ওপারে আকাশ (পর্ব-৪)।। নীলা রহমান

Nila Rahman

নতুন ব্লগার
#1
images-4-jpeg.347
কাজি সাহেব বিয়ে পড়ানো আরম্ভ করলেন। আয়াশকে কবুল বলতে বললে ও বললো এই বিয়েতে তার কোনো মত নেই। আয়াশ স্যরি বলে সেখান থেকে উঠে গেল। আয়াশের বন্ধুরা সবাই পেছন থেকে ডাকছিল বার বার। আয়াশ কারোর কথায় পাত্তা না দিয়ে হন হন করে বেরিয়ে এলো। বারান্দার সাইড দিয়ে আসার সময় ভেতরের রুম থেকে কে যেন জানালাটা খুলে দিল। জানালার একটা পাল্লা ঠাস করে এসে আয়াশের কপালে লাগলো। রাগে দাঁত খিটমিট করে জানালার ওপাশে থাকা মানুষটাকে ইচ্ছে মতো বকা দিতে গেল আয়াশ।

নয়নার চোখের কোণে জল চিকচিক করছে। কাজলে আঁকা চোখ দুটো যেন অদ্ভূত রকমের সুন্দর লাগছে। কপালের মাঝ বরাবর টিপটা যেন সহসাই মৃদু হেসে উঠছে বার বার। পুরো মুখটা জুড়েই যেন অসম্ভব রকমের ভালো লাগায় ভরপুর। খুব মায়াবী, মিষ্টি একটা মুখ। এক নজর দেখাতেই যে কেউ প্রেমে পরতে বাধ্য। এমন একটা মেয়ের চোখে এক ফোঁটা জলও বেমানান। আয়াশের খুব ইচ্ছে করছিল নয়নার চোখের জলটা মুছে দিতে। একটা হাত বাঁড়িয়ে ছুঁতে চেয়েছিল সে। পরক্ষনেই মনে পরলো। এখান থেকে পালাতে পারলেই বেঁচে যায় সে। অন্তত আনিতা আর ও সুখে থাকতে পারবে। বাবার কথা রাখতে গিয়ে এখানে নিশুকে বিয়ে করতে এসেছিল আয়াশ। একটা ফাঁক যেহেতু পেয়েই গেছে সেই সুযোগটা হাতছাড়া করা ঠিক হবে না।

এতক্ষণে আয়াশের বন্ধুরা সব হাজির হয়েছে আয়াশের কাছে এসে। আয়াশের সবথেকে ভালো বন্ধু হচ্ছে শাওন। শাওন শেষবারের মত বুঝাতে চাচ্ছে আয়াশকে।
- শোন আয়াশ এটা একটা মেয়ের জীবনে সবথেকে..........
- ব্যাস অনেক হয়েছে। আমাকে আর কিছু বুঝাতে আসিস না শাওন। ইচ্ছে হলে আমার সাথে চল আর না হয় থাক এখানেই।
আয়াশ বেরিয়ে এলো সেখান থেকে। গাড়িটা স্টার্ট করলো। এসি চালিত গাড়িতেও প্রচন্ড ঘামছে আয়াশ। বার বার পিচ্চি বউটার কথা মনে পরছে তার। চোখ, ঠোঁট, কপাল সবকিছুতে যেন কেমন একটা মায়া মাখানো। এমন একটা মেয়েকে এভাবে কষ্ট দেওয়াটা কী ঠিক হলো? মেয়েটার চোখের জল কী কখনো সুখী হতে দেবে আয়াশকে? কিন্তু এখন তো অনেকটা দূরে চলে এসেছে সে। ফেরাটা কী ঠিক হবে? আর ফিরলেই কী ওরা আবারও মেনে নেবে ব্যাপারটা? ওদিকে তাহমিনার চোখে যে আয়াশের জন্যই অঝোর ধারায় বৃষ্টি হচ্ছে সেটাই বা কে দেখবে।

অনেকটা সময় ভাবলো আয়াশ। তাহমিনার কান্নাটা হয়তো কিছুদিন পরেই থেমে যাবে। ও একটা সময় আয়াশকে ঠকবাজ, প্রতারক ভেবে নিজেকে গুছিয়ে নেবে আবারও। কিন্তু সেই পিচ্চি মেয়েটা! তার কী হবে? যে কিনা আয়াশের নামে লাল বেনারশি, কপালে লাল টিপ, খোপায় লাল টকটকে গোলাপ, ঠোঁটে গাঢ়ো লাল রঙ এর লিপস্টিক দিয়ে বউ সেজে বসে আছে। আয়াশের এতটা অমানবিকতা করাটা ঠিক হবেনা কিছুতেই। গাড়ি ঘুরালো আয়াশ। ঠিক ওর গাড়িটার একটু সামনেই একজন বৃদ্ধা মহিলা রাস্তা পার হচ্ছে। কয়েক সেকেন্ড সময়ও নেই যে আয়াশ ব্রেকটা ধরবে। তড়িঘড়ি করে গাড়িটা ওপাশে ঘুরালো আয়াশ। সামনে বড় একটা গাছের সাথে ধাক্কা লাগলো গাড়িটার।
***
বিয়ে বাড়িতে হৈ চৈ পরে গেছে। বর বিয়ের আসর থেকে চলে গেছে। ইতিমধ্যে আশে পাশের লোকজনেরা বলাবলি শুরু করে দিয়েছে। কপালপুরি মেয়ে একটা। বিয়ের আসর থেকেই যে মেয়ের বর পালিয়ে যায় সে মেয়ের দুনিয়ায় থাকা না থাকা একই কথা। কথাগুলো রায়হান সাহেব সহ বাকি সকলের কানেই পৌঁছালো। ইভেন নয়নার কান অব্দি পৌঁছাতেও বেশি সময় লাগেনি। এই সমস্ত বাজে কথা বলাতে সকলের উপরেই চড়া মেজাজ দেখালেন আফজাল সাহেব। কিন্তু মেজাজ দেখিয়ে কয়জনেরই বা মুখ বন্ধ রাখবেন তিনি। তানজিম সাহেব কোনো কথা বলতে পারছেন না। লজ্জায় মাথাটা নিচু করে আছেন তিনি।

চারদিকের পরিবেশটা এখন অসহ্যকর মনে হচ্ছে নয়নার কাছে। চোখের জল মুছে মুচকি হাসলো ও। নয়না মেয়েটা সত্যিই কারোর জন্য পারফেক্ট নয়। মনকে বার বার প্রশ্ন করছে নয়না বেঁচে থেকে কী লাভ যেখানে কারোর বউ অথবা প্রেমিকা হবার যোগ্যতাই ওর নেই!

আনমনে হাতের চুড়িগুলো খুলছে নয়না। পাশেই দাঁড়িয়ে আছে রিপা। কিছু বলার মতো বা নয়নাকে আটকানোর মতো কোনো ভাষা খুঁজে পাচ্ছে না ও। গায়ের সমস্ত গয়না গুলো খুলে বিছানায় ছুঁড়তে লাগলো নয়না। কপালের টিপ টা খুলতে নিলে ওর হাতটা কে যেন আটকে দিলো।
চলবে........
 
Last edited by a moderator:

বর্ণমালা এন্ড্রয়েড এপ

নতুন যুক্ত হয়েছেন

Top