• সুখবর........ সুখবর........ সুখবর........ বর্ণমালাকে খুব শিঘ্রই পাওয়া যাবে বাংলা বর্ণমালার ডোমেইন "ডট বাংলায়" অর্থাৎ আমাদের ওয়েব এড্রেস হবে 'বর্ণমালাব্লগ.বাংলা' পাশাপাশি বর্তমান Bornomalablog.com এ ঠিকানায়ও পাওয়া যাবে। বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণতা পাবে আমাদের বর্ণমালা।

বন্ধুত্ব।। নীলা রহমান

Nila Rahman

নতুন ব্লগার
#1
images-5-jpg.45
ইয়াহু......................
আজকে আমাদের সবার পরিক্ষার রেজাল্ট এতটা ভালো হয়েছে যে বাসায় ফেরার পর আম্মু আব্বু আমাদের রেজাল্টের কথাটা শুনে এত্ত খুশি হবেন যাতে করে আমাদের খাবার মাত্র সাত দিনের জন্য বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

তাই আমি চাই আমরা সবাই মিলে আজ ধানসিঁড়ি রেষ্টুরেন্টে গিয়ে এখনকার মতো পেট ভোজনটা করে নেই,, কি বলিস তোরা??? (আমি)

- হুম বেশ ভালো বুদ্ধি কিন্তু বিলটা কে দেবে??? (তাহমিনা)

- কেনোরে আমাদের দলের ছেলে গুলো আছে কি করতে??? (ইমা)

- হুম সেটাই তো। (শুচি)

- কিরে,, আল আমিন, আরিয়ান, সুমিত, জয় দিবি কিনা??? (আমি)

- আরে হ্যাঁ,, তোরা যখন বলেছিস দেবোনা বললেই কি আর পার পেয়ে যাবো নাকি ওল্টে আরও কিছু পিটুনি খাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে তার থেকে বরং পেট ভোজনই বেশ হবে।। (আরিয়ান)

- এই তো গুড বয় এতদিনে তাহলে তোদের মাথায় এইটুকু বুদ্ধি হলো।। (আমি)

- আচ্ছা চল তাহলে যাওয়া যাক।(শুচি)

- হুম চল। (তাহমিনা)

আচ্ছা যেতে যেতে আপনাদেরকে আমাদের ব্যাপারে কিছু কথা বলে নেই আমাদের বন্ধুত্বের দলে আমরা মেম্বার হচ্ছি মোট আট জন তার মাঝে চার জন মেয়ে আর চার জন ছেলে।

আর আমাদের দলের ছেলে গুলো খুব খুব খুব মিষ্টি শয়তান আর বদের হাড্ডি। আচ্ছা গল্পটা পড়তে থাকেন তাহলেই বুঝতে পারবেন।।

- এই নীলা কি এত ভাবছিস রে,, নিশ্চয়ই আমাদের নামে বদনাম করছিস। (জয়)

- আরে না না আমি কেনো তোদের নামে বদনাম করতে যাবো বল। তোরা তো আমাদের কত্ত কিউট দোস্ত তাই না??? (আমি)

- হুম জানি জানি,, আর পাম দিতে হবেনা।এবার খেতে বস তো।।(সুমিত)

অতপর আমরা সবাই বসে পরলাম খাবার টেবিলে। খেতে খেতে আমি একটা ব্যাপার খেয়াল করলাম ওরা চারজন কেমন জানি খুব তারাহুরা করে খাচ্ছে।।

- ব্যাপারটা কিরে তোরা এত তারাহুরা করে খাচ্ছিস কেনো রে?? (তাহমিনা)

- আরে তারাহুরা কই করলাম,, তোদের মত কি শুধু প্লেটে আঙ্গুল নারবো নাকি?? (আল আমিন)

- আরে তা কেনো হবে তোরা তো..............থাক আর কিছু বল্লাম না।। (শুচি)

- এই আমরা কিরে?? (আরিয়ান)

- আরে তোরা তো গাধা,, এই কথাটা শুনার জন্য এত আকুলতা তো যাহ্ বলেই দিলাম এবার খুশি তো?? (আমি)

