• সুখবর........ সুখবর........ সুখবর........ বর্ণমালাকে খুব শিঘ্রই পাওয়া যাবে বাংলা বর্ণমালার ডোমেইন "ডট বাংলায়" অর্থাৎ আমাদের ওয়েব এড্রেস হবে 'বর্ণমালাব্লগ.বাংলা' পাশাপাশি বর্তমান Bornomalablog.com এ ঠিকানায়ও পাওয়া যাবে। বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণতা পাবে আমাদের বর্ণমালা।

একজন তারিকের গল্প ।। আখলাকুর রহমান

K.M. Akhlak

নতুন ব্লগার
#1
10152022_244806075705074_1563074472_n-jpg.301


রাত প্রায় দু'টো বেজে গেছে। এখনো ঘুম নেই তারিকের চোখে। একটা কাগজ নিয়ে কী সব লেখালেখি করছে। শীতকাল গেছে কয়েকদিন, তবুও যেন রেশ রয়ে গেছে। কিন্তু তারিকের যেন গরম লাগছেই না। নিস্তব্ধ রুমে কলম আর কাগজের মিলনের এক অদ্ভুত খসখস আওয়াজ সৃষ্টি করে তুলেছে। টেবিলের উপর ছোট্ট একটা ল্যাম্প আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে অবিরাম। কিছু জিনিসের কাজ শুধুই দিয়ে যাওয়া, পাওয়ার কোনো অধিকার থাকে না।
হাত কাঁপছে তারিকের। আর লেখা সম্ভব হচ্ছে না। কলমটা কাগজগুচ্ছের উপর রেখেই চেয়ার ছেড়ে উঠে বসে সে।
পেটের ভেতর হাহাকার অতিষ্ঠ করে তুলেছে। এখন কিছু খেতে হবে। সেই কখন থেকে লিখছে সঠিক সময় মনে নেই। হয়তো রাত নয়টা, নাহয় একটু এদিক ওদিক হবে।
এতো রাতে রাস্তার পাশের কোনো দোকান খোলা থাকবে বলে মনে হয় না! তবুও ভাগ্য ভালো থাকলে কোনো একটা ভ্রাম্যমান দোকানের দেখা হয়ে যেতেই পারে। একটা ঠেলাগাড়িতে হরেক রকম খাদ্য সামগ্রী সাজিয়ে রাখলে তাকে ভ্রাম্যমান দোকান বলে। কেউ বলুক বা নাই বলুক, তারিক এর নাম দিয়েছে - ভ্রাম্যমান দোকান।
ঘর থেকে রাস্তায় নেমে পড়ে তারিক। পরনে একটা সবুজ ফতুয়া আর সস্তায় কেনা প্যান্ট। হেঁটে চলেছে সে, উদ্দেশ্য একটি ভ্রাম্যমান দোকান খুঁজে বের করা।
মাথার উপর খুঁটিতে একটা সাদা আলো জ্বলছে। কয়েকটা সিঙ্গারা আর হাফ প্লেট খিচুড়ি সামনে নিয়ে বসে তারিক। সে তার খুঁজতে থাকা একটা ভ্রাম্যমান দোকান পেয়ে গেছে।
দোকানী একটু বয়স্ক। বয়স আনুমানিক বছর চল্লিশ তো হবেই। একটা খাটো চাঁদর মুড়িয়ে শুয়ে ছিল। কোনো রকমে পা পর্যন্ত এলেও সেটাকে টেনে লম্বা করার বৃথা চেষ্টা করছিল বেচারা। গরিবরা এমনই হয়!
