• সুখবর........ সুখবর........ সুখবর........ বর্ণমালাকে খুব শিঘ্রই পাওয়া যাবে বাংলা বর্ণমালার ডোমেইন "ডট বাংলায়" অর্থাৎ আমাদের ওয়েব এড্রেস হবে 'বর্ণমালাব্লগ.বাংলা' পাশাপাশি বর্তমান Bornomalablog.com এ ঠিকানায়ও পাওয়া যাবে। বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণতা পাবে আমাদের বর্ণমালা।

মাগফিরাতের উপায়(১ম পর্ব)।। মুহিব্বুল্লাহ খন্দকার

#1
images-2-jpeg.342

ইস্তিগফার
ইস্তিগফার যেকোন সময় করা যেতে পারে। তবুও এব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
يَنْزِلُ رَبُّنَا تَبَارَكَ وتَعَالَى كُلَّ لَيْلَةٍ إلى السَّمَاءِ الدُّنْيَا حِينَ يَبْقَى ثُلُثُ اللَّيْلِ الآخِرُ يقولُ: مَن يَدْعُونِي، فأسْتَجِيبَ له مَن يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيَهُ، مَن يَسْتَغْفِرُنِي فأغْفِرَ له​
আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা প্রত্যেক রাতে দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন। যখন রাতের শেষের একতৃতীয়াংশ বাকি থাকে তখন তিনি বলেন- আছো কী কেউ আমার কাছে দুআ করার; আমি তার দুআ কবুল করব। কে আমার কাছে চাইবে; আমি তার ঝুলি ভরে দেব। কে আছে যে ইস্তিগফার করবে অর্থাৎ গুনাহর জন্য ক্ষমা চাইবে; আমি তাকে ক্ষমা করে দেব। [সহিহ বুখারি: ১১৪৫, মুসলিম: ৭৫৮]
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন –
وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ وَمَن يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا اللَّهُ وَلَمْ يُصِرُّوا عَلَىٰ مَا فَعَلُوا وَهُمْ يَعْلَمُونَ​
যখন তাদের কাছ থেকে কোন ফাহেশা কর্ম সংঘটিত হয়ে যায় অথবা কোন গুনাহ করে বসে তখন তাদের আল্লাহর কথা স্মরণ হয়ে যায় ফলে তারা নিজেদের গুনাহর জন্য ইস্তিগফার করে; আর আল্লাহকে ছাড়া কে গুনাহ মাফ করতে পারে? আর তারা যা করে ফেলে জেনেশুনে তার পুনরাবৃত্তি করে না। [সুরা আলে ইমরান: ১৩৫]

ইস্তিগফার করার জন্য বিশেষ মাস
রমজানুল মুবারক ইস্তিগফার করার জন্য বিশেষ মাস। এ মাসে ইস্তিগফার করার বেশী বেশী ইহতিমাম করা উচিত। ঐ ব্যক্তির কপালমন্দ যে এই বরকতময় মাস পেয়েও আল্লাহর রহমত হতে মাহরুম হয়ে যায়।তার ভাগ্যে কেবল বদদুআই লিখা থাকে।
[সহিহ ইবনে খুজাইমা: ১৮৮৮, তিরমিজি: ৩৫৪৫, সহিহ ইবনে হিব্বান: ৯০৪, আদাবুল মুফরাদ: ৬৪৬]

ক্ষমা চাওয়ার জন্য শ্রেষ্ঠ রাত্রি যেই রাত্রিটা কদরের রাত্রি হওয়ার চান্স আছে সেই রাত্রি গুনাহ মাফের জন্য বেশী বেশী দুআ করা চাই। যেহেতু হযরত আয়েশা সিদ্দিকা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত আছে: তিনি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলািইহি ওয়া সাল্লামকে, হে আল্লাহর রাসুল! যদি লাইলাতুল কদর আমার ভাগ্যে নসিব হয় তাহলে আমি কী করবো? তিনি বললেন – এ দুআ পড়বে। দুআটি এই -
اللهم إنك عفو تحب العفو فأعف عني​
অর্থ: হে আল্লাহ আপনি নিঃসন্দেহে মাফকারী, মাফ করা কে পছন্দ করেন। আমাকে মাফ করে দেন।
[ইবনে মাজাহ দুআ অধ্যায়, হাদিস নং ৩৮৫। এই হাদিসের রাবি আবদল্লাহ ইবনে বুরাইদা এর উম্মুল মুমিনিন রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে সিমা সাব্যস্ত নয়। ইমাম দারু কুতনি এমনই বলেছেন।]

ইস্তিগফারের বিভিন্ন ফায়দা ও উপকারিতা
আল্লাহ তাআলা বলেন:

