• সুখবর........ সুখবর........ সুখবর........ বর্ণমালাকে খুব শিঘ্রই পাওয়া যাবে বাংলা বর্ণমালার ডোমেইন "ডট বাংলায়" অর্থাৎ আমাদের ওয়েব এড্রেস হবে 'বর্ণমালাব্লগ.বাংলা' পাশাপাশি বর্তমান Bornomalablog.com এ ঠিকানায়ও পাওয়া যাবে। বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণতা পাবে আমাদের বর্ণমালা।

গোল্ড কিং ।। নাজিব ইসলাম

নাজিব ইসলাম

নতুন সদস্য
#1
images-25-jpeg.305

আষাঢ় মাস। কয়েকদিন যাবত বিরামহীন বৃষ্টি পড়েছে বলে আবহাওয়া শীতল। আষাঢ় মাসের কড়া রোদ অবশ্য আছে,তার মাঝেই ক্ষণে ক্ষণে আকাশের চিত্র পাল্টায়। রোদ আর মেঘের মজার লুকোচুরি খেলা চলতেই থাকে। অনেক সময় দিন হয়ে যায় রাতের মত।
আজ বৃষ্টির সাথে বজ্রপাতের ভাব বেড়েছে। চারদিকে তাকালে মনে হয় আবহাওয়ার মেজাজ খারাপ। বৃষ্টির কারণে দেড় কোটি মানুষের নগরী ঢাকা তার জনসংখ্যার মত নিজেও বিপর্যস্ত। গলিতে গলিতে পানি পঁচে নালার মতে হয়ে আছে। এই বিড়ম্বনার সাথে যুক্ত হয়েছে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকা। সন্ধ্যা হতেই নগরী প্রবেশ করেছে অন্ধকার যুগে। থমকে গেছে সকল শাহরিক কার্যক্রম।

রাত এগারোটা চল্লিশ মিনিট। অন্ধকার শহর মানুষকে নীড়ে ফেরার ডাক অনেক আগেই দিয়েছে। বৃষ্টির জন্য রাস্তায় মানুষ গাড়ি দুটোই আজ অনেক কম। ঝিরিঝিরি বৃষ্টির থামার কোন লক্ষ্মণ নেই। ব্যস্ত শহরের সব আলো যেন নিভে গেছে। রাস্তার মোড়ের ট্রাফিক পুলিশের আজ কোন ব্যস্ততা নেই। খালি রাস্তায় কালো হায়েস গাড়িটা ফার্মগেট মোড় থেকে শাহবাগের দিকে গেলো। মধ্যম গতিতে চলছে, গতিতে কোন তারতম্য নেই। গাড়ির ভেতরটা অন্ধকার। যাত্রী আছে কিনা নেই বুঝা মুশকিল।