সব জিনিসকে দীর্ঘ করার চেষ্টা করাই তাদের স্বভাব। ঘরে যদি চারদিনের চাউল থাকে, তবে সেটাকে বহু কষ্টে সাতদিন চালিয়ে নেওয়ার নাম হলো গরিব।
- এই যে লন পানি। এই ঠাণ্ডার মইদ্যে পানি আইন্যা দেওয়া সহজ কাম নয় ভাই। এর জন্য কিন্তু অতিরিক্ত পাঁচ টেহা ধইরা দিবেন।
- সে না হয় দেবো। তবে পানি কোত্থেকে নিয়ে এলে? কোনো নর্দমা থেকে আনলে নাকি?
- তওবা তওবা! কী যে কন ভাই! এমন কাজ হক্কলের খুপরিতে পাইলেও এই রহমতের খুপরিতে পাইবেন না। গন্ধ শুইক্যা দ্যাখেন। একদম টাটকা টিউবওয়েলের কইলজ্যা দমানো পানি।
এতক্ষণে দোকানীর নাম বুঝলো তারিক - রহমত মিয়া।
এক মুঠো খিচুড়ি মুখে নিলো। তেমন স্বাদের না হলেও মন্দ নয়। সার্বজনীন স্বীকৃত হতে হবে এমন করে রান্না করা। এসব ভ্রাম্যমান দোকানে এভাবেই রান্না হয়ে থাকে।
- খেতে সোয়াদ আছে ভাই?
তারিক কোনো কথা বলে না, মাথা নিঁচু করে খেতে থাকে।
উঠে দাঁড়িয়েছে তারিক। সামনের ছোট্ট বেঞ্চে একটা প্লেটে কয়েক টুকরো সিঙ্গারার টুকরা পড়ে আছে।
পাশে দাঁড়িয়ে আছে রহমত মিয়া। কয়েকবার আঙুল গুনে বিড়বিড় করে হিসেব করে বললো,
- আপনার বিল হইছে তেঁতাল্লিশ টেহা। আর পানি আনবার লাগি পাঁচ টেহা। তাইলে মোট আটচল্লিশ টেহা দেন।
প্যান্টের পকেটে হাত দেয় তারিক। কিছু একটা খুঁজছে। হয়তো মানিব্যাগ হবে।
কেমন একটা অস্থিরতা ছাপ জেগে উঠেছে তারিকের চোখে-মুখে। রাতের গভীর অন্ধকারে সেই ছাপ রহমত মিয়ার কাছে হয়তো ধরা দিচ্ছে না। ধরা দিলেও সেটা বুঝার বিন্দুমাত্র ক্ষমতা নেই তারিকের কাছে।
- তোমারে কত দিতে হবে?
- আটচল্লিশ টেহা!
- এখন কয়টা বাজে বলতে পারো?
- কেমনে কমু ভাই? আমি কী আর ঘড়ি-টড়ি নিয়া ঘুরি? তয় মনে কয়, ফজরের আযান হইতে আর বেশি বাকি নাই।
- তুমি আমার সঙ্গে এখন আমার বাড়ি যেতে পারবে? আমি আমার মানিব্যাগ ভুলে রেখে আসছি।
- কী যে কন ভাই? আপনি পরে দিয়ে দিয়েন। আমি রাইতে এইখানেই খুপরি নিয়ে থাকি।
- আচ্ছা, ধন্যবাদ রহমত ভাই।
বাড়ির পথে রওনা দেয় তারিক।
ঘরের মধ্যে সব কাগজ পত্র ছড়িয়ে ফেলেছে। আলমারীর সস্তার কাপড়গুলোও গড়াগড়িতে ব্যস্ত মাটিতে।