আরও যে, তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট ক্ষমাপ্রার্থনা কর ও তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন কর, তিনি তোমাদেরকে এক নির্দিষ্ট সময়ের জন্য উত্তম জীবন উপভোগ করতে দিবেন। আর তিনি প্রত্যেক গুণীজনকে তার প্রাপ্য মর্যাদা দান করবেন।. . . . . [সুরা হুদ: ৩]
তিনি দুনিয়াতে উত্তম ভোগসামগ্রী দিবেন এর দ্বারা উদ্দেশ্য হল, মৃত্যুর পর আখিরাতে বিশেষভাবে অনুগ্রহে আরাম দান করবেন।
হযরত নুহ আলাইহিস সালাম স্বীয় জাতিকে বলেন:
فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا (10) يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُمْ مِدْرَارًا (11) وَيُمْدِدْكُمْ بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَلْ لَكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَلْ لَكُمْ أَنْهَارًا (12​
আমি তাদেরকে বললাম, তোমরা তোমাদের প্রভূর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর; নিশ্চয় তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর আসমান হতে ভারী বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। এবং মাল ও সন্তানাদী দিয়ে তোমাদেরকে তিনি সাহায্য করবেন, তোমাদেরকে দান করবেন বাগান সমূহ এবং তোমাদের জন্য নহর সমূহ প্রবাহিত করবেন। [সুরা নুহ: ১০-১৩]

এভাবে হযরত হুদ আলাইহিস সালাম এসে তার কওমকে বলেছেন:
وَيَا قَوْمِ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُم مِّدْرَارًا وَيَزِدْكُمْ قُوَّةً إِلَىٰ قُوَّتِكُمْ وَلَا تَتَوَلَّوْا مُجْرِمِينَ (52)
হে আমার জাতি! তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর, এবং তাওবা কর। তিনি তোমাদের ওপর বর্ষণকারী বৃষ্টি প্রেরণ করবেন এবং তোমাদেরকে শক্তির ওপর শক্তি বৃদ্ধি করে দিবেন। আর তোমরা গুনাহগার হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিও না । [সুরা হুদ: ৫২]
ইস্তিগফারের বিভিন্ন বরকতে ইলাহিয়া হাসিল হওয়ার পাশাপাশি শক্তি ও সামর্থের মাঝেও বৃদ্ধি হয়।

সাইয়িদুল ইস্তিগফার
বুখারি শরিফে এ হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে -
حَدَّثَنِي شَدَّادُ بْنُ أَوْسٍ رَضِي اللَّهم عَنْهم عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهم عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَيِّدُ الِاسْتِغْفَارِ أَنْ تَقُولَ اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ قَالَ وَمَنْ قَالَهَا مِنَ النَّهَارِ مُوقِنًا بِهَا فَمَاتَ مِنْ يَوْمِهِ قَبْلَ أَنْ يُمْسِيَ فَهُوَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ وَمَنْ قَالَهَا مِنَ اللَّيْلِ وَهُوَ مُوقِنٌ بِهَا فَمَاتَ قَبْلَ أَنْ يُصْبِحَ فَهُوَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ
শাদ্দাদ ইবনে আওস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: সাইয়িদুল ইস্তিগফার হল এটি যে, বান্দা বলবে –
اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ​
অর্থাৎ হে আল্লাহ তুমি আমার রব। তোমাকে ছাড়া কোন মাবুদ নেই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ এবং আমি তোমার বান্দা। আমি তোমার অঙ্গীকার ও ওয়াদার ওপর আছি যতটুকু আমার সামর্থ আছে। আমি আমার সকল আমলের খারাবি হতে তোমার আশ্রয় চাইছি। এবং আমার ওপর তোমার যতটুকু নেআমত ততটুকু স্বীকার করছি এবং নিজের সমস্ত গুনাহের স্বীকারকারী। একারণে আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন, কেননা তোমাকে ছাড়া গুনাহকে ক্ষমাকারী কেউ নেই।

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন যে, এটি এক্বিনের সাথে দিনের বেলায় পড়বে এবং ঐ দিন সন্ধার পূর্বে মৃত্যু হয়ে যায় তাহলে সে জান্নাতি। আর যে ব্যক্তি এক্বিনের সাথে রাতের বেলায় পড়বে আর সকাল হওয়ার আগেই ইন্তিকাল করবে তাহলে সেও জান্নাতি। [বুখারি: ৬৩০৬]
***
(গুনাহোঁ কি মাআফি কে ১০ আসবাব নামক বই হতে অনূদিত)​
 
Last edited by a moderator:

বর্ণমালা এন্ড্রয়েড এপ

নতুন যুক্ত হয়েছেন

Top