রিভিউ: "অলীকালোকে"

K.M. Akhlak

নতুন ব্লগার
#1
#অলীকালোকের_কিছু অংশ
.
জিঞ্জিরা বানুর ছোট ছেলে তাকে একটা চাকাওয়ালা চেয়ার কিনে দিয়েছেন।এর নাম নাকি “হুইল চেয়ার”।
প্রথমদিন ছেলে এসে যেদিন হাসিমুখে চেয়ার এনে বললেন,”আম্মা,এখন থেকে যেখানে খুশি,সারাবাড়ি বিনাকষ্টে ঘুরতে পারবেন”-তিনি ঘ্যানঘ্যানে গলায় বললেন,"কেনে?চেয়ার করিয়া ঘুরতাম কিতার লাগি?আমি কিতা হাঁটতে ফারিনানি?”
মনাই প্রতিদিন পড়ন্ত বিকেলে চেয়ার টা উঠানে রাখে।
দুপুরের কড়া রোদে চামড়ার গদির রঙ জ্বলে যেতে পারে,তাই হালকা রোদে সে চেয়ারটা রেখে যত্ন করে মুছে।
এসময় হানা দেন উত্তরপাড়ার ফর্সার মা।
বুড়ির নাকি প্রথম যে ছেলে হয়েছিল,সে ছিল ধবধবে সাদা,কিন্তু মরা।তাই লোকে তাকে ডাকে ফর্সার মা।
ফর্সার মা জিঞ্জিরাবানুর অনেক ছোট হলেও কুঁজো হয়ে হাঁটেন। এভাবেই বাড়ি বাড়ি ঘুরে ভিক্ষা করেন সারাদিন।তারপর বিকেলে লাঠিতে ভর দিয়ে ঠুকঠুক শব্দ করে এসে আগ্রহভরা চোখে হুইলচেয়ারের দিকে তাকান।
মনাই ধমকের সুরে বলে,"অই বুড়ি খবরদার হাত দিবানা কইলাম।এইটা আম্মার জিনিস।“
জিঞ্জিরা বানু খ্যানখ্যানে গলায় ডাকেন,"মনাই,ও মনাই।এদিকে আয় রে ফোয়া ।"
মনাই সাড়া দিয়ে কাছে গেলে তিনি বলেন,"আমারে ধরিয়া উঠানো বওয়া।আর ফর্সার মা রে চেয়ার করিয়া ঘুরা।“
মনাই জিঞ্জিরাবানুকে সাবধানে,হাতে ধরে উঠানে জলচৌকির উপর বসায়।তারপর ফর্সার মা কে হুইলচেয়ারে বসিয়ে ঠেলতে ঠেলতে উঠানময় ঘুরে বেড়ায় আর গিজগিজ করে, "বুড়ি হাঁটতে পারে তবু আম্মার চেয়ারে বইসা দোল খাইব।ইঃ!শখ কত!
আম্মায় ও যে কি,নিজে একদিনও চেয়ারটাত বসলনা।আরে,পুলা কিন্যা দিসে,কই আহ্লাদ কইরা বইব,তা না।আমি এখন ফকির বেটিরে চরাই।
অই বেটি,বেশী জাইত্যা বসবানা কইলাম,গদি জোর লাগলে ডুইবা যাইব,তখন আম্মায় বইয়া আরাম পাইবনা।“
ফর্সার মা নিশ্চিন্তমনে বসে থাকে,তার খুশির চোটে ফোকলা দাঁত বেরিয়ে আসে।
“ও মনাই,সব হইল রিযিক।তোর আম্মার উসিলায় আল্লাহ আমার মত ফকিন্নীরে বসায় বসায় দোল খাওয়াইতেসেন।সারাদিন হাঁইটা এরপর দোল খাইতে যে কি ভালা লাগে!“
জিঞ্জিরা বানু তাদের কথোপকথনে মিটিমিটি হাসেন।
“আল্লায় ভালা করুক সবার।ও মতিকাকা,আস্তে।মাথা ঘুরায় তো!”
মনাই দাঁতে দাঁত চেপে বলে“বুড়ি আমার নাম মনাই,মতি না।“
.
বই থেকে কিছু কথা

১. তুমিও সুন্দর।তোমার নামের মানে হইল শিকল,তুমি আমারে শিকল পড়ায় রাখবা।
২. তবে ওরা কি জ্বলে জ্বলে ঘুমোয়?
নাকি ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে জ্বলে?
মানুষ যেমন বেদনা নিয়ে ঘুমোয়,কিন্তু ঘুমের মাঝেও অন্তরটা জ্বালা করে উঠে।
৩. পাপের পথে কে ই বা মাথা উঁচু করে প্রবেশ করতে পারে?
শয়তানের দরজায় পাপীষ্ঠদের তো মাথা নিচু ই থাকে!
৪. "পানি খামু"।
"এইখানে পানি নাই,মধু আছে।মধু খাইবা?"
"আমারে দেইখা কি মাছি মনে হয় যে ভনভন করতে করতে মধু গিলমু?পানি থাকলে পানি দাও।"
৫. "বাজারের মেয়েমানুষেরা খারাপ,আর তাদের কাছে যারা যায় তারা বড় ভালপুরুষ!আমি ও রং মাখি গো মনু,কিন্তু তুমি যে অসময়ের মানুষ।"
৬. সকালে সে উঠে দেখে তার মায়ের ক্ষীণ শরীর টা শক্ত আর ঠান্ডা হয়ে গেছে।গোঙ্গানি নেই,শেষ ক'দিন যে জ্বর এসেছিল,তার তাপটুকু নেই একটুখানি।তবে কাল বাপ যে অষুধ দিয়েছিল,এতখানি কাজের অষুধ সেটা?
৭. এটা কোন নদী নয়,এটা একটা হাওড়।এর নাম প্রীতরেখা। ধরনীর বুকে প্রীতি এনে দেয়।
৮. দূর বেটি,কিয়ের লগে কি?তুই হইলি হইলদা পাখি,আর আমি কাক!
.
বইঃ অলীকালোকে
লেখকঃ নীলা হারুন
প্রচ্ছদঃ ধ্রুব এষ
প্রকাশনাঃ পরিবার পাবলিকেশন্স
প্রকাশকালঃ একুশে বইমেলা ২০১৯
মূল্য:২০০টাকা মাত্র
fb_img_1550379289982-jpg.264
 

Noman Sadi

নতুন ব্লগার
#2
বইটা কিনবো ইন শা আল্লাহ!
 

বর্ণমালা এন্ড্রয়েড এপ

ফেসবুকে বর্ণমালা ব্লগ

নতুন যুক্ত হয়েছেন

Top