টেবিলের সামনে রাখা চেয়ারটাতে থপ করে বসে পড়ে তারিক। ঘড়িতে চারটার ঘন্টা বাজছে।
হালকা দমকা বাতাস জানালা দিয়ে রুমে আসছে, উড়িয়ে নিতে চাইছে টেবিলের উপর রাখা কাগজগুচ্ছকে।
তারিক হাত দিয়ে এঁটে ধরে সেগুলো। যার একদম শেষের দিকে লেখা রয়েছে,
" মায়ের অসুখ বেড়ে চলেছে। বাড়িওয়ালাও এসে চাপ দিচ্ছে। টিউশনির টাকাও সব খরচ হয়ে গেছে। বোনের বিয়ের যৌতুক হিসাবে পঞ্চাশ হাজার টাকা পাঠাতে হবে গ্রামে। আজ সন্ধ্যায় বন্ধু রাশেদ পাওনা ত্রিশ হাজার টাকা ফেরৎ দিয়ে গেছে। কাল বাড়িতে টাকা পাঠাবো।"
তারিকের চোখ ঝাপসা হয়ে এসেছে। কী করবে বুঝে উঠতে পারছে না। আবার সেই কাগজে খসখস করে লিখতে শুরু করলো,
" ভ্রাম্যমান দোকানী রহমত মিয়ার কাছে ঋণী রইলাম আটচল্লিশ টাকা। তার ঋণ শোধ করার ক্ষমতা এই মূহুর্তে আমার নেই। ত্রিশ হাজার টাকাসহ মানিব্যাগ হারিয়ে ফেলেছি। আমি পৃথিবী ছাড়ছি। সব যন্ত্রণা আজ অসহ্য হয়ে উঠেছে।"
কথাটা বলেই সিলিংয়ের সাথে দড়িতে ঝুলে পড়ে তারিক। ঝুলে পড়ার এক মূহুর্ত আগে মনের কোণে উঁকি দিচ্ছিলো, আত্মহত্যা মহাপাপ।
কখনো কখনো নিজের মনকেও ফাঁকি দিয়ে পতিত হতে হয় গহীন অন্ধকারে। সেখানে হয়তো ইহলোক থেকে মুক্তি মেলে, কিন্তু শুরু হয় নতুন স্বাদের জীবন।
রহমত মিয়া এদিক ওদিক তাঁকিয়ে নিলো। কোথাও কেউ নেই। আর এমন সময় কে বা আসতে যাবে!
চুপিচুপি লুঙ্গির গিট্টু থেকে বের করে মোটাসোটা একটা মানিব্যাগ। পেট ভর্তি তার। মানি ব্যাগের ভিতরের টাকা দেখে চোখ চকচক করে ওঠে তার। গুনতে চেষ্টা করে সে। আনন্দে বারবারই হিসাব গুলিয়ে ফেলে সে।
তারিকের পকেট দেখে বেখেয়ালে পড়ে গিয়েছিল মানিব্যাগটি। সুযোগে সরিয়ে রেখেছিল রহমত মিয়া। এখন নিশ্চিন্তে কাটিয়ে দেওয়া কয়েক মাস। এতগুলো টাকা নিশ্চয় কম নয়।
রহমত মিয়া ধারণা করতে থাকে, কত হবে? ত্রিশ-চল্লিশ হাজার টাকা হবে হয়তো!
সিলিংয়ের সঙ্গে ঝুলছে তারিকের লাশ। দমকা হাওয়া উড়িয়ে দিচ্ছে টেবিলের উপরের কাগজগুচ্ছকে। হাত দিয়ে তাকে থামানোর মতো এখন আর কেউ নেই।
টেবিলে বসে নীরবে তাতে কয়েক লাইন লেখার মতোও কেউ নেই।
তারিক এখন সুযোগ পেলে হয়তো লিখে যেতো, "আত্মহত্যা মহাপাপ"।
_________ সমাপ্ত
 
