• সুখবর........ সুখবর........ সুখবর........ বর্ণমালাকে খুব শিঘ্রই পাওয়া যাবে বাংলা বর্ণমালার ডোমেইন "ডট বাংলায়" অর্থাৎ আমাদের ওয়েব এড্রেস হবে 'বর্ণমালাব্লগ.বাংলা' পাশাপাশি বর্তমান Bornomalablog.com এ ঠিকানায়ও পাওয়া যাবে। বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণতা পাবে আমাদের বর্ণমালা।

ফ্যান্টাসি কিংডমে একদিন ।। ইসরাত জাহান স্বর্ণা

Ishrat Jahan Shorna

নতুন ব্লগার
#1
2019-01-03-23-54-21-87190549-jpg.34

জীবনে ঘুরাঘুরি করার প্রচুর সুযোগ এসেছে।সকল কিছুর মধ্যে আমার জীবনে সবচেয়ে মজার দিন ছিল ফ্যান্টাসি কিংডমে ঘুরাঘুরি করার দিনটি। সেদিন ছিল ৮ই মার্চ ২০১৮।খুব সকালে ঘুম থেকে উঠলাম।কলেজ থেকে ফ্যান্টাসি কিংডমে ঘুরতে যাব তাই।সে আনন্দে আগের রাত থেকেই ঘুম হচ্ছিলো না। উঠেও পড়লাম তাড়াতাড়ি এবং দ্রুত ফ্রেশ হয়ে কাপড় আয়রন করে নিলাম। এরপর রোকেয়া আর রিমিকে ফোন করে জানলাম তারা কখন কলেজে যাবে। তারা জানালো যে ৬.৩০ এর মধ্যে তারা কলেজে উপস্থিত থাকবে।তখন ৫.৩০ বাজে।আমি সবকিছু ঠিকঠাক করে ৬.০০তে বাসা থেকে বেড়িয়ে পড়লাম আব্বু-আম্মুকে বলে।বাসা থেকে কলেজ যেতে ১৫মিনিট লাগে।৬.১৫ এর মধ্যে পৌঁছে গেলাম কলেজে তখনো ক্লাসের কাউকে পাইনি।স্কুলের কিছু ছাত্র ছাত্রী ঘুরাঘুরি করছিল।৬.২৫ এর মধ্যে ক্লাসের অনেকেই উপস্থিত হলো।আমরা একসাথে হয়ে ক্যান্টিন থেকে যার যার পছন্দমত কিছু শুকনা খাবার কিনে নিলাম।
.
আমরা আগেই স্যারদেরকে জানিয়েছিলাম আমাদের কলেজের স্টুডেন্টদের জন্য যেন আলাদা বাস দেওয়া হয়।যাতে শুধু মাত্র আমরা দ্বাদশ শ্রেণীর স্টুডেন্টরা থাকবো।একাদশের স্টুডেন্টরাও যেন না থাকে সে বাসে।স্যাররা আমাদের কথামতো আমাদের জন্য আলাদা বাস ঠিক করলেন।আমাদের দ্বায়িত্বে ছিলেন ভিপি স্যার,দেলোয়ার স্যার,ইমরান স্যার আর তানিয়া ম্যাম।আমরা আমাদের বাসে কোনো প্রকার সাউন্ড বক্স/সিস্টেম রাখলাম না।আমাদের ইচ্ছা ছিল আমরা নিজেরা আনন্দ করতে করতে যাব।শুধুমাত্র আমরা বাদে বাকি সব বাসের স্টুডেন্টরা সাউন্ড বক্স বাসের সাথে নিল।বাসের দু'পাশের ১ম দুই সিট স্যার ম্যামদের জন্য রেখে একপাশের ৩য় সিটে আমি আর রিমি অন্য পাশের ৩য় সিটে রোকেয়া আর রুমা বসলো আমাদের ঠিক পিছনেই রিপ্তি আর পূর্ণা বসলো।
.
সকাল ৭.১৫ এর মধ্যে বাস ক্যাম্পাস ত্যাগ করলো ফ্যান্টাসি কিংডমের উদ্দ্যেশ্যে।বাসে আমরা সকলেই অনেক মজা করলাম।আমরা কেউ কেউ বেসুরো গলায় গান গাইলাম,কেউ কবিতা আবৃত্তি করলো কেউবা কৌতুক বললো এমন ভাবেই হাসি তামাশা করতে করতে আমরা চলছিলাম আর আমাদের সঙ্গ দিলেন শ্রদ্ধেয় ইমরান স্যার।বাসে চলাকালীন সময়ে দেলোয়ার স্যার আমাদের সকলকে কেক আর জুস দিচ্ছিলেন খাওয়ার জন্য।
.
