তিল থেকে তাল (রম্যগল্প)।। সাত্ত্বিক আহসান

#1
picsart_07-15-04-12-31-jpg.344


এয়ারপোর্টে ঢুকে সোজা হাঁটা দিলাম।
পেছন থেকে সমানেই ডেকে যাচ্ছে। আমি ফিরেয়ো তাকাচ্ছি না। মা বলেন, যাত্রা পথে পেছন ফিরে তাকালে নাকি অমঙ্গল হয়। কে কেন অযথা কাকে এতো ডাকাডাকি করছে কে জানে।
হঠ্যাৎ পেছন থেকে বগলের নিচে হাত ঢুকিয়ে দুজন দুপাশ থেকে ধরলো। কিরে, আমি তোদের বেয়াই নাকি। মেজাজটাই খারাপ হয়ে গেলো। আমি জিজ্ঞাসা করলাম কি হচ্ছে?
উলটা আমায় জিজ্ঞাসা করছে, পাসপোর্ট ভিসা না দেখিয়ে আমি কোথায় যাচ্ছি। ভারি রাগ হলো। তাও চুপ থাকলাম। বললাম, বিদেশ যাবো। তাই প্লেনে উঠতে যাচ্ছি।
তারা আমার কাছে পাসপোর্ট আর ভিসা চাইতে শুরু করলো। তোরা কি কচি খোকা, যে তোদের এক কথা বারবার বলতে হবে? আমিও দমবার পাত্র নই। আমিও বার বার বলছি আছে আছে। কিন্তু না, তারা আমার মুখের কথায় বিশ্বাস করছে না যতক্ষণ না তারা চর্মচক্ষু দ্বারা সেটা দেখছে। এবং সেটা না দেখে আমাকে কিছুতেই ছাড়বে না। শেষ পর্যন্ত দেখানোর সিদ্ধান্ত নিলাম। বললাম ছাড়ুন, তারা ছাড়লো।
আমি প্যান্ট টেনে তুল্লাম হাঁটু পর্যন্ত। ঐ যে রাস্তায় পানি উঠলে যেমন তুলে, ঠিক তেমন।
তারপর জুতা খুললাম। তারপর মোজা খুললাম। হেহে মিথ্যা কথা। আমি মোজা পড়ি না।
তারপর তাদের সামনে পা বাড়িয়ে আমার পা দেখালাম।
তারা তাকিয়ে রইলো আমার মুখের দিকে । কিরে ভাই? আমিতো পূর্ণিমা না যে আমার রূপ ছুঁইয়া ছুঁইয়া পড়তেছে ? যেটা দেখাচ্ছি সেটা দেখ না! আমি বললাম আমাকে না, আমার পায়ের আঙুল দেখুন।
এবার তারা আমার পায়ের আঙুল দেখতে শুরু করলো।
তারা কিছু বলার আগে আমিই বলে দিলাম, দেখতে পাচ্ছেন আঙুলের ডগায় কালো ছোট্ট তিল? আমার মা বলেছে যাদের পায়ে তিল থাকে তারা বিদেশ যায়। এটাই আমার পাসপোর্ট এটাই আমার ভিসা। আর এটাই আমার প্লেনের টিকিট। এবার পথ ছাড়ুন।
তারা আমার পথ তো ছাড়লোই না, বরং গতবারের চেয়ে আরো জোরে বগলদাবা করে নিয়ে গেলো একটা রুমে। চেয়ারে বসালো। একজন দেখলাম পাশে বন্দুক হাতে দাঁড়িয়ে। আসল না নকল কে জানে(?) আরেকজন টেবিলের ওপাশে রাখা চেয়ারে বসতে বসতে বল্লো, এনআইডি কার্ড বের করতে।এখন আমি পড়ে গেলাম বিপদে।
কারণ মা আমাকে কখনো বলে নাই, এনআইডি কার্ডের তিলটা ঠিক কোথায় আছে।
 
Last edited by a moderator:

বর্ণমালা এন্ড্রয়েড এপ

নতুন যুক্ত হয়েছেন

Top