গ্যাঞ্জাম.কম (রম্য) ।। নোমান সাদী

Noman Sadi

নতুন ব্লগার
#1
20190908_194859-jpg.351

ত কয়েকদিন ধরে ভার্সিটির হলে তুমুল গ্যাঞ্জাম চলছে। গ্যাঞ্জামের কারন কোনো এক চোরাই দল। তারা কয়েকদি ধরে বেশ কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে। কারো কারো ধারনা, এটা কোনো অসাধু চক্রের কাজ।
তারা যে ঘটনাগুলো ঘটিয়েছে তার একটা সংক্ষিপ্ত তালিকা ঠিক এইরকম;
১.সালামান ভাইয়ের জাঙ্গিয়া বাশের মাথায় ঝুলিয়ে বাশটা মাঠের ঠিক মাঝখানে পুতে রেখেছে। বাশের গায়ে একটা সাইনবোর্ড ও টাঙানো, তাতে লেখা " হঠাৎ বাতাসে জাইঙ্গা আকাশে"
২.আবুল স্যারের সাদা পাঞ্জাবিতে বড় বড় করে লিখে রেখেছে " মদ খাবি, মানুষ হবি"
৩.ছাদে শুকাতে দেওয়া শাহনাজ মেডামের শারিতে বিলাই চিমটি দিয়েছে।
৪.এই কেসটা একটু সিরিয়াস, একজনে বেশি বাড়াবাড়ি করে ফেলেছে।
সিকদার স্যারের অন্তর্বাসের ভিতরের দিকে চুইঙ্গাম লাগিয়ে রেখেছে। স্যার কিছু না দেখেই অন্তর্বাসটা পরে ফেলেছেন..অতঃপর..........


তো, এই সকল গ্যাঞ্জামের সমাধা করতে এগিয়ে এলেন হলের সব থেকে সিনিয়র সালমান ভাই। তিনি রাতে একটা মিটিং ডাকলেন। মিটিংয়ে আট সদস্য বিশিষ্ট একটা দল গঠন করা হলো।
দলের নাম কি হবে সেই নিয়ে আবার গ্যাঞ্জাম শুরু হলো। অবশেষে ঠিক করা হলো দলের নাম হবে "গ্যাঞ্জাম সমাধান"। সংক্ষেপে "গ্যাস"।
সবাই মিলে আলোচনা করে একটা ফেসবুক পেজ ও খুলে ফেলল। যেনো সবাই এই দলের সেবা পেতে পারে।
প্রযুক্তি বিষয়ে এক ধাপ অগ্রগামী রাহাত প্রস্তাব করে বসল " গ্যাঞ্জাম.কম" নামে একটা ওয়েবসাইট খুলতে, যাতে করে দেশ-বিদেশের মানুষ এ থেকে সেবা পেতে পারে।
যেহেতু ওয়েবসাইটের নাম বাংলায় হয় না, তাই গ্যাঞ্জামের ইংরেজি বানান কি হবে সেটা নিয়ে কয়েকজনে গ্যাঞ্জাম শুরু করে দিলো।
সিফাতের মতে সেটা হবে gangam.com
আবিদ বলল না, সেটা হবে ganjam.com
মাঝখানে বাধ সাধলো ইমন, সে বলল; g দিয়ে লিখলে "জ্যাঞ্জাম" হয়, আসলে হবে gh দিয়ে মানে ghanjam.com। শাওন বলল জ্যাঞ্জাম z দিয়ে হয়। আর gh দিয়ে লিখলে ঘ্যাঞ্জাম হয়ে যায়, তাই আবিদেরটাই ঠিক আছে।
সালমান ভাই শাওনের প্রতি একটু দুর্বল থাকায় শাওনের কথা মত আবিদের বানানটাই সথিক এবং চুরান্ত বলে গন্য করা হলো।


কিন্তু ওয়েবসাইট বানানোর টাকা কে দেবে সেটা নিয়ে শুরু হলো আরেক গ্যাঞ্জাম।
সবাই যে যার মতো করে সরে পরতে লাগল।
যে যেদিকে পারে ঝেরে দৌড় লাগালো। কারন সালমান ভাইয়ের হাতে পরলে সব টাকা তাদের থেকেই নেবে।
মিটিংয়ে রইলো শুধু সালমান ভাই, রাতুল আর হাবিব। এমন সময় ইলেকট্রিসিটি চলে গেল। পুর জায়গাটা অন্ধকার হয়ে গেল। সাথে সাথে ভো দৌড় দিলেন সালমান ভাই। কারন তিনি দেখলেন, বাইরে আলো জ্বলছে।
আর সেখান থেকে চার-পাঁচজন লোক লাঠি হাতে প্রবেশ করছে। সালমানের বুঝতে বাকি রইলো না এরা কারা। এদের নিয়ে আর গ্যাঞ্জাম করা ঠিক হবে না।.......
 

Attachments

Last edited:

বর্ণমালা এন্ড্রয়েড এপ

ফেসবুকে বর্ণমালা ব্লগ

নতুন যুক্ত হয়েছেন

Top