• সুখবর........ সুখবর........ সুখবর........ বর্ণমালাকে খুব শিঘ্রই পাওয়া যাবে বাংলা বর্ণমালার ডোমেইন "ডট বাংলায়" অর্থাৎ আমাদের ওয়েব এড্রেস হবে 'বর্ণমালাব্লগ.বাংলা' পাশাপাশি বর্তমান Bornomalablog.com এ ঠিকানায়ও পাওয়া যাবে। বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণতা পাবে আমাদের বর্ণমালা।

ছোটো গল্প "পাপী"

এম আই সৌরভ

নতুন সদস্য
#1
rsz_20190303_110537-jpg.298
আমি চৌরাস্তার মোড়ে বসে ভিক্ষা করি। বয়স ৫৮। এক সময় শরীরের সব কিছু ই আছিলো। অতীতের স্মৃতি হিসেবে এখন নাই শুধু একটা হাত আর একটা পা। হেই স্মৃতি বর্ণনা করার জন্যে আমারে ফিরতে হইবো ৪০ বছর আগে। আমার পাপের রাজ্যে। এই দুনিয়ায় পাপ কি আমার কম আছে।

আমি রাসেল। রাসেল ভাই। জীবনে যেইডারে যেইহানে পিডাইতে ইচ্ছে করছে হেইডারে ওইহানে পিডাইছি। কোনো মায়া করি নাই। কাউরে কোনোদিন ডরাই নাই। আমারে বহুতজন ডরাইছে। কতজনরে বিনা দোষে মারছি, অত্যাচার করছি, বিরক্ত করছি হেই হিসাব আমি নিজেই দিবার পারুম না।

চৌরাস্তার মোড়ে বসে ভিক্ষা করছি। একটা বড় প্রাইভেট কার এ করে যাচ্ছে আমাদের কলেজের স্যার। শফিকউদ্দিন স্যার। হাহাহা আমার আবার স্যার। জীবনে আমি কোনদিন কলেজে কিছু শিখবার গেছি বলে আমার মনে পরে না। আমার কলেজে আছিলো দুইডা কাম। মাইয়াদের সাথে দেখা করা। আর যেই পুলাডারে মন চাইতো পিডাইয়া মাইয়াদের সামনে হিরো সাজা।
প্রাইভেট কারটা আমার সামনে দাঁড়াইলো। শফিক স্যারের পুলাডা স্যারের হাতে বিশ ট্যাকার নোট দিয়া আমারে দেওনের জন্যে ইংগিত করলো। আমি স্যাররে চিনছি। স্যার আমারে চিনে নাই। ভাগ্যিস স্যারে আমারে চিনে নাই। ক্লাসে কি অপমানডা আমি কম করছিলাম। বেয়াদবি করার কারণে স্যারে আমারে বাইরে বাইর হইতে কয়। বাইরে বাইর হইছিলাম ঠিকি তয় বাইর হওয়ার আগে ডাইন হাতডা দিয়া কষাইয়া একডা থাপ্পড় মাইরা বাইর হইছি। আইজ আমার ডাইন হাতডা নাই। ক্ষমা চাইবারও পারুম না।

আমি আছিলাম একডা দলের সভাপতি। আমার উপরে কেউ কোনো কথা কইতে পারতো না। উপরের মহলে আমার লিডার চাচা মামারা আছিলো। প্রশাসনরে আমি মায়রে বাপ করে আইছি। জীবনে কোনো পরিক্ষায় খারাপ করি নাই। করমু ই বা ক্যামনে? পরিক্ষার রুমে বই দেখে লিখলেও কি কোনো স্যারের মানা করার সাহস আছিলো।