ড্রাইভারের পাশের সিটে বসে আছে রিপন। ওরফে কানকাটা রিপন। একটা কান না থাকায় নামটা এমন। কিশোর বয়সে চুরি করতে যেয়ে ধরা পরলে নিষ্ঠুর এক বাড়িওয়ালা তার বাম কানটা কেটে দেয়। সেই বাড়িওয়ালাকে খুন করেই অপরাধ জগতে তার পুরোপুরি আগমন। কান না থাকায় চেহারায় ফুটে উঠেছে চরম নিষ্ঠুর একটা ভাব। সে যখন হাসে তার আশেপাশের মানুষজনের গা শিউরে উঠে। রিপন
কয়েক বছরের মাথায় হয়ে যায়, ঢাকা শহরের কুখ্যাত অপরাধী। এই শহরের ধনী পিতা-মাতারা রিপনের নাম শুনলেই ভয়ে কেঁদে উঠে। দাবি পূরণের পরও অপহরণ হওয়া ছেলে মেয়েদের কেউ জীবিত ফিরে আসেনি। খুন,ডাকাতি, অপহরণসহ অসংখ্য মামলার আসামি। আগে লুকিয়ে চলাফেরা করলেও এখন বুক ফুলিয়ে শহরের বুকে তার বিচরণ। এতো কু-কর্মের পরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সে বৃদ্ধা আঙ্গুলী দেখিয়ে চলে। তার এইসব কর্মকান্ডের পেছনের মূল হোতা "গোল্ড কিং" মাফিয়া গোষ্ঠী। এর সদস্য বা পরিচালনা করে কারা এটা একটা রহস্য । সমাজের উচু স্তরের মানুষের আতংকের অপর নাম "গোল্ড কিং "। দেশজুড়ে অপ্রতিরোধ্য নেটওয়ার্ক। আজ পর্যন্ত কোন পত্রিকায় এর নাম আসেনি। আর কখনও আসবে কিনা সেটাও সন্দেহ আছে! কানকাটা রিপন হচ্ছে এই মাফিয়া কিং এর ডান হাত।
রিপন পেছনে ফিরে সবাইকে একবার দেখলো। অন্ধকারে কিছু বুঝা গেল না। পেছনের সবাই নিশ্চুপ হয়ে বসে আছে। প্রতিটা ডাকাতির সময়ই এমন হয়,গাড়ির ভেতরে একধরনের অস্বস্তি বিরাজ করে। অথচ এই কাজে সবাই যুগ যুগ ধরে সিদ্ধ হস্ত। রিপন সামনের দিকে তাকালো। কোথাও একবিন্দু আলো দেখলো না। শহরেজুড়ে অন্ধকার কবরের নিস্তব্ধতা। অন্ধকার হচ্ছে সকল কাজের বন্ধু, এটা নিয়ে তাদের জীবনের পথ চলতে হয়।
সবকিছুতে ফায়দা হাসিল করার মস্ত গুণ আছে মাফিয়া ডন সুমন মোল্লার। বাইরে নিয়মিত বৃষ্টি থাকায় তেমন কোন কাজ নেই রিপন ও তার বাহিনীর। বসে বসে আড্ডা, গল্প আর মেয়ে মানুষ নিয়ে ফুর্তি করাই একমাত্র কাজ। আগে যার যার মত থাকলেও এখন সবাই এক ফ্ল্যাটেই থাকে। মস্ত ফ্ল্যাটটাও ডন সুমন মোল্লার নিজস্ব সম্পত্তি নয়। এক ব্যবসায়ী চাঁদা না দেওয়াতে তার ফ্ল্যাটটা চার হাজার স্কয়ারের লাক্সারি ফ্ল্যাটটি সুমন মোল্লা তার বাহিনী দিয়ে দখল করে নেয়। থানা পুলিশ করেও ব্যবসায়ী কোন কিছু করতে পারেনি। উল্টো চাঁদা দিতে বাধ্য হয়েছে।
তুমুল বৃষ্টি আর বজ্রপাতে থমকে গেছে নগরী। বজ্রপাতে মৃত্যু দৈনন্দিন হয়ে গেছে। তারপরও মানুষজন পেটের তাগিদে বাইরে বের হয়,তবে স্বাভাবিকের চেয়ে সংখ্যায় অনেক কম। প্রকৃতির এই বিপর্যয়ের মধ্যেই ডন সুমন মোল্লা তার গোল্ড কিং এর সবচেয়ে নিষ্ঠুর ও অভিজ্ঞ সদস্যদের নিয়ে বায়তুল মোকাররম শপিং মার্কেটে গেলেন। নামাজের সময় বলে জুয়েলারীর দোকান ছাড়া অধিকাংশ দোকান বন্ধ কিছুক্ষণের জন্য। নিচতলার এই বারান্দায় মানুষজনও খুব কম। অল্প কিছু ক্রেতা হকারদের কাছ থেকে কেনাকাটা করছে। ডন সুমন মোল্লাও হকারদের কাছ থেকে টুকিটাকি কিছু জিনিসপত্র কিনলেন। নিচতলার এই বারান্দাতেই একসাথে তিনটা জুয়েলারীর দোকান। এই দোকানগুলোর সামনেই হকারদের পসরা সাজানো। সুমন মোল্লা তার বিশস্ত ডান রিপনকে নিয়ে সমগ্র বায়তুল মোকাররম মার্কেট ঘুরেফিরে দেখলেন। কাউকে কিছু না বলেই ত্রিশ মিনিট পরেই আস্তানায় ফিরে এলেন। রিপন অবশ্য এতে একটুও অবাক হয়নি। মোটামুটি বসের পরিকল্পনা বুঝতে পারছে।

