অসম্পূর্ণ ইচ্ছে।। নীলা রহমান

Nila Rahman

নতুন ব্লগার
#1
images-7-jpeg.162
- এই পিচ্চি তুই নাকি তনয়াকে আই লাভ বলেছিস?
- হ্যাঁ বলেছি তো, আর তানিয়া আপু তুমি আমাকে পিচ্চি বললা কেনো, আমি কি এখনো পিচ্চি আছি নাকি, আমি এখন অনেকটা বড় হয়ে গেছি।
- ওহ্ তাই, আচ্ছা বলতো তুই যেনো কোন ক্লাসে পড়িস?
- ক্লাস সেভেন।
- হিহিহিহি, মাত্র ক্লাস সেভেনে পড়িস আরএখনই প্রেম ভালবাসার পিছনে পরে গেলি আচ্ছা বাদ দে আর কখনো আমার বোনরে বিরক্ত করবিনা বুঝলি?
- যদি করি তাহলে কি করবা তুমি?
- মেরে তোর হাত পা ভেঙে দেবো।
- দাঁড়াও, তোমাকে দেখাচ্ছি মজা।
কথাটা বলেই পিচ্চিটা খুব জোরে ভাইয়া ভাইয়া বলে ডাকতে শুরু করলো,
ডাকতে দেরি হলো কিন্তু শয়তানটার আসতে দেরি হলোনা।
- কি হয়েছে রে তন্ময়, এভাবে চিল্লাচিল্লি করছিস কেনোরে?
- দেখনা ভাইয়া তানিয়া আপু আমাকে বকতেছে।
- কেনো, কি করছিস তুই?
- তনয়াকে আই লাভ ইউ বলছিলাম তাই।
- দাঁড়া আমি দেখছি।
তারপর তুহিন কিছুটা রাগী রাগী ভাব নিয়ে তানিয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তুহিনের এই ভাবে এগিয়ে আসা দেখে তানিয়া কিছুটা ভয় পেয়ে গেলেও সেটা তুহিনকে বুঝতে দিতে নারাজ।
- আপনি আমার তন্ময়কে বকেছেন কেনো?
- আপনার তন্ময় আমার তনয়াকে বাজে কথা বলেছে কেনো?
- বাজে কথা কি বলেছে, ওতো আই লাভ ইউ বলেছে।
- তো সেটা কি বাজে কথা হলোনা, তেরো বছরের বাচ্চা ছেলে ভালবাসার কি বুঝে?
- আপনি কি জানেন, ক্লাস ফাইভে পড়া ছেলে মেয়েরাও এখন প্রেম করে।
- হ্যাঁ করে, কিন্তু সেটাকে ভালবাসা বলেনা আবেগ বলে।
- আচ্ছা, যাই হোক ওরা না হয় ছোট মানুষ প্রেম ভালবাসা বুঝেনা, আমরা তো বড় হয়েছি তাই না?
- হুম, তো?
- আই লাভ ইউ।
- আপনাদের দুই ভাইয়ের মাথা পুরোপুরিই খারাপ হয়ে গেছে, আমি আন্টিকে বলে কালই আপনাদেরকে পাবনা পাঠানোর ব্যাবস্থা করবো।
- আমার এই পাগলামির ওষুধ পাবনা নেই আপনার কাছেই আছে।
- তাহলে সারাজীবন এমন পাগলই থাকতে হবে আমার থেকে ওষুধ কখনোই পাবেন নাহ্।
- কেনো?
- এমনি, এই তনয়া চলে আয় তো, এদের দুই ভাইয়ের ধারে কাছেও কখনো আসবিনা।
এই বলে তানিয়া তনয়াকে নিয়ে চলে গেলো।

তুহিন তানিয়ার চলে যাওয়ার দিকে অপলক ভাবে তাঁকিয়ে ভাবতে লাগলো......মেয়েটি কি অপরুপা দেখতে, কত অপূর্ব তার সেই হাসি, কত সুন্দর তার কথা বলার ধরন, কি মায়াবী তার চাহনি, যে কোনো ছেলে এক দেখাতেই প্রেমে পরে যাবে এই মায়াবিনীর।