ঠিক ১০টায় আমাদের জন্য একটি চমক অপেক্ষা করছিল। ১০টার দিকে বাস গিয়ে আমাদের নিয়ে গেল জাতীয় স্মৃতিশৌধে।আগেও আরো ৩বার কলেজ থেকে জাতীয় স্মৃতিশৌধে এসেছি তবে তখন জাতীয় দিবস থাকার কারনে প্রচুর ভীড় ছিল।তাই ঘুরে দেখবার সুযোগ হয়নি। এবার আমরা প্রথমে স্মৃতিশোধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানালাম। এর পর ১৫-২০ মিনিট অনেক ঘুরাঘুরি করলাম আর কিছু ছবি ক্যামেরা বন্দী করলাম।এরপর বাসের উঠার আগে স্মৃতিশৌধের বাহিরে এক লোককে দেখলাম কিছু ওলের পাখি নিয়ে বিক্রি করছে। আমার দেখতে খুব ভাল লাগলো তাই আমি সেখান থেকে তিন রঙের তিনটি পাখি কিনলাম।বাস আবার যাত্রা শুরু করলো ফ্যান্টাসি কিংডমের উদ্দ্যেশ্যে।
.
এরপর বাসে করে ১০.৪৫ এর দিকে চলে গেলাম ফ্যান্টাসি কিংডম।সেখানে প্রবেশের সময় গেটে সেখানকার লোকজনদের মধ্যে ২জন লোক সকলের ব্যাগ চেক করলো, ২ জন লোক সকলের বাম হাতে একটি করে সাদা/কালো রঙের ব্র‍্যাসলেট এর মতো কাগজের ট্যাগ পড়িয়ে দিল আর ২জন লোক সকলের হাতে টিকিট ধরিয়ে দিল।তারা খুব দ্রুত গতিতে তাদের এসব কাজ করছিল। একেকটি টিকিটে ৯টি করে রাইড চড়বার সুযোগ।
.
সেখান থেকে ভেতরে ঢুকে দেখলাম বিভিন্ন রকমের দোকান রয়েছে।কোনোটা ফাস্টফুডের,কোনোটা খেলনার আবার কোনোটা কসমেটিকস এর।তখনও ফ্যান্টাসি কিংডমের মেইন গেট অতিক্রম করিনি।একটু সামনে গিয়ে দেখলাম একটা খোলামঞ্চ রয়েছে আর সেখানে একজন নাম না জানা শিল্পী গান গাইছেন "পাগলা হাওয়ার তরে......." অনেক লোক ভীড় করে তা শুনছে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে।আমরা ১মিনিটের মতো সেখানে দাঁড়ালাম।এরপর মেইনগেট পার করলাম।সে গেটের ভেতরেই রয়েছে বিভিন্ন ধরনের রাইড।আমরা ৬জন -আমি,রিমি,রোকেয়া,রুমা,রিপ্তি,পূর্ণা সবসময়ই একসাথে ছিলাম।আর দেলোয়ার স্যার ও ছিলেন আমাদের সাথে।
.
স্যার আমাদের প্রথমে একটি #রাইডে চড়ালেন।আমরা সকলে সেখানে খুব মজা করে চড়লাম।নামার পর অবশ্য সবারই একটু করে মাথা ঘুরছিল।সেসবে খেয়াল না করে আমরা ২য় রাইডের দিকে রওনা হলাম।দেলোয়ার স্যার আমাদের #ইজি_ডিজি (IZZY-DIZZY) তে নিয়ে গেলেন স্যার নিজে চড়লেন না।আমরা এটিকে অনেক উপভোগ করলাম।এটা দেখতে অনেকটা মাকড়ার মতো।আমরা পিছনে তাকিয়ে যে সিটে বসে আছি সেখান থেকে অন্য সিটের ফ্রেন্ডদের ধরার চেষ্টা করলাম।কিন্তু দুরুত্ব অনেক ছিল বলে ধরতে পারলাম না।মাঝে মাঝে একে অপরের আংগুল ছুঁয়ে দিতে পেরেছিলাম।আর অনেক চিৎকার করেছিলাম মজা করে।এরপর স্যার আমাদের #চাঁদের_দেশে নিয়ে গেলেন।সেখানে ঢুকে সবাইকে দেখতে বেশ অদ্ভুত রকমের লাগলো।ঠিক যেন এলিয়েন। আমাদের কলেজ ড্রেস সাদা ছিল কিন্তু চাঁদের দেশে গিয়ে তা নীল হয়ে ফোকাস করতে লাগলো।আমরা সেখানে হু-হা-হা ধরনের নানা রকম অদ্ভুত শব্দ করলাম।বের হবার সময় একটা সার্কেলের মধ্যে দিয়ে বের হতে হয়।সার্কেলটি ঘুরছিল তাই মনে হচ্ছিলো এই বুঝি নিচে পড়ে যাব।সকলেই সেখানে চিৎকার করে মজা করলাম।চাঁদের দেশ থেকে বের হয়ে আমরা সকলে মিলে #জুজু_ট্রেনে চড়লাম।ট্রেনটি মোটামুটি গতিতে চললো আর সম্পূর্ণ ফ্যান্টাসি কিংডম ঘুরিয়ে দেখালো।এরমধ্যে ট্রেনটি একবার টানেল এ প্রবেশ করলো। প্রচুর অন্ধকার ছিল সেখানে।এতটাই অন্ধকার যে নিজের হাত পর্যন্ত দেখা যায়না।সেখানে গিয়ে মোটামুটি ভয় লাগলো।