• সুখবর........ সুখবর........ সুখবর........ বর্ণমালাকে খুব শিঘ্রই পাওয়া যাবে বাংলা বর্ণমালার ডোমেইন "ডট বাংলায়" অর্থাৎ আমাদের ওয়েব এড্রেস হবে 'বর্ণমালাব্লগ.বাংলা' পাশাপাশি বর্তমান Bornomalablog.com এ ঠিকানায়ও পাওয়া যাবে। বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণতা পাবে আমাদের বর্ণমালা।

বাংলা সিনেমায় আমি

এম আই সৌরভ

নতুন সদস্য
#1
5c7962f714c62-jpg.295
ভাবলাম সিনেমা দেখি।
এই রোমান্টিক আবহাওয়ায় শুয়ে সিনেমা দেখায় একটা রোমান্টিক অনুভুতি আছে। এখন দেখবো বাংলা সিনেমা। অনেক খুঁজে কোনো এক সাইট থেকে ডাউনলোড দিলাম। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলাম কোনো কাট ছাট করবো না। যেহেতু বাংলা সিনেমা সেহেতু লাভ ফর এভার বিজ্ঞাপনের পর সিনেমা শুরু।

ছবির নামের পর অভিনেতাদের নাম দেখাচ্ছে। কতক্ষন দেখিয়েছে জানি না, আমি নিজে ই ডুবে গেলাম সিনেমার ভিতরে। একটি পাহাড়ি রাস্তা। নায়ক অর্থাৎ আমি, একটি দরিদ্র ঘরের সন্তান। ছবি শুরু হওয়ার আগেই খুন হলো নায়কের বাবা। তারপর অনেক বছর কেটে গেলো।

আমার নায়িকাকে হটাত ধরলো কিছু গুন্ডা। আমি নিম্নচাপের কারণে বারবার টয়লেটে ঢুকছি আর বের হচ্ছি। তিন কি চার কিলোমিটার দূর থেকে "বাচাও" শব্দে টয়লেটের ভিতর থেকেই লাফ দিলাম। টয়লেটের ছাদে মাথা লেগে মাথা গেলো ফুলে। কোনো রকমে নিজেকে সামলে নিয়ে মাথায় নিক্স মলম মেখে দিলাম দৌড়। তিন কিলোমিটার পথ। আমার জন্যে অপেক্ষা করছে গুন্ডারা।

আমি সামনে গেলাম। এরা কারা বা কে, সে নাকি তিনি। কিছু বুঝে উঠার আগেই ধুপ ধাপ মাইর শুরু। অনেক কষ্টে চেপে রাখা নিম্নচাপ মাইরের খুশিতে শব্দ করে উঠলো। গুন্ডারা বোম ভেবে দিলো দৌড়। নায়িকা লাজুক চোখে কাছে এসে নিজের ওড়না ছিঁড়ে না কাটা হাতটায় বেধে দিলো। তারপর হটাত আমরা পাহাড়ি এলাকা ছেড়ে ঢাকার পার্কে এসে নাচানাচি শুরু করলাম। কিভাবে আসলাম জানি না। গান শেষে কলিকাতা হার্বালের বিজ্ঞাপন।

আমি নায়িকার সাথে গোপনে চা বাগানে চা পাতা তুলছি। চা বাগানের মালিক পুলিশ খবর না দিয়ে খবর দিলো নায়িকার বাবাকে। নায়িকার বাবা ঢাকা থেকে মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে চলে এলো। আমরা চা তুলছি।

নায়িকার বাবার বিকট শব্দে আমি তাকালাম। তার বাবাকে দেখে উলটোদিকে দৌড় দেওয়ার আগে নায়িকা শার্টের গলা ধরে বলবো "শালা, কই পালাই যাস"। নিজের মনে সাহস রেখে নায়িকার বাবাকে বললাম "চৌধুরি সাহেপ, আমি গরিব হতে পারি তবে টাকায় লোভ নাই।" বলার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পশ্চাৎদেশে লাত্থি দিয়ে নায়িকা বললো "হালারপো, পরশুদিন সোনার আংটি টা নিয়ে এখনো ফেরত দিস নাই।" করুন চোখে নায়িকার দিকে তাকিয়ে বললাম "সোনা হলে অন্য ব্যাপার বাবু।"