পরদিন সকাল বেলা তানিয়া কলেজে যাওয়ার জন্য রেডী হয়ে তার মাকে বলল
- মা আমি কলেজে যাচ্ছি এডমিশন করাতে।
- এই নতুন শহর অচেনা অজানা জায়গা তুই একা কি করে যাবি?
- আমি যেতে পারবো মা তুমি কোনো চিন্তা করোনা।
- তবুও আমার যে বড্ড ভয় লাগে।
- আচ্ছা বোন তুমি চিন্তা করোনা, আমার তুহিন আছে তো ও এক্ষুনি অফিস যাবে তখন তানিয়াকে কলেজে নামিয়ে দিয়ে যাবে কেমন? (আন্টি)
- আমার আজ অফিস নেই মা, তবুও তুমি আর আন্টি যদি বলো তো আমি উনাকে কলেজে নিয়ে যেতে পারি। (তুহিন)
- আমার কাওকে লাগবেনা বললাম তো।(তানিয়া)
- তুই চুপ থাকতো, তুহিন বাবা তুমি যদি নিয়ে যাও তাহলে তো আমার কোনো চিন্তাই থাকেনা। (মা)
- ঠিক আছে আন্টি আপনি একদম ভাববেন না। (তুহিন)
কথাটা শুনে তানিয়া তুহিনের দিকে একটু রাগী চোখে তাঁকালো, আর মনে মনে ভাবতে লাগলো আজ যে কি হবে কে জানে, এই বাসায় আসার পর থেকেই সেই যে ছেলেটা পিছনে পরেছে এক মুহুর্তও শান্তিতে থাকতে দিচ্ছেনা।
- হলো কি আপনার এইভাবে ড্যাব ড্যাব করে তাঁকিয়ে না থেকে চলুন এবার যাওয়া যাক।
- হুম চলুন।
তখন ইচ্ছে না থাকা সত্বেও তানিয়াকে তুহিনের সাথে যেতেই হলো, বাইকের পিছনে নিজের ভালবাসাকে নিয়ে
ঘুরতে পারার যে এতটা আনন্দ সেটা আজকের আগে কখনোই বুঝতে পারেনি তুহিন, আর বুঝার কথাও ছিলো না কারন এর আগে তো কখনো কাওকে এতটা ভালবাসেনি সে।
- আচ্ছা আপনি কি এক স্থানে চুপ করে বসে থাকতেও পারেন না?
- কি করে বসবো, বাইকটাতে জায়গা অনেক কম, আর আমি আপনার এত কাছাকাছি বসতে পারবোনা।
- হাহাহাহা, এখন তো দেখছি আপনার জন্য বাইক অর্ডার দিয়ে বানিয়ে আনতে হবে।
- এত বেশি কথা না বলে চুপচাপ নিজের কাজ করুন তো।
- ওকে, মেডামের যা আদেশ।
তারপর দুজনে কলেজের সমস্ত ঝাঁমেলা শেষ করলো।
এবার বাসায় ফেরার পালা
কিন্তু তুহিন এবার বাইকটা অন্যদিকে নিয়ে যাচ্ছে, তানিয়ার মনে হলো এই রাস্তায় তো তারা আসেনি তাহলে তুহিন কোথায় নিয়ে যাচ্ছে তাকে, তানিয়ার মনে অজানা একটা ভয় কাজ করতে থাকলো।
কিন্তু সেই ভয়টা বেশি সময় থাকলোনা।
তুহিন তানিয়াকে একটা নদীর ধারে নিয়ে গেলো, তেমন মানুষ জন নেই সেখানে অনেক নিরিবিলি একটা পরিবেশ, মনটাকে প্রফুল্ল করার মত, চারদিকটা সবুজে ঢাকা, যত দূর চোখ যাচ্ছে সবুজের সমারুহ, নদীর দুপাশে সাদা কাশ ফুল, সব কিছু মিলিয়ে তানিয়ার মনে হচ্ছে যেনো সে এক অনন্য সুন্দরের মাঝে হারিয়ে যাচ্ছে।