- কিহ্ আমরা গাধা দাড়া এখান থেকে আগে বেড়িয়ে নেই তারপর তোদেরকে দেখে নেবো।। (জয়)

- আরে এবার একটু থামনারে ভাই।। (ইমা)

- এই শুন আমাদের খাওয়া শেষ,, আমরা বাইরে তোদের জন্য অপেক্ষা করছি তারাতারি চলে আসিস কেমন।। (সুমিত)

- এই বিলটা দিয়ে যাস কিন্তু।।(আমি)

- আরে পেত্নি সেটা আবার বলতে হবে নাকি?? (আল আমিন)

আমরা খাওয়া শেষ করে যেই না বাইরে বের হতে যাবো তখনই হোটেলের ম্যানেজার বলে উঠলেন আপামনিরা বিলটা দিয়ে যাবেন না??

- আমাদের সাথে যে চারজন ছেলে ছিলো ওরা বিলটা দিয়ে যায়নি?? (আমি)

- উনারা তো বল্লেন বিল আপনারা দেবেন।। (ম্যানেজার)

কথাটা শুনার পর মেজাজটা এতটাই খারাপ হয়েছিলো যে মনটা চাইছিলো ওদের চারটাকে ধরে এনে এখনই খুন করে ফেলি। কিন্তু কি আর করার আছে এখন তো আর সেটা করতে পারবোনা।
তাই আমাদের চারজনের ব্যাগ ঝেরে বিলটা মিটিয়ে আসলাম।।

বাইরে এসে দেখি হারামি চারটা দোকানে বসে সিগারেট টানছে। আমাদেরকে দেখে দিলো দৌড়।।

- এই বান্দরেরা দাঁড়া বলছি।(আমি)

- এই শুন তোদের রিকশা ভাড়াটা ওই চাচার দোকানের টেবিলের উপর রেখে আসছি,, নিয়ে বাসায় চলে যা।। (আরিয়ান)

- আরে শুন না কথা আছে তো। (ইমা)

- আজ আর কোনো কথা নাই যা কথা আছে কাল হবে এখন বাসায় যা টাটা।(সুমিত)

তখন কি আর করার আছে মনের রাগটা মনের মধ্যে রেখেই চলে এলাম বাসায়।
কিন্তু আমার মাথায় তখন থেকে শুধু একটাই ভাবনা এদেরকে তো আমি এমনি এমনি ছেরে দেবোনা। কিছু একটা তো করতেই হবে।অনেক ভাবার পর একটা পথ পেয়েই গেলাম।

শুধু একটু সময়ের অপেক্ষা।।
পরদিন কলেজে গিয়ে হারামি চারটারে ইচ্ছা মত বকলাম। এবার মাথাটা একটু ঠাণ্ডা হয়েছে।।

- আচ্ছা শুন তোরা সবাই তো এতদিন ধরে জানতে চাইতিস আমি, তাহমিনা, ইমা, শুচি কারও সাথে প্রেম করি কিনা?? (আমি)

- হুম চাইতাম তো কিন্তু তোরা কখনো বলিসনি আর আমি জানি কখনো বলবিও না।। (আরিয়ান)

- কে বলেছে বলবোনা আজ তোদেরকে সব বলবো কিন্তু একটা শর্ত আছে।। (তাহমিনা)

- আচ্ছা বল,, আমরা তোদের সব শর্তে রাজি আছি।। (জয়)

- আগে তোরা সবাই একজন একজন করে বল তোরা কে কয়টা করে প্রেম করিস।। (শুচি)

- হিহিহিহি,, আমরা তো প্রেমই করিনা বলবো কিরে?? (সুমিত)

- আচ্ছা বলবিনা যখন আমরা তবে যাই কেমন? এই চলে আয় তোরা।। (আমি)

- এই শুননা বলবো তো। (আল আমিন)
হুম,, জয়ের থেকে স্টার্ট।।

- আমাকে দিয়েই শুরু করতে হলো?? (জয়)

