• সুখবর........ সুখবর........ সুখবর........ বর্ণমালাকে খুব শিঘ্রই পাওয়া যাবে বাংলা বর্ণমালার ডোমেইন "ডট বাংলায়" অর্থাৎ আমাদের ওয়েব এড্রেস হবে 'বর্ণমালাব্লগ.বাংলা' পাশাপাশি বর্তমান Bornomalablog.com এ ঠিকানায়ও পাওয়া যাবে। বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণতা পাবে আমাদের বর্ণমালা।

গল্পের উপাখ্যান যখন বাঙালী

Arafat Tonmoy(বুনোহাঁস)

Moderator
বর্ণমালা স্টাফ
#1
250423_112122882210120_100002372265168_120805_3388745_n-jpg.17
বুনোহাঁসের ব্লগ: গল্পের উপাখ্যান যখন বাঙালী

দীর্ঘকাল শাসিত হওয়ার পর স্বাধীনতা পেয়েছি সবে ৪৭ বছর পেরুলো। এর মাঝেই বিশ্বজয় শুরু করেছে বিশাল এই পৃথিবীর বুকে মাত্র ৫৭হাজার বর্গমাইলের ছোট্ট এই সোনার বাংলাদেশ। আজ আমরা তেমনই এক অধরা কণার গল্প জানবো যার নেপথ্যে ছিলেন হারম্যান ভাইল। ঢাকার ছেলে জাহিদ হাসার যার অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছে...

ফার্মিয়ন বা অধরা কণা একটি বৈজ্ঞানিক ধারণা। এর অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন বাঙালী বিজ্ঞানী জাহিদ হাসান। ভাইল ফার্মিয়ন হলো ফার্মিয়নের একটি উপদল। ১৯২৯ সালে হারম্যান ভাইল এই কণার অস্তিত্বের কথা প্রথম জানিয়েছিলেন, যা ভরবিহীন। মোট তিন ধরনের ফার্মিয়নের মধ্যে ডিরাক ও মায়োরানা নামের বাকি দুই উপদলের ফার্মিয়ন বেশ আগেই আবিষ্কৃত হয়েছে।


অধ্যাপক জাহিদ হাসান ও আন্তর্জাতিক সহযোগীদের তার দল স্ফটিক একটি ধাতব পদার্থ arsenide ধরনের আপাতদৃষ্টিতে কণা হিসেবে Weyl fermions অস্তিত্ব অনুমান করা. প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগারে এ উচ্চ স্পষ্টতা পরীক্ষায় মাধ্যমে তারা অসম ক্রিস্টাল ট্যান্টালাম arsenide খোঁজার আগে বিভিন্ন স্ফটিক কাঠামো মূল্যায়ন.


ক্রিস্টাল একটি Weyl fermion হোস্টিং জন্য তাত্ত্বিক উল্লেখ মিলেছে যদি একটি দ্বিতল স্ক্যানিং টানেলিং spectromicroscope অদূর পরম শূন্য ক্রিস্টাল কুলিং, তারা নির্ণীত. পরীক্ষা পাশ করে যারা স্ফটিক ক্যালিফোর্নিয়ার লরেন্স বার্কলে ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি নিয়ে যাওয়া হয় এবং উচ্চ শক্তির বেগবর্ধক ভিত্তিক ফোটন বীম শিকার হন. Weyl fermions 'অস্তিত্ব তারা স্ফটিক traversed ছিল পরে ফোটন beams এর আকার, আয়তন ও দিক অধ্যয়নরত দ্বারা নিশ্চিত করা হয়.