- এই জায়গাটা আমার খুব প্রিয়, জানেন আমি মাঝে মাঝেই এখানে আসি, বাসার চার দেয়ালের মাঝে থাকতে থাকতে যখন আমার নিশ্বাস নেওয়া কষ্ট হয়ে যায়, তখন আমি এখানের এই স্নিগ্ধ পরিবেশে প্রান ভরে নিশ্বাস নেই, আমার অনেক ভালো লাগে জায়গাটা।
- আসলেই জায়গাটা অনেক সুন্দর।
- হুম, তানিয়া একটা কথা বলবো?
- বলেন।
- আমি সত্যিই আপনাকে অনেক ভালবাসি।
- আচ্ছা আমাদের এখন বাসায় ফেরা দরকার, মা খুব চিন্তা করছে হয়তো।
- উত্তরটা দিবেন না?
- আমি আপনাকে কিছু বলেছি শুনতে পেরেছেন নিশ্চয়ই।
- হুম, চলেন।
তারপর দুজনে বাসায় চলে এলো, বাসায় ফেরার পর থেকে তানিয়া আর একবারও তুহিনকে দেখতে পেলোনা, আসার সময় সারাটা রাস্তা তুহিন কোনো কথা বলল না
তানিয়ার এবার খুব খারাপ লাগছিলো, ছেলেটা হয়তো তার উপর অনেকটা অভিমান করেছে, কথাগুলো ভাবতে ভাবতে তানিয়া ছাদের দিকে গেলো, গিয়ে দেখলো তুহিন ছাদের একপাশে দাঁড়িয়ে আছে।
- একা একা ছাদে কি করেন?
- তেমন কিছুনা।
- আপনি কি আমার উপর রেগে আছেন?
- না তো।
- তাহলে সেই কখন থেকে আপনার খুঁজ করছি, দেখা পেলাম না কেনো?
- এমনি।
- আমি কি আপনার পাশে দাঁড়াতে পারি?
- সত্যিই আপনি দাঁড়াবেন আমার পাশে?
- হুম।
- ভালবেসে?
- শুধু ভালবেসে নয় অনেকটা ভালবেসে।

সেদিন থেকে শুরু হয় তুহিন আর তানিয়ার ভালবাসার মিষ্টি একটা সম্পর্ক, সেই সম্পর্কটাকে আরো সুন্দর করতে তাদের দুই পরিবার তানিয়া আর তুহিনের বিয়ে দিয়ে দেয়, সবাইকে নিয়ে খুব ভালোই চলছিলো তাদের সুখের সংসার, কিন্তু সেই সুখ তানিয়ার কপালে বেশিদিন সইলোনা।
বিয়ের তিন মাস পর, তুহিন একদিন হঠাৎ করে মাথা ব্যাথায় খুব অস্থির হয়ে উঠে, সবাই তুহিনকে নিয়ে হাসপাতালে যায়, সেখানে ডাক্তার জানায় তুহিনের ব্রেইন টিউমার হয়েছে, কোনো ভাবেই তাঁকে আর বাঁচানো সম্ভব নয়, কথাটা শুনে তানিয়া কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিলোনা।
কিন্তু এটাই যে সত্যি, তানিয়া সেদিন চিৎকার করে কাঁদতে চেয়েও পারেনি কারন তার তো ভেঙে পরলে চলবেনা, এখন যে তানিয়াই তুহিনের একমাত্র শান্তনা।

