• সুখবর........ সুখবর........ সুখবর........ বর্ণমালাকে খুব শিঘ্রই পাওয়া যাবে বাংলা বর্ণমালার ডোমেইন "ডট বাংলায়" অর্থাৎ আমাদের ওয়েব এড্রেস হবে 'বর্ণমালাব্লগ.বাংলা' পাশাপাশি বর্তমান Bornomalablog.com এ ঠিকানায়ও পাওয়া যাবে। বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণতা পাবে আমাদের বর্ণমালা।

ওপারে আকাশ ।। নীলা রহমান (পর্ব - ২)

Nila Rahman

নতুন ব্লগার
#1
akash-jpg.339
এদিকে তানজিম সাহেব ফোন করে জানালেন।তারা জুম্মার নামাজের পরেই রওয়ানা দিবেন। আফজাল সাহেব কি করবেন কিছু ভেবে পাচ্ছেন না। কি করেই বা বলবেন তানজিম সাহেবের হবু বৌমা সুইসাইড করেছে। কিন্তু না বলেই বা উপায় কি? তবুও একটা শেষ চেষ্টা করে দেখা যেতে পারে তানজিম সাহেবের কাছে নিজের সম্মানটা বজায় রাখার। আফজাল সাহেব তার ছোট ভাই রায়হান সাহেবকে ডাকলেন।
- রায়হান তুই তো আমার ভাই। তুই ছোট থেকে যখন যা চেয়েছিস আমার কাছে আমি তোকে দেয়ার চেষ্টা করেছি। কখনো কোনো চাওয়া তোর অপূর্ণ রাখিনি আমি। আজকে তোর কাছে আমি একটা জিনিস চাইব দিবি ভাই?
আফজাল সাহেবের চোখ বেয়ে অঝোর ধারায় জল পরছে। রায়হান সাহেব দুহাতের মুঠোয় বড় ভাইয়ের একটা হাত চেপে ধরে চোখের পানি আর আটকে রাখতে পারলেন না।
- এভাবে কেন বলছেন ভাইজান? আমি তো আপনার শিক্ষায় বড় হয়েছি। আপনি শুধু আদেশ করুন কি করতে হবে।
- নয়নাকে আয়াশের সাথে বিয়ে দিয়ে দে। না করিস না ভাই। আমি যে নয়তো তানজিমের কাছে খুব ছোট হয়ে যাব।
- কিন্তু ভাইজান ওরা মানবে তো?
- সেসব তুই আমার উপরে ছেড়ে দে।
দ্বিতীয় বার আর কোনো প্রশ্ন করলেন না রায়হান সাহেব। রেহেনা বেগমকে ঘরে ডেকে নিয়ে সবটা বুঝিয়ে বললেন তিনি। রেহেনা বেগম প্রথমে দ্বিমত পোষণ করলেও পরে আর স্বামীর উপরে কোনো কথা বললেন না।

