• সুখবর........ সুখবর........ সুখবর........ বর্ণমালাকে খুব শিঘ্রই পাওয়া যাবে বাংলা বর্ণমালার ডোমেইন "ডট বাংলায়" অর্থাৎ আমাদের ওয়েব এড্রেস হবে 'বর্ণমালাব্লগ.বাংলা' পাশাপাশি বর্তমান Bornomalablog.com এ ঠিকানায়ও পাওয়া যাবে। বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণতা পাবে আমাদের বর্ণমালা।

তুহিন বাবুর দূঃস্বপ্ন ।। নীলা রহমান

Nila Rahman

নতুন ব্লগার
#1
images-6-jpeg.103
আমাদের গ্রুপ এডমিন তুহিন বাবুর বিয়ে আজ। এই বিয়েটা নিয়ে রাজ্যের যত কাজ সব আমার। আর থাকবেই বা না কেন! বিয়ের মুল ঘটকই তো আমি।

তাহলে শুনুন পুরো ব্যপারটা বলি। তুহিন ভাইয়ের দাদী মুনিয়ার চোখে পড়েনা তুহিন ভাই কত বড় হয়েছে। এবার একটা বিয়ে দেওয়া দরকার ছেলেটাকে। ছেলেটাও খুব লাজুক প্রকৃতির লজ্জায় কখনো বলতেও পারেনা যে দাদী আমায় এবার বিয়েটা দাও।

দাদীর চোখে না পড়লেও আমার চোখ এড়ায়না। বড্ড মায়া হয় তুহিন ভাইয়ের প্রতি। শত হলেও আমি তো উনার গ্রুপ পাতানো বোন তাই না! তাই দাদীর দায়িত্বটা আমিই নিলাম।

আমাদের পাশের বাসার জরিনা ভানু। দেখতে শুনতে খারাপ না মেয়েটা। শুধু একটু কালো আর একটা চোখ ট্যারা মাথার চুল গুলো খড়ের গাদার মত। সারাক্ষণ মাথা চুলকায়। সবাই জরিনা পাগলী বলেই ডাকে।

গত চার - পাঁচ দিন আগে আমি গ্রুপে চ্যাটিং করছিলাম হঠাৎ আমার ফোনটা কেউ হ্যাঁচকা টান দিয়ে নিয়ে নিলো। আমি ভাবলাম মা হয়তো! আমি মায়ের দিকে করুণ দৃষ্টিতে তাঁকালাম।

আরেহ মা তো নয়।
আমার ফোনটা তো জরিনার হাতে।

আমি অবাক হয়ে তাঁকিয়ে আছি। মেয়েটা আমার মোবাইলটা উল্টে পাল্টে দেখছে।

আমি ওর কাছে জানতে চাইলাম ওভাবে কী দেখছিস?

ও আমায় একটা ছবির দিকে দেখিয়ে বললো *নীলা এই ছবিটা বড় হয়না?*

আমি ছবিটার দিকে তাঁকালাম। আরেহ এটা তো তুহিন বাবুর ছবি। আমি জরিনাকে তুহিন বাবুর প্রত্যেকটা ছবি দেখালাম। মেয়ে তো পুরা ফিদা।
ও আমায় বলেই ফেললো তুহিন বাবুকে বিয়ে করবে সে।

আমি কিছুক্ষণ হাঁ করে দাঁড়িয়ে রইলাম। জরিনার ডাকে ধ্যান ভাঙলো। ও আমায় বললো যে করেই হোক তুহিন বাবুকে তার চাইই চাই।

আমি পরলাম মহা মসিবতে। এই মেয়ে খুব সাংঘাতিক। একবার যখন বলেছে তার তুহিন বাবু চাই তো সেটা তার চাইই।

আমি এখন কী করি! তুহিন ভাইকে কী করে রাজি করাব সেটাই ভাবছি।

রাতে জরিনা ওর বাবাকে নিয়ে আমার কাছে এলো। আমাদের এলাকার সবথেকে ধনী ব্যক্তি আকরাম কাকা। তার একমাত্র মেয়ে জরিনা।