- হুম বল। (ইমা)

- আমার প্রিয়তা ছাড়া আর কেউ নাই। কিন্ত একটা সমস্যা আছে আমার, রাস্তাঘাটে মাইয়া দেখলে কেন জানি একটা চোখ এমনি এমনি বন্ধ হয়ে যায়।। (জয়)

- আমার কথা কি আর কমু,, আমার উচ্চতা দেখেই তো মাইয়ারা পালাইয়া যায় প্রেম আর কি করমু ক, তবুও তিন চারটা লাইনে আছে আর তরিকে খুব ভালবাসি আমি।। (আল আমিন)

- আমি তো পিচ্চি পোলা প্রেমের ব্যাপারে এখনো তেমন কিছু বুঝিনা, তবু রুপারে খুব ভালো লাগে। আর টাইম পাস করার জন্য অনলাইনে কয়েকটা আছে।। (সুমিত)

- এই বার তো দেহি আমার পালা আইয়া পরলো। আমি আর কি কমু আমি তো আবার জমিদারের নাতি বেলা বারোটা বাজার আগে ঘুম থেকে উঠতে পারিনা। তাই মেয়েদের পিছুও নিতে পারিনা। কিন্তু নিধীরে খুব মিস করি আর অনলাইনে তো অভাব নাই কারে রাইখা কারে রিপ্লে দিমু ভাবতে ভাবতেই সময় ফুরাইয়া যায়।। (আরিয়ান)

- আমাদের কথা তো শুনলি এবার তোদেরটা বল। (জয়)

- আরে ধুর এতদিনেও আমাদের চারজনকে চিনতে পারলিনা তোরা,, আমাদেরকে কেউ ভালবাসার কথা বলবে তো দুরের কথা আমাদের সামনে দাঁড়ানোর সাহস টুকুও তো করেনা।। (তাহমিনা)

- এএএএই ভাবে আমাদেরকে ঠকানোর মানেটা কি?? (আল আমিন)

- কিছুনা,, আচ্ছা এবার চল তো। (শুচি)

- কোথায় যাবো?? (সুমিত)

- আর দুই দিন পর তো পহেলা বৈশাখ,, আমরা ওই দিনের জন্য কিছু কেনাকাটা করবো। তোরা শুধু একটু পছন্দ করে দিবি কেমন?? (আমি)

- আরে পেত্নির দল কয় কি,, আমাদের পছন্দের আবার এত প্রাধান্য দিস কবে থেকে জানতাম না তো। কিন্তু এত করে যখন বলছিস না গিয়ে তো আর পারিনা তাই না?? (আরিয়ান)

এই তো ঘুঘু ফাঁদে পা দিয়েছে। তারপর আমরা চারজন মিলে হালকা কিছু কেনাকাটা করে নিলাম।।

- কিরে তোরা যে বল্লি আমাদের পছন্দে কিনবি এখন তো দেখছি সব তোরা নিজে নিজেই কিনে নিলি।। (আল আমিন)

- হুম আয় এবার তোদের পছন্দে কিনবো।(ইমা)

- মামা কত হয়েছে?? (শুচি)

- পনেরো হাজার টাকা।। (দোকানি)

- আচ্ছা শোন জয় আমরা বাইরে যাচ্ছি তোরা বিলটা মিটিয়ে তারাতারি চলে আয় কেমন?? (আমি)

- এহহেরে কেনাকাটা করলা তোমরা আর বিল দিবো আমরা তা কি করে হবে বলো
তো?? যত্তসব পেত্নির দল আমরা যাচ্ছি মন চাইলে চলে আসিস আর না চাইলে থাক।। (সুমিত)

- এই শুন তোরা যে কিছুক্ষণ আগে তোদের রোমিও মার্কা প্রেমের গল্পটা বলেছিলি না ওটা আমার এই মোবাইলটাতে রেকর্ড করা আছে। এখন তোরা যদি আমার কথা না শুনিস তাহলে এই কথাগুলো তোদের যার যার প্রেমিকাদের কাছে পৌছে যাবে এখন ভাব কি করবি?? (আমি)

