বাংলাদেশ পররাষ্ট্রনীতিঃ পর্ব-০১

Zubair Ahmad

নতুন সদস্য
#1
বঙ্গবন্ধুর পররাষ্ট্র নীতি বনাম বর্তমান পররাষ্ট্র নীতি!
"পিন্ডির গুহা থেকে দিল্লির গর্তে ঢুকব - আমার জীবদ্দশায় তা হবে না ।" -বঙ্গবন্ধু

১৯৭৪ সাল। লাহোরে ইসলামি ঐক্য সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনে যোগদান বিষয়ে মন্ত্রীদের মধ্যে এক অনানুষ্ঠানিক সভা হচ্ছে। সেই সভায় শেখ মুজিব লাহোর যাওয়ার প্রসঙ্গ তুললে
*ড.কামাল,
*তাজউদ্দীন আহমদ ও
*আবদুস সামাদ আজাদ এর বিরোধিতা করেন।

তাঁদের যুক্তি ছিলো, "যেহেতু বাংলাদেশ একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ, সুতরাং ইসলামিক দেশসমূহের সম্মেলনে যোগ দেবার প্রশ্নই উঠে না"।

অন্যদিকে, শেখ মুজিব ছিলেন যোগদানের পক্ষে।

সম্মেলনে যাওয়ার ব্যাপারে তিনি যখন সিদ্ধান্ত জানালেন, তখন তাঁকে বলা হলো " যাত্রাপথে দিল্লীতে নেমে ওদের সাথে একটু কথা বলে গেলে সবদিক রক্ষা হয়। এটা শুনে শেখ মুজিবের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়।
শাহ মোয়াজ্জেমের ভাষ্য অনুযায়ীঃ
বঙ্গবন্ধু টেবিল চাপড়িয়ে রীতিমতো ক্রুদ্ধ কন্ঠে চিৎকার করে উঠলেন, আমি কারও মাখা তামাক খাই যে আমাকে মাঝপথে নেমে কারও মত নিতে হবে? তোমরা ভেবেছ কী? আমাদের স্বাধীন সার্বভৌম দেশ। কী করব, না করব আমরাই সাব্যস্ত করবো। কাউকে ট্যাক্স দিয়ে চলার জন্য দেশ স্বাধীন হয়নি। পিন্ডির গুহা থেকে দিল্লির গর্তে ঢুকব - আমার জীবদ্দশায় তা হবে না।

–শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন (মুজিব সরকারের প্রথম চীফ হুইপ) / বলেছি বলছি বলব।[অনন্যা – সেপ্টেম্বর, ২০০২ । পৃ: ১৩৮]

বাংলাদেশের মহান স্হপতির নির্ভেজাল দেশ প্রেমের কারনে হিন্দুস্হান তার স্বার্থ উদ্ধারে বঙ্গবন্ধুকে প্রতিবন্ধক গণ্য করতে বাধ্য হলো। যার ফলোশ্রুতিতে বিয়োগাত্মক ৭৫ এর ১৫ এ আগস্টের লোমহর্ষক অবিশ্বাস্য অঘঠণ। এর মাত্র চার দিনের মাথায়,বাংলাদেশে নব নিযুক্ত হিন্দুস্হানী হাই কমিশনরা বঙ্গবন্ধুর ঘাতক চক্রের নাটের গুরু গাদ্দার খন্দকার মস্তাকের সাথে দাঁত কেলিয়ে ফটোশেসনে অংশগ্রহণ করে। তাবেদার বঙ্গবন্ধুহীন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারকে পুনোরায় সহোযগীতার আশ্বাস দেয়। আর সেই অব্দি বঙ্গবন্ধুর ঘাতক চক্রের অংশীদার ভারতীয় দালালরা তাঁর কন্যাকেও চার পাশ থেকে অক্টোপাসের ন্যায় অস্টেপিস্টে ঘিরে রেখেছেন।

বাংলাদেশের বৃহত্তর প্রতিবেশী হিসেবে প্রতিটি দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিস্ট বিষয়ে ভারতেকে মাত্রাতিরিক্ত সুবিধা দিয়ে বঙ্গবন্ধুর আর্দশ শূন্য আওয়ামীলীগ সরকার ভারতের কাছে নতজানু পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে প্রলম্বিত করেই চলেছে।
ভারতের ইঙ্গিতে
প্রকৃত দেশপ্রমীদের নানা অজুহাতে, ফাঁসি,জেল, জুলুম, খুন, গুম,নির্যাতন।
রাষ্ট্রিয় স্বার্থ বির্সজন! বিনিময়ে বার বার আওয়াম ক্যাবিনেট বদল।
চলবে....

বিঃদ্রঃ এই প্রতিবেদনটি বাংলাদেশ পররাষ্ট্র নীতি নিয়ে করা তাই ভুল হলে ধরিয়ে দিবেন.... এবং বাকি আলোচনা আগামি পোষ্টে করা হবে।
 

Attachments

বর্ণমালা এন্ড্রয়েড এপ

নতুন যুক্ত হয়েছেন

Top