- তানিয়া, আমি হয়তো আর বেশিদিন বাঁচবোনা তাই না?
- ধুর, পাগল কে বলল এই সব কথা তোমাকে? (কাঁন্নাটা লুকিয়ে)
- কেও বলেনি আমি তোমার মলিন মুখটা দেখেই বুঝেছি।
- তুমি সব সময়ই একটু বেশিই বুঝো।
- জানো তানিয়া, আমার একটা ইচ্ছে ছিলো, তনয়া আর তন্ময়ের বিয়েতে আমি তোমায় নিজের হাতে সাজিয়ে দেবো, নীল শাড়িতে তোমায় একদম পরীদের থেকেও সুন্দর দেখাবে, আর আমি তোমার কানের কাছে ফিস ফিস করে বলবো খুব সুন্দর লাগছে আমার পাগলীটাকে, কিন্তু সেটা যে আর হবেনা, তবুও আমি তোমার জন্য চুপি চুপি একটা নীল শাড়ি, কিছু নীল চুরি কিনে রেখেছি, আমার আলমারিতে রাখা আছে, আমি তো তখন থাকবোনা তাই নিজের হাতে তোমাকে সাজাতেও পারবোনা।
কিন্তু তুমি আমার এই ইচ্ছেটা পূরন করো ওদের বিয়েতে তুমি ঠিক আমার ইচ্ছে মত সেজো, আমি না হয় দূর থেকেই তোমাকে দেখবো।

তুহিনের এমন কথায় তানিয়া আর নিজেকে সামলে রাখতে পারলোনা, বাচ্চাদের মত তুহিনের বুকে পরে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলো, আর বলতে লাগলো তোমার কিছু হবেনা তুহিন, আমায় তুমি নিজের হাতেই সাজাতে পারবে, আমি তোমায় হারাতে দেবো না, আমার ভালবাসায় তুমি বেঁচে থাকবে।
সেদিন তুহিন শুধু একটা কথাই বলেছিলো, ধুর পাগলী এভাবে কাঁদতে নেই, সত্যিই তো আমি তোমার ভালবাসায় বেঁচে থাকবো।

কয়েক বছর পর........
আজ তনয়া আর তন্ময়ের বিয়ে, তানিয়া আজ তুহিনের ইচ্ছে মতই সেজেছে, কিন্তু তুহিন তাকে সাজাতে পারেনি কারন তুহিন যে আজ আর এই পৃথিবীতে নেই, অনেক আগেই সে হারিয়ে গেছে এই পৃথিবী থেকে।
তানিয়া আজ ছাদের এক পাশে দাঁড়িয়ে আকাশের তারাদের দিকে তাঁকিয়ে চিৎকার করে কাঁদছে আর বলছে।
তুমি দেখতে পাচ্ছো তুহিন, আজ আমি তোমার ইচ্ছে মতই সেজেছি, কোনো অপূর্ণতা রাখিনি তাতে, সাদা শাড়িটা পরিনি আজ, তোমার পছন্দের সেই নীল শাড়ি পরেছি আমি।

তুমি তো জানতে সাদা রঙটা আমার একদম পছন্দ ছিলো না, কিন্তু এখন সেটাই খুব ভালো লাগে, অন্য কোনো রঙে এখন আর মানায় না আমাকে, কারন আমার জীবনটাই যে এখন এক টুকরো সাদা কাগজের মত হয়ে গেছে, কোনো রঙের ছোঁয়া নেই তাতে,
কিন্তু দেখো তোমার ইচ্ছেতে আজ আমি নীল শাড়ি পরেছি শুধু তোমার ভালো লাগার জন্য, কিন্তু তবুও যে একটা অপূর্ণতা রয়েই গেলো, আমার কানের কাছে ফিস ফিস করে তুমি বললেনা তো খুব সুন্দর লাগছে আমার পাগলীটাকে।
জানো তুহিন এখন অনেক বেশি মিস করি তোমার সেই পাগলামি গুলো, যেগুলোর জন্য আগে খুব বকতাম তোমায়।
কথা গুলো বলতে বলতে মেয়েটা খুব কাঁদতে থাকলো, কাঁদুক না এমন কাঁন্না কিছুক্ষন এতো এক সত্যিকারের ভালবাসার কাঁন্না।

সব ভালবাসা কখনো সম্পূর্ণ হয় না কিছু কিছু ভালবাসায় অনেকটা অপূর্ণতা থেকে যায়, হয়তো কিছুটা এই গল্পের মত নয়তো এর থেকে আরেকটু ভিন্ন, তবুও একটাই চাওয়া ভালো থাকুক সবার ভালবাসা।।

সমাপ্ত.......
 