আকরাম কাকা আমার হাত দুটো ধরে বললেন "মা তুমি আমার মেয়েটাকে তুহিন বাবু এনে দাও।"

আমি এবার কী বলি! এই প্যারাটা না আমি আর নিতে পারতেছিনা। কাকার করুণ মুখটা দেখে আর নাও করতে পারলামনা।

বড্ড ঝামেলায় পরে গেলাম! কারও হেল্প নেওয়া দরকার। মনে পরেছে। সৌরভের সাথে কথা বললে হয়। সৌরভ যেই বুদ্ধিটা দিলো সেটা একদম পার্ফেক্ট।

নায়িকা তানজিল তিশার সাদা মাটা কিছু ছবি সৌরভ আমায় স্যান্ড করলো। আমিও তুহিন বাবুর ইনবক্সে ছবি গুলো দিলাম। আর বললাম এই মেয়েটা আমার কাজিন। আমি জানতাম তুহিন বাবু সারাক্ষণ কাজ নিয়ে এতটা বিজি থাকেন যে নাটকের নায়িকা দেখার টাইম নেই উনার। তবুও একটু ভয় পাচ্ছিলাম যদি চিনে ফেলেন।

অনেকক্ষণ হয়ে গেলো তুহিন বাবু চুপচাপ। এবার হয়ত আমার অনলাইনে থাকাটা আর নিরাপদ নয়। তার সাথে সাথে আমার সাধের গ্রুপটাও গেল। খুব কষ্ট হচ্ছে। সবকিছুর জন্য ঐ জরিনা দায়ী। কাল ওর মাথার চুল গুলোতে আগুন ধরাবো আমি।

এসব ভেবে ঠিক যখনই ডাটা অফ করতে যাবো তখনই দেখি তুহিন বাবু তিশার সবকয়টা ছবিতে লাভ রিয়্যাক্ট দিচ্ছে।

আমি আশায় বুক বাঁধলাম। তুহিন বাবু আমার কাজিনের নাম জানতে চাইলো। কী নাম বলব! সুন্দর একটা নাম বলা দরকার। আমি নাম বললাম তিশা। আসলে আমি তো আর তুহিন ভাইয়ার সাথে মিথ্যা বলতে পারিনা তাই সত্যিটাই বলে দিলাম। সত্যিটা না বললে তুহিন ভাইকে ঠকানো হবে তো তাই না?

তুহিন ভাই বার বার বলতেছে " নয়না একটা কথা বলব? নয়না একটা কথা বলব?

এমন করে বেশ কয়েকবার বললো। বলেন বলেন বলতে বলতে আমার মুখে ব্যথা হয়ে গেছে। তবুও তার একই কথা "নয়না কিছু মনে করবেনা তো?"

এবার একটু রাগ দেখিয়েই বললাম। কী বলবেন বলেন নয়তো গেলাম আমি।

এবার তিনি বলেই দিলেন তিশাকে খুব পছন্দ হয়েছে তার। আমি যেন একটা ব্যবস্থা করি।

আমি তো খুশিতে আত্মহারা। পরদিন তুহিন ভাইকে জানিয়ে দিলাম। মেয়ে রাজি হয়েছে।

মুনিয়া দাদীকে রাজি করানোর দায়িত্বটা মনিশাকে দিলাম। মনিশার কোন কথা দাদী ফেলেন না।

কিন্তু এই কথাটাতে বুড়ি রাজি হবে তো!

মনিশা ব্যর্থ হলো। দাদী কিছুতেই তার ছোট নাতিরে এখনই বিয়ে দিয়ে তার সর্বনাশ করতে চান না।

এই বুড়িটা মহা জ্বালা এবার যদি বিয়ে না করায় তাহলে বুড়িকে ঘরে শেকল দিয়ে বেঁধে রেখে যাব। রাগে গজ গজ করতে করতে বললেন তুহিন বাবু।

শেষ চেষ্টা টা আমিই করতে গেলাম।

বুড়ি সাজগুজ করতে খুব পছন্দ করে। আর এটাই এখন একমাত্র হাতিয়ার বুড়িকে কাবু করার।

আমি বুড়ির সামনে একটা আয়না ধরে বললাম। "দেখো দাদী তুমি এখনো কত্ত কিউট তোমায় যদি পার্লারে নিয়ে গিয়ে একটু ভালো মত.........