একটা হুন্ডায় করে যাচ্ছে সোহাগ। আমার ক্লাসমেট। হুনছি বড়ো চাকরি করে। দুইডা পুলা আছে। তিনডা ফ্লাটের মালিক। শালারে কত মাইর মারছি। হেতের জীবনের চাইরডা বছর কয়লা বানাইছি। একবার হেতে আমারে উপদেশ দিছিলো আমার কামগুলা নাকি খারাপ। হেতেরে চাইরতলা থাইক্কা কান ধইরা নামাইছি। তারপর তিনশবার মাইয়াগো সামনে কান ধইরা উঠ বস করাইছি। হেতে কলেজ আইসাও ছাইড়া দিছিলো। পরিক্ষার কয়ডা দিন পাইতাম। আর হেতের জীবনডা ত্যাজপাতা বানাইতাম।

এই দুনিয়ায় কত কাজ করছি। চাঁদা তোলা থাইক্কা শুরু কইরা মিছিল মিটিং, আলগা পিরিতি, জমি দখল, ভাংচুর মারামারি কোনোডাই বাদ দেই নাই। ন্যায়ের কাজের থাইক্কা অন্যায় কাজ অনেকগুন বেশি করছি।

আমার সামনে আমারে কতজন সালাম দিছে হিসাব নাই। আমি কোনো দিন সালাম ফিরাই নাই। একডা না জীবনে পাঁচ পাঁচডা প্রেম করছি। সবগুলাই সুন্দরী। পার্কে হেতেগো ইম্প্রেস করার জন্য কারণ ছাড়াই পুলাগো পিডাইতাম। যত কারণ ছাড়া পিডাইতাম আমার প্রেমিকাগুলো তত রাগ হইতো। আমি একটু জড়িয়ে ধরে বলতাম "আর করুম না।" তারা খুশি হইতো। তয় আমি জানতাম আমার খারাপ কাজগুলা তারা চায়। এইডা থেকে একডা কথা আমি বুঝবার পাইছি, প্রায় প্রত্তেক মাইয়াই চায় তার প্রেমিক তার সামনে অন্যায় করুক এবং তার প্রতিবাদে "আর করবো না" বলে জড়িয়ে ধরুক।

এভাবে অনেক বছর আমার কাইটা যায়। আমার নিজের কি ক্ষতি করছি বুঝবার পাই নাই। একডা চাকরি পাইছিলাম। একে তো আমার বিদ্যে বলতে কিছু নাই আর দু'য়ে মাইরপিট ছাড়া কিছু ভালো লাগে না। বিয়া করি নাই। বয়সের ভাড়ে গায়ে শক্তি কইমা যায়। লিডারের বাড়িতে বইয়া থাকতাম। লিডার কইছিলো আমারেও লিডার বানায় দিবো। গায়ে শক্তি কম। লিডার হওয়ার সময়। একদিন ছোট ভাইয়েরা যারা আমারে বড়ভাই কইতো তারা আমারে রাস্তায় পিডাইয়া হাত পা একটা কাইট্টা দেয়। ছোট ভাইয়ের মধ্যে যেই আমার পা কাইট্টা দেয় হুনছি হেতেরে নাকি আমার পদ দিয়া দিছে। লিডার হাসপাতালে আমারে দেখতে আইয়া পুরস্কার হিসেবে কয় এই জেলা থাইক্কা বাইর হইয়া যা। নইলে ভিক্ষাও পাবি না। সেইদিন মনে চাইছিলো শ্যাষ বারের মতো লিডাররে পিডাই।

আমি এই জীবনে কখনো ভালো কিছুর শিক্ষা নেই নাই। তয় এইবার বুঝবার পাইছি, ছাত্রজীবনে যে জীবনডা যেভাবে চালাইবো বাকি জীবনডা তারে সেইভাবেই ফলাফল দিবো। এর ব্যতিক্রম কিছু হইবো না।

আমি ভিক্ষা করি। চৌরাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা বটগাছটার নিচে। ছোট কালে হুনছি আল্লাহ কিছু কিছু পাপের বিচার দুনিয়ায় করে। আমার পাপের বিচার আমি দুনিয়ায় পাইছি। আমার পাপের রাজ্যে কিচ্ছু ছিলো না আর এখন একডা পাপী পা আর একডা পাপী হাত আছে। আমার পাপের হিসাবডা আমি জানি না। এই ছোট্ট জীবনে আমার পাপ কি আর কম আছে।
 

