“এপ্রিল ফুল ও মুসলমান” শিহাব আশরাফ

#1
images-1-jpeg.372
স্পেনের অলিতে গলিতে মুসলমানদের যে পদচারনা ছিলো তা আজ আর নেই, আজ স্পেন থেকে মুসলমানদের সব কিছু নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে, সাড়ে আটশত বছর মুছলমানরা রাজত¦ করল, মুসলানদের সেখানে তখন জ্ঞানের বিশাল গবেশনাগার তৈরী করা হলো, তারা পার্ক তৈরী করল, সুয়ারেন্স লাইন তৈরী করল। ড্রেনেস করল রাস্তা করল ফুটফাত করল, পৃথীবির সব থেকে মর্ডান দেশে পরিনত করে ফেলল, এল কঠিন গজব! সাড়ে আটশত বছর পূর্বে তারেক বিন জিয়াদ রাযিআল্লাহু আনহু যে মসাজদ তৈরী করেছিলেন করতুবায় ইংরেজীতে কর্ডোবা বলা হয়, বিশাল মসজিদ, এক লক্ষ লোক নামাজ পড়তে পারে সেই মসজিদে, সেই মসজিদের ভেতর এখন মূর্তি দিয়ে ভরা, মসজিদের বিশাল বড় মিনার সেই মিনারের প্রত্যেকটি খোপে খোপে মূর্তি দাড়িয়ে আছে, গত কয়েক বছর আগে এক মুসলমান গিয়েছিলো সে চেয়েছিলো সেখানে দুই রাকাত নামাজ আদায় করবে, কিন্তু পুলিশ এসে বাধা দিয়ে বলল ভুলে যাও এটা তোমাদের মসজিদ ছিলো! এটা মসজিদ নয়, এটো এখন গির্জা! এখানে সেজদা দিতে দেওয়া হবেনা।

এটা সেই কর্ডোবার মসজিদ, মুছলমানদের যখন পরোজয় এলো পারস্পরিক সন্দেহ গনিভুত হতে লাগলো, একজন আরেকজনকে মানেনা, নেতৃত্ব মানেনা, ভোগ বিলাসে মাতোয়ারা হয়ে গেলো, তখন আল্লাহর গজব এসে গেলো। শুরু হলো যুদ্ধ! নারী ইসাবেলা ঘোষনা দিলো যুদ্ধের, যুদ্ধের যে দিন নির্ধারণ করা হয়েছিলো সেটা ছিলো পহেলা এপ্রিল! যুদ্ধ শুরু হলো, সমানে মুসলমান মরতে লাগলো, তারা প্রস্তুত ছিলো না, মুসলমানরা মার খেতে খেতে হয়রান হয়ে গেলো।
রানী ইসাবেলার পক্ষ থেকে ঘোষনা দেয়া হলো কর্ডোবার মসজিদে যারা আশ্রয় নিবে তাদের নিরাপত্তা দেয়া হবে, নারী এবং শিশুরা তাদের জন্য ভুমধ্য সাগরে জাহাজ রাখা হয়ছে তাদেরকে মরোক্বো পাঠিয়ে দেয়া হবে। হায় জহাজগুলো ছিলো ফুটা, হাজার হাজার মুসলিম নারী আর শিশু গিয়া জাহাজে উঠলো, জাহাজগুলো ডুবে হাজার হাজার নারী ও শিশুর পানিতেই শলিল সমাধি হয়ে গেলো। চল্লিশ হাজার পুরুষ নিরাপত্তার জন্য ডুকলো কর্ডোবার মসজিদে, চতুর্দিক দিক দিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়া হলো, ভেতরে কেরোসিন ঢেলে আগুন জালিয়ে দেয়া হলো! চল্লিশ হাজার মুসলমানকে মসজিদের ভেতর পুড়িয়ে ভৎস করে দেয়া হলো।

শুধু তাই নয় মসজিদের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ছোট্ট এক নদী সে নদীতে মুসলমানদের কেটে কেটে ফেলে দেয়া হলো, মুসলমানদের রক্তে দরিয়া লাল হয়ে গেলো, মুসলমানদের গবেশনাগার লাইব্রেরীও ছিলো সেখানে, কোরআন হাদীস ইসলামীক দর্ষন বিজ্ঞানের কিতাব বই সব ফেলে দেয়া হলো সেই নদীতে, যে কারনে বন্ধ হয়ে গেলো নদীর স্রোত , আজ যারা সভ্যতার দাবিদার ইউরোপ এমেরিকা এরা সভ্য নয়! এরা সভ্যতার স্পষ্ট দুশমন! যার জন্যই ইরাকের হাজার বছরের সভ্যতকে ওরা জালিয়ে পুড়িয়ে লুট করে সব শেষ করে দিয়েছে।

প্রিয় পাঠক! যেদিন এই স্পেনে মুসলমানদের মারা হয় সেদিনটা ছিলো পহেলা এপ্রিল, এপ্রিল ফুল, আমাদের দেশের মুসলমানেরা আজ কলেজে ইউনিভার্সিটিতে স্কুলে, শিক্ষিত এক বিরাট মহল এপ্রিল ফুল হিসেবে পহেলা এপ্রিলকে উদযাপন করে থাকে,ঘটনাটা এরকম এক লোক একবার বাজার থেকে এসে দৌড়াচ্ছে আর বলতেছে ভাইরে ভাই মানির মান আল্লাই রাখে, মানির মান মান আল্লাই রাখে, লোকেরা জিজ্ঞেস করলো কেন দৌড়াও আর কেমনে মানির মান আল্লাহ রাখলো? লোকটা বলল আমি আর আমার বাবা দুজনে গেছিলাম হাটে লোকেরা আমার বাবারে ধইরা এমন মাইর মাইর মারলো আমারে কিছুই কয়নাই, মানির মান আল্লাহই রাখে। যেদিন মুসলমানদেরকে পোড়ানো হলো কর্ডোবার মসজিদের মধ্যে আর মুসলিম নারী আর শিশুকে ধোকা দিয়ে জাহাজে উঠিয়ে ভুমধ্য সাগরে ডুবিয়ে মারা হলো আজ সেই দিনটাকে এপ্রিল ফুল নামে উদযাপন করছে আমাদের দেশের কিছু যুব সমাজ আর শিক্ষিত লোকেরা।
আজ আর স্পেনে মুসলমান নাই, প্রায় পাঁচ কোটির মত মানুষ বাস করে স্পেনে তাদের মাঝে মুসলমান মাত্র পঁচিশ হাজার তাও বহিরাগত, স্থানীয মুসলমান আজ কেউ নাই। আর পহেলা এপ্রিল যখন আসে তখন স্পেনিশরা লম্বা লম্বা জুব্বা পরে আর মুখে নকল দাড়ি লাগিয়ে মাথায় টুপি পরে সারা রাত মদ খায় আর নাচানাচি করে এই খুশিতে যে আজকের এই দিনে আমরা মুসলমানদের তাড়িয়ে দিতে পেরেছি।
 

Attachments

Last edited:

বর্ণমালা এন্ড্রয়েড এপ

নতুন যুক্ত হয়েছেন

Top