একলা শালিক ।। সাত্ত্বিক আহসান

#1
picsart_07-20-09-51-43-jpg.345


সিগারেটে দু'টান দিয়ে উপরে তাকাতেই চোখ পড়লো কৃষ্ণচূড়া গাছের ডালে শালিকটির উপর। ঠোঁটে কিছু একটা নিয়ে নাড়াচাড়া করছে। বেশ খানিকক্ষণ তাকিয়েও পরিষ্কারভাবে কিছু ঠাউর করা গেলো না। কেউ হঠাৎ ঢিল মেরে শালিকটিকে উড়িয়ে দিলো । পেছন ফিরে দেখি তমু। আসল নাম তৈমুর রহমান। বন্ধুরা সংক্ষেপে ডাকতাম তমু। সেই থেকে ও সবার কাছে তমু নামেই পরিচিত।
তমু বললো, "এক শালিক অমঙ্গলের চিহ্ন , তাই ঢিল মেরে উড়িয়ে দিতে হয় ! ভুলে গেছিস? বলেই তমু হাসলো। শুধু মুখ দিয়ে নয়। পুরো শরীর দিয়ে।"
-কেমন আছিস তৈমুর?
-তমু থেকে তৈমুর? ভালোই প্রমোশন দিয়েছিস। হা হা হা
এতো বড় অফিসের এমডিকে নিশ্চয় "তমু তমু" করা যায়না, তাইনা?
-তা হয়তো ঠিক বলেছিস। তবে কি জানিস, তোর মুখে তৈমুর শুনতে খুব অস্বস্তি লাগছে। তোর জন্য তমুই ঠিক।
আমি মৃদু হাসলাম। তমু বললো, "তা তুই হঠাৎ এতো বছর পর কোত্থেকে? তাও এলি তো এলি, আমার অফিসে? "
-তোর অফিস জানতাম না। একটা কাজে এখানে আসতে হলো। তোর কেবিনের সামনে দিয়ে যেতেই তোর নাম চোখে পড়লো। পিয়নকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম দেখা করা যাবে কিনা। সে বললো তুই ব্যস্ত আছিস। বললাম ব্যাস্ততা শেষ হলে যেন তোকে বলে, আমি বাইরে অপেক্ষা করছি।
-তুই পিয়নকে বলবি না! যে তুই আমার বন্ধু? নিজে উধাও হওয়ার সাথে সাথে কি বুদ্ধিশুদ্ধিও উধাও করে দিয়েছিস নাকি? আমি নিজেই তোকে চিনতে পারিনি। তোর দাঁড়ানোর ভঙ্গিমা আর সিগারেট ফুঁকার কায়দা দেখে চিনেছি।
আমি মৃদু হাসলাম। তমু বললো, "তুই কোথায় ছিলি এতোদিন? আগে তো কাঠ ছিলি। এখনি দেখি কাঠি হয়ে গেছিস। এতো রোগা হয়েছিস কিভাবে? মিসেস কি কম খাওয়ান নাকি? হা হা হা "
-বিয়ে করিনি!
-কি বলিস বিয়ে করিস নি? এখনো চিরকুমার?
আর তোর মতো কাঠির কাছে কেই বা মেয়ে দিবে? হা হা হা!
তমুকে দেখে খুব অবাক হচ্ছি। এই তমুকে আমি চিনতাম না। আমি যে তমুকে চিনতাম তাকে গান পয়েন্টে রেখেও কোনো বুলি উচ্চারণ করানো যেত না। আজ সে তমু কথায় কথায় হিউমার করছে, হাসছে। মানুষের এতো পরিবর্তন, এও কি সম্ভব? সম্ভব, সম্ভব না হলে তো......।
-আজ সারাদিন কি এখানেই দাঁড়িয়ে থাকবি? চল, কেবিনে চল।
আমরা তমুর অফিস ঘরে গেলাম। ঘরটা সুন্দরভাবে সাজানো।
আমি বলাম, বাহ সুন্দর!
-শুধু সুন্দর? বল অতি সুন্দর! হা হা হা। কারণ এই ঘরটি সাজিয়েছে এই অতি সুন্দর মেয়েটির অতি সুন্দরী মা।
দেখি ছবিটা! এটা তোর মেয়ে? ভারি মিষ্টি দেখতে হয়েছে।
-মা মিষ্টি দেখতে, তাই মেয়েও মিষ্টি দেখতে হয়েছে। জেনেটিক ব্যাপার। হা হা হা।
-তাহলে এবার মাকে দেখা!
-তুই চিনিস তাকে।
"তুই চিনিস তাকে"! এই একটি বাক্য আমাকে নিয়ে গেলো পাঁচ বছর আগের একটি নির্জন দুপুরে। পার্কে বসে আছি আমি আর রেণু। মুখ নিচু করে রেণুও আমাকে বলেছিলো, তুমি তাকে চেনো।
আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম,"কে সে?"
রেণু উঠে দাঁড়তে দাঁড়াতে বললো, "আসি তবে, আমাদের আর কখনো দেখা হবে না। আর তুমি চেষ্টাও করবে না দেখা করার।"

আমি আর কখনো দেখা করিনি রেণুর সাথে। কখনো চেষ্টাও করিনি দেখা করার।
কেন করিনি সেটার ব্যাখ্যা নেই আমার কাছে । তবে আমি কখনো কারো উপর জোর খাটাতে পারিনি। কাউকে বেঁধে রাখার মতো খুঁটি আমার ছিলো না। এখনো নেই।
তমু বল্লো, "কি চিন্তা করছিস? চল, একেবারে সরাসরি দেখবি মেয়ের মাকে। "
-আরেকদিন দেখবো। আজ উঠি।
-এখনি উঠবি?
-হুঁ!
-আজ আমারো একটু কাজ আছে। কিন্তু তুই কথা দে আবার আসবি। নাহয় ছাড়ছি না।
-আসবো!
ছবির ছোট্ট মেয়েটির চেহারা এখন খুব চেনা চেনা লাগছে ।
 
Last edited by a moderator:

বর্ণমালা এন্ড্রয়েড এপ

নতুন যুক্ত হয়েছেন

Top