• সুখবর........ সুখবর........ সুখবর........ বর্ণমালাকে খুব শিঘ্রই পাওয়া যাবে বাংলা বর্ণমালার ডোমেইন "ডট বাংলায়" অর্থাৎ আমাদের ওয়েব এড্রেস হবে 'বর্ণমালাব্লগ.বাংলা' পাশাপাশি বর্তমান Bornomalablog.com এ ঠিকানায়ও পাওয়া যাবে। বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণতা পাবে আমাদের বর্ণমালা।

ওপারে আকাশ ।। নীলা রহমান (পর্ব - ১)

Nila Rahman

নতুন ব্লগার
#1
images-11-jpeg.334
ভোরবেলা আজানের শব্দে ঘুম ভাঙলো রেহেনা বেগমের। পাশে ফিরে দেখলেন রায়হান সাহেব বিছানায় নেই। রেহেনা বেগমও আর দেরি না করে উঠে পরলেন। দাঁত ব্রাশ করতে করতে পুকুরপাড়ে চলে এলেন তিনি। রেহেনা বেগমের এই একটা বাজে অভ্যাস। সকাল বেলা পুকুর পাড়ে না এলে উনার চলেনা। নয়না কত করে বলে মা তোমার এই বাজে অভ্যাসটা এখনো ছাড়ো। কিন্তু রেহেনা বেগম কারো কথা শুনতে রাজি নয়। উনার ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে হাঁটাহাঁটি করার অভ্যাস আছে। একটু ঘুরে এসে পুকুরের টলমলে পানিতেই সকালের অযুটা সেড়ে নেয় প্রতিদিন। আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি। রেহেনা বেগম যখন পুকুর ঘাটে নামছিলেন হঠাৎ কিছু একটার সাথে মাথায় বারি খেলেন। অন্ধকারের মাঝে তিনি আর উপরের দিকে তাকালেন না। ভাবলেন হয়তো লিচু গাছের ডালের সাথে বারি লেগেছে। অযু শেষ করে উঠতে উঠতে অন্ধকার ভাব কিছুটা কমে এসেছে। রেহেনা বেগম নিচের দিকে তাকিয়ে উপরে উঠছেন। আবারও ঠিক সেই জায়গাটাতে এসেই মাথায় কিছু একটা হাল্কা ভাবে আটকালো। এবার আর উপরে না তাকিয়ে পারলেন না তিনি। উপরের দিকে তাকিয়ে রেহেনা বেগম নির্বাক হয়ে গেলেন। নিশু লিচু গাছের শক্ত একটা ডালের সাথে ঝুলে আছে। ওর গলায় লাল রঙের ওড়নাটা খুব শক্ত করে প্যাঁচানো। চোখ দুটো বড় বড় করে তাকিয়ে আছে রেহেনা বেগমের দিকে। মুখের এক পাশে জিহ্বা খানিকটা বেরিয়ে এসেছে। নাক দিয়ে হাল্কা রক্ত বেরিয়ে ঠোঁট চুইয়ে পরছে। নিশু খুব সুন্দর একটা মেয়ে। এখন কেমন জানি বিশ্রি লাগছে দেখতে। রেহেনা বেগম মা গো বলে খুব জোরে সোরেই একটা চিৎকার দিলেন। তারপর আর কোনো আওয়াজ হলোনা।

মায়ের এত জোরে চিৎকারে ঘুম ভেঙে গেল নয়নার। টেবিলের উপর রাখা ঘড়িটার দিকে তাকিয়ে দেখে সকাল পৌনে পাঁচটা বাজে। বাইরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পরছিল। নয়নার বুঝতে বাকি রইলনা তার মা পুকুরপাড়ে গিয়ে আছাড় খেয়ে পরেছে নিশ্চয়ই। তড়িঘড়ি করে উঠে এলো নয়না।