Last edited by a moderator:

Khaled Al Mahmud

সুপার ব্লগার
#2
বাহ
- এই পিচ্চি তুই নাকি তনয়াকে আই লাভ বলেছিস?
- হ্যাঁ বলেছি তো, আর তানিয়া আপু তুমি আমাকে পিচ্চি বললা কেনো, আমি কি এখনো পিচ্চি আছি নাকি, আমি এখন অনেকটা বড় হয়ে গেছি।
- ওহ্ তাই, আচ্ছা বলতো তুই যেনো কোন ক্লাসে পড়িস?
- ক্লাস সেভেন।
- হিহিহিহি, মাত্র ক্লাস সেভেনে পড়িস আরএখনই প্রেম ভালবাসার পিছনে পরে গেলি আচ্ছা বাদ দে আর কখনো আমার বোনরে বিরক্ত করবিনা বুঝলি?
- যদি করি তাহলে কি করবা তুমি?
- মেরে তোর হাত পা ভেঙে দেবো।
- দাঁড়াও, তোমাকে দেখাচ্ছি মজা।
কথাটা বলেই পিচ্চিটা খুব জোরে ভাইয়া ভাইয়া বলে ডাকতে শুরু করলো,
ডাকতে দেরি হলো কিন্তু শয়তানটার আসতে দেরি হলোনা।
- কি হয়েছে রে তন্ময়, এভাবে চিল্লাচিল্লি করছিস কেনোরে?
- দেখনা ভাইয়া তানিয়া আপু আমাকে বকতেছে।
- কেনো, কি করছিস তুই?
- তনয়াকে আই লাভ ইউ বলছিলাম তাই।
- দাঁড়া আমি দেখছি।
তারপর তুহিন কিছুটা রাগী রাগী ভাব নিয়ে তানিয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তুহিনের এই ভাবে এগিয়ে আসা দেখে তানিয়া কিছুটা ভয় পেয়ে গেলেও সেটা তুহিনকে বুঝতে দিতে নারাজ।
- আপনি আমার তন্ময়কে বকেছেন কেনো?
- আপনার তন্ময় আমার তনয়াকে বাজে কথা বলেছে কেনো?
- বাজে কথা কি বলেছে, ওতো আই লাভ ইউ বলেছে।
- তো সেটা কি বাজে কথা হলোনা, তেরো বছরের বাচ্চা ছেলে ভালবাসার কি বুঝে?
- আপনি কি জানেন, ক্লাস ফাইভে পড়া ছেলে মেয়েরাও এখন প্রেম করে।
- হ্যাঁ করে, কিন্তু সেটাকে ভালবাসা বলেনা আবেগ বলে।
- আচ্ছা, যাই হোক ওরা না হয় ছোট মানুষ প্রেম ভালবাসা বুঝেনা, আমরা তো বড় হয়েছি তাই না?
- হুম, তো?
- আই লাভ ইউ।
- আপনাদের দুই ভাইয়ের মাথা পুরোপুরিই খারাপ হয়ে গেছে, আমি আন্টিকে বলে কালই আপনাদেরকে পাবনা পাঠানোর ব্যাবস্থা করবো।
- আমার এই পাগলামির ওষুধ পাবনা নেই আপনার কাছেই আছে।
- তাহলে সারাজীবন এমন পাগলই থাকতে হবে আমার থেকে ওষুধ কখনোই পাবেন নাহ্।
- কেনো?
- এমনি, এই তনয়া চলে আয় তো, এদের দুই ভাইয়ের ধারে কাছেও কখনো আসবিনা।
এই বলে তানিয়া তনয়াকে নিয়ে চলে গেলো।

তুহিন তানিয়ার চলে যাওয়ার দিকে অপলক ভাবে তাঁকিয়ে ভাবতে লাগলো......মেয়েটি কি অপরুপা দেখতে, কত অপূর্ব তার সেই হাসি, কত সুন্দর তার কথা বলার ধরন, কি মায়াবী তার চাহনি, যে কোনো ছেলে এক দেখাতেই প্রেমে পরে যাবে এই মায়াবিনীর।