Khaled Al Mahmud

সুপার ব্লগার
#6
আমি চৌরাস্তার মোড়ে বসে ভিক্ষা করি। বয়স ৫৮। এক সময় শরীরের সব কিছু ই আছিলো। অতীতের স্মৃতি হিসেবে এখন নাই শুধু একটা হাত আর একটা পা। হেই স্মৃতি বর্ণনা করার জন্যে আমারে ফিরতে হইবো ৪০ বছর আগে। আমার পাপের রাজ্যে। এই দুনিয়ায় পাপ কি আমার কম আছে।

আমি রাসেল। রাসেল ভাই। জীবনে যেইডারে যেইহানে পিডাইতে ইচ্ছে করছে হেইডারে ওইহানে পিডাইছি। কোনো মায়া করি নাই। কাউরে কোনোদিন ডরাই নাই। আমারে বহুতজন ডরাইছে। কতজনরে বিনা দোষে মারছি, অত্যাচার করছি, বিরক্ত করছি হেই হিসাব আমি নিজেই দিবার পারুম না।

চৌরাস্তার মোড়ে বসে ভিক্ষা করছি। একটা বড় প্রাইভেট কার এ করে যাচ্ছে আমাদের কলেজের স্যার। শফিকউদ্দিন স্যার। হাহাহা আমার আবার স্যার। জীবনে আমি কোনদিন কলেজে কিছু শিখবার গেছি বলে আমার মনে পরে না। আমার কলেজে আছিলো দুইডা কাম। মাইয়াদের সাথে দেখা করা। আর যেই পুলাডারে মন চাইতো পিডাইয়া মাইয়াদের সামনে হিরো সাজা।
প্রাইভেট কারটা আমার সামনে দাঁড়াইলো। শফিক স্যারের পুলাডা স্যারের হাতে বিশ ট্যাকার নোট দিয়া আমারে দেওনের জন্যে ইংগিত করলো। আমি স্যাররে চিনছি। স্যার আমারে চিনে নাই। ভাগ্যিস স্যারে আমারে চিনে নাই। ক্লাসে কি অপমানডা আমি কম করছিলাম। বেয়াদবি করার কারণে স্যারে আমারে বাইরে বাইর হইতে কয়। বাইরে বাইর হইছিলাম ঠিকি তয় বাইর হওয়ার আগে ডাইন হাতডা দিয়া কষাইয়া একডা থাপ্পড় মাইরা বাইর হইছি। আইজ আমার ডাইন হাতডা নাই। ক্ষমা চাইবারও পারুম না।

আমি আছিলাম একডা দলের সভাপতি। আমার উপরে কেউ কোনো কথা কইতে পারতো না। উপরের মহলে আমার লিডার চাচা মামারা আছিলো। প্রশাসনরে আমি মায়রে বাপ করে আইছি। জীবনে কোনো পরিক্ষায় খারাপ করি নাই। করমু ই বা ক্যামনে? পরিক্ষার রুমে বই দেখে লিখলেও কি কোনো স্যারের মানা করার সাহস আছিলো।

একটা হুন্ডায় করে যাচ্ছে সোহাগ। আমার ক্লাসমেট। হুনছি বড়ো চাকরি করে। দুইডা পুলা আছে। তিনডা ফ্লাটের মালিক। শালারে কত মাইর মারছি। হেতের জীবনের চাইরডা বছর কয়লা বানাইছি। একবার হেতে আমারে উপদেশ দিছিলো আমার কামগুলা নাকি খারাপ। হেতেরে চাইরতলা থাইক্কা কান ধইরা নামাইছি। তারপর তিনশবার মাইয়াগো সামনে কান ধইরা উঠ বস করাইছি। হেতে কলেজ আইসাও ছাইড়া দিছিলো। পরিক্ষার কয়ডা দিন পাইতাম। আর হেতের জীবনডা ত্যাজপাতা বানাইতাম।

