• সুখবর........ সুখবর........ সুখবর........ বর্ণমালাকে খুব শিঘ্রই পাওয়া যাবে বাংলা বর্ণমালার ডোমেইন "ডট বাংলায়" অর্থাৎ আমাদের ওয়েব এড্রেস হবে 'বর্ণমালাব্লগ.বাংলা' পাশাপাশি বর্তমান Bornomalablog.com এ ঠিকানায়ও পাওয়া যাবে। বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণতা পাবে আমাদের বর্ণমালা।

অবহেলিত মা -বাবার আশ্রম ।। আব্দুল্লাহ খান

#1
fb_img_15502120717881802-jpg.259

একদিন তারা কিশোর ছিল।যৌবনও ছিল টলমলে।সবুজ শ্যামল প্রকৃতিতে তারা বেশ আনন্দতেই কাটিয়েছে মৌবনের দিনগুলো। তারা ভাবত পৃথিবীর সবাই তার আপন। কেউ তার দূরের নয়। অনেক বড় বড় স্বপ্নের রাজ্যে ঘুড়ে বেড়াত দিনে রাতে।প্রকৃতির চাকচিক্যে নিজেরা নিজেদের নিয়ে ভাবত উদার মনে।একদিন তাদের বিবাহ সম্পন্ন হল।হৃদয়ের অকপটে ভাসতে শুরু করল নতুন স্বপ্ন ছেলে -মেয়ে হবে অনেক বড় চাকরি করবে আম্মু আব্বু বলে ডাকবে নাতি -নাতনি হবে দাদা দাদু বলে ডাকবে আরও কতকি....।একদিন তারা ছোট একটি শিশুর মুখ দেখতে পেল।আনন্দে হৃদয়ের শুকনো গোলাবের পাপরি গুলো তাজা হয়ে উঠলো।সকলকে ডেকে বলছে তাদের সোনামনির কথা। ধীরে ধীরে বড় হচ্ছিল আর পিতা মাতার স্বপ্নও বেড়ে চলছিল।সন্তানের কোন বায়না এমন নেই যে একটু হলেও পূরণ করে নাই।মা নিজে না খেয়ে সন্তানের জন্য আলমারীর কোনে রেখে দিত।বাড়ীতে কোন ভাল খাবার রান্না হলে সবার আগে সন্তানের জন্য বাটি ভরে রেখে দিত।তাও আবার সবথেকে ভাল এবং বড় পিচ!সন্তান যদি মায়ের থেকে দূরে থাকে এবং অনেক দিন পর আসে তাহলে তার সকল আবদার পূরণ করতে যথাসাধ্য চেষ্টা করে হোকনা তা কাঠালের আমসত্ত।আর পিতা!তার কষ্টের তো কোন তুলনাই নেই।সারাদিন কাজ কর্ম করে যা রোজগার হত সব সন্তানের জন্যই খরচ করত।মন যখন যা চাইত তা করতে পারতনা, শুধু এই সন্তানের দিকে তাকিয়ে।কিছু খেতে গেলেই হৃদয়টা দূর দূর করে কেঁপে উঠত আর চোখের সামনে ভেসে উঠত সন্তান।কিন্তু আজ তারা কোথায়? বৃদ্ধাশ্রম! কেন সে আজ বৃদ্ধাশ্রম? সন্তানের কষ্ট হবে ভেবেই!সন্তান একদিন পড়া লেখা শেষ করে অনেক বড় চাকরি পেল আর পিতা -মাতাকে ফেলে আসল বৃদ্ধাশ্রমে।কারণ পিতা -মাতা হল অশিক্ষিত মূর্খ আর সন্তান হল উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত।মূর্খ পিতা-মাতার মুখথেকে নিজের নাম শুনতে লজ্জাবোধ করে।আম্মুকে আম্মু বলে আর আব্বুকে আব্বু বলে ডাকলে সে ভাবে নিজের মানহানি হবে। কিন্তু সে কি একবারও ভেবে দেখেছে কিভাবে এত বড় হল!? কে তার পড়াশুনার খরচ বহন করেছে!? এই পিতা -মাতাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসার পরেও নিজের সন্তানের দিকে খেয়াল করে পরিচয় পর্যন্ত গোপন রাখে।এক আবদ্ধ নোংরা ঘড় তাদের বাসস্থান, একটি ফ্যানের নিচে থাকতে হয় তাদের তাও আবার খুব ধীরগতি সম্পন্ন।আর সন্তান থাকে বহুতল ভবনে ঘুমায় সুন্দর খাটে এসি তো আছেই। বৃদ্ধাশ্রমে পিতা -মাতা দিনযাপন হয় খুব কষ্টে। আর সন্তান দিন কাটায় আনন্দ উল্লাসে।সব থেকে আনন্দের দিন হল ঈদের দিন।এদিন যেভাবে কাটে তাদের, সকালে সিমাই আর মুড়ি এবং পোষাক হিসেবে পিতাকে দেওয়া হয় পায়জামা, পাঞ্জাবী তবে কেউ যদি তা নিতে অমত প্রকাশ করে তাহলে তাকে ফতুয়া ও লুঙ্গি দেওয়া হয়,আর মাতাকে দেওয়া হয় একটি শাড়ী মাত্র!সন্তান!বেশ আনন্দে উল্লাসে নতুন নতুন জামা পরিধান করে ঘোরাফেরা করে।পিতা -মাতার মুখে ঈদের দিনেও ফুটেনা হাসির রেখা। সারাদিন কাটে নিরবতার মাঝে।অন্যান্য দিনের মত এই দিনেও সকাল থেকে পথ পানে চেয়ে থাকে এইবুঝি সন্তান আসবে আর আমাকে নিয়ে যাবে কিন্তু না!সন্তান আসেনা অবশেষে সে নিরাশ হয়ে বিকেলে ফিরে যায় আপন নীড়ে।এভাবেই কাটে তাদের দিনগুলো।এভাবে আর কত!?এপথ ও পন্থা বন্ধের কোন প্রত্যাশা আছে কি?

আব্দুল্লাহ খান
 
Last edited by a moderator:

Sps Shuvo

এক্টিভ ব্লগার
#2
ভালো লাগল প্রিয়...
 

Sps Shuvo

এক্টিভ ব্লগার
#3
ভালো লাগল প্রিয়...
 

বর্ণমালা এন্ড্রয়েড এপ

নতুন যুক্ত হয়েছেন

Top