- কিহ আমাদের সাথে এত বড় বাটপারি করলি তোরা।। (জয়)

- হুম করলাম, আমাদের সাথে যে করছিলি সেদিনের কথা মনে নেই? এখন তারাতারি টাকাটা বের করতো। (ইমা)

তারপর ওরা সবাই যার যার মানিব্যাগ ঝাড়লো। দেখলাম বিল দিয়েও কিছু টাকা বারতি থেকে যায়। ভাবলাম ওদের পকেটে একটা কানাকড়িও রাখবোনা, তাই ওই টাকা গুলো দিয়ে হালকা কিছু খাবার খেয়ে নিলাম। হারামিগুলার মুখটা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। দেখে বেশ মজা পাচ্ছিলাম আমরা। আজকে করিম চাচার দোকানে বসে সিগারেট টানবে তো দুরের কথা এক কাপ চা যে খাবে তারও উপায় নেই।
এবার সব শেষে বাসায় ফেরার পালা।।

- এই নীলা এবার তো মোবাইলটা দে। (আরিয়ান)

- হুম, দেবো আগে দুটো রিকশা ডেকে দে।
ওরা রিকশা ডেকে দিলো। আমরা উঠে বসলাম।

- এই শুন মোবাইলে না কিছু নেইরে এতক্ষণ তোদেরকে মিথ্যা কথা বলেছি।
এই নে তোদের রিকশা ভাড়া। আর শুন করিম চাচার দোকানে যাস সেখানে একটা চমক আছে তোদের জন্য।। (আমি)

আমরা যখন চলে আসছিলাম ওরা তখন আমাদের দিকে কেমন করে যেনো তাঁকিয়ে থাকলো। এখন হয়তো ভাবছে কি বোকা ওরা,, আগে কেনো যাচাই করে নিলোনা।।

এভাবেই চলে যাচ্ছে আমাদের বন্ধুত্ব।।
আমি মুচকি হাসছি আর ভাবছি ওরা যখন করিম চাচার দোকানে যাবে সত্যিই খুব অবাক হয়ে যাবে। কারন সেখানে অনেক আগে থেকেই ওদের চারজনের জন্য চারটা পান্জাবী আর ওদের কাছ থেকে যেই টাকা নিয়ে কেনাকাটা করেছি সেই টাকাটা চাচার কাছে রেখে আসছি আমরা।শুধু একটু মজা করার জন্যই ওদের সাথে এমনটা করা।।
আসলে বন্ধুত্ব এমনই হয়। কিছু হাসি, কিছু কান্না, কিছু আনন্দ, কিছু ভালো লাগা, কিছু মন্দ লাগা, একটু ভালবাসা অনেকটা বিশ্বাস এই সব কিছু মিলিয়েই বন্ধুত্ব হয়।।

কিন্তু কোনো বন্ধুই সারাজীবন একসাথে পথ চলতে পারেনা। একটা সময় আসে যখন আমরা সবাই কোনো না কোনো ভাবে আলাদা হয়ে যাই। হয়তো কেউ নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে আবার কেউ হয়তো নিজের সংসার নিয়ে। এভাবেই হাড়িয়ে যায় আমাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ক।
কিন্তু আমরা কখনো কেউ কাউকে পুরোপুরি ভাবে ভুলে যেতে পারিনা।
কখনো হয়তো আমাদের ব্যাস্ততার অবসান ঘটে। বসে থাকি আমি একা।
ঠিক তখনই মনে পরে যায় হাড়িয়ে ফেলা সেই দিনগুলির কথা। কতইনা সুন্দর ছিল সব কিছু।

কত পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি, কত হাসি কত আনন্দ, সবাই একসাথে বসে আড্ডা দেওয়া ছোট্ট একটু জিনিষও সেই আট জনের মাঝে ভাগ করে নেওয়া।
কত ভালো ছিলাম আমরা।
কথাগুলো ভাবতে ভাবতে হয়তো চোখের এক কোণে দুফোঁটা অশ্রু জমে যায়।
গড়িয়ে পরার আগেই হয়তোআবার চলে আসে ব্যাস্ততার ডাক।
জলটুকু পরে থাকে চোখের কোণেই।
 