রেহেনা বেগমের চোখে, মুখে পানি ছিটাচ্ছে নয়না। পাশেই দাঁড়িয়ে আছেন রায়হান সাহেব। কিছুতেই চোখ খুলছেন না রেহেনা বেগম। স্ত্রীর এমন অবস্থা দেখে কিছুটা ঘাবড়ে গেলেন রায়হান সাহেব। ডক্টর মাহিনকে ইমার্জেন্সি ভাবে ফোন করে ডাকলেন তিনি। মাহিন সাহেব তার বন্ধু রায়হান সাহেবকে অভয় দিয়ে বললেন চিন্তা করার কিছু নেই অল্প কিছুক্ষনেই জ্ঞান ফিরবে ভাবীর।
মায়ের মাথার কাছে বসে আছে নয়না। কিছু সময় পর রেহেনা বেগম আস্তে আস্তে করে চোখ খুললেন। উনার চোখের কোণ বেয়ে দু ফোঁটা জল গড়িয়ে পরছে। নয়না রেহেনা বেগমের দিকে এক গ্লাস ঠাণ্ডা পানি এগিয়ে দিতে দিতে জিজ্ঞেস করলো তুমি এভাবে পুকুরপাড়ে পরে গেলে কী করে মা? রেহেনা বেগম নিশু, শব্দটা তিন বার উচ্চারণ করেও কিছু বলতে পারলেন না। তার চোখে মুখে প্রচণ্ড ভয়ের ছাপ ভেসে উঠেছে ততক্ষণে। নয়না মা'কে কিছু প্রশ্ন করতে যাবে ঠিক তখনই বাইরে থেকে রিয়ানের চিৎকার শুনতে পেল সে। রিয়ান বলছিল নিশু আপু গলায় ফাঁস দিয়েছে। কথাটা শুনার পর নয়না রেহেনা বেগমের দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালো একবার। রেহেনা বেগম মেয়ের হাতটা শক্ত করে চেপে ধরে হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়লেন। নয়নার চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে এলো।

চোখের সামনে সোহানা তার একমাত্র মেয়ের লাশ এভাবে ঝুলে থাকতে দেখে কিছুতেই সহ্য করতে পারছেন না। বার বার সেন্সলেস হয়ে পরছেন তিনি। রেহেনা বেগম তার বড় জা কে কি বলে শ্বান্তনা দিবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না।

কি থেকে কি হয়ে গেল বুঝে উঠতে পারছেনা কেউই। নিশু তো কালকেও খুব স্বাভাবিকই ছিল।
সত্যিই কি নিশু কালকে ভালো ছিল! নয়না ফিরে গেল গতকালকের সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিশু কি কি করেছিল সেসব কথা মনে করতে। কাল সকালে নিশুর যথেষ্ট তাড়া ছিল বলেই মনে হয়েছিল নয়নার। নয়নার কাছে কিছু টাকা ধার চেয়েছিল নিশু। নয়না জিজ্ঞাসা করেছিল টাকা দিয়ে কি করবে সে। নিশু আন্সার করেনি শুধু বলেছিল তোর কাছে যা টাকা আছে আমাকে দে। পরে তোকে শোধ করে দিব। নয়না পাঁচ হাজার টাকা দিয়েছিল নিশুকে। নিশুর চোখে মুখে কেমন যেন একটা চিন্তার ছাপ দেখতে পেয়েছিল নয়না। নিশু নয়নার গাল দুটো আলতো করে টেনে একটু আদর করে দিয়ে ছুটে বেরিয়ে গেল বাসা থেকে।
***
নয়না তখন অতটা মাথা ঘামায়নি ব্যপারটা নিয়ে। ভেবেছিল কাল তো নিশুর বিয়ে তাই হয়তো টাকাগুলো ওর দরকার ছিল। মেয়েদের তো কতকিছুরই প্রয়োজন হয়। সবটা তো আর বাবা, মা'য়ের কাছ থেকে চেয়ে নিতে ইচ্ছে করেনা। কিন্তু বাসা থেকে সবাই ওকে কোথাও যেতে বারন করেছিল কাল। নিশুর আম্মু বারবার বলছিল ছেলেরবাড়ি থেকে হলুদ দিতে আসবে তোকে। আর তুই এখন বাসা থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিস। আজকে কোথাও না গেলে হয়না? নিশু বের হতে হতে বললো মা আমি একদম ঠিক সময়মত চলে আসব দেখো। তুমি শুধু শুধু টেনশন করোনা তো।

নিশু সেই যে বাসা থেকে বেরিয়েছিল সারাদিন পেরিয়ে সন্ধ্যা ছুঁইছুঁই নিশু বাসায় ফিরছেনা। এদিকে ছেলের বাড়ির মেহমান সব ওয়েট করছে মেয়ের গায়ে হলুদ মাখাবে বলে। কত কিছু বলে যে ওদেরকে বসিয়ে রেখেছে রেহেনা বেগম আর সোহানা।
কিন্তু এভাবে আর কতক্ষণই বা বসিয়ে রাখতে পারবে! এদিকে আফজাল সাহেবও তার মেয়ের নাম্বারটা বার বার ট্রাই করেই যাচ্ছে। কিন্তু ফোনটা বরাবরই সুইচড অফ বলছে। রাগে সারাটা শরীর কাঁপছে উনার। মনে মনে 'শ' খানেক গালি দিতে শুরু করেছেন নিশুকে।

