কিভাবে বুঝবেন আপনি দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপে ভুগছেন?

Kazi Obayed Ullah

নতুন সদস্য
#1
chronic-image-jpg.501

আমরা প্রত্যকেই মাঝে মাঝে চাপে থাকি। এটা খারাপ কিছু না কিন্তু খুব বেশি দিন ধরে মানসিক চাপে থাকা এবং এক সময় দীর্ঘস্থায়ী হয়ে উঠলে তখন এটি স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতি বয়ে আনে। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ অনুভূত হলে অনতিবিলম্বে আপনার ডাক্তারকে দেখানো উচিত। তবে কিভাবে বুঝবেন আপনি দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপে আছেন? কয়েকটা সাধারণ সংকেতই আপনাকে ধীর হওয়ার সময় বলে দিবে। আসুন জেনে নেওয়া যাক কি সেই কারণগুলোঃ

দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপে থাকার ৯ টা পরীক্ষিত লক্ষণঃ

১. পিঠে বা কাধেঁ ব্যাথাঃ প্রায়শই পিঠে বা কাঁধে ব্যাথা অনুভব করা দীর্ঘস্থায়ী মানসিক৷ চাপের লক্ষণ। খুব চাপে থাকলে কাঁধের ঘাড় এবং পিঠ শক্ত হয় যা দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপের দিকে ঠেলে দেয়।

২. মাথা ব্যাথাঃ দেহের সব কিছুই একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত সুতরাং পেশীগুলোর টানে মাথাব্যথা এমনকি মাইগ্রেনও হতে পারে। পিঠে বা কাঁধে টান লাগলে মাথা ব্যাথা বেড়ে যায়।

৩. শ্বাসকষ্টঃ অতিরিক্ত কায়িক পরিশ্রম এবং চাপ শ্বাসকে প্রভাবিত করে। স্ট্রেসের কারণেও শ্বাস নিতে সমস্যা হতে পারে। যেসব লোকেরা খুব চাপে থাকে তারা প্রায়শই হাইফারভেনটিলেট তথা দ্রুত নিঃশ্বাস নেই।

৪. হাঁপানিঃ গবেষণায় থেকে দেখা যায়, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপে আক্রান্ত ব্যাক্তিদের হাঁপানি তথা শ্বাসকষ্ট জনিত রোগ আরও বেশি আক্রমণ করতে পারে। স্ট্রেস শ্বাসকষ্টজনিত অসুস্থতা যেমন সর্দি- কাশির মতো অসুখ আনে। তাছাড়া প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরো দূর্বল করে তোলে।

৫. ব্রণঃ ব্রণ এবং ফুস্কুড়ি চাপের কারণেও হয়। কারণ চাপ কর্টিসোলের উৎপাদনকে বাড়ায়। এটি এমন একটি হরমোন যা ত্বকে আরো তেল উৎপাদন করে। এটি ত্বককে আরও গ্রেজিয়ার করে তোলে এবং পিম্পলস ও অন্যান্য দাগের সম্ভাবনা বাড়ায়।

৬. অন্ত্রের উদ্ভিদঃ কিছু কিছু লোকের চাপ হলে তখন তাদের অন্ত্রের সমস্যা হয়। মানসিক চাপের কারণে কিছু লোক প্রায়শই টয়লেটে যায় আর কিছু লোক যায় না। অন্ত্রের উদ্ভিদগুলোর কারণে ডায়রিয়া এবং কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে।




৭. স্মৃতিসমস্যাঃ আপনি কি মাঝে মাঝে ভুলে যাচ্ছেন। এটা দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ নির্দেশ করে। চাপের কারণে ডোপামিন নামক হরমোনের উৎপাদন হতে পারে। এটি একটি নিউরোট্রান্সমিটার যা আমাদের স্মৃতি, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও ব্যক্তি আচরণের জন্য দায়ী। সুতরাং আপনি অনেক চাপে থাকলে এটি আপনার স্মৃতিতে অনেক প্রভাব ফেলতে পারে।

৮. যৌনতায় আগ্রহ হারানোঃ ইদানীং যৌনতায় কম আগ্রহ চাপের লক্ষণ। গবেষণায় দেখা যায়, বিশেষত যারা দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপে থাকেন তারা স্ত্রীর সঙ্গে আরো বিক্ষিপ্ত এবং শারীরিক সম্পর্কে কম জড়ায়। স্ট্রেস হরমোন কর্টিসোল বা মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তার হরমোন এর মাত্রা কমে গেলে যৌন উত্তেজনা কম বাড়ে।

৯. ওজন ওঠানামাঃ স্ট্রেস বা চাপ কখনো কখনো দেহের মস্তিষ্ক থেকে খাওয়ার সময় সংকেত পেতে বাধা দিতে পারে। এটি খাবার এড়িয়ে চলতে সহায়তা করে। স্ট্রেসের কারণে আপনার শরীরের আপনার পেঠ, নিতম্ব এবং উরুর চারপাশে আরও চর্বি থাকে। আর অস্বাস্থ্যকর খাবারের কারণেই চর্বি বাড়ে। এর অর্থ হলো আপনি ওজন বাড়িয়ে নিতে পারবেন। কিছু ক্ষেত্রে স্ট্রেস কম খাওয়ার ফলেও ওজন হ্রাস করতে পারে।
অতিরিক্ত পরিমাণে কর্টিসল রাতের ভালো ঘুম হওয়া থেকে আটকাতে পারে। ঘুমের অভাব এবং ঘুমাতে হবে এমন অনুভূতি দ্বারা আপনাকে অতিরিক্ত চাপের দিকে নিয়ে যেতে পারে। এই চিন্তাভাবনাগুলো ঘুমের বঞ্চনাকে আরো খারাপ করে তুলে।


দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপে ভুগে থাকলে আপনার নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া উচিত। এসময় বিশেষকরে ফ্যাট বা চর্বি জাতীয় খাবার ও ফাস্টফুড এড়িয়ে যাওয়া ভাল। তাছাড়া নিয়মিত খাবারের তালিকায় ফলমূল রাখবেন। তাছাড়া চাপে থাকার উপরিউক্ত লক্ষণগুলো বুঝতে পারলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে ভুলবেন না।
 

বর্ণমালা এন্ড্রয়েড এপ

ফেসবুকে বর্ণমালা ব্লগ

নতুন যুক্ত হয়েছেন

Top