Last edited by a moderator:

Sps Shuvo

এক্টিভ ব্লগার
#2
চমৎকার হয়েছে প্রিয়।
 

Khaled Al Mahmud

সুপার ব্লগার
#3
View attachment 301

রাত প্রায় দু'টো বেজে গেছে। এখনো ঘুম নেই তারিকের চোখে। একটা কাগজ নিয়ে কী সব লেখালেখি করছে। শীতকাল গেছে কয়েকদিন, তবুও যেন রেশ রয়ে গেছে। কিন্তু তারিকের যেন গরম লাগছেই না। নিস্তব্ধ রুমে কলম আর কাগজের মিলনের এক অদ্ভুত খসখস আওয়াজ সৃষ্টি করে তুলেছে। টেবিলের উপর ছোট্ট একটা ল্যাম্প আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে অবিরাম। কিছু জিনিসের কাজ শুধুই দিয়ে যাওয়া, পাওয়ার কোনো অধিকার থাকে না।
হাত কাঁপছে তারিকের। আর লেখা সম্ভব হচ্ছে না। কলমটা কাগজগুচ্ছের উপর রেখেই চেয়ার ছেড়ে উঠে বসে সে।
পেটের ভেতর হাহাকার অতিষ্ঠ করে তুলেছে। এখন কিছু খেতে হবে। সেই কখন থেকে লিখছে সঠিক সময় মনে নেই। হয়তো রাত নয়টা, নাহয় একটু এদিক ওদিক হবে।
এতো রাতে রাস্তার পাশের কোনো দোকান খোলা থাকবে বলে মনে হয় না! তবুও ভাগ্য ভালো থাকলে কোনো একটা ভ্রাম্যমান দোকানের দেখা হয়ে যেতেই পারে। একটা ঠেলাগাড়িতে হরেক রকম খাদ্য সামগ্রী সাজিয়ে রাখলে তাকে ভ্রাম্যমান দোকান বলে। কেউ বলুক বা নাই বলুক, তারিক এর নাম দিয়েছে - ভ্রাম্যমান দোকান।
ঘর থেকে রাস্তায় নেমে পড়ে তারিক। পরনে একটা সবুজ ফতুয়া আর সস্তায় কেনা প্যান্ট। হেঁটে চলেছে সে, উদ্দেশ্য একটি ভ্রাম্যমান দোকান খুঁজে বের করা।
মাথার উপর খুঁটিতে একটা সাদা আলো জ্বলছে। কয়েকটা সিঙ্গারা আর হাফ প্লেট খিচুড়ি সামনে নিয়ে বসে তারিক। সে তার খুঁজতে থাকা একটা ভ্রাম্যমান দোকান পেয়ে গেছে।
দোকানী একটু বয়স্ক। বয়স আনুমানিক বছর চল্লিশ তো হবেই। একটা খাটো চাঁদর মুড়িয়ে শুয়ে ছিল। কোনো রকমে পা পর্যন্ত এলেও সেটাকে টেনে লম্বা করার বৃথা চেষ্টা করছিল বেচারা। গরিবরা এমনই হয়!
সব জিনিসকে দীর্ঘ করার চেষ্টা করাই তাদের স্বভাব। ঘরে যদি চারদিনের চাউল থাকে, তবে সেটাকে বহু কষ্টে সাতদিন চালিয়ে নেওয়ার নাম হলো গরিব।
- এই যে লন পানি। এই ঠাণ্ডার মইদ্যে পানি আইন্যা দেওয়া সহজ কাম নয় ভাই। এর জন্য কিন্তু অতিরিক্ত পাঁচ টেহা ধইরা দিবেন।
- সে না হয় দেবো। তবে পানি কোত্থেকে নিয়ে এলে? কোনো নর্দমা থেকে আনলে নাকি?
- তওবা তওবা! কী যে কন ভাই! এমন কাজ হক্কলের খুপরিতে পাইলেও এই রহমতের খুপরিতে পাইবেন না। গন্ধ শুইক্যা দ্যাখেন। একদম টাটকা টিউবওয়েলের কইলজ্যা দমানো পানি।
এতক্ষণে দোকানীর নাম বুঝলো তারিক - রহমত মিয়া।
এক মুঠো খিচুড়ি মুখে নিলো। তেমন স্বাদের না হলেও মন্দ নয়। সার্বজনীন স্বীকৃত হতে হবে এমন করে রান্না করা। এসব ভ্রাম্যমান দোকানে এভাবেই রান্না হয়ে থাকে।
- খেতে সোয়াদ আছে ভাই?
তারিক কোনো কথা বলে না, মাথা নিঁচু করে খেতে থাকে।
উঠে দাঁড়িয়েছে তারিক। সামনের ছোট্ট বেঞ্চে একটা প্লেটে কয়েক টুকরো সিঙ্গারার টুকরা পড়ে আছে।
পাশে দাঁড়িয়ে আছে রহমত মিয়া। কয়েকবার আঙুল গুনে বিড়বিড় করে হিসেব করে বললো,
- আপনার বিল হইছে তেঁতাল্লিশ টেহা। আর পানি আনবার লাগি পাঁচ টেহা। তাইলে মোট আটচল্লিশ টেহা দেন।