নয়না সবটা শোনার পর কিছুতেই মত দিচ্ছেনা বিয়েতে। তার এক কথা এভাবে বিয়ে করা কোনোভাবেই পসিবল নয়।
রেহেনা বেগম রায়হান সাহেবকে ডেকে মেয়ের কথাটা জানালেন।
রায়হান সাহেব মেয়েকে কাছে বসালেন।
- মামনি সত্যি করে একটা কথা বলবে আজকে?
- হুম।
- রোযার ঈদ বলো আর কোরাবানির ঈদ বলো। প্রত্যেকটা ঈদে কিন্তু আমি আর তোমার জেঠু তোমাকে বেস্ট জামাটা গিফট করি তাই না বলো?
- হুম।
- তুমি একবার ভেবে দেখো তো। প্রত্যেক ঈদে তোমার বান্ধবীরা সবাই বলেনা যে নয়না তোর জামাটা খুব সুন্দর হয়েছে। কোথা থেকে নিয়েছিস? বলেনা এরকম?
- হুম, বলে।
- আমরা দুই ভাই তোমার জন্য আর নিশুর জন্য একটা জামা কিনতে কতটা টাইম নেই আর কতগুলো জামা দেখে সেখান থেকে একটা জামা চয়েজ করি সেটা তোমার ধারণার বাহিরে মামনি। এখন বলো একটা জামা তুমি ওয়্যারড্রোব অথবা আলমাড়িতে খুব যত্ন করে তুলে রেখেও এক বছর, দুই বছর অথবা পাঁচ বছরই পরতে পারলে ধরে নাও তার থেকেও বেশি টাইম নিলে তবুও কিন্তু একটা সময় সেই জামাটা নষ্ট হয়েই যাবে তাই না?
- হুম।
- তবুও কেন এতটা টাইম নিয়ে জামাটা কিনি জানো?
- হুম।
- বলো শুনি।
- জামাটাতে যেন তোমাদের মেয়েকে ভালো লাগে দেখতে। তাদের সাথে যেভাবে মানায় ঠিক সে মতই জামাটা নাও।
- খুব ভালো বুঝেছ। তাহলে এবার এটা বলো আজকে আমি এমন একটা ডিসিশন নিয়েছি যেটা তোমার সারাটা লাইফের ব্যপার। আমি নিশ্চয়ই কোনো ভুল ডিসিশন নেই নি?
- কিন্তু বাবা......
- আর কোনো কথা হবেনা মামনি। চুপচাপ বাকি কাজগুলো করে ফেলো সময় হয়ে এসেছে। ওরা এসে যাবে। বাবার উপর ভরসা রাখো।

রিয়ান এতটা সময় সবকিছু শুনছিল। চোখের জল লুকিয়ে নয়নাকে কনগ্র্যাচ জানিয়ে চলে গেল। নয়না জানে রিয়ান ওকে ভালোবাসে। মুখে কখনো বলেনি ঠিকই কিন্তু চোখে চোখে অনেক কথাই হতো দুজনার। নয়নাও রিয়ানকে পছন্দ করে খুব। কিন্তু এই সিচ্যুয়েশনে কিছু করারও নেই ওর। আর কি'ইবা করবে। রিয়ান তো কখনো মুখে বলেনি ও নয়নাকে ভালোবাসে। কথাগুলো ভাবছে আর নীরবে চোখের জল ফেলছে নয়না। ঠিক সেই সময়ই নয়নার ফোনে একটা ম্যাসেজ আসলো। ম্যাসেজ চেক করে দেখে রিয়ান পাঠিয়েছে।
- সুখে থেকো খুব।
এপাশ থেকে নয়না ম্যাসেজ পাঠালো।
- চাইলেই কি আর সুখের দেখা মেলে? সুখ ছোঁয়া কি খুব সহজ?
- সুখে থাকবে তুমি। খুব সুখে থাকবে। আমি জানি সে তোমাকে সুখে রাখবে। একটা সুখের রাজ্য গড়ে দিবে তোমার জন্য। যেখানে কোনো দুঃখ তোমায় ছুঁতেও পারবেনা।
- রিয়ান চলো না পালিয়ে যাই অনেক দূরে। যেখানে সত্যিই একটা সুখের রাজ্য থাকবে আমার জন্য। সেই রাজ্যটা না হয় তুমি'ই গড়বে।
ম্যাসেজটা ডেলিভার্ড হলো কিন্তু ওপাশ থেকে আর কোনো রিপ্লে এলোনা।
নয়না রিপ্লে না পেয়ে ফোন দিল রিয়ানকে। রিয়ান ফোন তুললোনা। ব্যাগ গুছাতে ব্যস্ত রিয়ান। রিয়ানের চলে যেতে হবে অনেক দূরে। এখানে আর এক মুহূর্তও থাকা যাবেনা নয়তো উল্টা পাল্টা কিছু হয়ে যাবে। রিয়ানের মা'কে বলে গেল কিছু দিনের জন্য বাইরে ঘুরতে যাচ্ছে ও। রিয়ানের পকেটে ফোনটা আবারও বাজছে। এবার ফোনটা হাতে নিয়ে সিমটা খুলে ছুঁড়ে মারলো নয়নাদের পুকুরে। রিয়ান চোখ মুছে ঠোঁটের কোণে একটু হাসি এনে বললো ভাসিয়ে দিলাম নয়না নামক পাগলামি গুলোকে, যা আমাকে সত্যিই পাগল করে দেবার জন্য যথেষ্ট ছিল। মুছে ফেললাম সেই কাজল চোখের দুষ্টু চাওনিটাকে, যা আমাকে প্রতিনিয়ত খুন করে ফেলতো। ভুলে গেলাম সেই গোলাপ রাঙা ঠোঁটের মিষ্টি হাসিটাকে, যা দেখে আমি প্রতিটা মুহূর্ত নিঃশ্বাস ফিরে পেতাম।
***
থানার ওসির সাথে কথা বলছেন আফজাল সাহেব। ওসি সাহেব বলছেন নিশুর লাশটা পোস্টমটের্ম করানোর জন্য হলেও একবার থানায় নিয়ে যাওয়া দরকার। কিন্তু আফজাল সাহেব সেটা চাচ্ছেন না। তিনি চান না তার মেয়েকে মৃত্যুর পরেও নানা ভাবে অপদস্থ করা হোক। মেয়েটা বড্ড জেদি ছিল কিন্তু খুব সাধারণ কোনো কারণে এত বড় একটা ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো বোকা ও ছিলনা। এর পিছনে খুব বড়সড় একটা কারণ আছে বলেই মনে করেন আফজাল সাহেব। ওসি সাহেবকে সম্মানের সাথে বিদায় দিলেন তিনি।

