• সুখবর........ সুখবর........ সুখবর........ বর্ণমালাকে খুব শিঘ্রই পাওয়া যাবে বাংলা বর্ণমালার ডোমেইন "ডট বাংলায়" অর্থাৎ আমাদের ওয়েব এড্রেস হবে 'বর্ণমালাব্লগ.বাংলা' পাশাপাশি বর্তমান Bornomalablog.com এ ঠিকানায়ও পাওয়া যাবে। বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণতা পাবে আমাদের বর্ণমালা।

ওপারে আকাশ ।।নীলা রহমান (পর্ব - ৩)

Nila Rahman

নতুন ব্লগার
#1
4f41152a32a88eeb190ef6b3614302ef-jpeg.341
তানজিম সাহেব যথাসময়ে হাজির হলেন বিয়ে বাড়িতে। আফজাল সাহেব আর রায়হান সাহেব হাসি মুখে সবাইকে বাড়ির ভেতরে নিয়ে এলেন। আফজাল সাহেব ভাবছেন আর যাই হোক তানজিম তো তার খুব ভালো বন্ধু। সবটা জানার পর ও কিছুতেই সিনক্রিয়েট করবেনা। ব্যপারটা সবার থেকে আড়ালে রাখলেও তানজিমকে সবটা জানাতেই হবে।
আফজাল সাহেব সবার আড়ালে ডেকে নিয়ে গেলেন তানিজম সাহেবকে। সবটা শুনার পর তানজিম সাহেব অগ্নিদৃষ্টিতে তাকালেন আফজাল সাহেবের দিকে। আফজাল সাহেব মাথাটা নিচু করে বন্ধুর হাতটা ধরে বললেন।
- আমাকে ক্ষমা করে দে তানজিম। আমি আমার কথা রাখতে পারিনি রে।
- হাতটা ছাড় আমার।
খুবই কর্কশ ভাষায় কথাটা বললেন তানজিম সাহেব। আফজাল সাহেব আর কোনো কথা না বলে চুপচাপ চলে আসছেন সেখান থেকে। মনে মনে ভাবছেন পৃথিবীর কাউকে এই মুখ আর দেখাবেন না তিনি। তানজিম সাহেব আফজাল সাহেবের সামনে এসে জড়িয়ে ধরলেন তাকে।
- তুই কী রে আফজাল? এতগুলো দিন একসাথে থেকে তুই এই চিনলি আমাকে? তোর এত বড় একটা বিপদের দিনে তুই আমাকে একবার স্মরণ করলিনা? কী করে ভাবলি আমি তোকে ভুল বুঝব? আমি সবার আগে এসে তোর পাশে দাঁড়াতাম। তুই আমার ছেলের লাইফের কথা ভাবলি, আমার সম্মানের কথা ভাবলি। আর তোর যে কলিজাটায় এত বড় একটা ক্ষত সৃষ্টি হলো সেটা বুঝার মত মনমানসকিতা কী আল্লাহ তায়ালা আমাকে দেন নি? আমি কী এতটাই জঘন্যতম বন্ধু তোর?
আফজাল সাহেব চোখের পানি ছেড়ে দিলেন।
- সত্যিই আজ নিজেকে বড্ড বেশি ভাগ্যবান মনে হচ্ছে। তোর মতো এমন একজন বন্ধু পেয়েছি। রায়হানের মতো একজন ভাই পেয়েছি। নয়নার মতো এমন একজন মেয়ে পেয়েছি।
- হুম চল আফজাল নিশুর কবর জিয়ারত করে আসি। আর এখন যেন এসব কথা কেউ না জানে। বাসায় গিয়ে সবটা ম্যানেজ করতে হবে বুঝলি?
- হুম।

নয়নার সাজগুজ প্রায় শেষের দিকে। চুলটা বেঁধে টিকলি টা পরিয়ে নিলেই হবে। তারপর জরি লাগানো ওড়নাটা মাথায় টেনে দিলেই ব্যাস কমপ্লিট।