Last edited by a moderator:

Khaled Al Mahmud

সুপার ব্লগার
#4
ইয়াহু......................
আজকে আমাদের সবার পরিক্ষার রেজাল্ট এতটা ভালো হয়েছে যে বাসায় ফেরার পর আম্মু আব্বু আমাদের রেজাল্টের কথাটা শুনে এত্ত খুশি হবেন যাতে করে আমাদের খাবার মাত্র সাত দিনের জন্য বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

তাই আমি চাই আমরা সবাই মিলে আজ ধানসিঁড়ি রেষ্টুরেন্টে গিয়ে এখনকার মতো পেট ভোজনটা করে নেই,, কি বলিস তোরা??? (আমি)

- হুম বেশ ভালো বুদ্ধি কিন্তু বিলটা কে দেবে??? (তাহমিনা)

- কেনোরে আমাদের দলের ছেলে গুলো আছে কি করতে??? (ইমা)

- হুম সেটাই তো। (শুচি)

- কিরে,, আল আমিন, আরিয়ান, সুমিত, জয় দিবি কিনা??? (আমি)

- আরে হ্যাঁ,, তোরা যখন বলেছিস দেবোনা বললেই কি আর পার পেয়ে যাবো নাকি ওল্টে আরও কিছু পিটুনি খাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে তার থেকে বরং পেট ভোজনই বেশ হবে।। (আরিয়ান)

- এই তো গুড বয় এতদিনে তাহলে তোদের মাথায় এইটুকু বুদ্ধি হলো।। (আমি)

- আচ্ছা চল তাহলে যাওয়া যাক।(শুচি)

- হুম চল। (তাহমিনা)

আচ্ছা যেতে যেতে আপনাদেরকে আমাদের ব্যাপারে কিছু কথা বলে নেই আমাদের বন্ধুত্বের দলে আমরা মেম্বার হচ্ছি মোট আট জন তার মাঝে চার জন মেয়ে আর চার জন ছেলে।

আর আমাদের দলের ছেলে গুলো খুব খুব খুব মিষ্টি শয়তান আর বদের হাড্ডি। আচ্ছা গল্পটা পড়তে থাকেন তাহলেই বুঝতে পারবেন।।

- এই নীলা কি এত ভাবছিস রে,, নিশ্চয়ই আমাদের নামে বদনাম করছিস। (জয়)

- আরে না না আমি কেনো তোদের নামে বদনাম করতে যাবো বল। তোরা তো আমাদের কত্ত কিউট দোস্ত তাই না??? (আমি)

- হুম জানি জানি,, আর পাম দিতে হবেনা।এবার খেতে বস তো।।(সুমিত)

অতপর আমরা সবাই বসে পরলাম খাবার টেবিলে। খেতে খেতে আমি একটা ব্যাপার খেয়াল করলাম ওরা চারজন কেমন জানি খুব তারাহুরা করে খাচ্ছে।।

- ব্যাপারটা কিরে তোরা এত তারাহুরা করে খাচ্ছিস কেনো রে?? (তাহমিনা)

- আরে তারাহুরা কই করলাম,, তোদের মত কি শুধু প্লেটে আঙ্গুল নারবো নাকি?? (আল আমিন)

- আরে তা কেনো হবে তোরা তো..............থাক আর কিছু বল্লাম না।। (শুচি)

- এই আমরা কিরে?? (আরিয়ান)

- আরে তোরা তো গাধা,, এই কথাটা শুনার জন্য এত আকুলতা তো যাহ্ বলেই দিলাম এবার খুশি তো?? (আমি)

- কিহ্ আমরা গাধা দাড়া এখান থেকে আগে বেড়িয়ে নেই তারপর তোদেরকে দেখে নেবো।। (জয়)

- আরে এবার একটু থামনারে ভাই।। (ইমা)

- এই শুন আমাদের খাওয়া শেষ,, আমরা বাইরে তোদের জন্য অপেক্ষা করছি তারাতারি চলে আসিস কেমন।। (সুমিত)

- এই বিলটা দিয়ে যাস কিন্তু।।(আমি)

- আরে পেত্নি সেটা আবার বলতে হবে নাকি?? (আল আমিন)

আমরা খাওয়া শেষ করে যেই না বাইরে বের হতে যাবো তখনই হোটেলের ম্যানেজার বলে উঠলেন আপামনিরা বিলটা দিয়ে যাবেন না??