ইসলামের দৃষ্টিতে আত্মহত্যা মহাপাপ। আল্লাহ তায়ালা বলেন যে ব্যক্তি নিজেকে খুন করতে দ্বিধাবোধ করেনা সে অন্যকে খুন করতেও পিছু পা হবেনা। জন্ম মৃত্যু অবশ্যই আল্লাহর হাতে তিনি যখন যা চান তাই করতে পারেন। সৃষ্টি যিনি করেছেন বিনাশও তিনিই করবেন।
ইসলাম ধর্মে আত্মহত্যাকারীর শেষ গোসল, জানাজা, পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা এসব কিছু জায়েজ নেই। আফজাল সাহেব কথাগুলো মনে করে সবার আড়ালে চোখের জল ফেলছেন। রায়হান সাহেব পিছন থেকে ভাইয়ের কাঁধে হাত রাখলেন। আফজাল সাহেব ছোট ভাইকে বুকে জড়িয়ে খুব কাঁদছেন। রায়হান সাহেব বুঝতে পারছেন তার ভাইয়ের ভেতরটাতে কি চলছে এই মুহুর্তে। তিনি বড় ভাইয়ের মাথায় হাত রেখে বললেন।
- ভাইজান আমি জানি আজকে আমরা না যতটা কষ্ট পাচ্ছি তার থেকে শতগুণ বেশি কষ্ট পাচ্ছেন আপনি আর ভাবী। তবুও আপনি যদি এখন এভাবে ভেঙে পরেন তাহলে ভাবী তো আরো বেশি ভেঙে পরবে। তার উপর এখনো কত কাজ বাকি আছে বলুন তো! নিশুর দাফনটাও তো করতে হবে। এদিকে জুম্মার পরেই তো আবার ও বাড়ি থেকে সবাই চলে আসবে।
- ও হ্যাঁ রায়হান। চল আমার নিশুটাকে চিরবিদায় দিয়ে দেই।
সোহানা মেয়ের লাশের উপর পরে বিলাপ করছেন। পাশেই রেহেনা বেগম বসে কোরআন তেলাওয়াত করছেন। আফজাল সাহেব সোহানাকে উনার ঘরে যেতে বললেন। আর রেহেনা বেগমকে বললেন। নিশুর গোসলের ব্যবস্থা করতে। রেহেনা বেগম পবিত্র কোরআন শরিফে চুমু খেয়ে বুকের সাথে জড়িয়ে নিলেন।
- ভাইজান, গোসল দেওয়ার জন্য জান্নাত আপাকে ডাকবেন না? উনি তো সবকিছু খুব ভালো বুঝেন।
- ডেকেছিলাম উনি আসবেন না। আমার মেয়ের তো স্বাভাবিক মৃত্যু না।
- তাহলে গোসল কে দিবে?
- তুমি।
- আমি?
- তোমারও কি আপত্তি আছে? আমার মেয়ে পাপি বলে তুমিও কি ছুঁবেনা ওকে?
- এসব কেন বলছেন ভাইজান? নিশু তো আমার মেয়ের মতই ছিল। আমি ওকে নয়নার থেকে কম ভালোবাসিনি।
- তাহলে যাও ব্যবস্থা করো।
রেহেনা বেগম হ্যাঁ সূচক মাথা নেড়ে উঠে দাঁড়ালেন। কয়েক পা আগালেন সামনের দিকে। আফজাল সাহেব পিছু ডাকলেন আবার।
- রেহেনা। নয়না কি করছে?
- নয়না তো ওর রুমে বসে আছে ভাইজান।
- নয়না মামনির বান্ধবী আছে না রিপা?
- হুম।
- ওকে ফোন করে আসতে বলো। নয়নার পাশেও কাউকে দরকার এখন। আমি শাড়ি, গয়না গুলো পাঠিয়ে দিচ্ছি ওকে ফ্রেশ হয়ে নিতে বলো।
কথাগুলো বলে আফজাল সাহেব চলে গেলেন। রেহেনা বেগম রিপাকে ফোন করে আসতে বললেন।