সবার রাতের খাবার শেষ। ডন সুমন মোল্লা বসার ঘরে সবাইকে ডেকে পাঠালেন। তার নিজের চেয়ারটায় বসে আছেন৷ হাতে একটা চুরুট,এখনও জ্বালানো হয়নি। সবাই বসে পড়লো। ডন সবাইকে একবার দেখে নিলেন। খুক করে কেশে সবার মনোযোগ আকর্ষণ করে বললেন " একটা জুয়েলারী দোকানে কত টাকার সোনা থাকে ধারণা আছে তোমাদের?
আনোয়ার বলল বস, এক কোটি টাকা।
সুমন মোল্লা হাসলেন!
রমজান বলল বস,পাঁচ কোটি টাকা।
চুরুটে আগুন জ্বালিয়ে মাথা নেড়ে হাসতে শুরু করলেন ডন সুমন মোল্লা।
আসলে তোমরা কিছু জানো না। বড়সড় জুয়েলারীর একটা দোকানে সাধারণত দুই থেকে পাঁচ কোটি টাকার অলঙ্কার থাকে। স্ট্রংরুমে থাকে আরও বেশি,তবে অলঙ্কার আকারে নয়। ধরা যাক আরও পাঁচ কোটি টাকার সোনার বার। তাছাড়া স্টোন থাকে দশ থেকে বিশ লক্ষ টাকার। এছাড়াও হিরা থাকে কোটি টাকার মত।
সবাই হিসাব শুনে বিস্মিত হলো। একটা জুয়েলারী দোকানে এতো টাকার সোনা থাকতে পারে তারা কখনও কল্পনাও করে নাই। ডন সুমন মোল্লা আরেকবার ভাল করে তার বাহিনীর দিকে তাকিয়ে তার পরিকল্পনা জানালেন। পরিকল্পনা শুনে সবাই আতংকে আঁতকে উঠলো। সবার চেহারায় ছড়িয়ে পড়লো আতংকের ছায়া। ঢাকার প্রাণকেন্দ্র থেকে ডাকাতি, এককথায় অসম্ভব একটা কাজ। এক দোকান যেখানে অসম্ভব সেখানে ডাকাতি করতে হবে তিন দোকানে। এমন কোন নিষ্ঠুর কাজ নাই, যা তারা করে নাই। অথচ তাদের শরীর আতংকে হিম শীতল হয়ে গেলো। চব্বিশ ঘণ্টা হাজার খানেক পুলিশ থাকে বায়তুল মোকাররম ও তার আশেপাশে। একটু টের পেলেই তারা পিঁপড়ার মত ছুটে আসবে।
ডন সুমন মোল্লা চুরুটে কষে একটা টান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে বললেন, বাংলার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ডাকাতি হবে এটা। ডন সুমন মোল্লা খুক খুক করে কেশে তার বাকি পরিকল্পনা খুলে বললেন। এই ডাকতিতে বন্ধু হিসাবে পাশে থাকবে বৃষ্টি ও রাতের গাঢ় অন্ধকার।

