি তাহলে আমার মা কে?কোথায় সে?আমার আসল মাকে কোথায় রাখা হয়েছে?আমি যে মহিলার কোলে ছিলাম সে কে?
এসব আবোলতাবোল নানা জিনিস অক্ষি ভাবতে লাগলো।এটা কি শুধুই স্বপ্ন নাকি এর কোনো বাস্তব ব্যাখ্যা আছে তাও অক্ষি বুঝতে পারলো না।আবার এটাও তাকে ভাবাচ্ছে যে যদি এটা শুধুই স্বপ্ন হয় তাহলে মায়ের মুখে কেন চিন্তার ছাপ পড়বে?কেন তার বারবার মনে হচ্ছে যে মা তার থেকে কিছু লুকাচ্ছে?অক্ষির সবকিছু কেমন গোলমাল লেগে গেল।আর কিছুই ভাবতে পারলো না সে।তার মাথাব্যথা করতে শুরু করলো।

সে দ্রুত গোসল সেরে নিয়ে স্কুলে যাবার জন্য রেডি হয়ে নিল।ততক্ষণে মাথাব্যথাও কমে গেছে।মায়ের বারণ সত্ত্বেও সে স্কুলে গেল।কিন্তু পড়ায় বা স্যারের কোনো লেকচারে মন দিতে পারলো না।কোনো ফ্রেন্ডকেও একথা খুলে বললো না তাকে আবার পাগল ভাববে তাই।একরকম মানষিক চাপের মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছে অক্ষি।

সারাদিন সেই স্বপ্নগুলোর ব্যাখ্যা খুঁজতে থাকলো।একসময় তার মাথায় এলো বাড়ির পুরনো এ্যালবামের মধ্যে কোনো তথ্য পেলেও পেতে পারে।স্কুল শেষে সে আর কোথাও সময় নষ্ট করলোনা।দ্রুত বাড়ি চলে এলো।এখন শুধু এ্যালবাম খোঁজার অপেক্ষায়। কিন্তু মায়ের চোখ ফাঁকি দিয়ে এ্যালবাম কীভাবে খুঁজবে।বাড়িতে কোনো এ্যালবাম আছে কিনা থাকলেও তা কোথায় আছে সেসব কোনো কিছুর ব্যাপারেই অক্ষি জানেনা।তাই এসব জিনিস তার খোঁজার জন্য অক্ষির অনেকখানি সময়ের প্রয়োজন। বাবাকে নিয়ে সমস্যা নেই বাবা বিজনেস এর কাজে সারাদিন বাসায় থাকেনা।মোটামুটি রাত করে বাড়ি ফেরে।মা আগে একটা জব করতো কিন্তু দুমাস হলো সেটা ছেড়ে দিয়েছে।এখন কীভাবে খুঁজে বের করবে তা নিয়ে চিন্তায় আছে।এসব নিয়ে ভাবতে ভাবতেই দিন কেটে গেল।
পরেরদিন মোক্ষম সুযোগ এসেও গেল।মা সকাল সকাল এক বান্ধবীর বাড়ি যাবে বললো অক্ষিকেও নিয়ে যেতে চাইলো কিন্তু অক্ষি মানা করে দিল সে বললো

--তোমরা বান্ধবীরা একসাথে কিছু সময় কাটাবে সেখানে আমি গিয়ে কি করবো।তার চেয়ে বরং তুমি গিয়ে ঘুরে আসো আমি বাড়িতেই আছি।আর আমার তো স্কুল ও খোলা তাই আমি যাবো না।
--তোর কোনো সমস্যা হলে?
--উফ মা,আমার আবার কি হবে তুমি যাও তো কোনো প্রব্লেম হবেনা।আর প্রব্লেম হলে আমি ফোন করে দিবো।
--আচ্ছা সাবধানে থাকিস আমি বিকালের মধ্যেই চলে আসবো।
--আচ্ছা,যাও।

