• সুখবর........ সুখবর........ সুখবর........ বর্ণমালাকে খুব শিঘ্রই পাওয়া যাবে বাংলা বর্ণমালার ডোমেইন "ডট বাংলায়" অর্থাৎ আমাদের ওয়েব এড্রেস হবে 'বর্ণমালাব্লগ.বাংলা' পাশাপাশি বর্তমান Bornomalablog.com এ ঠিকানায়ও পাওয়া যাবে। বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণতা পাবে আমাদের বর্ণমালা।

প্রাপ্য ।। নীলা রহমান

Nila Rahman

নতুন ব্লগার
#1
murder_death_blood_spark-jpg.147
রবিনকে খুন করার সময় প্রচন্ড কষ্ট হয়েছে আমার, আর তিন জনকে মারার সময় এতটা কষ্ট হয় নি, ওর হাতটা ছুটে যাওয়াতে খুব লাফালাফি করেছে ও, ভেবেছে হয়তো বেঁচে যাবে কিন্তু আমার হাত থেকে বেঁচে যাওয়া যে এত সহজ নয়, তবুও খুব চেষ্টা করেছিলো, কিন্তু শেষ রক্ষা হয় নি, শেষ পর্যন্ত তাকে মরতেই হলো, আসলে এটাই যে প্রাপ্য ছিলো ওর।
বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত তিনটা বেজে গেছে, বাসায় এসে গায়ে লেগে থাকা রক্তটা ধুয়ার জন্য ওয়াশরুমে ঢুকলাম, আয়নায় নিজের চেহারাটা একবার দেখে নিলাম, আয়নায় এভাবে নিজেকে দেখলে ভীষণ ভালোই লাগে, তারপর মুচকি একটা হাসি দিলাম, কিন্তু আজকে আর এই মুচকি হাসিটাতে মন ভরছে না ইচ্ছে হচ্ছে খুব জোরে হাসতে, আচ্ছা নিজের বাসায় একটু হাসবো তাতে অত ভাবার কি আছে! এটা ভেবে একটু মন ভরে হেসেই নিলাম।

অভি আর নিহার কাছে গিয়ে বসলাম একটু, কি নিষ্পাপ চেহারা দুটি মানুষের, ইচ্ছে করছে দুজনের কপালে আলতো করে ঠোঁটের স্পর্শটা একে দেই, কিন্তু বিবেক বাঁধা দিলো ওদেরকে স্পর্শ করার কোন অধিকার নেই আমার, আমি ত খুনি, তাই আর ওদেরকে ছুলাম না। ওদের দুজনের দিকে দেখতে দেখতে ফযরের আজান হয়ে গেলো, প্রতিদিন এর মত অভিকে ডেকে দিলাম নামাযে যাওয়ার জন্য, অভি নিহার কপালে একটা চুমো দিয়ে উঠে গেলো।

অভিকে মসজিদে পাঠিয়ে আমিও নামায পরে কোরআন তেলাওয়াত করে নিলাম। তারপর নাস্তা তৈরি করে অভিকে রুমে ডাকতে গেলাম, অভি তখন টিভিতে একটা খবর দেখছিলো, "কাল রাতে কে বা কারা বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী আবু বকর সাহেব এর একমাত্র ছেলে রবিনকে নির্মম ভাবে হত্যা করেছে।" আমি শুধু এইটুকুই শুনতে পেলাম আর এই খবরটার এর থেকে বেশি আর শুনার কোন প্রয়োজনও ছিলো না আমার , টেবিল এর ওপর থেকে রিমোট টা নিয়ে টিভি টা অফ করে দিয়ে বললাম। "নাস্তা রেডি আছে"।

অভি কেমন করে যেনো তাঁকিয়ে আছে আমার দিকে, হঠাৎ করেই ও আমার হাতটা ধরে হ্যাচকা একটা টান দিলো আমি তাল সামলাতে না পেরে ওর উপরে পরে গেলাম, ও আমার ঘাড়ের কাছের চুল গুলো সরিয়ে নিলো, তারপর জানতে চাইলো। "এটা কিসের দাগ?"
অভির এমন একটা প্রশ্নের জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না, কি উত্তর দেবো কিছু ভেবে পাচ্ছিলাম না, আমার নীরবতা দেখে অভি আবারও বললো।