নয়াপল্টন মোর। ভাঙা রাস্তায় গাড়ি লাফিয়ে উঠলো। রিপনের চিন্তার জগতে ছেদ পড়লো । এইতো সামনেই বায়তুল মোকাররম। রিপন মোবাইলে সময়টা দেখে নিলো। বারোটা বাজতে কয়েক মিনিট বাকি। গাড়িটা সোজা মতিঝিল শাপলা চত্বর ঘুরে বায়তুল মোকাররমের সামনে এসে থামলো।
বাইরে মুশলধারায় বৃষ্টি হচ্ছে । বৃষ্টির মাত্রা মিনিটে মিনিটে বাড়ছে দেখে রিপন স্বস্তিবোধ করলো। আজকে বৃষ্টি আশির্বাদ স্বরুপ কাজে দিবে।
রিপন গাড়ির কাচ নামিয়ে দিলো। ফাঁক দিয়ে বৃষ্টির ছাট এসে ভিজিয়ে দিলো। ড্রাইভার গাড়ির বাতি জ্বালিয়ে দিলো। রিপন পেছনে ফিরে দেখলো। সবার চেহারায় আতংক আর উত্তেজনা। রিপন মনে মনে নিজেও উদ্বেগবোধ করলো। কিন্তু চেহারায় সেটা প্রকাশ করলো না। উদ্বেগ ছোঁয়াচে রোগ, অপারেশনের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে যেতে পারে। রক্তের ঘ্রাণ নিতে রিপনের ভালো লাগে। এখানে বসে তাজা রক্তের ঘ্রাণ পাচ্ছে। সব উদ্বেগ দূর হয়ে গেলো। শরীরের সমস্ত পেশিগুলো কাজে নামার জন্য প্রস্তুত। রক্তে এড্রেনালের মাত্রা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। রিপনের মুখে এই শীতল আবহাওয়াতেও বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে। হাত দিয়ে ঘামটা মুছে নিলো।
রিপন চারদিকে একবার তাকালো। বৃষ্টির ভারী শব্দ আর বাতাসের শো শো শব্দ ছাড়া কোন শব্দ নাই। রাস্তায় একটা মানুষতো দূরে থাক,কুকুর বিড়াল পাওয়া কঠিন।

এগারো জনের দলটা গাড়ি থেকে নামলো। সবার গায়ে ভারী রেইনকোট। চেহারা কালো কাপড় দিয়ে ডাকা। চোখ ছাড়া আর কিছু দেখা যাচ্ছে না।
সবার কোমড়ে রাশিয়ার তৈরি ম্যাকারভ পিস্তল ঝুলছে। তবে বাইরে থেকে বুঝা যায় না। রিপন সবাইকে দেখে সন্তুষ্ট হলো। সবার চেহারায় কাজে নামার জন্য প্রবল আগ্রহ। রিপন জানে এখানে অনেকেরই তার মত রক্তের ঘ্রাণ নিতে ভাল লাগে।
রিপন চারদিকে দেখে নিলো। ঘন বৃষ্টি,বাতাস আর অন্ধকার মিলে হিংস্র একটা ছন্দ তৈরি করেছে। দশ হাত দূরের কিছু দেখা ও কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। এই পরিবেশ আজকে তাদের বন্ধু।
অন্ধকারে সবাই ত্রিশ সেকেন্ড দাঁড়িয়ে থাকলো । কানটাকে ছরিয়ে রাখলো শব্দের উৎস খোঁজার জন্য। বৃষ্টির ঝুম আর বাতাসের শো শো শব্দ ছাড়া কিছু নাই। প্রবল হাওয়া সবাইকে শীতের কাঁপুনি দিয়ে গেলো। বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে এগারোজনের দলটা জুয়েলারি দোকানগুলোর দিকে এগিয়ে গেলো।
রিপন সবাইকে যার যার নির্দিষ্ট অবস্থানে চলে যেতে ইশারা করলো। সে একা এগিয়ে গেলো মার্কেটের বারান্দায়। রিপন একটা সিগারেট জ্বালালো। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তায় থাকলে তার সিগারেট বেশি লাগে। বৃষ্টির পানি বারান্দায় উঠে এসেছে। যেকোনো সময় দোকানগুলোতে প্রবেশ করবে। সেদিকে কারো খেয়াল নেই।
রিপন তিনজন সিকিউরিটি গার্ডকে দেখে আড়ালে চলে এলো। সিকিউরিটি গার্ডরা একজায়গায় জুবুথুবু হয়ে বসে আছে,শীতে কাবু। তারা সজাগ নাকি ঘুমে বলা মুশকিল।
রিপন হাত ঘড়িটা আবার দেখলো। এখানে এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র একমিনিট। কিন্তু মনে হচ্ছে কয়েক ঘন্টা হয়েছে। এতক্ষণে সবার কাজ শুরু করার কথা। হাতের সিগারেটটা ফেলে দিয়ে রিপন
সিকিউরিটি দলটার দিকে এগিয়ে গেলো। আনোয়ার আর জনি এরমধ্যে উপস্থিত হয়ে গেছে। গাঢ় অন্ধকারে তারা কয়েক সেকেন্ড নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে থাকলো। নিঃশ্বাস নিতে ভুলে গেলো। এরমধ্যে একজন সিকিউরিটি গার্ড জেগে উঠেছে।
রিপন অন্যদের ইশারা দিলো,আর দেরি করা যায় না।
তিনজন একসাথে কোমড় থেকে ল্যুগার পিস্তল বের করলো। সবার মাথায় ঠেকিয়ে বৃষ্টির মত মৃত্যু বর্ষন করলো। সাইলেন্সার থাকায় থাপ একটা শব্দ হলো, তিনটা গুলির না, একটার বুঝা গেল না। একসাথে তিনজন মৃত্যুর কোলে ঢলে পরলো।
রক্তের ছিটা এসে সবার চোখ মুখে ভরিয়ে দিলো। রিপন মুখ থেকে রক্তটা হাত দিয়ে মুছে নিলো।
তিনজনে মিলে লাশ তিনটা টেনে একটা থামের আড়ালে বসিয়ে দিলো।
তারা কার হাতে মারা গেল,কেন মারা গেল জানতে পারলো না। আর কোনদিন জানতেও পারবে না! তার আগেই তাদের অপারের উদ্দেশ্য যাত্রা হয়েছে ।
গাঢ় অন্ধকারের সহযোগিতায় বৃষ্টির পানির সাথে রক্ত মিশে গেলো। কোনটা পানি আর কোনটা রক্ত বুঝা মুশকিল।