প্যান্টের পকেটে হাত দেয় তারিক। কিছু একটা খুঁজছে। হয়তো মানিব্যাগ হবে।
কেমন একটা অস্থিরতা ছাপ জেগে উঠেছে তারিকের চোখে-মুখে। রাতের গভীর অন্ধকারে সেই ছাপ রহমত মিয়ার কাছে হয়তো ধরা দিচ্ছে না। ধরা দিলেও সেটা বুঝার বিন্দুমাত্র ক্ষমতা নেই তারিকের কাছে।
- তোমারে কত দিতে হবে?
- আটচল্লিশ টেহা!
- এখন কয়টা বাজে বলতে পারো?
- কেমনে কমু ভাই? আমি কী আর ঘড়ি-টড়ি নিয়া ঘুরি? তয় মনে কয়, ফজরের আযান হইতে আর বেশি বাকি নাই।
- তুমি আমার সঙ্গে এখন আমার বাড়ি যেতে পারবে? আমি আমার মানিব্যাগ ভুলে রেখে আসছি।
- কী যে কন ভাই? আপনি পরে দিয়ে দিয়েন। আমি রাইতে এইখানেই খুপরি নিয়ে থাকি।
- আচ্ছা, ধন্যবাদ রহমত ভাই।
বাড়ির পথে রওনা দেয় তারিক।
ঘরের মধ্যে সব কাগজ পত্র ছড়িয়ে ফেলেছে। আলমারীর সস্তার কাপড়গুলোও গড়াগড়িতে ব্যস্ত মাটিতে।
টেবিলের সামনে রাখা চেয়ারটাতে থপ করে বসে পড়ে তারিক। ঘড়িতে চারটার ঘন্টা বাজছে।
হালকা দমকা বাতাস জানালা দিয়ে রুমে আসছে, উড়িয়ে নিতে চাইছে টেবিলের উপর রাখা কাগজগুচ্ছকে।
তারিক হাত দিয়ে এঁটে ধরে সেগুলো। যার একদম শেষের দিকে লেখা রয়েছে,
" মায়ের অসুখ বেড়ে চলেছে। বাড়িওয়ালাও এসে চাপ দিচ্ছে। টিউশনির টাকাও সব খরচ হয়ে গেছে। বোনের বিয়ের যৌতুক হিসাবে পঞ্চাশ হাজার টাকা পাঠাতে হবে গ্রামে। আজ সন্ধ্যায় বন্ধু রাশেদ পাওনা ত্রিশ হাজার টাকা ফেরৎ দিয়ে গেছে। কাল বাড়িতে টাকা পাঠাবো।"
তারিকের চোখ ঝাপসা হয়ে এসেছে। কী করবে বুঝে উঠতে পারছে না। আবার সেই কাগজে খসখস করে লিখতে শুরু করলো,
" ভ্রাম্যমান দোকানী রহমত মিয়ার কাছে ঋণী রইলাম আটচল্লিশ টাকা। তার ঋণ শোধ করার ক্ষমতা এই মূহুর্তে আমার নেই। ত্রিশ হাজার টাকাসহ মানিব্যাগ হারিয়ে ফেলেছি। আমি পৃথিবী ছাড়ছি। সব যন্ত্রণা আজ অসহ্য হয়ে উঠেছে।"
কথাটা বলেই সিলিংয়ের সাথে দড়িতে ঝুলে পড়ে তারিক। ঝুলে পড়ার এক মূহুর্ত আগে মনের কোণে উঁকি দিচ্ছিলো, আত্মহত্যা মহাপাপ।
কখনো কখনো নিজের মনকেও ফাঁকি দিয়ে পতিত হতে হয় গহীন অন্ধকারে। সেখানে হয়তো ইহলোক থেকে মুক্তি মেলে, কিন্তু শুরু হয় নতুন স্বাদের জীবন।
রহমত মিয়া এদিক ওদিক তাঁকিয়ে নিলো। কোথাও কেউ নেই। আর এমন সময় কে বা আসতে যাবে!
চুপিচুপি লুঙ্গির গিট্টু থেকে বের করে মোটাসোটা একটা মানিব্যাগ। পেট ভর্তি তার। মানি ব্যাগের ভিতরের টাকা দেখে চোখ চকচক করে ওঠে তার। গুনতে চেষ্টা করে সে। আনন্দে বারবারই হিসাব গুলিয়ে ফেলে সে।
তারিকের পকেট দেখে বেখেয়ালে পড়ে গিয়েছিল মানিব্যাগটি। সুযোগে সরিয়ে রেখেছিল রহমত মিয়া। এখন নিশ্চিন্তে কাটিয়ে দেওয়া কয়েক মাস। এতগুলো টাকা নিশ্চয় কম নয়।
রহমত মিয়া ধারণা করতে থাকে, কত হবে? ত্রিশ-চল্লিশ হাজার টাকা হবে হয়তো!
সিলিংয়ের সঙ্গে ঝুলছে তারিকের লাশ। দমকা হাওয়া উড়িয়ে দিচ্ছে টেবিলের উপরের কাগজগুচ্ছকে। হাত দিয়ে তাকে থামানোর মতো এখন আর কেউ নেই।
টেবিলে বসে নীরবে তাতে কয়েক লাইন লেখার মতোও কেউ নেই।
তারিক এখন সুযোগ পেলে হয়তো লিখে যেতো, "আত্মহত্যা মহাপাপ"।
_________ সমাপ্ত
বাহ্ নিদারুন লিখা
 

বর্ণমালা এন্ড্রয়েড এপ

নতুন যুক্ত হয়েছেন

Top