• সুখবর........ সুখবর........ সুখবর........ বর্ণমালাকে খুব শিঘ্রই পাওয়া যাবে বাংলা বর্ণমালার ডোমেইন "ডট বাংলায়" অর্থাৎ আমাদের ওয়েব এড্রেস হবে 'বর্ণমালাব্লগ.বাংলা' পাশাপাশি বর্তমান Bornomalablog.com এ ঠিকানায়ও পাওয়া যাবে। বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণতা পাবে আমাদের বর্ণমালা।

"রাশিদ হাসান-২য় পর্ব"||নাবিল হাসান।

নাবিল হাসান

সুপার ব্লগার
#1
2019-01-03-16-57-29-673577381-jpg.245
চারদিক একবার ভালো করে দেখে নিল রাশিদ।না আর কেউ নেই।সোঝা সিড়ি দিয়ে উঠে এল উপরে।দু'পাশে দুটো ফ্লাট, ড্যেনির কাছ থেকে পাওয়া চাবি দিয়ে দুই দর্জায়ই পরীক্ষা করল, বা পাশের দর্জা খুলা গেল।তাহলে এখানেই হয়ত মেয়েটা আছে।নারী কন্ঠের ঘোঙানি শুনা যাচ্ছে।পাশের রুম থেকেই আসছে শব্দটা।নব ঘুরাতেই দর্জা খুলে গেল,ঘরের এক কোনে ঘুটিশুটি মেরে বসে আছে একটি মেয়ে।বয়স আনুমানিক ২৩/২৪ বছর হবে,মেয়েটা নিগ্রো মনে হল।

রাশিদকে দেখে প্রথমে ভয় পেলেও পরে রাশিদ আশ্বাস দেওয়ায় মেয়েটা সাহস ফিরে পেয়েছে।হাত পায়ের বাধন খুলে দিল রাশিদ।
-'আপনি কে জানিনা,কিন্তু আপনি আমায় যেভাবে এই বিপদ থেকে বাঁচিয়েছেন আমার মনে হচ্ছে আপনি আল্লাহ প্রদত্ত ফেরেস্তা।'
-'না বোন এটাতো আমার দায়িত্ব। আর আল্লাহর শুকরিয়া আদায় কর। কারন কৃতজ্ঞতাতো তারই প্রাপ্য।'
-'আপনি মুসলিম? '
-'হ্যা বোন আমি মুসলিম।চলেন এখান থেকে তাড়াতাড়ি বের হতে হবে।ওরা এসে পড়তে পারে যেকোনো সময়।'
-'জি চলেন। '
বাংলো থেকে বেরিয়ে রাস্তায় চলে আসল তারা।ভাগ্য ভালো সাথে সাথে ট্যাক্সিও পেয়ে গেল।
.
.
খাবার নিয়ে ফিরে আসলো ওরা তিনজন।
-'ড্যেনি,ড্যেনি...কোথায় গেল ছেলেটা?'
-'মনে হয় বউয়ের সাথে ফোনে কথা বলছে। নতুন বিয়ে করেছেতো!'তিনজনের একজন কথাটা বলল।
-'তোমরা কি কিছু শুনতে পেলে?মনে হচ্ছে ওই ঝুপের আড়ালে কেউ আছে।সাবধানে....'

সবাই হাতে পিস্তল নিয়ে ঝুপের দিকে এগুলো।
-'এতো ড্যেনি!এর এই অবস্থা হল কিভাবে?'
-'তাড়াতাড়ি ওর বাধন খুলে দাও।আর জেমস তুমি উপরে যাও। গিয়ে দেখ মেয়েটা আছে কিনা!'
-'স্যার মেয়েটা পালিয়েছে।',উপর থেকে জেমস বলল।
-'স্যার ও একা এসেছিল,আমাকে পিছন থেকে আক্রমণ করেছিল তাই সুবিধা করতে পারিনি।দেখে মনে হল এশিয়ান ছেলে।',ড্যেনি বলল।
-'কার এত বুকের পাঠা! কে এই ছেলে?আর এশিয়ান ছেলে এখানে এসে এত সাহস করার কথা না।',সরদার গোছের লোকটি বলল।
-'আমার মনে ও নতুন এসেছে।আমাদের সম্পর্কে জানেনা।তাই এত সাহস করেছে।',জেমস।
-'বেটাকে উচিৎ শিক্ষা দিতে হবে।সবাই খেয়ে নাও।আজ রাত হবে ওর জীবনের শেষ রাত।'
.
বাড়ির সামনে এসে ট্যাক্সিকে বিদায় দিয়ে ঘরে যাওয়ার জন্যে পা বাড়াল ওরা।
বাড়িতে সবাই উদ্দ্বিগ্ন ছিলো। ওরা প্রবেশ করতেই বৃদ্ধ মহিলা এসে মেয়েটিকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করে দিলেন।হঠাৎ রাশিদের দিকে চোখ পড়তেই নিজেকে সামলে নিলেন।
-'মা উনিই আমাকে বাঁচিয়েছন।উনি সময় মত না পৌছালে কি যে হত....!'
-'তুমি কে বাবা?ফেরেস্তার মত এসে আমার মেয়েকে বাচালে!',বৃদ্ধা মহিলা।
-'ন মা,এটাতো আমার দায়িত্ব আমার বোন বিপদে পড়লেতো আমাকেই এগিয়ে আসতে হবে, নাকি!'
-'দেখো কি অভদ্রতা, মেহমানকে এতসময় কেউ দাড়িয়ে রাখে!এই নাদিয়া মেহমানের বসার জন্যে পিড়ি এনে দে।
তো বাবা তোমার পরিচয় তো জানা হল না!'
-'আমি রাশিদ হাসান,বাড়ি বাংলাদেশে।এখানে এসেছি একটা গুরুত্বপুর্ন কাজে।আজই এসেছি।',পিড়ি'তে বসতে বসতে বলল রাশিদ।
-'অনেক জার্নি করে এসেছ এখন একটু রেস্ট নাও বাবা।এই নাদিয়া মেহমানকে তার রুম দেখিয়ে দে।'
-'জ্বি আম্মি যাচ্ছি।'