এই দুনিয়ায় কত কাজ করছি। চাঁদা তোলা থাইক্কা শুরু কইরা মিছিল মিটিং, আলগা পিরিতি, জমি দখল, ভাংচুর মারামারি কোনোডাই বাদ দেই নাই। ন্যায়ের কাজের থাইক্কা অন্যায় কাজ অনেকগুন বেশি করছি।

আমার সামনে আমারে কতজন সালাম দিছে হিসাব নাই। আমি কোনো দিন সালাম ফিরাই নাই। একডা না জীবনে পাঁচ পাঁচডা প্রেম করছি। সবগুলাই সুন্দরী। পার্কে হেতেগো ইম্প্রেস করার জন্য কারণ ছাড়াই পুলাগো পিডাইতাম। যত কারণ ছাড়া পিডাইতাম আমার প্রেমিকাগুলো তত রাগ হইতো। আমি একটু জড়িয়ে ধরে বলতাম "আর করুম না।" তারা খুশি হইতো। তয় আমি জানতাম আমার খারাপ কাজগুলা তারা চায়। এইডা থেকে একডা কথা আমি বুঝবার পাইছি, প্রায় প্রত্তেক মাইয়াই চায় তার প্রেমিক তার সামনে অন্যায় করুক এবং তার প্রতিবাদে "আর করবো না" বলে জড়িয়ে ধরুক।

এভাবে অনেক বছর আমার কাইটা যায়। আমার নিজের কি ক্ষতি করছি বুঝবার পাই নাই। একডা চাকরি পাইছিলাম। একে তো আমার বিদ্যে বলতে কিছু নাই আর দু'য়ে মাইরপিট ছাড়া কিছু ভালো লাগে না। বিয়া করি নাই। বয়সের ভাড়ে গায়ে শক্তি কইমা যায়। লিডারের বাড়িতে বইয়া থাকতাম। লিডার কইছিলো আমারেও লিডার বানায় দিবো। গায়ে শক্তি কম। লিডার হওয়ার সময়। একদিন ছোট ভাইয়েরা যারা আমারে বড়ভাই কইতো তারা আমারে রাস্তায় পিডাইয়া হাত পা একটা কাইট্টা দেয়। ছোট ভাইয়ের মধ্যে যেই আমার পা কাইট্টা দেয় হুনছি হেতেরে নাকি আমার পদ দিয়া দিছে। লিডার হাসপাতালে আমারে দেখতে আইয়া পুরস্কার হিসেবে কয় এই জেলা থাইক্কা বাইর হইয়া যা। নইলে ভিক্ষাও পাবি না। সেইদিন মনে চাইছিলো শ্যাষ বারের মতো লিডাররে পিডাই।

আমি এই জীবনে কখনো ভালো কিছুর শিক্ষা নেই নাই। তয় এইবার বুঝবার পাইছি, ছাত্রজীবনে যে জীবনডা যেভাবে চালাইবো বাকি জীবনডা তারে সেইভাবেই ফলাফল দিবো। এর ব্যতিক্রম কিছু হইবো না।

আমি ভিক্ষা করি। চৌরাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা বটগাছটার নিচে। ছোট কালে হুনছি আল্লাহ কিছু কিছু পাপের বিচার দুনিয়ায় করে। আমার পাপের বিচার আমি দুনিয়ায় পাইছি। আমার পাপের রাজ্যে কিচ্ছু ছিলো না আর এখন একডা পাপী পা আর একডা পাপী হাত আছে। আমার পাপের হিসাবডা আমি জানি না। এই ছোট্ট জীবনে আমার পাপ কি আর কম আছে।
অসামান্য
 

বর্ণমালা এন্ড্রয়েড এপ

নতুন যুক্ত হয়েছেন

Top