অক্ষির মা বের হয়ে যাবার পর অক্ষি তার কাজ শুরু করে দিল।প্রথমেই টার্গেট করলো বাবা-মায়ের ঘর।সারাঘর খুঁজলো কিছুই পেলো না।আলমারি, ওয়ারড্রোপ কিছুই বাদ রাখলো না।কিন্তু কোনো এ্যালবাম বা এ জাতীয় কিছুই সে পেল না।
কোনো কিছু না পেয়ে সে স্টোর রুমের দিকে গেল।সেখানে কিছু পেলেও পেতে পারে।স্টোর রুমে পুরনো কিছু চেয়ার কাপড়-চোপড় আর কিছু ভাঙা আসবাবপত্র আছে।যদিও সেদিকে অক্ষি আগে কখনো যায়নি তাই সঠিক জানেওনা কি আছে স্টোররুমে।

অবশেষে স্টোর রুমে গিয়ে দেখলো স্টোর রুমে তালা দেয়া।তালার চাবি কোথায় কি আছে কিছুই তার জানা নেই।আবারো হতাশ হলো।কিন্তু এতো সহজে হাল ছাড়লোনা।সে তো আর সিনেমার চোর বা নায়িকা নয় যে ক্লিপ দিয়ে তালা খুলবে তাও কিনা একটা পুরানো তালা অনেক আগের।তাই সে তালা ভাঙার সিদ্ধান্ত নিল। মা জানতে চাইলে কিছু একটা বলে দিবে।তালা অনেক কষ্টে ভাঙল।পুরনো আমলের তালা ভাঙতে বেশ বেগ পেতে হলো।হাতে ব্যাথাও পেয়েছে অনেকটা। সবশেষে তালা ভাঙতে সফল হলো।সারা স্টোর রুম খুঁজে কিছুই পেলনা আশানুরুপ। সবশেষে চোখ গেল একটা ভাঙা ট্রাংকের দিকে।কৌতূহল নিয়ে ট্রাংক খুলে একটা ধূলোজমা পুরনো ডায়েরি পেল।মন খারাপ করে অবশেষে এটাই নিয়ে নিজ রুমে এলো।

স্টোররুমে গিয়ে ধূলোয় মাখামাখি হয়ে গেল তাই গোসল করে ফ্রেশ হয়ে নিল।গোসল শেষে দেখলো দুপুর ১টা বাজে।অযথা আজ স্কুল গেলনা ভেবে আফসোস করতে লাগলো।হঠাৎ তার মনে পড়লো সারাদিন কিছু খায়নি।সেকথা মনে হতেই ক্ষুধাটা যেন দ্বিগুণ বেড়ে গেল।ক্ষুধায় যেন পেটে ইঁদুর চিকা সব দৌড়াদৌড়ি করতে লাগলো।সে দেখলো রুমে খাবার দেয়া আছে কিন্তু সেসব আর খেতে ইচ্ছা হলো না।নিজেই কিচেনে গিয়ে ফ্রিজ থেকে কিছু ফল বের করে খেয়ে নিলো।খাবার সময় হঠাৎ ডায়েরির কথা মনে পড়লো।তাই সে কিছু ফল সাথে নিয়েই নিজ রুমে গেল।

ডায়েরিটা খুলতেই দেখলো প্রথম পাতায় বড় করে লেখা মাইশা মেহজাবিন। অনেকটা তার নামের মতই।আমেরিকায় বড় হওয়া সত্ত্বেও মায়ের জন্য ভালোভাবেই বাংলাটাকে রপ্ত করে নিয়েছে অক্ষি।ডায়েরিটা সম্ভবত মাইশা নামের কারোই হবে।কিন্তু এ ডায়েরি তাদের বাসায় কেন বুঝতে পারলোনা।