ওপারে আকাশ (পর্ব - ২) পড়তে ক্লিক করুন

ওড়নাটা মাথায় টানতেই ওপাশ থেকে দরজায় খট খট আওয়াজ আসছে। রিপা নয়নার হাতটা ওড়নায় ধরিয়ে দিয়ে বললো।
- নড়া চড়া করিসনা আমি দেখে আসছি কে আসলো।
নয়না হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়লো। রিপা গিয়ে দরজাটা খুলে দিল। আফজাল সাহেব তানজিম সাহেবকে নিয়ে রুমে ঢুকলেন। নয়না তানজিম সাহেবকে দেখে চোখের জলটা আড়াল করলো। তানজিম সাহেব নয়নার মাথায় হাত রেখে বললেন।
- আমার শূন্য ঘরটা তুমি আলোকিত করে রেখো মা। সংসারটাকে ঠিক নিজের মত করে আগলে রাখবে কেমন?
নয়না হবু শ্বশুরের পায়ে সালাম করে বললো।
- দোয়া করবেন আংকেল আমি যেন নিজের সবটা দিয়ে সবাইকে সুখী রাখতে পারি।

নিজের সুখকে কবর দিয়ে সবার মুখে হাসি ফুটানোর দায়িত্বটা বোধ হয় মেয়েরাই নিতে পারে।

তানজিম সাহেব সবাইকে বলে দিলেন এখন যেন কেউ বউ দেখতে না যায়। অযথা বিরক্ত করা হবে মেয়েটাকে। বাসায় নিয়ে গিয়ে একেবারেই বউ দেখবে সবাই। কেউ কেউ বলছিল এখানে দেখলে কি হবে! তানজিম সাহেব একবার তাকালেন সবার দিকে। দ্বিতীয় বার আর কারোর সাহস হলোনা কথাটা বলতে। বিয়ের সমস্ত ঝামেলা মিটিয়ে বৌমাকে নিয়ে সহিসালামতে বাড়ি ফিরতে পারলেই যেন বেঁচে যান তিনি।
***
ব্যপারটা আর যার কাছে যেমনই লাগুক। তানজিম সাহেবের ছোট বোন তানিয়ার কাছে একটু খটকা লাগছিল। বরাবরই তানিয়া একটু সন্দেহবাজক মানুষ। তিলকে তাল করা তার পুরনো অভ্যাস। বড় ভাইয়ের নিষেধ থাকা সত্যেও উনি চলে গেলেন নয়নার রুমে। দরজাটা খুলাই ছিল। রিপা খাবার আনতে গেছে নয়নার জন্য। এই সুযোগে রুমে ঢুকে নয়নার ঘোমটা সরিয়ে তিনি হাঁ হয়ে রইলেন।
- এই মেয়ে তুমি নিশুর চাচাতো বোন না?
নয়না মাথা নিচু করে ফেললো। নয়নার মুখ থেকে কোনো জবাব না পেয়ে চলে এলেন তিনি।

শিউলি বেগম সবটা গুজগাজ করছেন। সবাইকে সবার কাজগুলো ঠিকঠাক ভাবে বুঝিয়ে দিচ্ছেন তিনি। এমন সময় হাতে থাকা ফোনটা বেজে উঠলো। স্ক্রিনে তানিয়ার নাম্বারটা দেখে কলটা রিসিভ করলেন শিউলি বেগম।
- হ্যাঁ তানি বলো। ওদিকটার কী খবর? সবকিছু ঠিকঠাক তো?
- বাকি সব তো ঠিকই আছে কিন্তু.........
- আরে কিন্তু আবার কী? বলো তানি কিছু কী হয়েছে?
- না, ভাবী বলছিলাম কী পাত্রী চেঞ্জ হয়ে গেছে। নিশুর জায়গায় নয়না বৌ সেজে বসে আছে। কিছু বুঝতে পারছি না কী হচ্ছে। ফোনটা রাখছি এখন।
- হ্যালো তানি শুনো। আরে.........
তানিয়া আর কোনো কথা না বলে ফোনটা কেটে দিল। মনে মনে বললো যা করার করে দিয়েছি। এবার সামলাও ভাইয়া। এদিকে শিউলি বেগমের মাথা কাজ করছেনা। কী বললো তানি এগুলো! যাই হোক তানজিম কে একবার ফোন করে নেওয়া যাক।

