• সুখবর........ সুখবর........ সুখবর........ বর্ণমালাকে খুব শিঘ্রই পাওয়া যাবে বাংলা বর্ণমালার ডোমেইন "ডট বাংলায়" অর্থাৎ আমাদের ওয়েব এড্রেস হবে 'বর্ণমালাব্লগ.বাংলা' পাশাপাশি বর্তমান Bornomalablog.com এ ঠিকানায়ও পাওয়া যাবে। বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণতা পাবে আমাদের বর্ণমালা।

' বন্ধুত্ব ও বিশ টাকা ' ইসপিয়াক আহম্মেদ শিমুল

#1
download-5-jpeg.184
নোশীন আর শিমুল খুব ভালো বন্ধু। দু'জনার পরিচয় হয় যখন তারা নবম শ্রেণীতে পড়ে। ওরা একে অপরের বেস্ট ফ্রেন্ড। শিমুল মাঝে মাঝেই নোশীনের কাছ থেকে টাকা নেয়। তবে বেশি না, মাত্র বিশ টাকা। সেই নবম শ্রেণী থেকেই নিচ্ছে।
নোশীনও শিমুলকে টাকা দেয়, তবে ও জেনে নেয় টাকা নিয়ে কী করবে? নোশীন একজন বন্ধু হিসেবে সবসময় চায় শিমুল তার কাছ থেকে টাকা নিয়ে বা কোনো ভাবেই যেন খারাপ কিছু না করে।
তাই প্রতিবার শিমুলকে টাকা দেওয়ার সময় ও জিজ্ঞেস করে বিশ টাকা দিয়ে কী করবে? শিমুলও সোজাসুজিই উত্তর দেয়। কখনো রিক্সা ভাড়া, কখনো বা বাদাম খাবে, আরো কত কী!
শিমুল আর নোশীন এখন একাদশ শ্রেণীতে পড়ে। দুজনেই একই কলেজে এবং এক সাথেই পড়ে। কলেজ জীবনে পদার্পণ করে শিমুল প্রেমে পড়ে। তার গার্লফ্রেন্ড অন্য কলেজে পড়ে। প্রেমে পড়লেও শিমুল তার বেস্ট ফ্রেন্ড নোশীনকে ভুলে যায়নি। কলেজে সারাদিন দুজনে একসাথেই থাকে।
আজ কলেজ ছুটি হলো। দুজনে একসাথেই কলেজ থেকে বের হলো।
কলেজ থেকে বের হয়ে,
→ বিশ'টা টাকা দে। (শিমুল)
→কী করবি বিশ টাকা দিয়া? (নোশীন)
→একটুপর গার্লফ্রেন্ডের সাথে দেখা করতে হবে, তখন তোর বিশ টাকা দিয়া ওরে নিয়া বাদাম খাবো। (শিমুল)
→দিতে পারি তবে এক শর্তে? (নোশীন)
→এখানে আবার শর্ত কেন হারামী? (শিমুল)
→আজ তোর গার্লফ্রেন্ডের সাথে দেখা করাবি। (নোশীন)
→এএএহহহ না, আজ না। অন্য একদিন। (শিমুল)
নোশীন আর কিছু বলে না, শিমুলকে বিশ টাকা দিয়ে দেয়। দুজনার বন্ধুত্বের সময়টা ভালো ভাবেই কাটতে থাকে। দেখতে দেখতে ১৪ই ফেব্রুয়ারী বিশ্ব ভালবাসা দিবস চলে আসে। শিমুল নেশীনকে সাথে নিয়ে মার্কেটে যায়, তার গার্লফ্রেন্ডের জন্য কিছু কিনবে বলে। শিমুল তার গার্লফ্রেন্ডের জন্য একটা নীল শাড়ি ও একজোড়া নুপুর কিনে। যথারীতি সেখানেও সমস্যা দেখা দিলো। শিমুলের পকেটে দশ টাকা কম। দশ টাকা কম দিয়েও শিমুল নীল শাড়ি আর নুপুর গুলো নিতে পারে, কিন্তু নোশীন যেহেতু সাথে আছে তাই শিমুল চাচ্ছে না দোকানিকে দশ টাকা কম দিতে। নোশীনও পাশেই কিছু কিনছিলো। শিমুল নোশীনকে ডাক দেয়।
→ বল, কি বলবি? (নোশীন)
→ বিশ টাকা। (শিমুল)
→এখানে বিশ টাকা দিয়ে তুই কি করবি? (নোশীন)
→আমার কাছে দশ টাকা কম আছে, যেহেতু তুই সাথে আছিস আমি চাই না দোকানিকে দশ টাকা কম দিতে। আর দশ টাকা দিয়ে অটো ভাড়ায় বাসা যাবো। (শিমুল)
→তোর মাথা থেকে বিশ টাকার ভূত কবে বিদেয় হবে হারামী? (নোশীন)
→আদৌ হবে বলে মনে হয় না, হিহি। (শিমুল)
