পুরনো রাজবাড়ী ।। আলী সোহেল

Md. Ali Sohel

নতুন সদস্য
#1
1503040559668-nasipur_palace-jpg.499

হাশেম সাহেব খুবই শিল্প মনা মানুষ এবং খুবই ভ্রমণ পিপাসু। তিনি ফটো তুলতে খুবই ভালোবাসেন, হাশেম সাহেব এক জন ফটোগ্রাফার, ভোরের আলো দৈনিক পত্রিকাতে ফটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করেন। তো রবি বার হাশেম সাহেব সপ্তাহিক ছুটির দিন। আর ছুটির দিনে হাশেম সাহেব তার পরিবারকে নিয়ে বেড়াতে পছন্দ করেন, হশেম সাহেবের পরিবারে তার স্রী আর একটি আট বছরের কন্যা সন্তান আছে।
হশেম সাহেবের স্রী উর্মিলা হাশেম তিনি ও চাকরি করেন। তিনি কলকাতার একটি হাইস্কুলে শিক্ষকতা করেন, আর কন্যা সুমি মাত্র তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে।

তো হাশেম সাহেব ঠিক করেছে, সামনের ছুটির দিন রবিবার তারা সবাই মিলে কোথাও বেড়াতে যাবে।
তারা ঠিক করলো কলকাতার মিজোরাম পুর একশত বছরের পুরনো একটি রাজবাড়ি আছে, তারা সেখানে বেড়াতে যাবে। তো রবিবার ভোরেই ঘুম থেকে ওঠেই গোছগাছ করে নাস্তা পানি সেরে রাজবাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলেন।

তারা একটি রিকশা করে টেক্সি ষ্টশনে গেলেন, এবং একটি টেক্সিক্যাব ভাড়া করে সবাই রওনা হলেন রাজবাড়িতে। সাথে ডি এস এল আর ক্যামেরটা ও নিলেন। ঘন্টা খানিক জার্নি করে তারা রাজবাড়ি পৌছে গেলেন। হাশেম সাহেব তার স্রী ও তার কন্যা
সুমি গাড়ি থেকে নেমে দেখতে পেলেন জড়াজ্বীর্ন ঘাসে ভরপুর জঙ্গলে আচ্ছন্ন একটি ভূতুড়ে পুরনো বাড়ি।

মাঝে মধ্যে বাড়ির ইট গুলো খসে পরেছে, নিরব নিস্তব্ধ জনশূন্য একটি রাজবাড়ি। হাশেম সাহেব প্রথমেই রাজবাড়ির সম্মুখে তার স্রী কন্যাকে নিয়ে কয়েকটি ছবি তোলেন। তার পর সবাইকে নিয়ে বাড়ির ভেতর ঢুকছেন, বাড়ির ভেতর ঘোরে ঘোরে দেখছেন বিশাল বড় রাজবাড়ি। হটাৎ একটি বাচ্ছা মানুষের কান্না শুনতে পেলেন হাশেম সাহেব, প্রথমে ভয় পেলেও পরে সাহশ করে কাছে গিয়ে দেখেন, আট দশ বছরের একটি ছেলে কাদচ্ছে তার হাতে পায়ে বাধা । হাশেম সাহেব বাচ্চাটিকে ডেকে বলেন বাবা তোমার এই অবস্থা কেন, তুমি এখানে কিভাবে এলে? হাশেম সাহেব ছেলেটার হাত ও পায়ের বাঁধন খুলে দিয়ে তার এমন অবস্থা কেমন করে হলো জানতে চাইলেন।
ছেলেটা বললো আমি স্কুল থেকে বাড়ি যাচ্ছিলাম, তখন দুইটা লোক আমাকে কিডনেপ করে নিয়ে আসে

এখানে আমাকে আজ দুইদিন হলো বেধে রেখেছে। হাশেম সাহেব ছেলেটার পরিচয় জিজ্ঞেস করল, ছেলেটার বাবা কলকাতা জজকোর্টের জজ। হাশেম সাহেব বললো বল কি তাহলেতো এখানে থাকা আমাদের নিরাপদ নয় ওরা যে কোন সময় চলে আসতে পারে, চলো আমাদের এখনি এখান থেকে পালাতে হবে। হাশেম সাহেব তারাহুরা করে সবাইকে নিয়ে রাজবাড়ির বাইরে আসেন, এবং একটি টেক্সিক্যাব ভাড়া করে সুজা কলকাতা জজ সাহেবের বাসায় চলে যান।
 
Last edited by a moderator:

বর্ণমালা এন্ড্রয়েড এপ

ফেসবুকে বর্ণমালা ব্লগ

নতুন যুক্ত হয়েছেন

Top