পরদিন সকাল বেলা তানিয়া কলেজে যাওয়ার জন্য রেডী হয়ে তার মাকে বলল
- মা আমি কলেজে যাচ্ছি এডমিশন করাতে।
- এই নতুন শহর অচেনা অজানা জায়গা তুই একা কি করে যাবি?
- আমি যেতে পারবো মা তুমি কোনো চিন্তা করোনা।
- তবুও আমার যে বড্ড ভয় লাগে।
- আচ্ছা বোন তুমি চিন্তা করোনা, আমার তুহিন আছে তো ও এক্ষুনি অফিস যাবে তখন তানিয়াকে কলেজে নামিয়ে দিয়ে যাবে কেমন? (আন্টি)
- আমার আজ অফিস নেই মা, তবুও তুমি আর আন্টি যদি বলো তো আমি উনাকে কলেজে নিয়ে যেতে পারি। (তুহিন)
- আমার কাওকে লাগবেনা বললাম তো।(তানিয়া)
- তুই চুপ থাকতো, তুহিন বাবা তুমি যদি নিয়ে যাও তাহলে তো আমার কোনো চিন্তাই থাকেনা। (মা)
- ঠিক আছে আন্টি আপনি একদম ভাববেন না। (তুহিন)
কথাটা শুনে তানিয়া তুহিনের দিকে একটু রাগী চোখে তাঁকালো, আর মনে মনে ভাবতে লাগলো আজ যে কি হবে কে জানে, এই বাসায় আসার পর থেকেই সেই যে ছেলেটা পিছনে পরেছে এক মুহুর্তও শান্তিতে থাকতে দিচ্ছেনা।
- হলো কি আপনার এইভাবে ড্যাব ড্যাব করে তাঁকিয়ে না থেকে চলুন এবার যাওয়া যাক।
- হুম চলুন।
তখন ইচ্ছে না থাকা সত্বেও তানিয়াকে তুহিনের সাথে যেতেই হলো, বাইকের পিছনে নিজের ভালবাসাকে নিয়ে
ঘুরতে পারার যে এতটা আনন্দ সেটা আজকের আগে কখনোই বুঝতে পারেনি তুহিন, আর বুঝার কথাও ছিলো না কারন এর আগে তো কখনো কাওকে এতটা ভালবাসেনি সে।
- আচ্ছা আপনি কি এক স্থানে চুপ করে বসে থাকতেও পারেন না?
- কি করে বসবো, বাইকটাতে জায়গা অনেক কম, আর আমি আপনার এত কাছাকাছি বসতে পারবোনা।
- হাহাহাহা, এখন তো দেখছি আপনার জন্য বাইক অর্ডার দিয়ে বানিয়ে আনতে হবে।
- এত বেশি কথা না বলে চুপচাপ নিজের কাজ করুন তো।
- ওকে, মেডামের যা আদেশ।
তারপর দুজনে কলেজের সমস্ত ঝাঁমেলা শেষ করলো।
এবার বাসায় ফেরার পালা
কিন্তু তুহিন এবার বাইকটা অন্যদিকে নিয়ে যাচ্ছে, তানিয়ার মনে হলো এই রাস্তায় তো তারা আসেনি তাহলে তুহিন কোথায় নিয়ে যাচ্ছে তাকে, তানিয়ার মনে অজানা একটা ভয় কাজ করতে থাকলো।
কিন্তু সেই ভয়টা বেশি সময় থাকলোনা।
তুহিন তানিয়াকে একটা নদীর ধারে নিয়ে গেলো, তেমন মানুষ জন নেই সেখানে অনেক নিরিবিলি একটা পরিবেশ, মনটাকে প্রফুল্ল করার মত, চারদিকটা সবুজে ঢাকা, যত দূর চোখ যাচ্ছে সবুজের সমারুহ, নদীর দুপাশে সাদা কাশ ফুল, সব কিছু মিলিয়ে তানিয়ার মনে হচ্ছে যেনো সে এক অনন্য সুন্দরের মাঝে হারিয়ে যাচ্ছে।

