ভালবাসি ।। নীলা রহমান

Nila Rahman

নতুন ব্লগার
#1

কলেজ থেকে বাসায় ফেরার পথ ধরেছি মাত্র। এমন সময় আকাশটা কেমন অন্ধকার হয়ে এলো।
পুরো আকাশ জুড়ে কালো মেঘ জমেছে,, মনে হচ্ছে এখনই বৃষ্টি নামবে।
আশে পাশে কোনো রিকশাও দেখতে পাচ্ছিনা,, রাস্তাটা একদমই ফাঁকা কোনো একটা মানুষের চিহ্ন পর্যন্ত নেই।।
এমন একটা মুহুর্তে বৃষ্টি হলে ভালই লাগবে,, এমনিতেও বৃষ্টি খুব ভাল লাগে আমার।।

হঠাৎ ঝুমঝুম করে বৃষ্টি পরা শুরু হয়ে গেলো,, আমি আপন মনে বৃষ্টিতে ভিজছিলাম। কিছুক্ষণ পর খেয়াল করলাম কেও একজন দৌড়ে এসে আমার পাশে থামলো।

- আপনাকে এতক্ষণ ধরে ডাকছি শুনতে পাচ্ছেন নাহ্??

তাঁকিয়ে দেখি আয়ান,, খুব হাপাচ্ছে ছেলেটা। আয়ান আর আমি একই ক্লাসে পড়ি। কিন্তু ছেলেটা খুব সাধারন ভাবে থাকে কারও সাথে তেমন কথা বলেনা। আমার সত্যিই খুব অবাক লাগছে আয়ানের হঠাৎ আমার পিছনে এইভাবে দৌড়ানোর ব্যাপারটা।

- আয়ান তুমি এমন হাপাচ্ছো কেনো??
- আপনার জন্যই তো।
- আমার জন্য কেনো??
- আগে ছাতাটা নিন তারপর বলছি।
- তোমার কাছে তো একটাই ছাতা আমি নিয়ে নিলে তুমি কিভাবে যাবা??
- আমার কথা ভাববেন নাহ্,, আমি এমনিতেই চলে যেতে পারবো।
- আচ্ছা চলো দুজনে একসাথেই যাই কেমন??
- আরে নাহ্,, আপনি আর আমি একসাথে গেলে মানুষ খারাপ ভাববে তার থেকে বরং ছাতাটা আপনি নিয়ে যান।
- এই কি তখন থেকে আপনি আপনি করছো,, আমরা তো একই সাথে পড়ি তাহলে অত আপনি আপনি করার কি আছে,, তুমি করে বলবা বুঝছো,, আর কোন কাজে কে কি ভাবলো তা নিয়ে আমি ভাবিনা তুমি আমার সাথে যাবে বলছি যাবে।
- আচ্ছা তুমি যখন বলছো তখন ঠিক আছে।
- হুম।

তরপর আয়ানের সাথে অনেক কথা হলো।
আয়ান সত্যিই খুব ভালো ছেলে।
একটু বোকা সোকা হলেও মনে কোনো অহংকার নেই,, কোনো হিংসা নেই।।

আজ কলেজে এসে দেখি ক্লাসে আয়ান একাই বসে আছে।।

- এভাবে একা একা বসে থাকতে ভালো লাগে তোমার??
- হ্যাঁ লাগে তো।
- বরিং লাগে নাহ্??
- আরে নাহ্,, আমার একা থাকতেই বেশ ভালো লাগে।
- তুমি এভাবে একা বসে থাকো কারও সাথে কথা বলো না এগুলো দেখে যে সবাই হাসাহাসি করে তুমি সেটা বুঝতে পারো না।
- হ্যাঁ,, বুঝি তো।
- তারপরও তুমি এভাবে থাকো কেনো??
- তাহলে কি করবো আমি??
- চলো আমার সাথে।

আয়ানের হাতটা ধরে বাইরে নিয়ে এলাম। আমাদের কলেজের সবাই কেমন অবাক হয়ে দেখছে আমাকে। হয়তো ভাবছে এটাও কি সম্ভব।।

- কিরে,, তৃনা, মিমি,তুষার মনে হচ্ছে যেনো আকাশ থেকে পরলি??
- ওই রকমই মনে হচ্ছে।(তুষার)
- আচ্ছা তোদের মনে হওয়াটা তোদের কাছেই রাখ,, আর শোন আয়ান আজ থেকে আমাদের সাথেই থাকবে,, ওকে??
- ওকে। (তৃনা)
- এই আমি তোমাদের সাথে এভাবে থাকতে পারবোনা। (আয়ান)
- কেনো? ( আমি)
- কারন,, আপনাদের সবার মাঝে আমাকে মানায় নাহ্।
- মানায় কি মানায় নাহ্ সেটা আমি বুঝবো আপনি নাহ্ কেমন??
- হুম।
সেদিন থেকে আমরা পাঁচজন একসাথেই থাকতাম,, ঘুরাঘুরি করতাম। আয়ান সবসময় আমার কথা শুনতো,, সবার থেকে বেশি আমার কাছাকাছি থাকতো। সবসময় আমাকে নিয়েই কথা বলতো,,নীলা তোমার হাসিটা খুব মিষ্টি,, আজ তোমাকে এই রং এর থ্রিপিছ টাতে দারুন লাগছে এই রকম আরও অনেক কথাই বলতো।