এই সময়টাতে শিউলি বেগমের কল পেয়ে কিছুটা ঘাবড়ে গেলেন তানজিম সাহেব। ফোনটা রিসিভ করে কী বলবে ভাবতে ভাবতে কল কেটে গেল। দ্বিতীয় বার ফোন বাজলে তানজিম সাহেব ফোনটা রিসিভ করলেন।
- হ্যালো শিউলি বলো।
- ফোন রিসিভ করতে এত টাইম নিলে কেন?
- আরে বাবা এটা বিয়ে বাড়ি বুঝোই তো কত ঝামেলা। তার উপর ছেলের বাবা বলে কথা।
- এই শুনো বেশি ঢঙ করবা না একদম। ওখানে কী হচ্ছে শুনি। তানি ফোনে বললো নিশুর বদলে নাকি নয়না বউ সেজে বসে আছে। এটা কী সত্যি?
- আরে তানির কথায় কান দিওনা তো তুমি। বিয়ে বাড়িতে সব মেয়েরাই তো একটু আধটু সাজগুজ করে তাই না? আর তানি যে কেমন মানুষ সে তো তুমি জানোই।
- তার মানে তুমি বলছো সবকিছু ঠিকঠাক?
- হুম সবকিছু ঠিকঠাক। তুমি চিন্তা করো না অল্প কিছুক্ষণেই বাড়ি ফিরব আমরা। রাখছি এখন কেমন?
- হুম তাড়াতাড়ি ফিরো।
ফোনটা রেখে হাফ ছেড়ে বাঁচলেন তানজিম সাহেব। যাক শিউলির হাত থেকে আপাতত রক্ষা হয়েছে তার। মিথ্যে বলে শিউলি বেগমের হাত থেকে রক্ষা পেলেও আয়াশ সহ বাকি সবাই সত্যিটা জেনে গেছে এতক্ষণে। ইচ্ছে হচ্ছে তানিয়াকে ধরে কষে দুইটা থাপ্পড় লাগিয়ে দিক তানজিম সাহেব। মেয়েটা সবসময় তিন লাইন বেশি বুঝে। ঠিক এই স্বভাবটার জন্যই ওর শ্বশুরবাড়ি থাকা হলোনা। কোনো একটা ইস্যু পেলেই হলো। সেটা নিয়েই মা ছেলের মাঝে ঝগড়া বাঁধাতো। শেষ মেষ সবটা বুঝতে পেরে রাফিদ ওকে ওর ভাইয়ের কাছে রেখে গেছে। বলে গেছে যতদিন না স্বভাব পরিবর্তন করতে পারবে ততদিন রাফিদ ওকে ফিরিয়ে নেবে না।
আয়াশ তার বাবার সামনে এসে দাঁড়ালো।
- এসব কী শুনছি বাবা? নিশু কোথায়? নয়না কেন বউ হবে আমার? আমি তো নয়নাকে বিয়ে করতে আসিনি।
- নিশু কোথায় আছে, নয়না কেন তোমার বউ হবে সে সব কথা তুমি পরেও জানতে পারবে এখন যেটা সবার আগে প্রয়োজন সেটা হচ্ছে তোমার কবুল বলা। তুমি বিয়ের আসরে যাও আমি আসছি আর শুনো এখানে এসব নিয়ে আর একটা কথাও যেন না হয় বুঝতে পেরেছ?
- কিন্তু বাবা.........
তানজিম সাহেব আর এক মুহূর্তও দেরি করলেন না সেখানে। আফজাল সাহেবকে ডেকে বললেন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিয়ের কাজটা সম্পন্য করা হোক।

চলবে............
 

বর্ণমালা এন্ড্রয়েড এপ

নতুন যুক্ত হয়েছেন

Top