- কি হলো নীলা কিসের দাগ এটা বলো আমাকে!
- না মানে কাল রাতে হাতের নখের আঁচর লেগে গেছিলো।
- তোমার গলার লকেটটাও তো নেই।
- কালকে গোসল এর সময় লকেটটা ছিড়ে গেছে।
- কিন্তু ওটাতো আমি রাতের বেলায়ও তোমার গলায় দেখেছিলাম।
- তুমি ভুল দেখেছিলে, আর তুমি কিন্তু আমাকে পুলিশ এর মত জেরা করা শুরু করেছো অভি।
- না মানে বলতে চাইছিলাম যে.........
- ওই চুপ করবা তুমি? (কিছুটা রাগী দৃষ্টিতে)
- ওকে চুপ!
- হুম এবার নিহাকে নিয়ে নাস্তার টেবিলে এসো।
- আচ্ছা তুমি যাও আমরা আসছি।

আমি আয়নার কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম, ঘাড়ের দিকটাতে লম্বা একটা নখের আঁচর দেখতে পেলাম, আগে খেয়াল করি নি, আগে দেখতে পেলে হয়তো অভির চোখে পরতোনা, আচ্ছা যাই হোক অভিকে তো আর বুঝতে দেই নি যে এটা কাল রাতে রবিনকে মারার সময় ওর হাতের নখ লেগে গেছিলো, কিন্তু একটা চিন্তা থেকেই গেলো, আমার লকেটটা হয়তো রবিন এর রুমের কোথাও পরে গেছে, ওটা যদি পুলিশ এর হাতে পরে তাহলে তো বিপদ! কিন্তু এখন এসব কথা ভাবলে চলবে না।

অভিকে আর নিহাকে খাইয়ে দিলাম, ওদের বাবা মেয়ের একটা অভ্যাস আমার হাতে ছাড়া কখনো খাবে না, অভিকে বললাম অফিস যাওয়ার সময় নিহাকে ওর স্কুলে নামিয়ে দিতে, ওরা চলে গেলো , পুরো বাসাটা এখন ফাঁকা, হাতে নিলাম নাদিয়া আপুর সেই ডায়েরিটা।
অভিকে নিয়ে নাদিয়া আপুর কত স্বপ্ন ছিলো তা এই ডায়েরিটা পড়লে বুঝা যায়, নাদিয়া আপু অনেক বেশি ভালবাসতো অভিকে আর অভিও কম নয় সেও নাদিয়া আপুকে ভীষণ ভালবাসতো, কিন্তু তাদের মাঝে বাঁধা ছিলো ওই রবিন নামের ছেলেটা, পুরো ক্যাম্পাসটা ছিলো রবিন এর হাতের পুতুল ও যাকে যেভাবে চাইতো সেভাবেই পরিচালনা করতো, এমনকি কলেজ এর প্রিন্সিপাল স্যার ও রবিনকে কিছু বলতে পারতো না কারন ওর বাবার অনেক টাকা ছিলো, ওকে কিছু বলতে গেলে হয়তো স্যার এর চাকরিটাই থাকবে না, তাই সবাই ওকে ভয় পেতো।

