দেবী

#1
- এমন করে কি দেখছো?
- দেবী! রক্ত মাংসের দেবী।
- হা হা হা।
- দোহাই তোমার! এমন করে হেসো না।
- কষ্ট হচ্ছে?
- ভীষণ কষ্ট! তোমার হাসির উলুধ্বনি শোনা
মাত্র হৃদয়ে শঙ্খসুর বেজে ওঠে।
ঢাকের তালে আরতির মঞ্চ কাঁপায় প্রেম।
যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকে হৃদয়ের সমস্ত
দুয়ার।
তোমার ঐ হরিণ কালো চোখের দিকে
তাকালেই; সুখের অসুখটা প্রচণ্ড বেড়ে যায়।
- বড্ড বাড়িয়ে বলো তুমি।
- এমন পদ্মলোচন,
প্রশস্ত ললাট,
দীঘল কালো চুল,
খয়েরী রাঙা ঠোঁটের হাসি,
হলুদ পাড়ের গাঢ় সবুজ শাড়িতে ঢাকা শ্যামল কোমল দেহ।
- আহ্! কি হচ্ছে কি?
- বিশ্বাস করো শ্রাবণ!
এমন সোনার দেবালয় ছেড়ে
কোনো ভক্তই যেতে চাইবে না।
এমন দেবীকে পূজো না করলে পুরুষ জন্ম যে বৃথা হয়ে যাবে।
- হায় পুরুষ! কামনার নেশায় রক্ত-মাংসের দেহকে দেবীর আসনে বসিয়ে পূজো করো,
কামনা ছুটে গেলে ছুড়ে ফেল দাসির মতো।
- না শ্রাবণ না! এ যে কামনা নয় গো
এ যে, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের সঁচরণ। সোনা,
এ যে পবিত্র প্রেমের অক্সিজেন।
- প্রেম? পবিত্রতা?
- যে প্রেমের জন্য রচিত হয়েছে
ইউসুফ-জোলেখা, লায়লী-মজনু,
মধুমালতী, বিদ্যাসুন্দর, পদ্মাবতী, চন্দ্রাবতী,
মৃগাবতী
- আহ্! চুপ করো তো! তোমার এসব মন ভোলানো কথা দিয়ে
বরং কুকুর-বেড়াল ভুলিয়ে রেখো।
- শ্রাবণ!
- চেঁচিয়ো না। দেবীর সামনে চেঁচাতে হয় না,
দেবী'র অভিশাপ লাগে।
- আমি সত্যিই তোমায় ভালোবাসি শ্রাবণ।
- ভালোবাসো? তবে বেশতো বেসে যাও।
যতক্ষণ পর্যন্ত আমি তোমার থেকে সংক্রামিত
দূরত্বে থাকবো পুরুষ, ততক্ষণ পর্যন্ত
ভালোবাসা তোমার কাছে সুন্দর, পবিত্র।
দূরে যাও পুরুষ!
দূর থেকেই পূজো করো তোমার
ভালোবাসার দেবীকে।
যে দেবীর জন্য দেবালয়ের প্রয়োজন নেই।
প্রয়োজন নেই গোলাপ, চন্দনের।
তোমার হৃদয়'কে দেবালয় বানাও
সেই দেবালয়ে দেবীকে বসিয়ে
পূজো করো অনন্ত জীবন।
নিকটে যাও তাদের,
যাদের সাথে তুমি অভিনয় করো প্রেমের।
 

বর্ণমালা এন্ড্রয়েড এপ

ফেসবুকে বর্ণমালা ব্লগ

নতুন যুক্ত হয়েছেন

Top