- আমাদের সাথে যে চারজন ছেলে ছিলো ওরা বিলটা দিয়ে যায়নি?? (আমি)

- উনারা তো বল্লেন বিল আপনারা দেবেন।। (ম্যানেজার)

কথাটা শুনার পর মেজাজটা এতটাই খারাপ হয়েছিলো যে মনটা চাইছিলো ওদের চারটাকে ধরে এনে এখনই খুন করে ফেলি। কিন্তু কি আর করার আছে এখন তো আর সেটা করতে পারবোনা।
তাই আমাদের চারজনের ব্যাগ ঝেরে বিলটা মিটিয়ে আসলাম।।

বাইরে এসে দেখি হারামি চারটা দোকানে বসে সিগারেট টানছে। আমাদেরকে দেখে দিলো দৌড়।।

- এই বান্দরেরা দাঁড়া বলছি।(আমি)

- এই শুন তোদের রিকশা ভাড়াটা ওই চাচার দোকানের টেবিলের উপর রেখে আসছি,, নিয়ে বাসায় চলে যা।। (আরিয়ান)

- আরে শুন না কথা আছে তো। (ইমা)

- আজ আর কোনো কথা নাই যা কথা আছে কাল হবে এখন বাসায় যা টাটা।(সুমিত)

তখন কি আর করার আছে মনের রাগটা মনের মধ্যে রেখেই চলে এলাম বাসায়।
কিন্তু আমার মাথায় তখন থেকে শুধু একটাই ভাবনা এদেরকে তো আমি এমনি এমনি ছেরে দেবোনা। কিছু একটা তো করতেই হবে।অনেক ভাবার পর একটা পথ পেয়েই গেলাম।

শুধু একটু সময়ের অপেক্ষা।।
পরদিন কলেজে গিয়ে হারামি চারটারে ইচ্ছা মত বকলাম। এবার মাথাটা একটু ঠাণ্ডা হয়েছে।।

- আচ্ছা শুন তোরা সবাই তো এতদিন ধরে জানতে চাইতিস আমি, তাহমিনা, ইমা, শুচি কারও সাথে প্রেম করি কিনা?? (আমি)

- হুম চাইতাম তো কিন্তু তোরা কখনো বলিসনি আর আমি জানি কখনো বলবিও না।। (আরিয়ান)

- কে বলেছে বলবোনা আজ তোদেরকে সব বলবো কিন্তু একটা শর্ত আছে।। (তাহমিনা)

- আচ্ছা বল,, আমরা তোদের সব শর্তে রাজি আছি।। (জয়)

- আগে তোরা সবাই একজন একজন করে বল তোরা কে কয়টা করে প্রেম করিস।। (শুচি)

- হিহিহিহি,, আমরা তো প্রেমই করিনা বলবো কিরে?? (সুমিত)

- আচ্ছা বলবিনা যখন আমরা তবে যাই কেমন? এই চলে আয় তোরা।। (আমি)

- এই শুননা বলবো তো। (আল আমিন)
হুম,, জয়ের থেকে স্টার্ট।।

- আমাকে দিয়েই শুরু করতে হলো?? (জয়)

- হুম বল। (ইমা)

- আমার প্রিয়তা ছাড়া আর কেউ নাই। কিন্ত একটা সমস্যা আছে আমার, রাস্তাঘাটে মাইয়া দেখলে কেন জানি একটা চোখ এমনি এমনি বন্ধ হয়ে যায়।। (জয়)