একসময় রবিন এর কুনজর পরে আমার বোন নাদিয়ার উপর, ও একদিন নাদিয়া আপুকে বলে ওর সাথে রুমডেট করতে, এটা শুনে নাদিয়া আপু রবিনকে কষে একটা থাপ্পড় মেরেছিলো, পুরো ক্যাম্পাসটা সেদিন কেঁপে উঠেছিলো, এক মুহুর্তের জন্য সব কিছু থমকে দাঁড়িয়েছিলো, রবিন তখন আর কিছু বলে নি কিন্তু কলেজ ছুটির পর সব বাবা মা এর সন্তানরা বাড়ি ফিরলেও আমার বোন সেদিন আর বাড়ি ফিরে নি। ফিরেছিলো পরদিন কিন্তু জীবিত না লাশ হয়ে, আমাদের আশে পাশের মানুষগুলো আমার বোনের লাশটা দেখতে পর্যন্ত আসে নি, ওরা আমার নাদিয়া আপুকে নষ্টা মেয়ে বলেছিলো, আমার আপুর শেষ গোসলটাও সেদিন আমার মা এর হাতে হয়েছিলো, বাইরের কেও গোসল দিতে আসে নি কারন আমার বোন নষ্টা ছিলো, আমার মা সেদিন নির্বাক হয়ে গেছিলো, আর বাবাও স্তব্ধ হয়ে খাটের একটা কোণে হেলান দিয়ে বসে ছিলো, শুধু চিৎকার করে কেঁদেছিলাম আমি। আমার আপুর লাশ দাফনের সময় তেমন কেও আসে নি, আমাদের আপন কয়েকজন মিলেই ওকে দাফন করেছিলো, আমি সেদিনই ভেবে নিয়েছিলাম যারা আমার নিষ্পাপ বোনটাকে নষ্টা মেয়ের অপবাদ দিয়ে এই পৃথিবী থেকে বিতারিত করেছে আমি তাদের কাওকে ছাড়বো না।

এত কিছু ঘটে যাওয়ার পরও অভি এসবের কিছুই জানতো না, কারন ও সেই সময় এলাকায় ছিলো না, নাদিয়া আপুকে বিয়ে করবে বলে চাকরির খুঁজে ঢাকা গিয়েছিলো সে, বাড়ি ফিরেই দৌড়ে এসেছিলো আপুর কাছে, আপুর মৃত্যু সংবাদ শুনে সে অনেকটা ভেঙে পরেছিলো, তাকে শান্তনা দেওয়ার মত ভাষা ছিলো না আমার তবুও আমি সবসময় ওর পাশে থেকেছি ওকে ভালো রাখার চেষ্টা করেছি, কারন ও যে আমার বোনের ভালবাসা ছিলো, ও কষ্ট পেলে যে আমার বোনও কষ্ট পেত। তারপর অভিকে ভালো রাখতেই আমাদের দুই পরিবারের সম্মতিতে ওকে বিয়ে করি আমি। ঘড়ির ঢং ঢং শব্দে ভাবনায় ছেদ ঘটলো আমার, তাঁকিয়ে দেখি বারোটা বাজে, এবার নিহার স্কুল ছুটি হয়ে যাবে, আমি তড়িঘড়ি করে নিহাকে স্কুল থেকে আনতে গেলাম।

রাত দুটো বাজে চোখ দুটোতে ঘুম নেই, ছাদের একপাশে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাঁকিয়ে আছি, আর ভাবছি ওই আকাশেই তো আমার বোন আছে, আচ্ছা আমার বোনটা কি আমাকে দেখতে পাচ্ছে! কি জানি হয়তো দেখতে পাচ্ছে নয়তো পাচ্ছে না! আমার পাগলি বোনটা হয়তো আজ খুব খুশি হয়েছে, আজ তো ওর খুশি হওয়ারই কথা, আজ যে ওর সব খুনিদেরকে শেষ করে দিয়েছি আমি।
কিন্তু একটা কথা ভেবে মনটা খুব খারাপ হচ্ছে, আমাকে যদি পুলিশ ধরে নিয়ে যায় তাহলে আমার ছোট্র মেয়েটার কি হবে?এটা ভেবে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললাম।কিছু সময় পর খেয়াল করলাম, আমার গলায় কেও কিছু একটা পরিয়ে দিচ্ছে, পিছনে তাঁকিয়ে দেখি অভি,আর আমার গলায় সেই লকেটটা। যেটা আমি রবিনের রুমে ফেলে এসেছিলাম, আমি অবাক হয়ে অভির দিকে তাঁকিয়ে রইলাম! অভি বলতে শুরু করলো।