আমার কথাটা আর শেষ করতে দিলোনা দাদী। এক লাফে বসা থেকে দাঁড়িয়ে গেল। "চল নীলা এক্ষুণি যাবো।"

দাদীকে বললাম "তুহিন বাবুকে যদি বিয়ে দিতে রাজি হও তবে তোমায় একদম পরীর মত সুন্দর করে সাজিয়ে আনব। আর তিশার দাদার সাথে তোমায় স্যাটেল করিয়ে দেব।"

বুড়ি এবার একটু লজ্জা পেলো। মুচকি হেসে বললো। "আচ্ছা আমি রাজি।"

তুহিন বাবু তো এবার আনন্দে আত্মহারা।

আমার তো খুশীতে....... না থাক আর না বলি। আহা কী মজা তুহিন বাবুর বিয়ে।

আমায় তো দুদিক থেকেই থাকতে বলছে বাট আমার ইচ্ছে বরের সাথে আসব। হলুদের দিন জরিনার কাছে থুক্কু তিশার কাছে ছিলাম। আজ তুহিন বাবুর বাসায় যাব।

সৌরভ, আজিজুল, কবি, আব্দুল কাইয়্যুম ভাই সব্বাইকে বলে দিলাম তুহিন ভাইদের বাসায় চলে আসতে। আমি, তাহমিনা, ইমা প্রথমে মনিশার বাসায় গেলাম।

মনিশা তো সাজগুজ নিয়েই ব্যস্ত। এখনো বলছে এটা হয়নি ওটা হয়নি। এদিকে সৌরভ বার বার ফোন করছে। তুহিন বাবু নাকি রাগে লাফাচ্ছে।

মনিশাকে তাড়া দিতে দিতে ওর শেষ হলো। অবশেষে পৌঁছলাম তুহিন বাবুর বাসায়।

গিয়ে দেখি মুনিয়া বুড়ি গাল ফুলিয়ে বসে আছে। বুড়ির সাথে সাথে সবাই মন খারাপ করে আছে।

আমি বুড়ির কাছে যেতেই সে মুখ ফিরিয়ে নিলো। বুঝতে পারলাম দাদীর পার্লারে যাওয়া হয়নি বলে অভিমান করেছে।

আমি আর ইমা দুজনে বুড়িকে একদম পরীর মত করেই সাজিয়ে দিলাম। বুড়ি আয়না দেখছে আর মিটি মিটি হাসছে।

এবার বেরুনো দরকার। কিন্তু বর কোথায়! সে তো নেই। অনেক খোঁজাখুঁজির পর দেখি তুহিন ভাই তার রুমে শুয়ে আছে।

আমরা সবাই তার কাছে গেলাম। আমি তুহিন ভাইকে ডাকলাম। তিনি খুব রাগী চোখে তাঁকালেন আমার দিকে, বললেন।

- আরো একটু সাজো কম হয়ে গেলো না ভূতনীর দল! মনে হচ্ছে যেন বিয়ে আমার না তোমাদেরই। এদিকে তিশা বার বার ফোন করছে। কখন আসছি জানতে চাচ্ছে ধূর ভাল্লাগেনা কিছু।

- আচ্ছা এবার তো চলুন।
- আমি যাবোইনা যাও।
- ওহ আচ্ছা তাহলে থাক।
- থাক মানে?
- বিয়ে ক্যান্সেল করে দেই।
- আরে আরে আমি যাচ্ছি তো। একটু অভিমানও বুঝেনা।

সময় মত আমরা পৌঁছলাম বিয়ে বাড়ি। কাজি সাহেবের দায়িত্বটা আব্দুল কাইয়্যুম ভাই নিলেন।