- এই জায়গাটা আমার খুব প্রিয়, জানেন আমি মাঝে মাঝেই এখানে আসি, বাসার চার দেয়ালের মাঝে থাকতে থাকতে যখন আমার নিশ্বাস নেওয়া কষ্ট হয়ে যায়, তখন আমি এখানের এই স্নিগ্ধ পরিবেশে প্রান ভরে নিশ্বাস নেই, আমার অনেক ভালো লাগে জায়গাটা।
- আসলেই জায়গাটা অনেক সুন্দর।
- হুম, তানিয়া একটা কথা বলবো?
- বলেন।
- আমি সত্যিই আপনাকে অনেক ভালবাসি।
- আচ্ছা আমাদের এখন বাসায় ফেরা দরকার, মা খুব চিন্তা করছে হয়তো।
- উত্তরটা দিবেন না?
- আমি আপনাকে কিছু বলেছি শুনতে পেরেছেন নিশ্চয়ই।
- হুম, চলেন।
তারপর দুজনে বাসায় চলে এলো, বাসায় ফেরার পর থেকে তানিয়া আর একবারও তুহিনকে দেখতে পেলোনা, আসার সময় সারাটা রাস্তা তুহিন কোনো কথা বলল না
তানিয়ার এবার খুব খারাপ লাগছিলো, ছেলেটা হয়তো তার উপর অনেকটা অভিমান করেছে, কথাগুলো ভাবতে ভাবতে তানিয়া ছাদের দিকে গেলো, গিয়ে দেখলো তুহিন ছাদের একপাশে দাঁড়িয়ে আছে।
- একা একা ছাদে কি করেন?
- তেমন কিছুনা।
- আপনি কি আমার উপর রেগে আছেন?
- না তো।
- তাহলে সেই কখন থেকে আপনার খুঁজ করছি, দেখা পেলাম না কেনো?
- এমনি।
- আমি কি আপনার পাশে দাঁড়াতে পারি?
- সত্যিই আপনি দাঁড়াবেন আমার পাশে?
- হুম।
- ভালবেসে?
- শুধু ভালবেসে নয় অনেকটা ভালবেসে।

সেদিন থেকে শুরু হয় তুহিন আর তানিয়ার ভালবাসার মিষ্টি একটা সম্পর্ক, সেই সম্পর্কটাকে আরো সুন্দর করতে তাদের দুই পরিবার তানিয়া আর তুহিনের বিয়ে দিয়ে দেয়, সবাইকে নিয়ে খুব ভালোই চলছিলো তাদের সুখের সংসার, কিন্তু সেই সুখ তানিয়ার কপালে বেশিদিন সইলোনা।
বিয়ের তিন মাস পর, তুহিন একদিন হঠাৎ করে মাথা ব্যাথায় খুব অস্থির হয়ে উঠে, সবাই তুহিনকে নিয়ে হাসপাতালে যায়, সেখানে ডাক্তার জানায় তুহিনের ব্রেইন টিউমার হয়েছে, কোনো ভাবেই তাঁকে আর বাঁচানো সম্ভব নয়, কথাটা শুনে তানিয়া কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিলোনা।
কিন্তু এটাই যে সত্যি, তানিয়া সেদিন চিৎকার করে কাঁদতে চেয়েও পারেনি কারন তার তো ভেঙে পরলে চলবেনা, এখন যে তানিয়াই তুহিনের একমাত্র শান্তনা।

- তানিয়া, আমি হয়তো আর বেশিদিন বাঁচবোনা তাই না?
- ধুর, পাগল কে বলল এই সব কথা তোমাকে? (কাঁন্নাটা লুকিয়ে)
- কেও বলেনি আমি তোমার মলিন মুখটা দেখেই বুঝেছি।
- তুমি সব সময়ই একটু বেশিই বুঝো।
- জানো তানিয়া, আমার একটা ইচ্ছে ছিলো, তনয়া আর তন্ময়ের বিয়েতে আমি তোমায় নিজের হাতে সাজিয়ে দেবো, নীল শাড়িতে তোমায় একদম পরীদের থেকেও সুন্দর দেখাবে, আর আমি তোমার কানের কাছে ফিস ফিস করে বলবো খুব সুন্দর লাগছে আমার পাগলীটাকে, কিন্তু সেটা যে আর হবেনা, তবুও আমি তোমার জন্য চুপি চুপি একটা নীল শাড়ি, কিছু নীল চুরি কিনে রেখেছি, আমার আলমারিতে রাখা আছে, আমি তো তখন থাকবোনা তাই নিজের হাতে তোমাকে সাজাতেও পারবোনা।
কিন্তু তুমি আমার এই ইচ্ছেটা পূরন করো ওদের বিয়েতে তুমি ঠিক আমার ইচ্ছে মত সেজো, আমি না হয় দূর থেকেই তোমাকে দেখবো।