- এই লকেটটা আমার হাতে দেখে খুব অবাক হচ্ছো তাই না?
আরে পাগলি আমি সব জানি, রবিন ও তার তিন বন্ধুকে তুমিই খুন করেছো ওদের তিন জনকে খুন করার পর কোন প্রমান রাখোনি তুমি, কিন্তু রবিনকে যখন মেরেছিলে তখন ও তোমার গলার লকেটটা ছিড়ে নিয়েছিলো, ভাবতে পারো আমি এসব কিভাবে জানলাম, আর ওখানেই বা কেন গিয়েছিলাম আমি, আসলে আমি তোমার এই খুন গুলোর ব্যাপারে সব জানতাম, তোমার ডায়েরির পাতায় লেখা থাকতো কবে, কখন, কোথায়, কাকে, কিভাবে মারবে তুমি, আর তুমি যখন রাতে বিছানা ছেড়ে উঠে যেতে তখন আমিও তোমার পিছু পিছু যেতাম, তুমি ওদেরকে মেরে আসার পর ওখানে আমি যেতাম, তোমার সব প্রমান গুলো মুছে দেওয়ার জন্য, তোমার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে এত সব জেনেও তোমাকে আমি আটকাইনি কেন, কারন তোমার মত আমিও চাইতাম নাদিয়ার খুনিরা শাস্তি পাক, এমনকি এটাও চাইতাম যে ওরা একটা মেয়ের হাতেই মারা যাক, আর আজ সবটা সফল হয়েছে, জানো নীলা আজ আমি সবথেকে বেশি খুশি হয়েছি।

- আমিও আজ অনেক বেশি খুশি, কিন্তু দেখো অভি আমাকে তো আমার শাস্তিটা ভোগ করতেই হবে তাই না?
- না আমরা আজ ভোরেই চলে যাবো এখান থেকে, অনেক দূরে চলে যাবো আমরা, যেখানে আর কোন ভয় থাকবে না।
তারপর নীলা অভি নিহা তিন জন চলে গেল এই অভিশপ্ত শহর ছেড়ে অনেক দূরে, যেখানে থাকবে না কোন পাপ, কোন অন্যায়, হারিয়ে ফেলার ভয়।
আসলেই কি এমন কোন জায়গা আছে যেখানে এসব কিছু নেই? কি জানি হয়তো আছে, নয়তো নেই।।
সমাপ্ত..........!!!
 

Khaled Al Mahmud

সুপার ব্লগার
#2
রবিনকে খুন করার সময় প্রচন্ড কষ্ট হয়েছে আমার, আর তিন জনকে মারার সময় এতটা কষ্ট হয় নি, ওর হাতটা ছুটে যাওয়াতে খুব লাফালাফি করেছে ও, ভেবেছে হয়তো বেঁচে যাবে কিন্তু আমার হাত থেকে বেঁচে যাওয়া যে এত সহজ নয়, তবুও খুব চেষ্টা করেছিলো, কিন্তু শেষ রক্ষা হয় নি, শেষ পর্যন্ত তাকে মরতেই হলো, আসলে এটাই যে প্রাপ্য ছিলো ওর।
বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত তিনটা বেজে গেছে, বাসায় এসে গায়ে লেগে থাকা রক্তটা ধুয়ার জন্য ওয়াশরুমে ঢুকলাম, আয়নায় নিজের চেহারাটা একবার দেখে নিলাম, আয়নায় এভাবে নিজেকে দেখলে ভীষণ ভালোই লাগে, তারপর মুচকি একটা হাসি দিলাম, কিন্তু আজকে আর এই মুচকি হাসিটাতে মন ভরছে না ইচ্ছে হচ্ছে খুব জোরে হাসতে, আচ্ছা নিজের বাসায় একটু হাসবো তাতে অত ভাবার কি আছে! এটা ভেবে একটু মন ভরে হেসেই নিলাম।

অভি আর নিহার কাছে গিয়ে বসলাম একটু, কি নিষ্পাপ চেহারা দুটি মানুষের, ইচ্ছে করছে দুজনের কপালে আলতো করে ঠোঁটের স্পর্শটা একে দেই, কিন্তু বিবেক বাঁধা দিলো ওদেরকে স্পর্শ করার কোন অধিকার নেই আমার, আমি ত খুনি, তাই আর ওদেরকে ছুলাম না। ওদের দুজনের দিকে দেখতে দেখতে ফযরের আজান হয়ে গেলো, প্রতিদিন এর মত অভিকে ডেকে দিলাম নামাযে যাওয়ার জন্য, অভি নিহার কপালে একটা চুমো দিয়ে উঠে গেলো।