ভয়ের সাথে মজা নেবার জন্য অনেক চিৎকার করলাম সবাই। জুজু ট্রেন থেকে নেমে সোজা চলে গেলাম #ম্যাজিক_কার্পেট এর উদ্দেশ্যে।সেখানে ম্যাজিক কার্পেটে চড়লাম।ম্যাজিক কার্পেট যখন উপরের দিকে উঠলো তখন মজাই লাগলো কিন্তু যখন নিচের দিকে নামলো এত্ত পরিমাণ ভয় লাগলো যে বলে বুঝানো অসম্ভব।দুর্বল হার্টের ব্যাক্তিরা এখানে না চড়াই ভাল।এরপর সেখান থেকে চলে গেলাম#স্যান্টা_মারিয়ার উদ্দেশ্যে। কিন্তু ভাগ্য খারাপ থাকায় স্যান্টা মারিয়াতে যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দিল ঠিক তখনই তাই আর চড়া হলো না।এরপর গেলাম #রোলার_কস্টালে চড়ার জন্য।প্রচুর ভীড় এখানে।এত্ত লম্বা লাইন যে ১ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হলো।অন্যান্য জায়গাতেও ভীড় ছিল তবে সেখানে ১০-২০ মিনিটের বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি।রোলার কস্টালে চড়ে অনেক মজা করলাম।রোলার কস্টাল থেকে নেমে ২য় বারের মত আবার ম্যাজিক কার্পেট এ চড়লাম৷
.
ইতিমধ্যে দুপুর ৩টা বেজে গেল।আমরা সর্বশেষ দুপুরের খাবার খেতে বসলাম।খাওয়া শেষে একটা বাউন্ডারি দেওয়া গাছের নিচে বসে কিছুক্ষন বিশ্রাম নিলাম। ততক্ষণে পূর্ণা,রিপ্তি,রবি,মুন্না আবার সেই ১ম রাইডটিতে চড়লো।আর আমরা বাকিরা বসে গল্প করলাম।তাদের চড়া শেষে সবাই মিলে #বাম্পার_বোটে চড়ার উদ্দেশ্যে গেলাম।এখানেও প্রচুর ভীড়। ৪৫মিনিট এর বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করলাম লাইনে দাঁড়িয়ে।একটি বোটে ৩জন করে উঠা যায়।আমি,তাজ আর ১০ম শ্রেণীর এক ছোট বোন উঠলাম এক বোটে।তাজকে প্রথমে বসালাম মাঝে বসলো ১০শ্রেণীর মেয়েটি আর আমি শেষে।বোট যখন উপর থেকে নিচে নামে ভয়ে দম যায় যায় অবস্থা।আমরা সবাই মোটামুটি ভিজে গেলাম পানি দিয়ে। বাম্পার বোট থেকে নামার পর বাকিদের জন্য অপেক্ষা করলাম।তারা সকলে মোটামুটি ১০-২০ মিনিটের মধ্যে চলে আসলো।
.
এবার আবার ২য় বারের মত ইজি ডিজিতে চড়লাম। এবার ও প্রচুর মজা করলাম।ইজি ডিজিতে চড়ার পর ততক্ষণে ৫.৩০ বেজে গেল।স্যার আমাদের যাবার জন্য প্রস্তুত হতে বললেন। প্রচুর মন খারাপ হয়ে গেল।কিন্তু কি আর করা যেতে তো হবেই।সবাই যাবার জন্য প্রস্তুত হয়ে নিলাম।ফ্যান্টাসি কিংডমের মেইন গেটের সামনে গ্রুপ ফটো তোলা হলো।বাসে উঠার আগে আইসক্রিম কিনে নিলাম।এভাবেই আনন্দময় একটি দিন পার করলাম। বাসায় আসতে রাত ১০টা বেজে গেল।সারাদিন এসব করে খুব টায়ার্ড ছিলাম।দ্রুত ফ্রেশ হয়ে খেয়ে দেয়ে ঘুমিয়ে পরলাম।পরদিন কলেজ বন্ধ ছিল।তারপর আমরা সবাই যখন কলেজ গেলাম কেউ ভাল করে কথা বলতে পারলাম না।চিৎকার করার কারনে সকলেরই গলা বসে গিয়েছিল।সবার কণ্ঠই বেশ অদ্ভুত শোনালো। এই নিয়ে প্রচুর হাসাহাসি করলাম। ভুলতে পারবো না কোনোদিনও এই দিনটি।আমার জীবনের সবচেয়ে ভাল একটি দিন ছিল ফ্যান্টাসি কিংডম এর দিনটি।
 

Naiem Rana

সুপার ব্লগার
#2
খুব সুন্দর বর্নণা আমি তো মুগ্ধ!
 

Nila Rahman

নতুন ব্লগার
#3
ধারাবাহিকতা চাই
 

বর্ণমালা এন্ড্রয়েড এপ

নতুন যুক্ত হয়েছেন

Top