নীল চাহনি জগতের সহসা প্রেম,

Khaled Al Mahmud

সুপার ব্লগার
#1
„নীল চাহনিজগতের সহসা প্রেম„
____________খালেদ আল মাহমুদ „
সবে মাত্র ইন্টার শেষ করেছি৷
আম্মু হয়-রান হয়েগেছেন আমার চাকরির জন্য ৷অনেক বোঝিয়েছি যে আমি চাকরি করবোনা৷ তবুও কেনো আমাকে এতো বকা দেন চাকরি করার জন্য৷বার বার বলেছি এসব আমার দ্বারা হবেনা৷এসব আমি পারবোনা ৷ বাচ্ছাদের সাথে গ্যানার গ্যানার করা মুটেই সহ্য হয়না৷ তবু কেনো আমাকে এতো পিড়া পিড়ি করছেন৷
এমনকি আম্মু মামাকে ধরে শুপারিশ করেন৷
তাদের শত পিড়া পিড়িতে রাজি হয়ে যাই৷

আম্মুকে বল্লাম আগে ছুট্ট চাকরি করি৷ তারপর বড় চাকরিতে হাত বাড়াবো৷
আম্মু বলেন ওকে টিকাছে তবুও চাকরি কর৷
মামা এক মাসের জন্য একটা কোচিং সেন্টারে চাকরি ম্যানেজ করে দিলেন৷
ও হো স্যারি আমি আপনাদের কাছে আমার পরিচয় দিতেও ভুলে গেছি!

আমি নিহাদ মাসনুদ খালেদ৷ তবে নিহাদ নামেই সবার কাছে প্রসিদ্ধ ৷

আজকে আমার শিক্ষকতার জীবনের প্রথম দিন ৷তিন দিন আগ থেকে প্রস্তুত ছাত্রদেরকে পড়ানোর জন্য৷
মাঝে মধ্যে লজ্জায় চেহারা রক্তিমার রুপ ধারন করে৷ দুহাত দিয়ে মুখ ডেকে হাতের তলদেশে লজ্জার হাঁসি কে দেখেঁ?
খুশিতে আত্তহারা!

জীবনের প্রথম ক্লাস তাও মিস্টেক করেফেলি৷ লজ্জার কারণে ক্লাস করাতে যাইনি৷ আম্মু আর মামা ভীষণ রাগ করেন৷
পরেরদিন ক্লাসে যাই৷ ছাত্রদের থেকে 10 হাত দুরে থাকি৷ ছাত্রদেরকে এখানে দেখলে আমি অন্য দিকে সরে থাকি৷
মনে হচ্ছে ওরা আমার শিক্ষক!
ওদের থেকে দুরে থাকার কারণ হলো ওদের সামনে গেলে আমার প্রচুর হাসি
পায়৷
এরকম চলে চার থেকে পাঁচ দিন ৷
তবে একয়দিনে ছাত্রদের কাছে নানান প্রশ্নের সম্মুখিন হই৷
পাঁচ দিন পরে ক্লাসে এসে দেখিঁ হিজাব পড়া হাত পাঁমোজা পরিধান করা একটা মেয়ে৷
সহসে দেখেই চমকে উঠি৷
তবে চমকালে কি হবে তবু ছাত্রী তো? ?

আমিও নতুন সেও নতুন তিনদিনপর
ওর তীক্ষ্ণ দৃষ্টির চাহনির তীর আমার দিকে সঞ্চালন করে৷ আমি আমার নজর সতর্ক ভঙি করে বার বার লুকিয়ে দেখি৷কেনো আমার দিকে অপলকে চেয়ে থাকে৷ ওর বিরামহীন চোখেঁর পলকে আমি বিস্মিত৷
এসব দেখেঁ মনে নানান প্রশ্নের পাহাড় জমে৷ এতো ছাত্রের মধ্যে তাকে কিভাবে শাষণ করবো৷ খুজে পাচ্ছিনা কিছুই৷