অভিকে মসজিদে পাঠিয়ে আমিও নামায পরে কোরআন তেলাওয়াত করে নিলাম। তারপর নাস্তা তৈরি করে অভিকে রুমে ডাকতে গেলাম, অভি তখন টিভিতে একটা খবর দেখছিলো, "কাল রাতে কে বা কারা বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী আবু বকর সাহেব এর একমাত্র ছেলে রবিনকে নির্মম ভাবে হত্যা করেছে।" আমি শুধু এইটুকুই শুনতে পেলাম আর এই খবরটার এর থেকে বেশি আর শুনার কোন প্রয়োজনও ছিলো না আমার , টেবিল এর ওপর থেকে রিমোট টা নিয়ে টিভি টা অফ করে দিয়ে বললাম। "নাস্তা রেডি আছে"।

অভি কেমন করে যেনো তাঁকিয়ে আছে আমার দিকে, হঠাৎ করেই ও আমার হাতটা ধরে হ্যাচকা একটা টান দিলো আমি তাল সামলাতে না পেরে ওর উপরে পরে গেলাম, ও আমার ঘাড়ের কাছের চুল গুলো সরিয়ে নিলো, তারপর জানতে চাইলো। "এটা কিসের দাগ?"
অভির এমন একটা প্রশ্নের জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না, কি উত্তর দেবো কিছু ভেবে পাচ্ছিলাম না, আমার নীরবতা দেখে অভি আবারও বললো।

- কি হলো নীলা কিসের দাগ এটা বলো আমাকে!
- না মানে কাল রাতে হাতের নখের আঁচর লেগে গেছিলো।
- তোমার গলার লকেটটাও তো নেই।
- কালকে গোসল এর সময় লকেটটা ছিড়ে গেছে।
- কিন্তু ওটাতো আমি রাতের বেলায়ও তোমার গলায় দেখেছিলাম।
- তুমি ভুল দেখেছিলে, আর তুমি কিন্তু আমাকে পুলিশ এর মত জেরা করা শুরু করেছো অভি।
- না মানে বলতে চাইছিলাম যে.........
- ওই চুপ করবা তুমি? (কিছুটা রাগী দৃষ্টিতে)
- ওকে চুপ!
- হুম এবার নিহাকে নিয়ে নাস্তার টেবিলে এসো।
- আচ্ছা তুমি যাও আমরা আসছি।

আমি আয়নার কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম, ঘাড়ের দিকটাতে লম্বা একটা নখের আঁচর দেখতে পেলাম, আগে খেয়াল করি নি, আগে দেখতে পেলে হয়তো অভির চোখে পরতোনা, আচ্ছা যাই হোক অভিকে তো আর বুঝতে দেই নি যে এটা কাল রাতে রবিনকে মারার সময় ওর হাতের নখ লেগে গেছিলো, কিন্তু একটা চিন্তা থেকেই গেলো, আমার লকেটটা হয়তো রবিন এর রুমের কোথাও পরে গেছে, ওটা যদি পুলিশ এর হাতে পরে তাহলে তো বিপদ! কিন্তু এখন এসব কথা ভাবলে চলবে না।