এই রাস্তায় ঢুকার মুখে একটা গাড়ি হেডলাইট জ্বেলে থামলো। গাড়ির আকৃতি বলে দিচ্ছে পুলিশের গাড়ি।
তাই দেখে সবাই একসাথে আঁতকে উঠলো। রিপন সবাইকে নিয়ে দ্রুত আড়ালে দাঁড়ালো।
গাড়িটা থেকে কেউ নামলো না। গাড়ির জানালার কাচ নামিয়ে শুধু বাইরেটা কোন অফিসার দেখলো। তারপর কয়েক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে চলে গেলো।
সবাই হাঁপ ছেড়ে বাঁচলো।
পরিকল্পনা মত সবকিছু ঠিক আছে সংকেত এলো। দুই মাথায় দুই জন পাহারায় আছে। রিপন সবাইকে সাথে নিয়ে কাজে নেমে পড়লো।
জনি খা কয়েক সেকেন্ডে ভারি তালাগুলো মাস্টার কী দিয়ে খুলে ফেললো । এইসব কাজে ওস্তাদ সে । গত বিশ বছর যাবত এইসব করেই সে পেট চালাচ্ছে। গত এক বছর ধরে গোল্ড কিং এর তালা বিশেষজ্ঞ হিসাবে আছে।