ডায়েরির অধিকাংশ পাতা খালি।কিছুই লেখা নেই।আর যা লেখা আছে তাও মুছে গেছে।অল্প অল্প বুঝা যায় লেখা।এরমধ্যে একটা পাতায় লেখা
"নতুন একটি প্রাণ বেড়ে উঠছে আমার মধ্যে শুনতে পাই তার হৃদস্পন্দন "
সম্ভবত সেসময়টায় উনি গর্ভবতী ছিলেন তাই এমন কিছু লেখা ধরে নিল অক্ষি।আর কোনো লেখাই পুরোপুরি পড়া যাচ্ছেনা।সব ঝাপসা ঝাপসা আর নয়তো মুছে গেছে পুরোপুরি। মা-ই বা এমন ডায়েরি কেন রেখে দিল কিছুই বুঝলোনা অক্ষি।
ডায়েরিতে কিছু পালক পেল।কিছু গোলাপের পাপড়িসহ নাম না জানা অনেক ফুলের পাপড়ি।ডায়েরিতেও কিছু না পেয়ে হতাশ হলো। ডায়েরিটি ছুড়ে ফেললো বিছানায় রাগ করে।ফেলতেই ডায়েরি থেকে কিছু একটা ছিটকে বেড়িয়ে গেল।
সেটা হাতে নিয়ে সে দেখলো তার মায়ের আর একটা মহিলার হাতে আঁকা ছবি দেখলো।খুব চেনা চেনা লাগছে কিন্তু মনে পড়ছে না কোথায় দেখেছে।ছবিটা নিজের কাছেই রেখে দিল অক্ষি।

কিছুক্ষণ পরেই মা বাড়ি চলে এলো।এসে অক্ষিকে বাড়ি দেখে বললো-
--কী ব্যপার অক্ষি স্কুলে যাওনি?
--ভালো লাগছিলোনা মা।
--কই দেখি জ্বর এলো কিনা?(হাত দিয়ে কপাল ছুঁয়ে বললো)জ্বর তো নেই।
--না মা, জ্বর আসেনি।এমনি শরীর ভালো লাগছিলো না তাই যাইনি।
--মুখ দেখে তো মনে হচ্ছে কিছু খাওয়া হয়নি।
--না মা,আমি একটু আগে খেয়েছি।
--আচ্ছা তুই কি জন্মদিনের গিফট গুলো দেখেছিস?
--না,দেখিনি।একসাথে দেখবো তাই রেখে দিয়েছিলাম।
--এখন বের করি?
--আচ্ছা, নিয়ে আসো।

মা জন্মদিনের সকল গিফট নিয়ে এলো আর বিছানায় বসে বসে খুলতে লাগলো।অক্ষিও তার মায়ের কোলে শুয়ে শুয়ে ভাবছে সেই হাতে আঁকা ছবিটির কথা।হঠাৎ সে তার মাকে বলে উঠলো-
--মা আমার নাম কে রেখেছে?
--বললাম তো এখানকার একজনের ডাক্তার এর রাখা।
--রাইসা মেহজাবিন নাম কার রাখা?
--হঠাৎ এই প্রশ্ন কেন অক্ষি?
--এমনি,বলোনা কার রাখা?
--আমি রেখেছি।

--কার নামের সাথে মিলিয়ে আমার নাম রেখেছো মা?তোমার নামের সাথেও মিল নেই আর বাবার নামের সাথেও না।কেন মা?
--এতো প্রশ্ন করিস না তো অক্ষি।
--বলোনা মা।
-- নিষেধ করলাম না?
--মাইশা মেহজাবিন কে মা?
নামটি শুনে অক্ষির মা চমকে উঠলো।
--এ নাম তুই কোথায় শুনেছিস?
--আমার কে হয়?
--কেউনা।

--সত্যি বলছো তো?তুমি আমার কাছে কিছু লুকাচ্ছো না তো মা?
--মাইশার কথা তোকে কে বলেছে?
--আমি ডায়েরিতে পেয়েছি মা।মাইশা আমার কে হয়?আমার কাছে লুকিয়ে রেখো না মা।আমার জানাটা প্রয়োজন।
--মাইশা তোর মা হয়।
--আমার মা?
--হুম তোর মা।
--তাহলে তুমি কে?
--আমি কেউনা।
--আমি তোমার কাছে কেন?

