• সুখবর........ সুখবর........ সুখবর........ বর্ণমালাকে খুব শিঘ্রই পাওয়া যাবে বাংলা বর্ণমালার ডোমেইন "ডট বাংলায়" অর্থাৎ আমাদের ওয়েব এড্রেস হবে 'বর্ণমালাব্লগ.বাংলা' পাশাপাশি বর্তমান Bornomalablog.com এ ঠিকানায়ও পাওয়া যাবে। বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণতা পাবে আমাদের বর্ণমালা।

হকস্টিক ।। নীলা রহমান

Nila Rahman

নতুন ব্লগার
#1
rape-jpg.20
নীলা রহমানের ব্লগ
বোঝ হবার পর থেকেই মাকে পাইনি, মায়ের আদর, স্নেহ, ভালবাসা কেমন হয় তাও জানিনা, আমার সমবয়সী সব ছেলে মেয়েরা মায়ের হাতে মাখা ভাত খেয়ে স্কুলে যেতো কিন্তু আমার বেলায় তেমনটা হতো না, ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে রান্না থেকে শুরু করে সমস্ত কাজ শেষ করতে হতো আমাকে, তারপর বাবাকে খাইয়ে নিজে খেয়ে স্কুলে আসতে হতো, তবুও কোনো ক্লান্তি ছিলো না আমার, লেখাপড়ায়ও অনেক ভালো ছিলাম আমি, সবমিলিয়ে আমরা বাবা মেয়ে খুব ভালোই ছিলাম, বাবা বলতো "দেখে নিস মা লেখা পড়া শেষ করে তুই একদিন অনেক বড় একটা কিছু করবি সেদিন আমার সব দুঃখ মুছে যাবে "
তখন বাবার স্বপ্ন পূরণ করাই ছিলো আমার একমাত্র লক্ষ, এতটা পরিশ্রম করার পরও আমি আমার লেখা পড়াটা ঠিকমতই করতাম।

আমার বাবা রিকশা চালাতেন, আর সেই জন্য খুব একটা সময় দিতে পারতেন না আমাকে, সেই সকালে বেড়িয়ে যেতেন কখনো রাত দশটা, এগারোটা বেজে যেতো বাড়ি ফিরতে ফিরতে, এতটা সময় আমি একাই থাকতাম আমার ঘরে।

সেদিন রাতে ঝুম বৃষ্টি হচ্ছিলো, আমি পড়ার টেবিলে বসে পড়ছিলাম, হঠাৎ দরজায় খট খট আওয়াজ, ভাবলাম বাবা এসেছে, দরজাটা খুলে দিলাম, নয়ন ভাইয়া ঘরে ঢুকলো, আমি ভাইয়াকে বললাম এত রাতে সে আমার ঘরে কেনো? আমার কথার কোনো জবাব দেয়নি সে, নয়ন ভাইয়া আমার হাত দুটো খুব শক্ত করে চেপে ধরলো, তার চোখে মুখে আমি কেমন যেনো ভয়ংকর দৃষ্টি দেখতে পেয়ছিলাম তখন।

আমার প্রচণ্ড ভয় হতে লাগলো, খুব জোরে চিৎকার করতে লাগলাম আমি, কিন্তু আমার সেই চিৎকার শুনতে পায়নি কেও , নয়ন ভাইয়ের হাতে পায়ে ধরেও সেদিন রক্ষা পাইনি আমি, আমার সর্বস্ব হারিয়ে ফেলেছিলাম সেদিন, তারপর মায়ের ছবিটা বুকে ধরে খুব কেঁদেছিলাম, আর ভাবছিলাম আজ যদি মা বেঁচে থাকতেন তাহলে হয়তো এমনটা হতো না আমার জীবনে।

সেদিনও গলায় দড়ি দিয়েছিলাম মরে যাবো বলে, কিন্তু মরতে পারিনি, ভাবলাম আমি মরে গেলে আমার বাবার কি হবে!
এই ভেবে মরিনি আমি, পরদিন সকালে নয়ন ভাইয়ার মাকে সবটা বললাম আমি, কিন্তু তিনি আমাকে চুপ থাকতে বললেন, তিনি বললেন আমি যদি এসব নিয়ে বেশী কথা বলি তাহলে খুব খারাপ হবে, তাই ভয়ে আর কিছু বলিনি আমি।

নিয়তিকে মেনে নিয়েছিলাম, কিন্তু কথায় আছে না ভাগ্যের লিখন না যায় খণ্ডন, আমার বেলায়ও ঠিক সেটাই হলো।

কিছুদিন পর থেকে আমার শরীরটা কেমন যেনো খারাপ যাচ্ছিলো, কিছু খেতে পারতাম না আমি, বাবা বলতো আমি নাকি শুকিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু কেনো এমন হচ্ছে কিছু বুঝতে পারতেছিলাম না খুব ভয় হচ্ছিলো আমার, তারপর একসময় জানতে পারলাম যে আমি নয়ন ভাইয়ার সন্তানের মা হতে যাচ্ছি।

আমার মাথায় তখন আকাশ ভেঙে পরলো,আমি নয়ন ভাইয়াকে সবটা বললাম, নয়ন ভাইয়া আমার কথা গুলো শুনার পর আমায় ওই ব্রিজের ওপর দাঁড় করিয়ে বললো, " তোর পাপটা মুছে ফেলার এই একটা উপায়ই আছে এখান থেকে ঝাপ দেওয়া যা ঝাপ দে ", এটা বলে নয়ন ভাইয়া চলে যায়, তারপর......