কিন্তু সময়ের সাথে সাথে আয়ান অনেকটা পাল্টে গেছে,, ও আর একদম আগের মত নেই,, এখন তার অনেক বন্ধু আছে।
আমায় আর তেমন প্রয়োজন নেই তার।
আয়ান তার অন্য সব বন্ধুদেরকে নিয়ে খুব ভালই আছে। মাঝে মাঝে হয়তো দুএকটা টুকিটাকি কথা হয় তাছাড়া তেমন কথা হয় না।

তবুও আমি খুব ভালো আছি,, কারন আমি তো আয়ানকে অনেক ভালো রাখতে চেয়েছিলাম,, আর সেটাতো পেরেছি।

এভাবেই কেটে যায় কিছুদিন।

কিন্তু আজ কিছুতেই ভালো লাগছে না আমার। কালকের দিনটার কথা কি আয়ানের মনে আছে,, হয়তো নেই কারন ওর তো এখন আর আমার কথা ভাবার মত সময় নেই,,
বার বার মনে হচ্ছিলো আয়ানের কাছে যাই গিয়ে জিগ্যেস করি ও কেনো এমন করছে আমার সাথে??

কিন্তু যেতে পারলাম না অনেক কষ্টে সামলে নিলাম নিজেকে।

কলেজ থেকে বাসায় ফিরলাম,, ছোট বোনের সাথে কিছুটা সময় ভালোই কাটলো কিন্তু রাতে যখন ঘুমোতে গেলাম কিছুতেই চোখ দুটোতে ঘুম আসছেনা।

রাত তখন ১১টা বাজে।

- আপু দরজাটা খুল তো।
- আবার কি হলো??
- আগে খুল না।

দরজা খুলে দেখি বোনের হাতে একটা গিফট প্যাকেট।

- আপু এটা তোর জন্য।
- কি এটা??
- জানিনা তো খুলে দেখ না।
- তোকে কে দিয়েছে এটা??
- আরে আর বলিস নাহ্,, কলিংবেলের আওয়াজ শুনে দরজা খুললাম কিন্তু দেখি দরজার ওপাশে কেও নেই,, নিচে এই প্যাকেটটা,, তারপর হাতে নিয়ে দেখলাম প্যাকেটের গায়ে তোর নাম লেখা,, তাই নিয়ে এলাম।
- আচ্ছা তুই যা এখন।
- আচ্ছা।

প্যাকেট খুলে দেখি একটা নীল শাড়ি কিছু নীল চুড়ি আর ছোট্র একটা কাগজ।

কাগজটা খুল্লাম তাতে লেখা আছে,, নীলা শাড়িটা পরে বাইরে এসো,, আমি অপেক্ষা
করছি।
আয়ান......

লেখাটা পড়ে মনটা খুব খুশি হয়ে গেলো।

শাড়িটা পরে বাইরে বেড়িয়ে এলাম।
আমি বাইরে আসার সাথে সাথে কারেন্ট চলে গেলো। চারদিকটা কত অন্ধকার আর আশে পাশে কোথাও আয়ানকে দেখতে পাচ্ছিনা।
হঠাৎ দেখি আমার থেকে একটু দূরে কিছু মোমবাতির আলো জ্বলছে।
আস্তে আস্তে আলোটা আমার কাছে এসে থামলো।
তখন দেখলাম আয়ান দাঁড়িয়ে আছে।

রাত তখন ঠিক ১২টা।

- Happy Birth Day Nila

- Thank you

- শুধুই ধন্যবাদ??
- তো আর কি??
- আমি তো আজ অন্য কিছু নিতে আসছি।
- অন্য কিছু মানে কি??

আয়ান হাঁটু গেড়ে আমার সামনে বসে পরলো।

- এই মেয়ে তুমি কি আমার বউ হবা??
যদি হও কখনো তোমায় কাঁদতে দেবোনা,,
আমার মনের উঠোনের সমস্ত সুখ তোমার জন্য কুড়োবো।
হাজারো কষ্টের মাঝে তোমার ঠোটের এক কোনে একটু হাসি ফোঁটানোর চেষ্টা করবো।
বিনিময়ে শুধু একটু ভালবাসবে আমায়।

এর থেকে ভালো করে প্রপোজ করতে পারিনা প্লিজ রাজি হয়ে যাও।
- নাহ্।
- কেনো?
- এতদিন কেনো বলো নি??
- এই দিনটা তো এতদিন আসেনি।
- ওহ্ তাই??
- হুম,, এবার তো রাজি হয়ে যাও পা ব্যাথা করছে তো।
- হুম,, রাজি আছি এবার উঠে পরো।
- দাঁড়াও আর একটু বাকি আছে।
- আর কি?
- তোমার পা টা দাও।
- হুম।

তারপর আয়ান আমার পায়ে একটা পায়েল পরিয়ে দিয়ে বললো........

- নীলা তুমি যখন হাঁটবে এই পায়েলের শব্দে শুধু একটা কথাই বুঝতে পারবে

ভালবাসি........
ভালবাসি........
ভালবাসি।।

সমাপ্ত......
 

Khaled Al Mahmud

সুপার ব্লগার
#2
চমৎকার একটা গল্প পড়লাম
 
Last edited:

Arafat Tonmoy(বুনোহাঁস)

সুপার ব্লগার
#5
আপনার গল্প লেখার হাত ভালো।
বানানের দিকে আরেকটু সচেতন হবেন।
 

বর্ণমালা এন্ড্রয়েড এপ

নতুন যুক্ত হয়েছেন

Top