আলিসান বাড়ি।ঘরগুলো অনেক গোছানো।দেখে নিজের বাড়ির কথা মনে পড়ে গেল।মা এভাবেই ঘর গোছিয়ে রাখতেন।চোখের কোনায় অশ্রু এসে গেল রাশিদের।বাবাকে দেখা হয়নি আর মা মারা গেছেন তার ১৪ বছর বয়স থাকা অবস্থায়।
নাদিয়ার কথায় সম্মতি ফিরে পেল রাশিদ।
-'আপনার যা যা প্রয়জন সবই আছে এখানে।কুনো কিছুর দরকার হলে বলবেন।'
-'হুমম ঠিক আছে।'
-'নাদিয়া এখানে বস একটু কথা আছে তোমার সাথে।'
-'আপনি ক্লান্ত আগে বিশ্রাম নেন পরে কথা বলবেন।'
-'না, কথাগুলো খুব জরুরি এখনই বলতে হবে।'
-'হুমম ঠিক আছে বলেন।'
-'তুমি কি এদেরকে চিনো?'
-'এদেরকে চিনিনা,কিন্তু কারা করেছে তা বুঝতে পেরেছি।'
-'কার উপর তোমার সন্দেহ হয়?'
-'আপনি হয়ত জানেন আমাদের গিনি অনেক গরিব একটা দেশ।আর তাই এই সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু গোষ্ঠী বিভিন্ন অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে।সম্প্রতি আমাদের বাড়ির কিছু অংশ সহ এর আশেপাশের কিছু বস্তি এরা দখল করতে চাইছে।তারা অনেক বড় একটা সিন্ডিকেট। গরিবদের অধিকার আদায়ে আমাদের একটা সংগটন আছে।আমি এর সভাপতি।কয়েকদিন ধরে সংগটনের নেতৃত্ব পর্যায়ের লোকদের মধ্যে যাদেরকে তারা হুমকি মনে করছে তাদেরকে গুম করে দিচ্ছে।এ পর্যন্ত ৫জন গুম হয়ে গেছেন।আমার কারনে এই জায়গা তারা দখল করতে পারছেনা।আমি কোর্টে মামলা দিয়েছি,শুনানি চলছে।আজ শুনানি শেষে ফিরার পথে ৪জন লোক আমাকে কিডন্যাপ করে মাইক্রোতে তুলে।এরপরের ঘটনাতো আপনার জানা।'
-'বিষয়টা অনেক জঠিল। আচ্ছা ঠিক আছে ধন্যাবাদ তোমাকে।আর হা তোমাদের বাড়ির মেইন সুইচ কোথায়?'
-'প্রথমে যে ঘরে প্রবেশ করেছিলেন সেখানেই পশ্চিম দেয়ালে।কিন্তু একথা কেন জিজ্ঞেস করছেন?'
-'না এমনি জানার জন্যে।'

রাত প্রায় দুটো বাজে।ঘুম নেই রাশিদের চোখে।ওর কেন জানি মনে হচ্ছে ওরা আজ রাতে আসবেই।তাই আগে থেকে সব প্লান রেডি করে রেখেছে রাশিদ।
সময় ক্ষেপনের জন্যে পিডিএফ এ একটা বই পড়ছে।
হঠাৎ গাড়ি থামার শব্দ হল।সতর্ক হয়ে গেল রাশিদ।তাড়াতাড়ি উঠে বসল।
ওরা গাড়ি বারান্দায় প্রবেশ করতেই মেইন সুইচ অফ করে দিল রাশিদ......(চলবে)
 
Last edited by a moderator:

বর্ণমালা এন্ড্রয়েড এপ

নতুন যুক্ত হয়েছেন

Top