নয়না রিপার বুকে মুখ লুকিয়ে ফুঁপিয়ে কান্না করছে। রিপা আগে থেকেই জানে নয়না আর রিয়ানের ব্যপারটা। নয়নার মাথাটা দুহাতে উপরে তুললো রিপা। নয়নার চোখটা মুছে দিয়ে বললো।
- যা হবে খুব ভালো হবে দেখিস। তোর বাবা, জেঠু তোকে কত ভালোবাসে সেটা তো তুই জানিস। আজকে এমন একটা সিচ্যুয়েশনে তুই যদি তাদের পাশে না থাকিস তাহলে উনারা কি করবেন একবার ভেবে দেখ। আর কাঁদিসনা প্লিজ। নিজের সুখ খুঁজতে গিয়ে বাবার চোখে জল আনিস না।
নয়না রিপার কথাটা এড়িয়ে গিয়ে বললো।
- নিশু আপুকে আর একটা বার দেখব আমি।
- আয় আমার সাথে।
নয়নাকে সাথে নিয়ে রিপা নিশুর লাশের পাশে এসে দাঁড়ালো। মসজিদ থেকে কোনো খাটিয়া আসেনি আজকে। হয়তো সাদা কাপড়ে মোরানোও হতোনা যদি আফজাল সাহেব এতটা পাগলামো না করতেন। নিজের মেয়েকে একটু নিজের মত করেই সাজিয়ে দিলেন তিনি। সমাজ, ধর্ম যেটা করতে মানা করেছে তার কিছুই করেনি সে। শুধু গোসল আর সাদা কাফনের কাপড়টা খুব কষ্টে জড়িয়ে দিলেন মেয়ের গায়ে। জুম্মার নামাজের পর পুকুরপাড়ের দক্ষিণের জঙ্গলটাতে নিশুর দাফন করা হলো।

সোহানা পাগলের মত বিলাপ করছেন মেয়ের দাফনের পর। আফজাল সাহেবের কড়া নির্দেশ। বরপক্ষের কেউ যেন ঘুনাক্ষরেও কিছু টের না পায়। যতটুকু কান্না করার এখনই করে নাও। এরপর ওদের সামনে সবাই হাসি মুখে থাকবে।

নয়না, বাবা আর জেঠুর মুখের দিকে তাকিয়ে হাসিমুখে বিয়ে করতে রাজি হয়। আফজাল সাহেব নিশুর জন্য গড়া সমস্ত ভারী ভারী গয়নাগুলো এনে নয়নার সামনে রাখলো। এরপর একটা একটা করে গয়না তার নিজের হাতে নয়নাকে পরিয়ে দিল। নয়নার কপালে একটা চুমু দিয়ে বললো। আমি জানি মামনি তুই আমার সম্মানহানি করবিনা।

চলবে..........
 
Last edited by a moderator:

বর্ণমালা এন্ড্রয়েড এপ

নতুন যুক্ত হয়েছেন

Top