• সুখবর........ সুখবর........ সুখবর........ বর্ণমালাকে খুব শিঘ্রই পাওয়া যাবে বাংলা বর্ণমালার ডোমেইন "ডট বাংলায়" অর্থাৎ আমাদের ওয়েব এড্রেস হবে 'বর্ণমালাব্লগ.বাংলা' পাশাপাশি বর্তমান Bornomalablog.com এ ঠিকানায়ও পাওয়া যাবে। বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণতা পাবে আমাদের বর্ণমালা।

মায়ের ভালোবাসা ।। ওমর ফারুক

Omar Faruk

নতুন সদস্য
#1
images-1-jpeg.314

যৌবন-জোয়ারে উত্তেজিত হয়ে নিজেদের দৈহিক চাহিদা মেটানোর জন্য তুমি আর বাবা পরস্পরে রতিক্রিয়ায় লিপ্ত হয়েছো! তারপর কিছুক্ষণ উন্মাদ হয়ে একে অপরের দেহকে ভোগ করার পর তোমার ডিম্বাণু আর বাবার শুক্রাণু মিলে মিশে একাকার হয়ে জরায়ুর দিকে যাত্রা করে!

সেখানে অসংখ্য শুক্রকীট ছিলো। কিন্তু সবার সাথে প্রতিযোগিতা করে একটা বিজয়ী হয়ে তোমার জরায়ুতে স্থান দখল করে! সেই শুক্রকীট স্থান দখলের পেছনে তোমার কোনো হাত ছিলো না।

তারপর কিছুদিন তোমার পেটে থেকে সেই শুক্রকীট জন্মলাভ করে!

এরপর সেটাকে বাঁচিয়ে রাখতে হয় বলে বাঁচিয়ে রেখেছো! তবে এর পেছনেও তোমাদের স্বার্থ ছিলো।

জন্ম দিয়েছো যৌবনের তাড়নায়! আর বাঁচিয়ে রেখেছো অন্নের আশায়! তোমাদের বার্ধক্যে যেনো আমি পাশে দাঁড়াতে পারি--এই প্রত্যাশায়!

আহামরি কোনো অবদান আমার উপর তোমাদের পক্ষ থেকে আদৌ ছিলো বলে আমি মনে করি না!

নিজ ছেলের মুখে এই ধরনের নোংরা, অশ্রাব্য কথাগুলো শুনে হামিদা বেগমের দাঁত রাগে কটমট করতে লাগলো।চোখ দুটি শোল মাছের চোখের মতো লাল টকটকে হয়ে জ্বলছে!

মনে মনে বলছে--হায় নিরহংকারী উদার মাটি, তুমি ফেটে চৌচির হয়ে যাও! আমি ভেতরে লুকিয়ে যাই। হে নীলিমা ভরা সুবিশাল আকাশ, তোমার রূঢ়তা, তোমার নিনাদ তোমার হুহুঙ্কার এখন কোথায়?! বজ্রপাতে আমাকে জ্বালিয়ে দাও। আমি শান্তি পাই!!
হে মৃত্যুর মহান ফেরেশতা, তোমার ডায়েরিতে কি আমার নাম লেখা নেই?! খোদার আরশের সেই বড়ইগাছের পাতা কি এখনো ঝরে নি?! এ জীবন বড় কষ্টের। ছেলের হাতে এভাবে অপমানিত হওয়ার কষ্ট আর সইছে না!

রাগে অতিরিক্ত উত্তেজিত হলে হামিদা বেগম ভালো করে কথা বলতে পারেন না।তোতলামি করেন। এখনও তাই হচ্ছে!

তার বড় ছেলেটা এরকম ছিলো না। ছোটোবেলায় মায়ের বাধ্য ছিলো খুব। এখন বড় হয়ে হঠাৎ করেই বিগড়ে গেছে! কোনো রূপসী লাবণ্যময়ীর ফাঁদে পা দিয়েছে মনে হয়!

বিকেল পাঁচটায় হামিদা বেগমের স্বামী মজিদ সাহেব বাড়ি ফিরেন। শরীর থেকে ঘামের তীব্র দুর্গন্ধ বেরুচ্ছে!

পড়নে টেট্রন কাপড়ের লুঙ্গি। গায়ে গলা কাটা সাদা পাঞ্জাবি। কাঁধে পুরাতন একটা গামছা ঝুলানো। পায়ে সস্তা স্যান্ডেল।
দেখতে মজিদ সাহেব খুবই নিরীহ প্রকৃতির!