হঠাৎ মন চোপিসারে বলে দিলো৷ বারণ করবে কেনো ভালই তো লাগছে৷
কালো হিজাব মাখা নীল আখিঁ৷ এট্যাক করে ফেলে আমার সরল আখিঁদয়কে ৷
হাজার বারণেও টেকাতে পারিনা বেহায়া আখিঁদয়কে৷ অজান্তে আমার চোখঁ লুটিয়ে পড়ে তার সীমানায়৷ তাছাড়া তার চোখঁ তো আর আছেই সর্বত্র আমার আঙিনায় ৷
দুর থেকে কেড়ে নেয় আমার দৃষ্টিকে৷
নিস্তব্ধতার সহর মোখের কোনো কথা নেই৷
শুধু নিরবে দুর থেকে চলছে তোরামার চাহনিদয়ের ভাষা৷ দুর থেকে তোর আখিঁ আমার আখিঁকে হয়ত কি বলতে চাচ্ছে?কি বোঝাতে চাচ্ছে? এতো ছাত্রের ভীড়ে আড়ালে চলছে তোরামার নিস্তব্ধ প্রেম৷
এখনো তোর মুখ্খানি দেখিনি৷অজানা অচেনা মানুষ চেহারা না দেখেই এত সহজে তার প্রেমত্তে ডুবে যাই৷
প্রতিদিন ছুটির পর কোনো এক বাহানা ধরে কোচিংয়ের বারান্দায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে
অপলকে হাত পামোজাওয়লীর পিছন দিকে চেয়ে থাকি৷ বার বার অপেক্ষার প্রহর গুণি৷ কভে আমার দিকে ফিরে থাকাবে?
নিস্তব্ধ প্রেমের কুলে এসব একসময় আমাদের পেশা হয়ে যায়৷
ক্ষণে ক্ষণে চলে গেলো সারাটা মাস৷ মান সম্মান প্লাস্টিক হওয়ার ভয়ে৷
ভুলেও মেয়েটির পাশে যাইনা৷এমন কি ক্লাস ছাড়া কোনো কথাও বলা হয়নি৷

আজকে আমার আল বিদা!