নিউট্রিনোর ভর আবিষ্কারের পর থেকেই বিজ্ঞানীরা ভাইল ফার্মিয়নের খোঁজে লেগে গেলেন। অবশেষে ২০১৫ সালের মাঝামাঝিতে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশী অধ্যাপক জাহিদ হাসানের নেতৃত্বে একদল বিজ্ঞানী কণাটি খুজে পায়। কণাটি পাওয়া যায় ক্রিস্টাল বা যৌগিক কেলাসের মধ্যে এবং এটি একটি সেমি-মেটাল ক্রিস্টাল।এর নাম দেওয়া হয়েছে ট্যন্টেলাম আর্সেনাইড। এবং ক্রিস্টালটি তৈরি বিভিন্ন মৌলিক পদার্থ তথা বিসমাথ, থ্যালিয়াম, সালফার ও সেলেনিয়ামের সংমিশ্রণে , সেটি এমনিতে অন্তরক। কিন্তু এটির উপরিতলে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণার জগতে ইলেকট্রন খুবই কম বাধার মধ্যে ছোটাছুটি করতে পারে। ফলে এটি হয়ে উঠেছে অতি-পরিবাহী।আর ভাইল ফার্মিয়ন শুধু এই কেলাস বা ক্রিস্টালের মধ্যেই পাওা সম্ভব। কারণ ধারণা করা হয় পৃথিবীর শুরুর দিকে সব কণাই ভরবিহীন ছিলো।কিন্তু পরবর্তীতে তা হিগস কণা থেকে ভর নিয়ে ভরযুক্ত হয়ে যায়। কাজেই বলা যায় এই কণা প্রকৃতিতে পাওয়া সম্ভব না। কিন্তু ক্রিস্টালে সেই অবস্থা তৈরি করা সম্ভব । কারণ ক্রিস্টালের ইলেক্ট্রনের তরঙ্গ অনেকটা সেই সময় বা সেই অবস্থার মত যখন ভাইল ফার্মিয়নের অস্তিত্ব ছিলো। ফলে ক্রিস্টালে এই কণা উৎপন্ন হয়। আর এখান থেকেই পাওয়া যায় ভাইল ফার্মিয়ন বা ভরবিহীন কণা । বিজ্ঞানীদের আবিষ্কৃত নতুন এই বস্তু-দশার (state of the matter) নাম দেওয়া হয়েছে ‘টপলোজিক্যাল ইনসুলেটর’ বা ‘স্থানিক অন্তরক’। ভাইল ফার্মিয়ন বিভিন্ন ডিভাইস তৈরিতে ব্যবহার করা যাবে। যেহেতু এটির ভর নেই তাই এটি অন্যান্য ইলেক্ট্রনের চেয়ে ১০০০ গুন বেশি চার্জ পরিবহন করতে পারে। আর গ্রাফিনে এর বেগ আরও বাড়ানো সম্ভব। কিন্তু এটি দিয়ে গ্রাফিন তৈরি অনেকটাই কঠিন। ভাইল ফার্মিয়ন দ্বারা তৈরি ডিভাইস হবে অনেক দ্রুত এবং সহজে গরম হবে না।


ফার্মিয়ন কণা হলো অর্ধপূর্ণ স্পিনবিশিষ্ট একধরনের মৌলিক কণিকা। এই কণিকা পলির বর্জন নীতি মেনে চলে । প্রখ্যাত ইতালিয়ান তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী এনরিকো ফার্মির নামানুসারে এই কণিকার নামকরণ করা হয়েছে। এক শক্তিস্তরে দুটির বেশি ফার্মিয়ন একসঙ্গে থাকতে পারে না, যা কেবলমাত্র বোসনদের পক্ষে সম্ভব।
ফার্মিয়ন কণিকাদের মাঝে তিন প্রজন্মের কণিকা রয়েছে। যারা লেপটন ও কোয়ার্ক এই দুই শ্রেণীতে বিভক্ত। ১২ টি ফার্মিয়ন কণার ৬ টি লেপটন এবং ৬ টি কোয়ার্ক। কোয়ার্কগুলি হল- আপ, ডাউন, টপ, বটম, চার্ম এবং স্ট্রেঞ্জ কোয়ার্ক। লেপটনগুলি হল ইলেকট্রন, মিউওন/মুওন, টাউ ও এই তিন কণিকার তিনটি নিউট্রিনো। ইলেকট্রন, ইলেকট্রন নিউট্রিনো,আপ কোয়ার্ক ও ডাউন কোয়ার্ক প্রথম প্রজমের ফার্মিয়ন কণিকা। মিউওন, মিউওন নিউট্রিনো,চার্ম ও স্ট্রেঞ্জ কোয়ার্ক দ্বিতীয় প্রজমের ফার্মিয়ন কণিকা। টাউ, টাউ নিউট্রিনো,টপ ও বটম কোয়ার্ক তৃতীয় প্রজমের ফার্মিয়ন কণিকা।