তুহিনের এমন কথায় তানিয়া আর নিজেকে সামলে রাখতে পারলোনা, বাচ্চাদের মত তুহিনের বুকে পরে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলো, আর বলতে লাগলো তোমার কিছু হবেনা তুহিন, আমায় তুমি নিজের হাতেই সাজাতে পারবে, আমি তোমায় হারাতে দেবো না, আমার ভালবাসায় তুমি বেঁচে থাকবে।
সেদিন তুহিন শুধু একটা কথাই বলেছিলো, ধুর পাগলী এভাবে কাঁদতে নেই, সত্যিই তো আমি তোমার ভালবাসায় বেঁচে থাকবো।

কয়েক বছর পর........
আজ তনয়া আর তন্ময়ের বিয়ে, তানিয়া আজ তুহিনের ইচ্ছে মতই সেজেছে, কিন্তু তুহিন তাকে সাজাতে পারেনি কারন তুহিন যে আজ আর এই পৃথিবীতে নেই, অনেক আগেই সে হারিয়ে গেছে এই পৃথিবী থেকে।
তানিয়া আজ ছাদের এক পাশে দাঁড়িয়ে আকাশের তারাদের দিকে তাঁকিয়ে চিৎকার করে কাঁদছে আর বলছে।
তুমি দেখতে পাচ্ছো তুহিন, আজ আমি তোমার ইচ্ছে মতই সেজেছি, কোনো অপূর্ণতা রাখিনি তাতে, সাদা শাড়িটা পরিনি আজ, তোমার পছন্দের সেই নীল শাড়ি পরেছি আমি।

তুমি তো জানতে সাদা রঙটা আমার একদম পছন্দ ছিলো না, কিন্তু এখন সেটাই খুব ভালো লাগে, অন্য কোনো রঙে এখন আর মানায় না আমাকে, কারন আমার জীবনটাই যে এখন এক টুকরো সাদা কাগজের মত হয়ে গেছে, কোনো রঙের ছোঁয়া নেই তাতে,
কিন্তু দেখো তোমার ইচ্ছেতে আজ আমি নীল শাড়ি পরেছি শুধু তোমার ভালো লাগার জন্য, কিন্তু তবুও যে একটা অপূর্ণতা রয়েই গেলো, আমার কানের কাছে ফিস ফিস করে তুমি বললেনা তো খুব সুন্দর লাগছে আমার পাগলীটাকে।
জানো তুহিন এখন অনেক বেশি মিস করি তোমার সেই পাগলামি গুলো, যেগুলোর জন্য আগে খুব বকতাম তোমায়।
কথা গুলো বলতে বলতে মেয়েটা খুব কাঁদতে থাকলো, কাঁদুক না এমন কাঁন্না কিছুক্ষন এতো এক সত্যিকারের ভালবাসার কাঁন্না।

সব ভালবাসা কখনো সম্পূর্ণ হয় না কিছু কিছু ভালবাসায় অনেকটা অপূর্ণতা থেকে যায়, হয়তো কিছুটা এই গল্পের মত নয়তো এর থেকে আরেকটু ভিন্ন, তবুও একটাই চাওয়া ভালো থাকুক সবার ভালবাসা।।

সমাপ্ত.......
্ চমৎকার
 

বর্ণমালা এন্ড্রয়েড এপ

ফেসবুকে বর্ণমালা ব্লগ

নতুন যুক্ত হয়েছেন

Top