--মাইশার মা আমাদের বাড়িতে কাজ করতো।মাইশা আর আমি একসাথেই লেখা পড়া করতাম।আমার বাবা মাইশার সকল লেখাপড়ার খরচ দিতো।খুব ভালো স্টুডেন্ট ছিল মাইশা। কিন্তু তার মা তাকে বেশিদিন লেখাপড়া করতে দেয় নি।এসএসসি পাস করার পর বিয়ে দিয়ে দিলো তার।বিয়ের ৩-৪ বছর পর তুই হলি।ততদিনে আমার বাবাও মারা গেল।তুই প্রায়ই অসুস্থ থাকতিস।তোর গায়ে জ্বর থাকতো।আর কপালের সেই চিহ্নও থাকতো সবসময়।তোর মায়ের সামর্থ্য ছিল না তোর চিকিৎসা করানোর।ততদিনে আমার আর আবিরের বিয়ে হয়।বিয়ের পর আমি আবিরকে তোর কথা বলি।সেও রাজি হয়ে যায়।আমরা তোর চিকিৎসা করাই। দেশে বিদেশে সব জায়গায় তোর চিকিৎসা করানো হয়।কোথাও ভালো হয়না।অবশেষে এখানকার একজন ডাক্তার তোকে সারিয়ে তোলে কিন্তু তোর এই রোগ কখনো পুরোপুরি ভালো হবার নয় তা প্রতিবার তোর জন্মদিনের আগের রাতে বুঝতে পারতাম।তোর খুব করে জ্বর আসতো।আর কপালের লাল চিহ্নটাও ভেসে উঠতো।এতদিন তুই ছোট ছিলি তাই এ নিয়ে তোর কোনো প্রশ্ন ছিলনা।

--আমার সে মা এখন কোথায় মা?
--হয়তো তোর অপেক্ষায় আছে।
--আমার অপেক্ষায়?
--হ্যাঁ,তোকে সবসময় কাছে রাখতে রাখতে তোর মায়ায় পড়ে গেছি আমি তাই আর তোকে আমি দেশে নিয়ে যাইনি।নিজের মেয়ের মতো করে বড় করেছি।তুই প্লিজ আমাকে ছেড়ে যাস না।
--না,মা আমি তোমাকেই মা বলে জেনেছি।আমি তোমাকে ছেড়ে যাব না।
৪বছর পর
ভীষণ মাথা ব্যথা হচ্ছে অক্ষির।আয়নার সামনে সে আবারো নিজের কপালে সে চিহ্ন দেখতে পেলো।সে জানে আজ আবার নতুন কিছু ঘটবে কিন্তু কি ঘটবে তার অপেক্ষায় সে রইলো। ঘরে গিয়ে সে ঘুমিয়ে পড়লো।ঘুম থেকে উঠে সে অস্থির হয়ে রইলো।মায়ের রুমে গেল দৌড়ে।

--মা,আমার জন্মদিন পালন করা লাগবেনা।তুমি প্লিজ আমার একটা কথা শোনো।
--কি হয়েছে অক্ষি? এমন অস্থির হয়ে আছো কেন?
--আমায় বাংলাদেশে নিয়ে চলো।না করোনা মা।
--এরজন্য তো পাসপোর্ট ভিসা তৈরি করতে হবে।
--যত তাড়াতাড়ি সম্ভব করো মা।না করো না।
--কি হয়েছে তা তো বলবি।
--আমার আসল মা খুব অসুস্থ।
--তুই কি করে জানলি?
--যেভাবে আমি আমার আগের মায়ের কথা জেনেছি সেভাবে।প্লিজ মা তুমি তাড়াতাড়ি করো।
--আচ্ছা তোর বাবাকে বলে আমি সব ব্যবস্থা করছি।
এক মাসের মধ্যে পাসপোর্ট ভিসা সহ অন্যান্য সকল কিছুর প্রস্তুতি নিয়ে নিলো তারা।আমেরিকা থেকে সকলে তারা বাংলাদেশ চলে এলো।