কিভাবে বিদায় জানাবো বোঝতে পার
ছিনা৷ তবুও যেকোনো ভাবে বিদায় তো আর নিতেই হবে৷তাই তার ক্লাসে গিয়ে ছাত্রদেরকে লক্ষ করে বলি৷ ছাত্ররা আমি আজ চলে যাবো সবাই ভালো থাকবে৷ আর আমি তোমাদেরকে অনেক শাস্তি দিছি সবাই ক্ষমা করে দিবে৷
এসব বলার পর৷
অজান্তে আমার চোখেঁর কোনে জলগুলো
ডগবগ করছে৷ বাহানা ধরে জলগুলো আড়াল করে আড় চোখে থাকিয়ে দেখিঁ কিছু ছাত্রর চোখেঁ জল৷তারপর হিজাব পড়া মেয়েটির দিকে থাকিয়ে দেখি সে মাথা নিচের দিকে দিয়ে গুপনে অসহায়ের জলের নল ছোটছে৷
এমন সময় স্বার্থপরের ন্যায় ছুটির সময়ও চলে এলো৷ এতক্ষণে সবাইকে বলে দিলাম আল বিদার ঘন্টা৷সব চলে যাচ্ছে৷ নিষ্টুরের মত সেও নির্বাকে চলে যাচ্ছে৷ আমি তার পদচিহ্নের পথে হাঁহাঁকারে চেয়ে আছি৷ মনে মনে ভাবছি কিছুই না বলে এত সহজে কি করে চলে যাচ্ছিস৷ প্লিজ একবার ফিরে থাকা৷ প্লিজ একবার ফিরে থাকা ৷তৎক্ষণাৎ ফিরে থাকালো৷ এক চামচ আমার দিকে মায়বী চাহনির দৃষ্টি নিক্ষেপ করছে৷ আরেক চামচ বাড়ীর অগ্রযাত্রার পথে পা বাড়াচ্ছে৷
বিদায়ের শিহরণ এত কঠোর হয় কখনো জানতামনা৷ তার মুগ্ধ দৃষ্টির কুলে হারিয়ে
আমার হাতের প্রয়োজনীয় কিছু কাগজ ছিলো৷ পত্রগুলোকে কেমনে ছিড়ে ফেলি ৷ বলতেই পারিনা৷ কখোনো ভাবিনি হঠাৎ করে এমন হবে৷ সে অনেক দুরে গিয়ে আবার আমার দিকে ফিরে আসছে৷
আমি মনে মনে খুব খুঁশি৷
ও ফিরে আসাতে আমার শরীরটা ভয়ে ঘাম ঝরতে শুরু হয়৷ ছু ছু করে সে চলে আসছে৷ আমার মুখঁ মৃদু হাসির লাল রেখাঁর চিহ্ন বাসছে৷
প্রায় আমার কাছে চলে এসেছে ৷
তবে পার্থক্যটা শুধু মাঝে একটা রাস্তা৷
যবে মাত্র রাস্তা পাড়ি দিতে প্রস্তুত হয়েছে৷ ঠিক তখনি একটি সাদা মাইক্রবাস এসে দাক্কা দিয়ে পাশে ফেলে দেয়৷ আমি নির্বাকে চেয়ে আছি ওর দিকে৷সাথে সাথে আমার কন্ঠনালি শুকিয়েগেছে৷ দাড়ানো থেকে বসে পড়ি ৷দাড়াবার ক্ষমতাটা হারিয়ে ফেলি৷ নুনা জলগুলি অক্ষিকে আগলে রাখে৷ হামাগুড়ি দিয়ে ওর পাশে যাই৷
দুচোখ থেকে জলের বণ্যা প্রবাহিত হতে লাগলো৷ আশপাশের লোকজন চলে আসলো৷
তার নাম রিফতা আল জারা৷তবে রিফতা নামেই সু পরিচিত৷ পাশে গিয়ে বুকে শত ব্যাথা নিয়ে আমার রক্তি মাখা দু হাত দিয়ে আমার কুলে রাখিঁ৷ তার মুখের হিজাব সরিয়ে শুকনো কাদাঁ কন্ঠে বলছি রিফতা চুখ খুলো প্লিজ একটিবার চোখ খুলো৷ তখন রিফতার দু পা উপরের দিকে লাফাচ্ছে৷ বড় বড় করে শাষ ত্যাগ করছে৷
একটা আকস্মিৎ চিৎকার দিয়ে গাড়ীতে তুলার আগেই আমার কুলে নিশ্বাস ত্যাগ করে মৃত্যুর কুলে ঢলে পড়ে৷ কান্নায় আমি ভেঙে পড়ি৷ বুকের বা পাশটা ব্যাথায় ভর্তি৷ আত্নীয় স্বজন এসে তাকে নিয়ে যায়৷ আমার বুকের পাজড় ভেঙে গেছে৷ এই পৃথিবীতে আমি শুণ্য নিরাকে বিস্তার করছি৷তার সৃতি আমাকে প্রতি ক্ষণে তাড়িয়ে বেড়ায় ৷কি করবো? বোঝে উটতে পারছিনা৷ কখোনো ভাবিনি এতো সহজে
স্বার্থপরের মত চলে যাবে৷

সবচেয়ে দুঃখের কথা হলো একটাবার ওর মুখের কথা শুনতে পারিনি৷ জীবন্ত মুখ্খানি আর দেখা হলনা৷ খুব সহজে চাহনির ভাষা হারিয়ে গেলো৷
তখন থেকে আমি একা ৷ এমনকি এখনো আমি তার প্রেমের সান্যিধ্য কাউকে দিতে চাইনা চাইবোওনা৷
তার সৃতি গুলো আমাকে আজ অবদি বাচিয়ে রেখেছে৷এখন আমি জ্যান্তলাশের ন্যায় খুব শোকে আছি৷ তবে সর্বদা কামনা করি মহান রবের কাছে৷ যাতে করে আল্লাহ্ জান্নাত দান করেন৷ আমিন৷রিফতা তোই পরপারে সুঁঃখে থাকিস ভালো থাকিস৷
আমিও খুব তাড়াতাড়ী চলে আসবো৷

আল্লাহ্ হাফেজ৷
 

বর্ণমালা এন্ড্রয়েড এপ

নতুন যুক্ত হয়েছেন

Top