নায়িকার বাবা হাত দিয়ে থাপ্পড় দেওয়ার আগে কোথা থেকে উড়ে এসে হাত ধরলো আমার মা। মা আমাকে দেখে বললো, "জানিস এ হলো তোর বাবার খুনি"। আমি কানে হাত দিয়ে চিৎকার করলাম "নায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়া"। তার পর জ্ঞ্যান হারালাম।
ছবির মধ্য বিরতি। এরপর চোখ খুলে তাকিয়ে দেখি মা পানি খাওয়াচ্ছে। মায়ের হাতে পানি খেতে যাবো ঠিক তখন ই নায়িকা মাকে ঠেলে দিয়ে আমার পাশে বসে বললো, "বাবু খাইছো?" আমি হাল্কা জ্ঞ্যান অবস্থায় বললাম, "তুমি কখনো খাইতে দিছো?" নায়িকা লজ্জায় উঠে গেলো। অসুস্থ থেকেও রোমান্টিক গানে ঢাকার পার্কে গিয়ে নাচানাচি শুরু করলাম। বডি বিল্ডার বিজ্ঞাপন শুরু।

পার্ক থেকে হাসপাতালে এসে দেখি নায়িকার বাবার হাত ধরে আছে মা। আমি বললাম "মা তুমি আমার হবু বৌয়ের বাবার হাত ধরে বসে আছো কেনো?" মা ছল ছল চোখে বলল "এ তোর হবু বৌয়ের বাবা নয় রে এ হলো তোর বাবা"। আমি "নায়ায়ায়ায়া" বলে আরেকবার হার্টএট্যাক করলাম।

চোখ খুললাম। বাবা বলতে শুরু করলো। ২০ বছর আগে। তোর হবু বৌয়ের বাবাকে হত্যা করে নিজের নামে চালিয়ে দেই। টাকা পয়সার লোভে প্লাস্টিক সার্জারি করি। এই দেখ প্রমাণ। এই বলে বাবা ১২টাকা গজ দামের প্লাস্টিক খুলে ফেললো। আমি আবার জ্ঞ্যান হারালাম।

লুকিয়ে এই কথা শুনে আমার হবু বৌ বাবাকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দিয়ে নিজেই ওই পুলিশকে বিয়ে করে নিলো। আমি জ্ঞ্যান ফিরে এসব শুনে দৌড়ে গেলাম ছাদে। কোনো মমতাময়ী নার্স বাচানোর জন্যে এলো না। লাফ দেওয়ার পর মাটিতে পরার আগে ঘুম থেকে লাফ দিয়ে উঠলাম। কানের হেডফোনে শুনলাম, "আইন নিজের হাতে তুলে নিবেন না।"

আমার ঘুমের স্বপ্নের সাথে রোমান্টিক আবহাওয়ায় দেখা বাংলা সিনেমাটিও শেষ। নিজেকে শেষ পর্যন্ত আইন তুলে নেওয়া থেকে বাঁচাতে পারলাম। সমাপ্ত লেখার পর আবার লাভ ফর এভারের বিজ্ঞাপন শুরু। কোনো কাট ছাট করবো না।

রম্যগল্পঃ এম আই সৌরভ
 
Last edited by a moderator:

Khaled Al Mahmud

সুপার ব্লগার
#4
ভাবলাম সিনেমা দেখি।
এই রোমান্টিক আবহাওয়ায় শুয়ে সিনেমা দেখায় একটা রোমান্টিক অনুভুতি আছে। এখন দেখবো বাংলা সিনেমা। অনেক খুঁজে কোনো এক সাইট থেকে ডাউনলোড দিলাম। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলাম কোনো কাট ছাট করবো না। যেহেতু বাংলা সিনেমা সেহেতু লাভ ফর এভার বিজ্ঞাপনের পর সিনেমা শুরু।

ছবির নামের পর অভিনেতাদের নাম দেখাচ্ছে। কতক্ষন দেখিয়েছে জানি না, আমি নিজে ই ডুবে গেলাম সিনেমার ভিতরে। একটি পাহাড়ি রাস্তা। নায়ক অর্থাৎ আমি, একটি দরিদ্র ঘরের সন্তান। ছবি শুরু হওয়ার আগেই খুন হলো নায়কের বাবা। তারপর অনেক বছর কেটে গেলো।

আমার নায়িকাকে হটাত ধরলো কিছু গুন্ডা। আমি নিম্নচাপের কারণে বারবার টয়লেটে ঢুকছি আর বের হচ্ছি। তিন কি চার কিলোমিটার দূর থেকে "বাচাও" শব্দে টয়লেটের ভিতর থেকেই লাফ দিলাম। টয়লেটের ছাদে মাথা লেগে মাথা গেলো ফুলে। কোনো রকমে নিজেকে সামলে নিয়ে মাথায় নিক্স মলম মেখে দিলাম দৌড়। তিন কিলোমিটার পথ। আমার জন্যে অপেক্ষা করছে গুন্ডারা।