→হারামী। (নোশীন)
→কথা না বলে টাকা দে। (শিমুল)
নোশীন তার হাত ব্যাগ থেকে শিমুলকে বিশ টাকা দেয়।
শিমুল দোকানির বিল মিটিয়ে নোশীনকে নিয়ে বাসায় ফিরে যায়।
দুই দিন পর কলেজ ক্যাম্পাসে বসে আছে নোশীন আর শিমুল।
→দোস্ত তুই একটা প্রেম কর। (শিমুল)
→আমার লাগবো না প্রেম করা। (নোশীন)
→আরে কর। আমিও তোরে বিশ টাকা করে দিমু, আর তুই তোর বয়ফ্রেন্ডকে নিয়া বাদাম খাবি, হিহি। (শিমুল)
→হারামী। (নোশীন)
→এটা বল তুই প্রেম করিস না কেন? (শিমুল)
→আমার বিয়ে আগে থেকেই ঠিক করা, তাই করিনি। (নোশীন)
→বলিস কি! (শিমুল অনেকটাই অবাক)
→কখনো তো বলিস নি আমাকে? (শিমুল)
→ধরে নে আজ সারপ্রাইজ দিলাম, হিহি। (নোশীন)
→কবে ঠিক হলো বিয়ে? (শিমুল)
→জেএসসি পরীক্ষার পর। সেদিন থেকে আমার হবু বরের সাথেই প্রেম করি, হিহি। আমার বাবার বন্ধুর ছেলে (নোশীন)
→তো তোর হবু বর এখন কোথায়? (শিমুল)
→অস্ট্রেলিয়ায় ডাক্তারি পড়তেছে। ২ বছর পর আমার ইন্টারমিডিয়েট শেষ হবে, আর ওর ডাক্তারি পড়াশোনা। তখন আমাদের বিয়ে হবে। (নোশীন)
→তোর হবু বরের ছবি দেখা? (শিমুল)
→না, বিয়ের দিন একেবারে দেখবি। (নোশীন)
→ওকে, তাহলে আমার গার্লফ্রেন্ডরেও আমাদের বিয়ার সময় দেখবি। (শিমুল)
→আচ্ছা। (নোশীন)
সময় চলতে চলতে কেটে যায় ২টি বছর।
আজ নোশীনের বিয়ে। শিমুল নোশীনের বাড়ি গিয়ে সোজা নোশীন যেই রুমে আছে সেই রুমে চলে যায়। নোশীনের রুমে গিয়ে দেখে নোশীনকে ঘিরে ১৫-২০ টা মেয়ে বসে আছে।
→ঐ এরা কারা? (শিমুল)
→সব আমার কাজিন। (নোশীন)
→একেবারে মুরগির ফার্ম, হিহি। (শিমুল)
→উল্টা বকিস না। (নোশীন)
→আচ্ছা, বাদ দে। এদের সবাইকে বাইরে পাঠা, তোর সাথে কথা আছে। (শিমুল)
→বল সমস্যা নেই।(নোশীন)
→না, এদের সামনে বলা যাবে না। (শিমুল)
নোশীন ওর কাজিনদেরকে ঘরের বাইরে পাঠিয়ে দেয়।
→এবার বল কি বলবি? (নোশীন)
শিমুল গিয়ে নোশীনের পাশে বসে।
→চোখ বন্ধ করে ডান হাতটি বাড়িয়ে দে। (শিমুল)
নোশীন তাই করে। শিমুল নোশীনের হাতে একটা ছোট বক্স রাখে। বক্সটা গিফ্ট বক্সের মতো সাজানো। একটুপর নোশীন চোখ খুলে,
→এটায় কি আছে? (নোশীন)
→নিজেই দেখে নে। (শিমুল)
নোশীন ধীরে ধীরে বক্সটা খুলে, বক্সটা খুলে নোশীন আঁকাশ থেকে পড়ে।
→ঐ হারামী, ভাবলাম কি না কি থাকবো। এই বক্সে সেই বিশ টাকা। (নোশীন)
বলেই শিমুলের পিঠে থাপড়াতে থাকে।
→এহ থাম, আর মারিস না। (শিমুল)
→এই বক্সে বিশ টাকা কেন? (নোশীন)
→বিয়ের পর তো বরের সাথে অস্ট্রেলিয়া চলে যাবি। সেখানে তোর বরকে নিয়ে এই বিশ টাকা দিয়ে বাদাম কিনে খাবি, হিহি। (শিমুল)
→হারামী। (নোশীন)
→অস্ট্রেলিয়া গিয়ে কি তুই আমায় ভুলে যাবি? (শিমুল)
→আরে না, তোকে কখনোই ভুলবো না। (নোশীন)
→বিশ টাকার জন্য হলেও মনে রাখবি, হিহি। (শিমুল)
→আবার, (নোশীনেরর এ্যাংরি মোড)
→হিহুহি। (শিমুল)
এরপর ওরা আরো কিছুক্ষণ বসে থাকার পর বর চলে আসে। বিয়েটা ভাল ভাবেই সম্পন্ন হয়।