অধ্যাপক হাসান ও তার সহকর্মীদের এই গবেষণা নিয়ে গত ১৬ জুলাই বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্সে একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকরা বলছেন, এই কণার গবেষণায় আরও গতিশীল এবং প্রায় বাধাহীন বিদ্যুৎ প্রবাহের পথ খুঁজে পাওয়া যেতে পারে, যা কম্পিউটার, স্মার্টফোনসহ ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রের ক্ষেত্রে নতুন যুগের সূচনা করবে।

এই বিশ্বজগৎ যত ধরনের কণা দিয়ে তৈরি, তার মধ্যে যেগুলোর আচরণ বোস-আইনস্টাইন সূত্র দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়, সেগুলোকে বলা হয় বোসন কণা। আর ফার্মি-ডিরাক সূত্র দিয়ে যেসব কণার আচরণ ব্যাখ্যা করতে হয়, সেগুলোকে বলা হয় ফার্মিয়ন।

নোবেলজয়ী ব্রিটিশ পদার্থবিদ পল ডিরাক ১৯২৮ সালে কেটি সমীকরণের অবতারণা করেন, যার মাধ্যমে প্রথমবারের মত এন্টি ইলেকট্রন বা পজিট্রনের অস্তিত্বের আভাস পাওয়া যায়। ১৯৩২ সালে আমেরিকান বিজ্ঞানী কার্ল অ্যান্ডারসন সেই সমীকরণের সমাধান করেন।

জার্মান গণিতজ্ঞ ও পদার্থবিদ হেরম্যান ভায়েল ১৯২৯ সালে ডিরাক সমীকরণের আরেকটি সমাধান প্রস্তাব করেন, যাতে ভরহীন একটি কণার অস্তিত্বের সম্ভাবনার কথা বলা হয়, যা পরে পরিচিতি পায় ভায়েল ফার্মিয়ন কণা নামে।

তিন ধরনের ফার্মিয়ন কণার মধ্যে ডিরাক ও মায়োরানা ফার্মিয়ন কণার অস্তিত্বের প্রমাণ বিজ্ঞানীরা আগেই পেয়েছিলেন। আর ৮৫ বছর ধরে নানা তর্ক-বিতর্কের পর অধ্যাপক জাহিদ হাসানের নেতৃত্বে গবেষকরা পরীক্ষাগারে কৃত্রিমভাবে তৈরি ট্যান্টালুম আর্সেনাইড নামের এক ধরনের ধাতব স্ফটিকের মধ্যে ভায়েল ফার্মিয়নের সন্ধান পান।

অধ্যাপক হাসানকে উদ্ধৃত করে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “ভায়েল ফার্মিয়নের আচরণ খুবই অদ্ভুত। এই কণা থেকে এমন অনেক কিছুই বেরোতে পারে যা কল্পনা করার ক্ষমতা আমাদের এই মুহূর্তে নেই।”

তিনি বলছেন, ভায়েল ফার্মিয়ন ব্যবহার করে ভরহীন ইলেকট্রন তৈরি করা সম্ভব, যা প্রতিফলিত না হয়ে বাধাহীনভাবে দ্রুত ছুটতে পারবে। ফলে এখনকার ইলেকট্রনিক যন্ত্রের মতো তাপ উৎপাদন হবে না, কাজের গতি বাড়বে বহুগুণ। নতুন ধরনের কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরির ক্ষেত্রেও এই কণা সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন অধ্যাপক হাসান।

ঢাকার ছেলে জাহিদ হাসান পদার্থবিদ্যায় লেখাপড়া করেছেন অস্টিনের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ে। স্ট্যানফোর্ডে পিএইচডি করার পর থেকে তিনি প্রিন্সটনে অধ্যাপনা করছেন।

তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া এবং প্রথম আলো।

written by: Arafat Tonmoy(বুনোহাঁস)।
বাকিহাটি, বক্সগঞ্জ, নাঙ্গলকোট, কুমিল্লা।
 
Last edited by a moderator:

Noman Sadi

নতুন সদস্য
#3
ভেবেছিলাম সাইন্স ফিকশন পড়তে পারবো!😥😥
 

বর্ণমালা এন্ড্রয়েড এপ

নতুন যুক্ত হয়েছেন

Top