আমি সামনে গেলাম। এরা কারা বা কে, সে নাকি তিনি। কিছু বুঝে উঠার আগেই ধুপ ধাপ মাইর শুরু। অনেক কষ্টে চেপে রাখা নিম্নচাপ মাইরের খুশিতে শব্দ করে উঠলো। গুন্ডারা বোম ভেবে দিলো দৌড়। নায়িকা লাজুক চোখে কাছে এসে নিজের ওড়না ছিঁড়ে না কাটা হাতটায় বেধে দিলো। তারপর হটাত আমরা পাহাড়ি এলাকা ছেড়ে ঢাকার পার্কে এসে নাচানাচি শুরু করলাম। কিভাবে আসলাম জানি না। গান শেষে কলিকাতা হার্বালের বিজ্ঞাপন।

আমি নায়িকার সাথে গোপনে চা বাগানে চা পাতা তুলছি। চা বাগানের মালিক পুলিশ খবর না দিয়ে খবর দিলো নায়িকার বাবাকে। নায়িকার বাবা ঢাকা থেকে মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে চলে এলো। আমরা চা তুলছি।

নায়িকার বাবার বিকট শব্দে আমি তাকালাম। তার বাবাকে দেখে উলটোদিকে দৌড় দেওয়ার আগে নায়িকা শার্টের গলা ধরে বলবো "শালা, কই পালাই যাস"। নিজের মনে সাহস রেখে নায়িকার বাবাকে বললাম "চৌধুরি সাহেপ, আমি গরিব হতে পারি তবে টাকায় লোভ নাই।" বলার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পশ্চাৎদেশে লাত্থি দিয়ে নায়িকা বললো "হালারপো, পরশুদিন সোনার আংটি টা নিয়ে এখনো ফেরত দিস নাই।" করুন চোখে নায়িকার দিকে তাকিয়ে বললাম "সোনা হলে অন্য ব্যাপার বাবু।"

নায়িকার বাবা হাত দিয়ে থাপ্পড় দেওয়ার আগে কোথা থেকে উড়ে এসে হাত ধরলো আমার মা। মা আমাকে দেখে বললো, "জানিস এ হলো তোর বাবার খুনি"। আমি কানে হাত দিয়ে চিৎকার করলাম "নায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়া"। তার পর জ্ঞ্যান হারালাম।
ছবির মধ্য বিরতি। এরপর চোখ খুলে তাকিয়ে দেখি মা পানি খাওয়াচ্ছে। মায়ের হাতে পানি খেতে যাবো ঠিক তখন ই নায়িকা মাকে ঠেলে দিয়ে আমার পাশে বসে বললো, "বাবু খাইছো?" আমি হাল্কা জ্ঞ্যান অবস্থায় বললাম, "তুমি কখনো খাইতে দিছো?" নায়িকা লজ্জায় উঠে গেলো। অসুস্থ থেকেও রোমান্টিক গানে ঢাকার পার্কে গিয়ে নাচানাচি শুরু করলাম। বডি বিল্ডার বিজ্ঞাপন শুরু।

পার্ক থেকে হাসপাতালে এসে দেখি নায়িকার বাবার হাত ধরে আছে মা। আমি বললাম "মা তুমি আমার হবু বৌয়ের বাবার হাত ধরে বসে আছো কেনো?" মা ছল ছল চোখে বলল "এ তোর হবু বৌয়ের বাবা নয় রে এ হলো তোর বাবা"। আমি "নায়ায়ায়ায়া" বলে আরেকবার হার্টএট্যাক করলাম।

চোখ খুললাম। বাবা বলতে শুরু করলো। ২০ বছর আগে। তোর হবু বৌয়ের বাবাকে হত্যা করে নিজের নামে চালিয়ে দেই। টাকা পয়সার লোভে প্লাস্টিক সার্জারি করি। এই দেখ প্রমাণ। এই বলে বাবা ১২টাকা গজ দামের প্লাস্টিক খুলে ফেললো। আমি আবার জ্ঞ্যান হারালাম।

লুকিয়ে এই কথা শুনে আমার হবু বৌ বাবাকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দিয়ে নিজেই ওই পুলিশকে বিয়ে করে নিলো। আমি জ্ঞ্যান ফিরে এসব শুনে দৌড়ে গেলাম ছাদে। কোনো মমতাময়ী নার্স বাচানোর জন্যে এলো না। লাফ দেওয়ার পর মাটিতে পরার আগে ঘুম থেকে লাফ দিয়ে উঠলাম। কানের হেডফোনে শুনলাম, "আইন নিজের হাতে তুলে নিবেন না।"

আমার ঘুমের স্বপ্নের সাথে রোমান্টিক আবহাওয়ায় দেখা বাংলা সিনেমাটিও শেষ। নিজেকে শেষ পর্যন্ত আইন তুলে নেওয়া থেকে বাঁচাতে পারলাম। সমাপ্ত লেখার পর আবার লাভ ফর এভারের বিজ্ঞাপন শুরু। কোনো কাট ছাট করবো না।

রম্যগল্পঃ এম আই সৌরভ
ভালো লাগলো
 

বর্ণমালা এন্ড্রয়েড এপ

নতুন যুক্ত হয়েছেন

Top