বিয়ের পর কেটে যায় ১৫ দিন। আজ নোশীন তার বরের সাথে অস্ট্রেলিয়া চলে যাবে। ওর বর সেখানকার ডাক্তার, আর নোশীন সেখানে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়বে।
শিমুল নোশীনকে বিদায় দিতে বিমানবন্দরে আসে। →ভালো থাকিস। (শিমুল)
→হুম, জলদি বিয়ে কর হারামী। তোর গার্লফ্রেন্ডরে দেখতে হবে। (নোশীন)
→আসবি তো আমার বিয়েতে? (শিমুল)
→আমি না আসলে কে তোর বউকে সাজাবে? হু (নোশীন)
→এহ, বিশ টাকা দে তো। (শিমুল)
→আবার সেই বিশ টাকা? (নোশীন)
→তোর স্মৃতি হিসেবে রেখে দিমু, হিহুহি। (শিমুল)
এরপর নোশীন শিমুলকে বিশ টাকা দেয়।
কিছুক্ষণ পর সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে নোশীন চলে যায়।
শিমুল বিশ টাকাটা সঙ্গে নিয়ে বাসায় ফিরে। বাসায় ফিরে বিশ টাকাটা তার ডায়েরীতে রেখে দেয় যত্ন করে।
এরপর নোশীনের সাথে ফেসবুকের মাধ্যমে শিমুলের যোগাযোগ হতো।
নোশীন অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার পর আজ কেটে যায় পনেরটি বছর। কিছুদিন পর নোশীন দেশে ফিরবে। আগেও এসেছিল, তখন শিমুলের বিয়ে ছিল। শিমুলের কোনো বোন না থাকায় নোশীনকেই বোনের দায়িত্বটা পালন করতে হয়।
আজ সকালে শিমুলকে নোশীন জানায় সে বাংলাদেশে চলে এসেছে, বিকালে ওরা একটা পার্কে দেখা করবে।
বিকেল পাঁচটা,
শিমুল পার্কে বসে বসে বাদাম খাচ্ছে। একটু পর নোশীন চলে আসে। ওরা ফেসবুকের মাধ্যমে একে অপরের ছবি আদানপ্রদান করেছে, তাই চিনতে সমস্যা হয়নি।
→বস। (শিমুল)
নোশীন শিমুলের পাশে বসে।
→কেমন আছিস? (শিমুল)
→ভালো, তুই? (নোশীন)
→ভালো। একে বারে চলে এসেছিস, নাকি আবার চলে যাবি? (শিমুল)
→আর যাচ্ছি না। (নোশীন)
→বাদাম খাবি? (শিমুল)
→দে, (নোশীন)
শিমুল নোশীনের দিকে বাদাম গুলো বাড়িয়ে দেয়। দুই বন্ধু বসে বসে বাদাম খাচ্ছে।
→বাদাম গুলো তোর দেওয়া বিশ টাকায় কেনা, হিহি। (শিমুল)
→পনের বছর আগের বিশ টাকা? (নোশীন)
→হুম, ডায়েরীতে রাখা ছিল। আজ বাদাম খেয়ে হাওয়া করে দিলাম। (শিমুল)
→নবম শ্রেণী থেকে বিশ টাকা শুরু হয়েছিল, আজও আছে, হিহি। (নোশীন)
→হুম, হিহুহি। (শিমুল)
দুজনের চোখেই তখন হালকা পানি। এতো বছর ওদের বন্ধুত্বটা আগের মতই রয়ে গেছে।
সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে দুজনেই উঠে পড়ে।
→এই নে বিশ টাকা। (নোশীন)
নোশীন শিমুলের দিকে বিশ টাকা বাড়িয়ে দেয়।
→তোর বউয়ের জন্য বাদাম কিনে নিয়ে যা। (নোশীন)
এরপর দুজনেই একসাথে হেসে দেয়। কোথাও একটা পাখি তার মিষ্টি মধুর কণ্ঠে গান গেয়ে উঠে। সূ্র্যটা অস্ত যায় পশ্চিম আকাশে।
শিমুল আর নোশীনের গল্পটার সমাপ্তি কখনো হবে না, রয়ে যাবে পৃথিবীর অন্ত পর্যন্ত।
শিমুল আর নোশীন একদিন এই পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে যাবে না ফেরার দেশে। কিন্তু তাদের গল্পটা রয়ে যাবে চিরকাল, অন্যকারো বন্ধুত্বের মাঝে, অন্যকোনো ভাবে।
(সমাপ্ত)
 
Last edited by a moderator:

বর্ণমালা এন্ড্রয়েড এপ

নতুন যুক্ত হয়েছেন

Top