মজিদ সাহেবের এক হাতে বাজারের ব্যাগ। আরেক হাতে একটা সিরাজী কবুতর। কবুতর এবং এজাতীয় পাখিগুলো সাধারণত মানুষ জোড়া মিলিয়ে কিনে। বেজোড় কিনে না। মজিদ সাহেবের হাতে বেজোড় কবুতর দেখে হামিদা বেগম জিজ্ঞেস করলো--

_ কীগো, একটা কইরা কবুতইর আনলা যে?!

_ আনছিলাম দুইটাই! একটা আনবার সময় পথে মইরা গেলো!
তবে অদ্ভুত ঘটনাটা কী জানো!?
বেটায় কইছিলো কবুতইর একটা পায়রা। একটা পায়রী। পথে আইসা বুঝলাম দুনোটাই পায়রা!

_ কেমনে বুঝলা?

_ ডাক শুইনা৷ কবুতইর কোনটা পায়রা আর কোনটা পায়রী এটা বুঝতে হয় ডাক শুইনা! হাঁসের বেলায়ও তাই।

_ এইটা কি তাইলে পায়রা?

_ হ!

কথা শেষ হওয়ার সাথে সাথে কবুতরটা "বাক্ বাকুম্" শব্দে ডাকতে শুরু করলো। ভাবসাবটা এমন--সে যে পায়রা, সে যে পুরুষ এটা তার প্রমাণ করতে হবে। যেনো পুরুষ হয়ে জন্মানোর মাঝেই মহাবিরত্ব! কৃতিত্ব, সফলতা! নারী জাতি অপয়া, অধম! সমাজের বুঝা। সে পায়রা হয়ে কেনো পায়রীর উপাধি নিবে!

ইসলাম পূর্ববর্তী সময়ে জাহেলি যুগে যে নারীবিদ্বেষী মানসিকতা ছিলো--তা এখনো সমাজে রয়ে গেছে! নারী ছাড়া একটা পরিবার অপূর্ণ--এটা অনেকেই বুঝতে চায় না!

পায়রার ডাক শুনে হামিদা বেগমের বুকটা কীরকম ধক করে উঠলো। একটা শূন্যতা হঠাৎ তাকে গ্রাস করে ফেললো। দুইটা পায়রার একটা মারা গেছে--এটা অস্বাভাবিক কিছু না। স্বাভাবিক ঘটনা। পশুপাখি মরতেই পারে৷ এটা নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কী আছে?!

তবে হামিদা বেগম চিন্তিত না হয়ে পারছে না। তার ঘরেও দুইটা ছেলে৷ একটা ছেলে যদি হঠাৎ মারা যায়! বড় ছেলেটা বখাটে, অবাধ্য! তাতে কী! নিজ পেটের সন্তান। মায়া কম কিসের!! দুনো ছেলের জন্যই তার সমান দরদ!

বড় ছেলেটা কিছুক্ষণ আগেই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে গেছে। কিন্তু মৃত্যুর ব্যাপারটা সামনে আসতেই সব ভুলে গেলেন তিনি! সন্তানের অপরাধ মা-বাবা মনে রাখে না!

এখন সন্ধ্যা।লাল সূর্যটা সারাদিন আলো বিলিয়ে পশ্চিম আকাশে মেঘের আড়ালে লুকিয়ে পড়েছে বেশ আগেই। এতক্ষণ থেকে থেকে ডাকছিলো আকাশ ৷ এখন কুয়াশার মতো নিবিড় হয়ে নামছে বৃষ্টি ।সেই বৃষ্টির কোনো আওয়াজ নেই। কোনো শব্দ নেই।

চারদিকে কীরকম ভ্যাপসা আবহাওয়া। বৃষ্টির ফোঁটা শরীরে পড়লে কেমন আঠালো লাগে।

একটা সময় বৃষ্টি থেমে যায়।নিশাচরদের আনাগোনাও কমে। ঝিঁঝিঁ পোকা, ভুতুম প্যাঁচা আর নাম না জানা পাখিরাও ডাকতে ডাকতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। নীরব প্রকৃতি তখন আরো নীরব হয়। রাতের অস্বাভাবিক অন্ধকার আরো বেড়ে যায় ৷ গভীর রাত হয় আরো গভীর।

প্রকৃতির এই রহস্যময়ী মৌনতায় হামিদা বেগমের বুকের শূণতা ভাব আরো বাড়ে। অজানা এক আতঙ্কে বারবার কেঁপে উঠে তার মন।

হঠাৎ পাশের ঘর থেকে বড় ছেলের ভয়ংকর চিৎকারের আওয়াজ শুনা যায়!