প্রথম সাটার সরিয়ে সাথে আনা আধুনিক লেজার কাটার দিয়ে দ্বিতীয় সাটার কাটা হলো তিনটা দোকানের। রিপন ঘড়ি দেখলো এরমধ্যে সময় গেছে মাত্র পাঁচ মিনিট। সবাই দ্রুত কাজ করছে। জুয়েলারীর সামনের রুমে কিছুই পাওয়া গেলো না। দলগুলো ইনার রুমের স্টীলের দরজা কাটতে শুরু করলো। একেকজন ঘেমে অস্থির হয়ে গেছে। সবাই নার্ভাস ও উত্তেজিত। ভেতরে পাওয়া গেলো একটা করে বড় স্ট্রংরুম। এই স্ট্রংরুমেই আছে সকল সোনা। কম্বিনেশন সিস্টেম এই লকারও লেজার কাটার দিয়ে কয়েক মিনিটে কাটা হলো। সবাই এতোটা উত্তেজিত যে,চটের বস্তাগুলো আনতে ভুলে গেছে। একজন যেয়ে চটের বস্তাগুলো নিয়ে এলো। প্রতিটা স্ট্রংরুমেই থরে থরে সাজানো আছে সোনার বার। সাথে একশো,পাঁচশো ও এক হাজার টাকার বান্ডিল সাজানো। স্ট্রংরুমে থাকা সবকিছু চটের বস্তাগুলোয় ভরে ফেলা হলো। পঁচিশ মিনিটের মাথায় জুয়েলারীর দোকান তিনটা খালি করে বের হয়ে এলো।
তাদের আগের গাড়ির সাথে একটা ট্রাক যুগ
দিলো। ড্রাইভারের বেশে স্বয়ং ডন সুমন মোল্লা বসা।
অন্ধকারের বুক চিরে একসাথে দুইটা গাড়ি তাদের আস্তানার দিকে রওনা দিলো।


পানের পিকটা জোরে থু শব্দ করে ফালালো
এএসআই মিঠু। পাশে বসা ড্রাইভারকে
গাড়িটা নিয়ে আবার বায়তুল মোকাররমের গেটের দিকে যেতে বললো। এই বৃষ্টির বাদলের দিনে একটু ঘুমাবো তা নয় রাতভর ডিউটি দিতে হবে। এই শহরের ভালোমন্দ সকল মানুষের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছে সে। আজকের রাতের অন্ধকারটাই তার কাছে বিভীষিকাময় লাগছে। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে প্রচন্ড বিরক্ত। বুঝার বয়স থেকে এইরকম পরিস্থিতিতে সে দেখে নাই। নিরবচ্ছিন্ন ভাবে মুশলধারায় বৃষ্টি পড়া। সেই সাথে এতো পরিমাণে বজ্রপাত। সবকিছুই হচ্ছে পরিবেশ দূষিত হওয়ার কারণে। বাইরে থেকে বাতাসের ভয়ংকর শো শো শব্দ আসছে। চারদিকে বৃষ্টির ঘন বর্ষনের শব্দের মাঝেও যেনো গভীর ষড়যন্ত্রের আভাস। এতক্ষণ খোলে রাখা কাচটা মিঠু নামিয়ে দিলো। বায়তুল মোকাররমের জুয়েলারী দোকান গুলোর সামনে গাড়িটা নিয়ে যেতে বললো। কাচটা নামিয়ে মিঠু বারান্দার দিকে তাকালো। কিন্তু কাউকে দেখতে না পেয়ে অবাক হলো। বৃষ্টি উপেক্ষা করে ভিজে বারান্দায় চলে এলো। হাতে থাকা লাইটটা মারতেই বারান্দার থামের সাথে সিকিউরিটি গার্ডদের বসা দেখলো। ভালো করেই তাকালেই বুঝা যায় সবাই মৃত। তারপরও মিঠু সবার পালস পরীক্ষা করলো। কেউ বেঁচে নেই।
মিঠু নার্ভাস হয়ে গেলো। তার মাথা কাজ করা বন্ধ করে দিলো। প্রথম যখন এলো তখন আসলেই হয়তো তাদের বাঁচানো যেতে। ওয়াকিটকি বের করে পুরো ঘটনা থানায় জানিয়ে দিলো। তার সমস্ত শরীর দিয়ে এই শীতল আবহাওয়াতেও ঘাম বেয়ে পড়ছে।


আমার লেখা উপন্যাসের ছোট্ট একটা অং....
 
Last edited by a moderator:

বর্ণমালা এন্ড্রয়েড এপ

নতুন যুক্ত হয়েছেন

Top