অভিকে আর নিহাকে খাইয়ে দিলাম, ওদের বাবা মেয়ের একটা অভ্যাস আমার হাতে ছাড়া কখনো খাবে না, অভিকে বললাম অফিস যাওয়ার সময় নিহাকে ওর স্কুলে নামিয়ে দিতে, ওরা চলে গেলো , পুরো বাসাটা এখন ফাঁকা, হাতে নিলাম নাদিয়া আপুর সেই ডায়েরিটা।
অভিকে নিয়ে নাদিয়া আপুর কত স্বপ্ন ছিলো তা এই ডায়েরিটা পড়লে বুঝা যায়, নাদিয়া আপু অনেক বেশি ভালবাসতো অভিকে আর অভিও কম নয় সেও নাদিয়া আপুকে ভীষণ ভালবাসতো, কিন্তু তাদের মাঝে বাঁধা ছিলো ওই রবিন নামের ছেলেটা, পুরো ক্যাম্পাসটা ছিলো রবিন এর হাতের পুতুল ও যাকে যেভাবে চাইতো সেভাবেই পরিচালনা করতো, এমনকি কলেজ এর প্রিন্সিপাল স্যার ও রবিনকে কিছু বলতে পারতো না কারন ওর বাবার অনেক টাকা ছিলো, ওকে কিছু বলতে গেলে হয়তো স্যার এর চাকরিটাই থাকবে না, তাই সবাই ওকে ভয় পেতো।

একসময় রবিন এর কুনজর পরে আমার বোন নাদিয়ার উপর, ও একদিন নাদিয়া আপুকে বলে ওর সাথে রুমডেট করতে, এটা শুনে নাদিয়া আপু রবিনকে কষে একটা থাপ্পড় মেরেছিলো, পুরো ক্যাম্পাসটা সেদিন কেঁপে উঠেছিলো, এক মুহুর্তের জন্য সব কিছু থমকে দাঁড়িয়েছিলো, রবিন তখন আর কিছু বলে নি কিন্তু কলেজ ছুটির পর সব বাবা মা এর সন্তানরা বাড়ি ফিরলেও আমার বোন সেদিন আর বাড়ি ফিরে নি। ফিরেছিলো পরদিন কিন্তু জীবিত না লাশ হয়ে, আমাদের আশে পাশের মানুষগুলো আমার বোনের লাশটা দেখতে পর্যন্ত আসে নি, ওরা আমার নাদিয়া আপুকে নষ্টা মেয়ে বলেছিলো, আমার আপুর শেষ গোসলটাও সেদিন আমার মা এর হাতে হয়েছিলো, বাইরের কেও গোসল দিতে আসে নি কারন আমার বোন নষ্টা ছিলো, আমার মা সেদিন নির্বাক হয়ে গেছিলো, আর বাবাও স্তব্ধ হয়ে খাটের একটা কোণে হেলান দিয়ে বসে ছিলো, শুধু চিৎকার করে কেঁদেছিলাম আমি। আমার আপুর লাশ দাফনের সময় তেমন কেও আসে নি, আমাদের আপন কয়েকজন মিলেই ওকে দাফন করেছিলো, আমি সেদিনই ভেবে নিয়েছিলাম যারা আমার নিষ্পাপ বোনটাকে নষ্টা মেয়ের অপবাদ দিয়ে এই পৃথিবী থেকে বিতারিত করেছে আমি তাদের কাওকে ছাড়বো না।

এত কিছু ঘটে যাওয়ার পরও অভি এসবের কিছুই জানতো না, কারন ও সেই সময় এলাকায় ছিলো না, নাদিয়া আপুকে বিয়ে করবে বলে চাকরির খুঁজে ঢাকা গিয়েছিলো সে, বাড়ি ফিরেই দৌড়ে এসেছিলো আপুর কাছে, আপুর মৃত্যু সংবাদ শুনে সে অনেকটা ভেঙে পরেছিলো, তাকে শান্তনা দেওয়ার মত ভাষা ছিলো না আমার তবুও আমি সবসময় ওর পাশে থেকেছি ওকে ভালো রাখার চেষ্টা করেছি, কারন ও যে আমার বোনের ভালবাসা ছিলো, ও কষ্ট পেলে যে আমার বোনও কষ্ট পেত। তারপর অভিকে ভালো রাখতেই আমাদের দুই পরিবারের সম্মতিতে ওকে বিয়ে করি আমি। ঘড়ির ঢং ঢং শব্দে ভাবনায় ছেদ ঘটলো আমার, তাঁকিয়ে দেখি বারোটা বাজে, এবার নিহার স্কুল ছুটি হয়ে যাবে, আমি তড়িঘড়ি করে নিহাকে স্কুল থেকে আনতে গেলাম।