- আমার কথা কি আর কমু,, আমার উচ্চতা দেখেই তো মাইয়ারা পালাইয়া যায় প্রেম আর কি করমু ক, তবুও তিন চারটা লাইনে আছে আর তরিকে খুব ভালবাসি আমি।। (আল আমিন)

- আমি তো পিচ্চি পোলা প্রেমের ব্যাপারে এখনো তেমন কিছু বুঝিনা, তবু রুপারে খুব ভালো লাগে। আর টাইম পাস করার জন্য অনলাইনে কয়েকটা আছে।। (সুমিত)

- এই বার তো দেহি আমার পালা আইয়া পরলো। আমি আর কি কমু আমি তো আবার জমিদারের নাতি বেলা বারোটা বাজার আগে ঘুম থেকে উঠতে পারিনা। তাই মেয়েদের পিছুও নিতে পারিনা। কিন্তু নিধীরে খুব মিস করি আর অনলাইনে তো অভাব নাই কারে রাইখা কারে রিপ্লে দিমু ভাবতে ভাবতেই সময় ফুরাইয়া যায়।। (আরিয়ান)

- আমাদের কথা তো শুনলি এবার তোদেরটা বল। (জয়)

- আরে ধুর এতদিনেও আমাদের চারজনকে চিনতে পারলিনা তোরা,, আমাদেরকে কেউ ভালবাসার কথা বলবে তো দুরের কথা আমাদের সামনে দাঁড়ানোর সাহস টুকুও তো করেনা।। (তাহমিনা)

- এএএএই ভাবে আমাদেরকে ঠকানোর মানেটা কি?? (আল আমিন)

- কিছুনা,, আচ্ছা এবার চল তো। (শুচি)

- কোথায় যাবো?? (সুমিত)

- আর দুই দিন পর তো পহেলা বৈশাখ,, আমরা ওই দিনের জন্য কিছু কেনাকাটা করবো। তোরা শুধু একটু পছন্দ করে দিবি কেমন?? (আমি)

- আরে পেত্নির দল কয় কি,, আমাদের পছন্দের আবার এত প্রাধান্য দিস কবে থেকে জানতাম না তো। কিন্তু এত করে যখন বলছিস না গিয়ে তো আর পারিনা তাই না?? (আরিয়ান)

এই তো ঘুঘু ফাঁদে পা দিয়েছে। তারপর আমরা চারজন মিলে হালকা কিছু কেনাকাটা করে নিলাম।।

- কিরে তোরা যে বল্লি আমাদের পছন্দে কিনবি এখন তো দেখছি সব তোরা নিজে নিজেই কিনে নিলি।। (আল আমিন)

- হুম আয় এবার তোদের পছন্দে কিনবো।(ইমা)

- মামা কত হয়েছে?? (শুচি)

- পনেরো হাজার টাকা।। (দোকানি)

- আচ্ছা শোন জয় আমরা বাইরে যাচ্ছি তোরা বিলটা মিটিয়ে তারাতারি চলে আয় কেমন?? (আমি)

- এহহেরে কেনাকাটা করলা তোমরা আর বিল দিবো আমরা তা কি করে হবে বলো
তো?? যত্তসব পেত্নির দল আমরা যাচ্ছি মন চাইলে চলে আসিস আর না চাইলে থাক।। (সুমিত)

- এই শুন তোরা যে কিছুক্ষণ আগে তোদের রোমিও মার্কা প্রেমের গল্পটা বলেছিলি না ওটা আমার এই মোবাইলটাতে রেকর্ড করা আছে। এখন তোরা যদি আমার কথা না শুনিস তাহলে এই কথাগুলো তোদের যার যার প্রেমিকাদের কাছে পৌছে যাবে এখন ভাব কি করবি?? (আমি)

- কিহ আমাদের সাথে এত বড় বাটপারি করলি তোরা।। (জয়)

- হুম করলাম, আমাদের সাথে যে করছিলি সেদিনের কথা মনে নেই? এখন তারাতারি টাকাটা বের করতো। (ইমা)