অবশেষে সন্ধ্যা সাতটার দিকে নিশু বাসায় ফিরল। চোখ মুখ দেখে মনে হচ্ছে যেন খুব কেঁদেছে নিশু। সোহানা সবার চোখের আড়ালে নিশুকে নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকল তারপর যা নয় তাই ভাবে বকলো নিশুকে। দু - চারটে থাপ্পড়ও বসালো পিঠে। নিশু কোনো কথা বলেনি।

নিশুকে রুমে নিয়ে গিয়ে হলুদের শাড়িটা পরাচ্ছিলেন সোহানা এমন সময় ও বাড়ি থেকে আসা একজন মহিলা ঘরে ঢুকলেন।

- কী ব্যপার বলুন তো! আপনারা তো বলেছিলেন মেয়ে পার্লারে গেছে তাহলে এভাবে বাসায় ফিরল কেন? এনিথিং রং?
সোহানা কি বলবে বুঝে উঠতে পারছেনা। এই মুহূর্তে ঠিক কি বলা উচিত সোহানার! মাথাটা প্রচন্ড যন্ত্রণা করছে উনার। রেহেনা বেগম গাঁদা ফুলের গয়নাগুলো হাতে নিয়ে রুমে ঢুকলেন। নিশুর মাথায় হাত বুলিয়ে মেহমানকে উদ্দেশ্য করে বললেন।
- সারাজীবনের জন্য তো আর ও বাড়িতে চলে যাচ্ছিস না নিশু। তাহলে এত মন খারাপ করার কি আছে শুনি! তোর যখন ইচ্ছে হবে তখনই চলে আসবি আমাদের কাছে। আর শোন না জ্যোতি ফোন করেছিল ও বললো যে ওর আম্মু নাকি খুব অসুস্থ্য। হসপিটালাইস্ট করা হয়েছে উনাকে। তাই তোর সাথে দেখা করতে পারেনি। আচ্ছা একটা কথা বল তো জ্যোতি তোর বেস্ট ফ্রেন্ড সেটা আমি জানি তাই বলে ওর উপর অভিমান করে তুই পার্লারে যাবিনা, গাল ফুলিয়ে বসে থাকবি এটা কিন্তু ঠিক না। এখন ঝটপট রেডি হয়ে নে তো। আর মিষ্টি একটা হাসি দে। পাগলি মেয়ে একটা।
নিশু তার কাকির বলা কথাগুলোর মানে ঠিকই বুঝতে পেরেছে। নিশু জানে রেহেনা বেগম অত্যন্ত চালাক একজন মানুষ। আর সবার চোখকে ফাঁকি দিতে পারলেও রেহেনা বেগমের চোখকে ফাঁকি দেওয়া অতটাও সহজ ব্যপার নয়।

রাত আনুমানিক দশটা বাজে। হলুদের অনুষ্ঠান শেষ। মেহমান বিদায় করে দিয়ে আফজাল সাহেব নিশুর সামনে এসে দাঁড়ালো। রাগটা কিছুতেই কন্ট্রোল করতে পারছিল না আফজাল সাহেব। নিশুর গালে কষে একটা থাপ্পড় বসালেন।
- কি মনে করিস নিজেকে? অনেক বড় হয়ে গেছিস তাই না? খুব বেশি বুঝতে শিখেছিস। ঠ্যাং দুটো ভেঙে ঘরের এক কোণে ফেলে রাখব বলে দিলাম। এতগুলো মেহমানের সামনে কতটা হেনস্তা হতে হয়েছে কোনো ধারণা আছে তোর? যা রুমে যা।
আফজাল সাহেবের ধমকে নিশুর দম বন্ধ হবার উপক্রম প্রায়। নয়না নিশুকে ধরে ওর রুমে নিয়ে গেল। নিশু সেই থেকে কান্না করছিল আর থামবার নাম নেই। নয়না অনেক জিজ্ঞাসা করেছিল। কোথায় গিয়েছিল ও। কিন্তু নিশু নিশ্চুপ ছিল।
আর সকাল বেলাতেই এতবড় একটা ঘটনা ঘটে গেল। নিশু কেন এমন করলো? আর কিসের জন্যই বা করলো? প্রশ্নটা সবার মনেই আসছে।
চলবে...........
 
Last edited by a moderator:

বর্ণমালা এন্ড্রয়েড এপ

নতুন যুক্ত হয়েছেন

Top