রাত দুটো বাজে চোখ দুটোতে ঘুম নেই, ছাদের একপাশে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাঁকিয়ে আছি, আর ভাবছি ওই আকাশেই তো আমার বোন আছে, আচ্ছা আমার বোনটা কি আমাকে দেখতে পাচ্ছে! কি জানি হয়তো দেখতে পাচ্ছে নয়তো পাচ্ছে না! আমার পাগলি বোনটা হয়তো আজ খুব খুশি হয়েছে, আজ তো ওর খুশি হওয়ারই কথা, আজ যে ওর সব খুনিদেরকে শেষ করে দিয়েছি আমি।
কিন্তু একটা কথা ভেবে মনটা খুব খারাপ হচ্ছে, আমাকে যদি পুলিশ ধরে নিয়ে যায় তাহলে আমার ছোট্র মেয়েটার কি হবে?এটা ভেবে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললাম।কিছু সময় পর খেয়াল করলাম, আমার গলায় কেও কিছু একটা পরিয়ে দিচ্ছে, পিছনে তাঁকিয়ে দেখি অভি,আর আমার গলায় সেই লকেটটা। যেটা আমি রবিনের রুমে ফেলে এসেছিলাম, আমি অবাক হয়ে অভির দিকে তাঁকিয়ে রইলাম! অভি বলতে শুরু করলো।

- এই লকেটটা আমার হাতে দেখে খুব অবাক হচ্ছো তাই না?
আরে পাগলি আমি সব জানি, রবিন ও তার তিন বন্ধুকে তুমিই খুন করেছো ওদের তিন জনকে খুন করার পর কোন প্রমান রাখোনি তুমি, কিন্তু রবিনকে যখন মেরেছিলে তখন ও তোমার গলার লকেটটা ছিড়ে নিয়েছিলো, ভাবতে পারো আমি এসব কিভাবে জানলাম, আর ওখানেই বা কেন গিয়েছিলাম আমি, আসলে আমি তোমার এই খুন গুলোর ব্যাপারে সব জানতাম, তোমার ডায়েরির পাতায় লেখা থাকতো কবে, কখন, কোথায়, কাকে, কিভাবে মারবে তুমি, আর তুমি যখন রাতে বিছানা ছেড়ে উঠে যেতে তখন আমিও তোমার পিছু পিছু যেতাম, তুমি ওদেরকে মেরে আসার পর ওখানে আমি যেতাম, তোমার সব প্রমান গুলো মুছে দেওয়ার জন্য, তোমার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে এত সব জেনেও তোমাকে আমি আটকাইনি কেন, কারন তোমার মত আমিও চাইতাম নাদিয়ার খুনিরা শাস্তি পাক, এমনকি এটাও চাইতাম যে ওরা একটা মেয়ের হাতেই মারা যাক, আর আজ সবটা সফল হয়েছে, জানো নীলা আজ আমি সবথেকে বেশি খুশি হয়েছি।

- আমিও আজ অনেক বেশি খুশি, কিন্তু দেখো অভি আমাকে তো আমার শাস্তিটা ভোগ করতেই হবে তাই না?
- না আমরা আজ ভোরেই চলে যাবো এখান থেকে, অনেক দূরে চলে যাবো আমরা, যেখানে আর কোন ভয় থাকবে না।
তারপর নীলা অভি নিহা তিন জন চলে গেল এই অভিশপ্ত শহর ছেড়ে অনেক দূরে, যেখানে থাকবে না কোন পাপ, কোন অন্যায়, হারিয়ে ফেলার ভয়।
আসলেই কি এমন কোন জায়গা আছে যেখানে এসব কিছু নেই? কি জানি হয়তো আছে, নয়তো নেই।।
সমাপ্ত..........!!!
অসাধারন
 

নাজিব ইসলাম

নতুন সদস্য
#4
গল্পটায় একটা ছাড়া ছাড়া ভাব আছে...তবে আরও যত্ন নিলে ঠিক হয়ে যাবে।
 

বর্ণমালা এন্ড্রয়েড এপ

নতুন যুক্ত হয়েছেন

Top