বিয়ের কাজ শেষ। বউ নিয়ে চলে এলাম আমরা।

রাত একটা বাজে। তুহিন ভাই বাসর ঘরে ঢুকতে ভয় পাচ্ছে। আমরা সবাই মিলে জোর করে ঘরে ঢুকিয়ে দিলাম।

তারপর দরজার বাইরে থেকে আড়ি পাতলাম। তুহিন ভাই বউকে কত সুন্দর সুন্দর কথা বলছেন। তিনি নাকি কোনদিন কোন মেয়ের দিকে তাঁকাননি পর্যন্ত। আরো কত কী! আহা মনে হচ্ছে তুহিন ভাই ভাজা মাছটা উল্টে খেতে জানেনা অথচ কত মেয়ের সাথেই যে প্রেম প্রেম নাটকটা করেছে তা সে খুব ভালো করেই জানে। আসলে বউয়ের কাছে মিথ্য বলা ছেলেদের স্বভাব।

রাত দুটোর দিকে #গল্পের_মেলা গ্রুপে নয়নায়ায়ায়ায়ায়ায়া........ বলে ইয়া বড় একটা চিৎকার। তুহিন বাবুর চিৎকারে পুরো গ্রুপটা কেঁপে উঠলো। সবাই ভয়ে আৎকে উঠলাম। এদিকে তুহিন বাবু তো অজ্ঞান।

সবাই ছুটোছুটি শুরু করলাম। ডাক্তার সাহেব বললেন উনি কোন বড় ধরনের ভয় পেয়েছেন। তার জন্যই এমন হয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে।

একটু পর মুনিয়া আপু তুহিন ভাইয়ার কাছে জানতে চাইলো এত রাতে সে নয়না বলে চিল্লানি দিলো কেন?

তারপর তুহিন ভাই এই পুরো ঘটনাটা বললো। বুঝতে পারলাম সে একটা ভয়ানক দূঃস্বপ্ন দেখেছেন।

এবার মনিশা বললো "তুহিন ভাই নয়না তো আপনাকে বিয়েই করিয়ে দিলো তাহলে বাসর ঘরে ঢুকে এমন চিল্লানি দিলেন কেন? আর জ্ঞানই বা হারাইলেন কেন?

- আরেহ বউটা যে পাল্টে দিয়েছে। আমি যখন বউয়ের ঘোমটা সরালাম কী দেখলাম জানো! ট্যারা তো ট্যারাই এত বড় বড় দাঁত ঠিক পেত্নীর মত, কুচকুচে কালো। ঘোমটা তুলতেই হি হি হি করে হাসছিলো। আমি আর ভাবতে পারতেছিনা। মাথা খুব যন্ত্রণা করছে। নয়না তুমি আমার সাথে
এটা করতে পারলে? আমায় ঠিক মত ঘুমোতেও দেওনা। স্বপ্নেও এই ভাবে ভয় দেখাতে হয়?

- হি হি..... তুহিন ভাই আমি কিন্তু অন্য কথা ভাবছি।
- কী কথা?
- সবাই বলে ভোর বেলার স্বপ্ন নাকি সত্যি হয়। আমাদের এখানে যেহেতু দুইটা বাজে আপনার ওখানে নিশ্চয়ই চারটা বাজে। তো আপনার এই স্বপ্নটা সত্যি হতেই পারে!
- এএএএএএএই নয়না বোন আমার আর ভয় দেখিওনা একটু পর হয়তো স্ট্রোক করে মারাই যাবো।

এই হলো আমাদের #গল্পের_মেলা পরিবারের ভালোবাসা। একটু দুষ্টুমি, হাসি, আড্ডা আর অনেকটা ভালোবাসা।

আর একটা কথা তুহিন ভাই কিন্তু চিরকুমার। উনার কখনো বিয়ে হবেনা তাই আমি স্বপ্নেই বিয়েটা দিয়ে দিলাম।।

সমাপ্ত.........
 

বর্ণমালা এন্ড্রয়েড এপ

নতুন যুক্ত হয়েছেন

Top