এয়ারপোর্ট থেকে তারা সরাসরি তাদের গ্রামে চলে এলো।অক্ষি,অক্ষির মা,বাবা সকলে মাইশা অর্থ্যাৎ অক্ষির আসল মায়ের রুমে তাকে অসুস্থ অবস্থায় পরে থাকতে দেখলো।সবাই মিলে অক্ষির আসল মায়ের কাছে গেল।মাইশা দেখার পরেই তার বান্ধবি
মিমিকে চিনে ফেললো। মিমিকে দেখেই সে তার মেয়ের কথা জিজ্ঞাস করলো।মিমি অক্ষিকে সামনে নিয়ে এলো।অক্ষিকে দেখে সে কেঁদে ফেললো।

মাইশা--কত বড় হয়েছে আমার মেয়ে।
লিজা--তোর মেয়েই কিন্তু আজ তোর কাছে নিজ ইচ্ছায় এলো।তুই আমায় ক্ষমা করে দে মাইশা। আমার নিজের কোনো সন্তান ছিল না তাই আমি তোর মেয়েকে ছাড়তে চাইনি।কিন্তু বিশ্বাস কর ওকে আমি নিজের সন্তানের আদরে বড় করেছি।
মাইশা--ভাল করেছিস।আমার কাছে থাকলে আমি লেখাপড়া শেখাতে পারতাম না ভালো খেতে পড়তে দিতে পারতাম না।আমার মেয়েকে আমি দেখে নিয়েছি এখন মরেও শান্তি পাবো।

অক্ষি--এ কথা বলো না মা।
মাইশা --তুই আমাকে মা বললি?
অক্ষি--হ্যাঁ, আমার তো দুটা মা।আর দেখো তুমি খুব তাড়াতাড়ি ভালো হয়ে যাবে।
মাইশা --নারে মা। আমার মরার সময় চলে এসেছে।
অক্ষি--চুপ থাকো তো আমরা চলে এসেছি এখন আমি আর মা মিলে তোমায় সুস্থ করে তুলবো।

মাইশাও একমাসের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠলো।
এরপর অক্ষি বাংলাদেশ ঘুরে ঘুরে দেখলো।নিজ দেশ এত সুন্দর তার জানা ছিল না।তার আর আমেরিকা যাবার ইচ্ছা হলো না।বাবা-মাকে বলে বাংলাদেশেই থেকে গেল।অক্ষির আসল বাবা মারা গেছে কয়েক বছর আগেই।এখন তার দুই মা।
দুই মায়ের আদরে বড় হচ্ছে অক্ষি।এরপর তার অনেক জন্মদিন গেল কিন্তু আর কখনো মাথা ব্যথাও ওঠে নি বা কপালের চিহ্নটিও দেখা যায়নি।

(সমাপ্ত)
 

Attachments

  • 26।7 KB দেখা হয়েছে: 22
Last edited by a moderator:

Rakib Jaman

নতুন সদস্য
#4
মিমিকে দেখেই সে তার মেয়ের কথা জিজ্ঞাস করলো।মিমি অক্ষিকে সামনে নিয়ে এলো।অক্ষিকে দেখে সে কেঁদে ফেললো।
:cautious::cry:
 

Naiem Rana

সুপার ব্লগার
#5
খুব সুন্দর হয়েছে আশা রাখি আরো নতুন নতুন গল্প পাবো
 

বর্ণমালা এন্ড্রয়েড এপ

নতুন যুক্ত হয়েছেন

Top