তারপর ওরা সবাই যার যার মানিব্যাগ ঝাড়লো। দেখলাম বিল দিয়েও কিছু টাকা বারতি থেকে যায়। ভাবলাম ওদের পকেটে একটা কানাকড়িও রাখবোনা, তাই ওই টাকা গুলো দিয়ে হালকা কিছু খাবার খেয়ে নিলাম। হারামিগুলার মুখটা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। দেখে বেশ মজা পাচ্ছিলাম আমরা। আজকে করিম চাচার দোকানে বসে সিগারেট টানবে তো দুরের কথা এক কাপ চা যে খাবে তারও উপায় নেই।
এবার সব শেষে বাসায় ফেরার পালা।।

- এই নীলা এবার তো মোবাইলটা দে। (আরিয়ান)

- হুম, দেবো আগে দুটো রিকশা ডেকে দে।
ওরা রিকশা ডেকে দিলো। আমরা উঠে বসলাম।

- এই শুন মোবাইলে না কিছু নেইরে এতক্ষণ তোদেরকে মিথ্যা কথা বলেছি।
এই নে তোদের রিকশা ভাড়া। আর শুন করিম চাচার দোকানে যাস সেখানে একটা চমক আছে তোদের জন্য।। (আমি)

আমরা যখন চলে আসছিলাম ওরা তখন আমাদের দিকে কেমন করে যেনো তাঁকিয়ে থাকলো। এখন হয়তো ভাবছে কি বোকা ওরা,, আগে কেনো যাচাই করে নিলোনা।।

এভাবেই চলে যাচ্ছে আমাদের বন্ধুত্ব।।
আমি মুচকি হাসছি আর ভাবছি ওরা যখন করিম চাচার দোকানে যাবে সত্যিই খুব অবাক হয়ে যাবে। কারন সেখানে অনেক আগে থেকেই ওদের চারজনের জন্য চারটা পান্জাবী আর ওদের কাছ থেকে যেই টাকা নিয়ে কেনাকাটা করেছি সেই টাকাটা চাচার কাছে রেখে আসছি আমরা।শুধু একটু মজা করার জন্যই ওদের সাথে এমনটা করা।।
আসলে বন্ধুত্ব এমনই হয়। কিছু হাসি, কিছু কান্না, কিছু আনন্দ, কিছু ভালো লাগা, কিছু মন্দ লাগা, একটু ভালবাসা অনেকটা বিশ্বাস এই সব কিছু মিলিয়েই বন্ধুত্ব হয়।।

কিন্তু কোনো বন্ধুই সারাজীবন একসাথে পথ চলতে পারেনা। একটা সময় আসে যখন আমরা সবাই কোনো না কোনো ভাবে আলাদা হয়ে যাই। হয়তো কেউ নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে আবার কেউ হয়তো নিজের সংসার নিয়ে। এভাবেই হাড়িয়ে যায় আমাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ক।
কিন্তু আমরা কখনো কেউ কাউকে পুরোপুরি ভাবে ভুলে যেতে পারিনা।
কখনো হয়তো আমাদের ব্যাস্ততার অবসান ঘটে। বসে থাকি আমি একা।
ঠিক তখনই মনে পরে যায় হাড়িয়ে ফেলা সেই দিনগুলির কথা। কতইনা সুন্দর ছিল সব কিছু।

কত পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি, কত হাসি কত আনন্দ, সবাই একসাথে বসে আড্ডা দেওয়া ছোট্ট একটু জিনিষও সেই আট জনের মাঝে ভাগ করে নেওয়া।
কত ভালো ছিলাম আমরা।
কথাগুলো ভাবতে ভাবতে হয়তো চোখের এক কোণে দুফোঁটা অশ্রু জমে যায়।
গড়িয়ে পরার আগেই হয়তোআবার চলে আসে ব্যাস্ততার ডাক।
জলটুকু পরে থাকে চোখের কোণেই।
অজান্তে পড়ে যায় নুনা অশ্রু৷
অনন্য সুন্দর
 

বর্ণমালা এন্ড্রয়েড এপ

নতুন যুক্ত হয়েছেন

Top