- তারপর তুমি মরার জন্য ব্রিজের ওপর থেকে নদীতে ঝাপ দিতে চেয়েছিলে তাই তো! কিন্তু একবারও কি ভেবে দেখেছিলে তোমার গর্ভে একটা নিষ্পাপ শিশু রয়েছে, ওর তো কোনো পাপ নেই, তাহলে ও কেনো পৃথিবীর আলো দেখতে পাবেনা! ভাবোনি এসব তাই না? (আমি)
- ভেবেছিলাম অনেক কিন্তু ভেবেই কি লাভ হবে বলুন তো? আমার এই অনাগত সন্তানের কোনো পরিচয় নেই তো এই সমাজে, ও যখন বড় হবে, বুঝতে শিখবে, তখন তো ও আমার কাছে জানতে চাইবে কে ওর বাবা? তখন জবাবে কি বলবো আমি? (মেয়েটা)
- শোনো মেয়ে মৃত্যুই সবকিছুর সমাধান দিতে পারে না, তোমার সন্তান তার বাবার পরিচয়েই বড় হবে, চলো আমাদের সাথে, আর তাহমিনা, ইমা তোদেরকে কি করতে হবে বুঝতে পেরেছিস তো? (আমি)
- হ্যাঁ,,, বুঝতে পেরেছি।(ওরা দুজন)
- তাহলে চল আমার সাথে। (আমি)
- হুম,,, চল। (ওরা)

মেয়েটিকে সাথে করে, আমরা তিন জন যার যার হকস্টিক গুলো হাতে নিয়ে বেড়িয়ে পরলাম নয়নের খোঁজে, কিছুদূর যাওয়ার পর মেয়েটা একটা ক্লাবের দিকে দেখিয়ে বললো নয়ন "ভাইয়া এই সময়টাতে এখানেই থাকে"।

আমরা তিনজন গাড়ি থেকে নামলাম, ক্লাবের বাইরে থেকে নয়নকে ডাকলাম, ভেতর থেকে কেও একজন বললো, "এখন আমরা ব্যাস্ত আছি বাইরে আসতে পারবো না, কি দরকার এখানে এসে বলে যাও"।

তাহমিনা আর ইমাকে বাইরে রেখে আমি ভেতরে গেলাম, একটু পর ওদের সবকয়টাকে কলার ধরে বাইরে বের করে আনলাম।

নয়নকে ধরে এনে মেয়েটিকে দেখিয়ে বললাম।

- এই মেয়েটিকে চিনিস?
- নাহ্। (নয়ন)
- আমার হাতে ব্যাথা হচ্ছে এবার যা করার তোরা দুই জনেই কর। (তাহমিনা আর ইমাকে উদ্দেশ্য করে বললাম)

ওদের হাতের স্টিক গুলো নিয়ে নয়নের কাছে যেতেই নয়ন বলে উঠলো.....

- আর মারবেন না আপু,,,, হ্যাঁ ওকে আমি চিনি।
- তোর মা, বাবাকে ফোন করে এখানে আসতে বল।(ইমা)
- আর তোদের চেয়ারম্যান এর ফোন নাম্বারটা দে। (তাহমিনা)
- ওকে দিচ্ছি।

কিছুক্ষণের মধ্যে জায়গাটা লোকজনে ভরে উঠলো, নয়নের মা এসে প্রথমে একটু চিৎকার চেঁচামেচি করলেও এখন চুপ হয়ে আছেন।

চেয়ারম্যান সাহেব বিচার শেষ করলেন, বিচারে মেয়েটার সবদিক বিবেচনা করে তাকে ত্রিশ হাজার টাকা দেওয়া হলো।

তারপর সবাই যার যার মত সেখান থেকে উঠে চলে যেতে লাগলেন, সেখানে দাঁড়িয়ে থাকার মত দেখতে পেলাম মেয়েটি আর তার বাবা ছিলেন, আমি তাদের কাছে গিয়ে বললাম, " কি ব্যাপার আপনারা দাঁড়িয়ে রইলেন যে? " উত্তরে মেয়েটির বাবা শুধু চোখের জল ফেললেন।

- এই বিচার মানি না আমি (পিছন থেকে একটু চিৎকার দিয়েই বলে উঠলাম আমি)
- এই মেয়ে বিচার মানা না মানার তুমি কে? (চেয়ারম্যান)
- নীলা নামটা শুনেছিস নিশ্চয়ই?
- হকস্টিক নীলা?
- এই তো চিনতে পারছিস, এবার যা বলছি তাই কর কাজী ডাক আর এদের বিয়ে দে।
- আচ্ছা আপামনি আপনি যা বলবেন তাই হবে, এই হারামজাদারা কাজী কে ফোন দে।

এবার মেয়েটির মুখে ও তার বাবার মুখে একটু হাসি দেখা দিলো।

আমি তাদের কাছে গিয়ে বললাম " একটা কথা মনে রাখবেন শক্তের ভক্ত নরমের জম"।

আর ছেলেদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা।

মেয়েদের পরনে শাড়ি, হাতে চুড়ি থাকে বলে ভাববেন না তারা অবলা, কারণ তারা যেমন শক্ত হাতে সংসারের হালও ধরতে জানে তেমনই প্রয়োজনে সেই হাতে আবার লাঠিও ধরতে জানে।।


সমাপ্ত.......
 

বর্ণমালা এন্ড্রয়েড এপ

নতুন যুক্ত হয়েছেন

Top