বাড়ির সবাই দৌড়ে যান সেখানে।

অদ্ভুত ব্যাপার। একটু আগেও যে ছেলেটা সুস্থ ছিলো এখন হঠাৎ করেই রক্ত বমি করছে। গলগল করে রক্ত বেরুচ্ছে নাকমুখ দিয়ে। সবাই ঘাবড়ে যান। এটা কী করে হয়!

মায়ের অভিশাপ লেগেছে নাকি!?

লাগতেও পারে। অভিশাপ মুখে বলে দিতে হয় না!মনে কষ্ট পেলেই হয়!

আর যদি এটা অভিশাপ না হয়--তাহলে নির্ঘাত আল্লাহর শাস্তি! মায়ের কষ্টে খোদার আরশ কেঁপে উঠে! এটা সবারই জানা।

হামিদা বেগমের ধারণা কি তাহলে সত্যি হবে?!
বড় ছেলেটা কি সত্যিই মারা যাবে?
যেভাবে রক্ত বেরুচ্ছে--বাঁচার কথা না!

হামিদা বেগম ছেলের মাথাটা কোলে নিয়ে পরম যত্নে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন। মজিদ সাহেব তাড়াহুড়ো করে ডাক্তার খবর দিতে গিয়েছেন। ছোটো ছেলেটা গিয়েছে কবিরাজ ডাকতে।

এর মধ্যে বড় ছেলেটা বললো--- মা আমি মাছ খাবো!

খাবারের জন্য ঘরে অনেককিছুই ছিলো। তার প্রিয় খাবার খাসির রেজালা। সেটাও ছিলো । এসব বাদ দিয়ে মাছ চাইলো কেনো?! নাকি মৃত্যুর সময় মানুষ প্রিয় জিনিসের কথা ভুলে যায়!

হয়তো ভুলে যায়! ভুলে যাওয়াটা স্বাভাবিক।

হামিদা বেগম দৌড়ে রান্নাঘরে গেলেন।

নাহ। মাছ রান্না করা নেই। তড়িঘড়ি করে রান্না করে রেকাবিতে করে ভাজা মাছ নিয়ে হাজির হলেন ছেলের শিয়রে।

এদিকে মজিদ সাহেব ডাক্তার নিয়ে হাজির হয়েছেন৷ কবিরাজও এসেছে।

কিন্তু যার জন্য এতো আয়োজন--সেই মানুষটা আর নেই। চলে গেছে না ফেরার দেশে।

সবাই নির্বাক চোখে তাকিয়ে আছে বড় ছেলের নিথর দেহের দিকে। ডাক্তারের হাতে তার পথ্যের ব্যাগ। কবিরাজের হাতে ঝাড়ফুঁকের সামানাদি। হামিদা বেগমের হাতে ভাজা মাছ।

"উঠ্! বাবা,উঠ্। দেখ্ তোর মা মাছ ভেজে নিয়ে এসেছে! খাবি না মায়ের হাতের রান্না!? তুই রাগ করে আছিস? আচ্ছা! সুস্থ হয়ে আমাকে যতো ইচ্ছে বকিস! আমি কিচ্ছু বলবো না! উঠ্ বাবা,উঠ্!"

ছেলেটা আর কোনো উত্তর দেয় না।
হামিদা বেগম ঘরের মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে। হাউমাউ করে কাঁদে।

কাঁদুক! কেঁদে ছেলে হারানোর যন্ত্রণা দূর করুক৷

হে প্রকৃতি, তুমি দেখো মায়েরা কীরকম উদার হয়!
হে মাটি, তুমি তোমার উদারতা নিয়ে গর্ব করো?! মায়ের উদারতার সামনে তুমি ঝরা পাতা।

হে আকাশ, তুমি তোমার বিশলতা নিয়ে খুব তো অহংকার করতে! দেখো, মায়ের হৃদয়ের বিশালতা কতো মহান,কতো বিস্তৃত !

সন্তানের প্রতি মায়ের এমন দরদ, এমন নিঃস্বার্থ ভালোবাসা হাজার বছরের পুরনো!

এর পর থেকে হামিদা বেগম জীবনে আর কোনোদিন মাছ খান নি। যে মাছ মৃত্যুমুখে তার ছেলে খেতে পারে নি সেই মাছের প্রতি তার ঘৃণা, তার অনিহা আসাটা স্বাভাবিক। কারণ হামিদা বেগম শুধু একজন মহিলা নন-- তিনি একজন মা!
 

Sps Shuvo

এক্টিভ ব্লগার
#3
মনো মুগ্ধকর লেখনী। শুভ কামনা রইলো।
 

বর্ণমালা এন্ড্রয়েড এপ

নতুন যুক্ত হয়েছেন

Top